সর্বশেষ

দ্বিতীয় দিনেও স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর, মিছিল সমাবেশে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা

Unknown ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাকা কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনেও বন্দরের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। রোববার সকাল আটটা থেকে বন্দর জেটিতে নোঙর করা জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো–নামানোর কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমদানি–রপ্তানি কার্যক্রমে।


এনসিটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ডাকে শনিবার থেকে দুই দিনব্যাপী কর্মবিরতি কর্মসূচি শুরু হয়। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে পরিচালন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন না শ্রমিক-কর্মচারীরা। দ্বিতীয় দিনেও সকাল আটটা থেকে তারা কাজে যোগ না দেওয়ায় বন্দরজুড়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
কর্মসূচি শুরুর পরপরই বন্দরের জিসিবি টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো–নামানোর কাজ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। সিসিটি ও এনসিটিতে সীমিত পরিসরে কিছু কার্যক্রম চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকেও কর্মচারীরা বিরত থাকায় বন্দরের অভ্যন্তরীণ কাজকর্মও ব্যাহত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ বন্দর এলাকায় মিছিল ও সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত এক মাসের জন্য বন্দর এলাকায় সব ধরনের মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার ও প্রচারণা এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। আদেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা জারির পর রোববার সকালে বন্দর ভবন ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বন্দর জেটি ও টার্মিনাল এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়।


বন্দর জেটি ও টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দেওয়ায় জিসিবি টার্মিনালে কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সীমিত জনবল দিয়ে কাজ চালু রাখার চেষ্টা করা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না বলে তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলেই শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল চারটা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির কথাও বিবেচনায় রয়েছে।
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর দীর্ঘ সময় ধরে অচল থাকলে বাণিজ্য, শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। দ্রুত সংকট নিরসনে সরকার ও আন্দোলনরত পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দাবি জোরালো হচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
রিমান্ডে গাজী নজরুলের স্ত্রী, দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেনে আদালত। এদিকে রিমান্ডে মাকছুদা ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।   মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।   এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মাকছুদাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।   পুলিশের আবেদনে বলা হয়, মাকছুদাকে বিস্তারিত ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে মামলাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা তদন্তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।   গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই রাতেই মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ (৪০) বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।   মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।   পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে মাকছুদা জানান—মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানের প্ররোচনায় গত ১৭ জুন গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়মের বিয়ে হয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী মরিয়ম ২১ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন।   এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন আদালত। মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমান এখনো পলাতক রয়েছেন।   গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।   এরপর গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেয় দলটি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

জাতিসংঘে বক্তব্য রাখলেন ড. ইউনূস

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর বাসভাড়া ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

চাকরি থেকে পলায়নের অভিযোগে ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
কমলাপুরে ককটেল বিস্ফোরণ: দুই রাজনৈতিক কর্মী গ্রেপ্তার, দাবি পুলিশের

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার দুজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।   গ্রেপ্তাররা হলেন মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন রায়হান (৩২) ও মোহাম্মদ সানমুন (২৩)।   সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাখাওয়াত হোসেন রায়হান নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শাহজাহানপুর থানা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবেও কর্মরত। ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে রেলওয়েতে চাকরি করলেও গত তিন মাস ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানায় পুলিশ।   অন্যদিকে সানমুনকে শাহজাহানপুর থানা যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ।   বিস্ফোরণের ঘটনা পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৩৭ মিনিটের দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ২৯ ও ৩০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পর রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য এবং পুলিশের বিশ্বস্ত সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ডিসি হারুন।   ‘জিজ্ঞাসাবাদে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার’ পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। পুলিশের ভাষ্য, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, লকডাউন কর্মসূচি সফল করা এবং নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিক্ষেত্র হওয়ায় ঢাকা রেলওয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ২০ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়।   আরও জড়িতদের খোঁজ ডিসি হারুন অর রশিদ জানান, গ্রেপ্তার দুজনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা অন্য কোনো ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, একটি নাশকতার ঘটনায় কেউ অর্থায়ন করতে পারে, কেউ সমন্বয় করতে পারে, কেউ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করতে পারে আবার কেউ ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে পারে। তদন্তে এসব বিষয়ও যাচাই করা হচ্ছে।   রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক নাশকতার ঘটনা প্রসঙ্গে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা একটি বড় নগরী। নিয়মিত মিছিল, সমাবেশ ও বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের কর্মকাণ্ডও মোকাবিলা করতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিসি হারুন বলেন, পুলিশের অধিকাংশ কার্যক্রমই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে এবং তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর

ছবি: সংগৃহীত

কমলাপুরে ট্রেনে আগুন: নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ, এক গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, রাজশাহী স্টেশন ঘেরাও; চার আরএনবি সদস্য বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত
আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান।   এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।   ঘটনার পর পুলিশ গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। ঘটনাস্থলে সিআইডি ও পিবিআইয়ের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করেন এবং পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।   পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাম ভবনের যে ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেটি গাজী নজরুল ইসলামের। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা কাজ করেন।   গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাঁকে নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। পরে তিনি ভিডিওতে থাকা নারীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন হিসেবে পরিচয় দেন। এ ঘটনার পর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ল, পেনশনভোগীদের কী হবে

ছবি: সংগৃহীত

চুরির অভিযোগে খুলনায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৫৬৪, ৫৮ মামলা

0 Comments