শেষ হচ্ছে অপেক্ষা; অবশেষে আগামীকাল দেশে ফিরছেন বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজ জন্মভূমি, মাটির কাছে; মায়ের কাছে এই ফেরা। ব্যক্তিগত-পারিবারিক নিপীড়ন আর শোক পাশ কাটিয়ে তার এই দেশে ফেরাকে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনই বলছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। বলছেন, দূর প্রবাসে থেকেও তরুণ মন আর উদ্যোমকে সঙ্গী করে সংগঠিত করেছেন দলকে। এবার সামনে থেকে সামলাবেন সব।
২০০৮ সালে তারেক রহমান যখন লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার যান, তখন তিনি বিপর্যস্ত। রিমান্ডে অকথ্য নির্যাতনে শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ।
দেশের মাটিতে মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা সেই ২০০৮-এর ১১ সেপ্টেম্বর। বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েই খালেদা জিয়া ছুটে যান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন ছেলে তারেককে দেখতে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবন অনেকটা নিজের বয়সের সমান। মাত্র ৬ বছর বয়সে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—পরিবারের অন্যতম ঘটনা। জিয়াউর রহমান যখন রণাঙ্গনে, ছোট ভাইকে নিয়ে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাবন্দী হতে হয় তাকেও। পিতা জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রপতি, তখনও ঘরের কিশোর ছেলে তারেক।
নেতাকর্মীরা বলছেন, খালেদা জিয়া যখন বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে রাজপথে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে; বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তারেক রহমান তখন নানান চিন্তক ও দার্শনিকের মাঝে। সক্রেটিস, প্লেটো, এরিস্টটল, থমাস হবেস, জন লক, রুশো থেকে ভলতেয়ার কিংবা কার্ল মার্কস—বিশ্ব রাজনীতি আর মানুষের অধিকারের পাঠ থেকে নিজেকে ঋদ্ধ করছিলেন তিনি। খালেদা জিয়ার সঙ্গে কয়েকবার গৃহবন্দীও হতে হয় তাকেও।
আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক যাত্রা শুরু ১৯৮৮-তে। পিতৃভূমি বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে। ১৯৯১-এর নির্বাচনে যোগ দেন প্রচারণায়। ২০০১-এর নির্বাচন-পূর্ব সময়েই তৃণমূলের সমস্যা চিহ্নিত করা ও সমাধানের লক্ষ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা শুরু করেন তারেক রহমান। ২০০২-এ ধীরে ধীরে দলের নেতৃত্বে। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হয়ে ২০০৫ থেকে ছুটে বেড়ান গ্রামেগঞ্জে, পথে-প্রান্তরে।
এরপর আসে আলোচিত ২০০৭। রিমান্ডে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেলেও ঘরে ফেরা হয়নি। হাসপাতাল থেকেই ১১ সেপ্টেম্বর চলে যেতে হয় যুক্তরাজ্যের লন্ডনে।
২০০৯-এ দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। রাজনৈতিক নানান উত্থান-পতন সঙ্গী করে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। কর্মীরা বলছেন, উন্নত দেশে বসে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ নিয়ে ভেবেছেন। নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম, খুনের শিকার দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে দুঃশ্চিন্তার মধ্যেও ভর করেছেন সাহসে।
নেতাকর্মীদের দাবি, ২০২৪-এর অভ্যুত্থানের শুরু থেকে শেষ—পুরোটা সময় নেপথ্যের দারুণ কুশীলব ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। কর্মীদের সংগঠিত ও উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে নিখুঁত কৌশলী ভূমিকা নেন। একদিকে সরকার পতনের আন্দোলনে তীক্ষ্ণ নজর, অন্যদিকে রাষ্ট্র মেরামতের সংস্কার ভাবনা। অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সরকারের গুরুত্ব নিয়ে নির্বাচনের তাগিদও দিতে থাকেন তিনি।
অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনা, শঙ্কা আর উৎকণ্ঠার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। নিজেদের অনুপ্রাণিত মনে করছেন কর্মীরা। বলছেন, এটি জাতীয়তাবাদ আর দেশপ্রেমিকের অনন্য এক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন।
এই পলিমাটির সৌরভ গায়ে মেখে তারেক রহমান নামছেন এক কঠিন পরীক্ষায়। তার প্রত্যাবর্তনকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন অনুসারীরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বায়ুদূষণে বিশ্বের ১২৫টি শহরের তালিকায় আজ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে ২৪৩ স্কোর নিয়ে ঢাকার বাতাসের মান ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাতাসের মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সূচক অনুযায়ী এ তথ্য জানা গেছে। তালিকায় বলা হয়েছে, আজ বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। শহরটির বায়ুমান স্কোর ২৪৩, যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। একই সময় তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিসরের রাজধানী কায়রো, যার বায়ুমান স্কোর ২৪৬। শহরটির বায়ুমানের স্কোরও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’। এছাড়া আরও তিনটি দেশের বায়ুমানের স্কোর ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় রয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে পাকিস্তানের লাহোরের স্কোর ২২৩, চতুর্থ অবস্থানে ভারতের কলকাতার স্কোর ২১০, এবং পঞ্চম অবস্থানে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরের স্কোর ২০৪। তালিকায় ১৯১ স্কোর নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি। ভারতের মুম্বাই ১৮৫ স্কোর নিয়ে সপ্তম অবস্থানে এবং একই স্কোর নিয়ে অষ্টম অবস্থানে রয়েছে দিল্লি। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয়, ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত সাধারণভাবে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে হলে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে পৌঁছালে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের মধ্যে থাকা এবং অন্যদের বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, নির্বাচন ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা এবং লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষের জীবনে যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা ভোটারদের মনোভাবেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। নিত্যদিনের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া মানুষ ক্রমেই রাজনীতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা। তাদের মতে, বাস্তব জীবনের সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া ভোটারদের মধ্যে আস্থা ফেরানো কঠিন হয়ে পড়বে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাবলিক ইন্টেগ্রিটি নেটওয়ার্ক (পাইনেট) আয়োজিত ‘দ্রব্যমূল্য ও ভোটার ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব উদ্বেগের কথা উঠে আসে। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এইচ এম মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আয় ও ব্যয়ের অসমতা এবং অর্থনৈতিক চাপ মানুষের রাজনৈতিক আচরণকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। এসব বিষয় উপেক্ষা করে কেবল নির্বাচনী আয়োজনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব নয়। আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, বর্তমানে ভোটারদের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা বক্তৃতার চেয়ে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের সংকটকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় মানুষকে হতাশ করছে। এই বাস্তবতায় অনেকেই রাজনীতিকে নিজেদের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কহীন মনে করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে ভোটার বিচ্ছিন্নতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। গোলটেবিল বৈঠকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. শিব্বির আহমেদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদারুল ভূঁইয়া, সাবেক সচিব সালেহা আফরোজ, বিআইজিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. জোবায়ের আহমেদ, অপরাজিতা বিডির সম্পাদক আকলিমা ফেরদৌসী, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, ক্যাব প্রতিনিধি মোহা. শওকত আলী খান এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের জন্য সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য হলেও বর্তমানে ভোটার উপস্থিতি কমে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এটি শুধু রাজনৈতিক অনীহার ফল নয়, বরং নাগরিকদের মধ্যে জন্ম নেওয়া আস্থাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ। ভোটাধিকার সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে কোনো নির্বাচনই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে না বলে মত দেন তারা। আলোচনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে ভোটার আস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে বক্তারা বলেন, কেবল বাজার তদারকি বা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে সমস্যার সমাধান হবে না। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর নীতি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে। মানুষ যখন নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতেই ব্যস্ত থাকে, তখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা অবাস্তব। বৈঠক থেকে আরও বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা, নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি। এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া ভোটারদের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব নয় বলে মত দেন বক্তারা।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে কড়াকড়ি আরোপের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নগদ, বিকাশ ও রকেটসহ সব মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে (এমএফএস) একবারে এক হাজার টাকার বেশি অর্থ পাঠানো যাবে না। পাশাপাশি একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারবেন। প্রস্তাবিত বিধিনিষেধ ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এই সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। নির্বাচনী সময়ে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার ঠেকানোই এর মূল উদ্দেশ্য। চূড়ান্ত নির্দেশনায় লেনদেনের পরিমাণে সামান্য হেরফের হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নগদ, বিকাশ ও রকেটের গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন এবং প্রতিবার এক হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না। বর্তমানে এমএফএসের মাধ্যমে দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ও মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের সুযোগ থাকলেও নির্বাচনী সময়ে সেই সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এমএফএসের পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলেও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর নির্বাচনী সময়ের জন্য বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএফআইইউ। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। এদিকে নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনের ক্ষেত্রেও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো হিসাবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিএফআইইউতে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক প্রতিবেদন না দিলে বা তথ্য গোপন করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব ব্যবস্থার ফলে নির্বাচনী সময়ে অর্থের অস্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং টাকার অপব্যবহার কমিয়ে স্বচ্ছ ভোট পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।