জাতীয়

ভোটকেন্দ্র ও ভোটার তথ্য জানা যাবে ৪ উপায়ে : ইসি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা যাতে সহজে তাদের ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানতে পারেন, সেজন্য চারটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে ভোটাররা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তাদের কাঙ্ক্ষিত তথ্য জানতে পারবেন।

আজ শনিবার ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোবাইল অ্যাপ, হটলাইন, এসএমএস এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই সেবা পাওয়া যাবে। পদ্ধতিগুলো হলো—

১. স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ: ভোটাররা গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’  অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে পারবেন। অ্যাপের ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ অপশনটি সিলেক্ট করে ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ও জন্ম তারিখ দিলেই ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর, কেন্দ্রের নাম ও ঠিকানা প্রদর্শিত হবে।

২. হটলাইন নম্বর ১০৫ : সরাসরি কথা বলে তথ্য জানতে ভোটাররা ১০৫ নম্বরে কল করতে পারবেন। কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এই সেবার জন্য ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ হাতের কাছে রাখতে হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই সেবা চালু থাকবে।

৩. এসএমএস সেবা : মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে পিসি এনআইডি লিখে স্পেস দিয়ে এনআইডি নম্বর লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।

৪. নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট : ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইল ব্রাউজার ব্যবহার করে ইসির ওয়েবসাইট (ecs.gov.bd)--এ প্রবেশ করে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনুতে ক্লিক করতে হবে। এখানে দু’টি উপায়ে তথ্য জানা যাবে। প্রথমত, নির্বাচনী এলাকা বা উপজেলা/থানা নির্বাচন করে কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে।

দ্বিতীয়ত, এনআইডি ও জন্ম তারিখ দিয়ে সরাসরি ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র খুঁজে পাওয়া যাবে। এছাড়া, ওয়েবসাইটে গুগল ম্যাপের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, দূরত্ব এবং যাওয়ার পথ দেখার সুবিধাও রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
আজমুল হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে খুলনায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোনাডাঙ্গায় প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ ও খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্বাসের পর ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা।   সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন তারা। আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও সংহতি জানান।   শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের ৬০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। তারা দ্রুত এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।   অবরোধের কারণে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।   পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুপুরের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালেদ এবং কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।   আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, সামান্য একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাদের ভাষ্য, এ ঘটনা শিক্ষার্থীদের আবাসিক ও মেসজীবনের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, এত সময় পেরিয়ে গেলেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।   নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল বলেন, আজমুলকে ভাত চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তার ভাষ্য, তাকে ছাদে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   উপাচার্য আরও বলেন, ঘটনাস্থলে আজমুলের চুল পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।   পুলিশ কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আগামী এক মাসের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিলের আশ্বাস দেন তিনি।   পুলিশের এই আশ্বাসের পর দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার না হলে পরবর্তী কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানান তারা।   মামলার তথ্য: গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের বিপরীতে মসজিদ গলির একটি মেসে আজমুল হোসেনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে নির্যাতন করা হয় এবং পরে তার বাবার কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘বিএনপি কোনো খুচরা দল নয়, জনগণের দল’ - বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সালাম

ছবি: সংগৃহীত

কেরানীগঞ্জে অস্ত্রসহ কথিত চাঁদাবাজ কাইল্ল্যা ফারুক আটক

ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
তেলের দাম বাড়ায় রংপুরে ক্ষোভ, বাড়ছে পরিবহন ও কৃষি ব্যয়ের শঙ্কা

জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর তা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে পেট্রোলের দাম এক লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় পরিবহন চালক ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে পরিবহন ভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য এবং কৃষি উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নতুন দাম কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।   বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোববার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর হয়। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   দাম বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার রাতে রংপুরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। কিছু পাম্পে তেল না থাকায় এবং কয়েকটি স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।   গ্রাহকদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, পুরোনো দামে সংগ্রহ করা জ্বালানি নতুন দামে বিক্রির কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।   সোমবার সকালে নগরীর মিজান ফিলিং স্টেশন, ইউনিক ফিলিং স্টেশন, সালেক ফিলিং স্টেশন ও সিটি ফিলিং স্টেশনসহ বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত নতুন দামে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানি নিতে আসা অনেক গ্রাহক দাম বৃদ্ধির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।   পরিবহন ও কৃষিতে বাড়তি ব্যয়ের শঙ্কা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পরিবহন খাতে পড়বে বলে মনে করছেন চালক ও ব্যবসায়ীরা। জ্বালানি ব্যয় বাড়লে পরিবহন ভাড়া সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এর প্রভাব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন ব্যয় ও বাজারদরেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। রংপুর কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক সময় সেচের ওপর নির্ভর করে ফসল উৎপাদন করতে হচ্ছে। ফলে ডিজেলসহ জ্বালানি ব্যয় বাড়লে কৃষকের উৎপাদন খরচও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সময়ে ধান ও আলুসহ বিভিন্ন ফসলে প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন কৃষক ও ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।   ‘প্রতিদিন বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে’ স্কুলশিক্ষক আমিনুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আগে মোটরসাইকেলে প্রতিদিন যাতায়াতে প্রায় ২০০ টাকার জ্বালানি লাগত। এখন একই যাতায়াতে প্রায় ২৫০ টাকা খরচ হচ্ছে। এতে মাসিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হলে তাদের ওপর চাপ কমত। ট্রাকচালক মফিজার রহমান বলেন, তেলের দাম বাড়ার পর ভাড়া নিয়ে চালকদের সঙ্গে গ্রাহকদের বিরোধ তৈরি হয়। অনেক সময় বাড়তি ভাড়া দিতে গ্রাহকরা রাজি হন না। ফলে লোকসান হলেও কাজ চালিয়ে যেতে হয়।   পাম্প মালিকের বক্তব্য সিটি ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী হারুন অর রশিদ বলেন, তারা সরকার নির্ধারিত মূল্যেই জ্বালানি বিক্রি করছেন। বর্তমানে তাদের পাম্পে তেলের সংকট নেই। তবে দাম বৃদ্ধির কারণে গ্রাহকের সংখ্যা কমে যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এতে আগের তুলনায় জ্বালানি বিক্রির পরিমাণও কমতে পারে।   এদিকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রংপুরে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, পরিমাপে অনিয়ম ঠেকানো এবং গ্রাহক হয়রানি বন্ধে জেলা প্রশাসন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদারকি করছে। সোমবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরিদর্শন ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেও দেখা গেছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাদরাসার জমি দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, প্রশাসনের তদন্ত

ছবি: সংগৃহীত

হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সালের বিরুদ্ধে এবার আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদের মামলা

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না : প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রীপ্রতি বাস ভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত মালিকদের

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ঢাকা থেকে খুলনাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী গণপরিবহণের ভাড়া যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাস মালিকরা।   বাস মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে সংশ্লিষ্ট রুটের বাস মালিকরা বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেন। তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নতুন ভাড়া নির্ধারণ না করা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে বিরোধের আশঙ্কা রয়েছে।    ঢাকা থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও পিরোজপুর রুটে চলাচলকারী একটি বাস কোম্পানির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এসব রুটে চলাচলকারী বাস মালিকরা সকালে আলোচনা করে যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যাত্রী যেখানেই নামুন না কেন, বর্তমান ভাড়ার চেয়ে ৫০ টাকা বেশি দিতে হবে।    তিনি বলেন, ঢাকার গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া থেকে খুলনা গিয়ে একটি বাস আবার ঢাকায় ফিরতে প্রায় ১৪০ লিটার জ্বালানি তেল লাগে। বিআরটিএর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ট্রিপে গড়ে ২৮ জন যাত্রী ধরা হয়। জ্বালানি তেলের বাড়তি খরচ সমন্বয়ের জন্যই যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বাস মালিকদের এই প্রতিনিধি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম যে পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে, তাতে বিআরটিএ নতুন ভাড়া নির্ধারণ করবে। এ সিদ্ধান্ত নিতে এক-দুই দিন সময় লাগতে পারে। তবে এরই মধ্যে পরিবহন মালিকদের বাড়তি খরচ শুরু হয়ে গেছে। ফলে সরকারি সিদ্ধান্ত আসার আগেই ভাড়া বাড়ানো ছাড়া বিকল্প দেখছেন না তারা।   তিনি বলেন, বিআরটিএ নতুন ভাড়া নির্ধারণ করলে সরকার নির্ধারিত কিলোমিটারপ্রতি হার অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ভাড়া ঠিক করা হবে।   তিনি আরও বলেন, বিআরটিএ দ্রুত সিদ্ধান্ত দিলে পরিবহন মালিক ও যাত্রী—দুই পক্ষের জন্যই ভালো হবে। কারণ সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া দিতে সব সময় আগ্রহী হন না। এতে বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ও বাসের কন্ডাক্টরদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় বিরোধের আশঙ্কা থাকে।    

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাজী নজরুলের ৪ দিনের রিমান্ড, স্ত্রীর ১ দিন

ছবি: সংগৃহীত

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ: এমপি গাজী নজরুল ও স্ত্রীকে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে হাম-ডেঙ্গুর প্রকোপ, ২০ দিনেই ডেঙ্গুতে ১২ মৃত্যু

0 Comments