সর্বশেষ

কিশোরগঞ্জ থেকে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি

Unknown ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, কিশোরগঞ্জ থেকে শুরু করে নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এখনই সময় পুরোনো রাজনৈতিক কৌশল ও অতীতের আড্ডা ভুলে সৃজনশীল ও অংশগ্রহণমূলক পথ গ্রহণের। তিনি বলেন, “অতীতের কাসুন্দি শোনানোর দিন শেষ। জনগণ এসব আর শুনতে চায় না। তাদের ঘুম পাড়িয়ে রেখে ক্ষমতার সুযোগে লুটপাট যারা করেছে, তাদের জায়গা এই দেশেই আর থাকবে না। আমরা আমাদের প্রিয় জাতিকে টুকরা টুকরা হতে দেব না।


মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি কলেজ খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। ঢাকার হেলিকপ্টারে করে কটিয়াদী পৌঁছে বেলা ১১টায় মঞ্চে উপস্থিত হন শফিকুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মো. রমজান আলী।
জনসভায় তিনি বলেন, “কিশোরগঞ্জ জেলা নানা বৈচিত্রে সমৃদ্ধ। এখানকার মানুষ স্বভাবগতভাবে ধর্মপ্রাণ, তবুও অন্য ধর্মের মানুষদের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক রক্ষা করে। এটাই ধর্মের সৌন্দর্য। আমরা দেশটাকে সব ধর্মের মানুষ দিয়ে ফুলের বাগানের মতো সাজাব, ইনশা আল্লাহ।
শফিকুর রহমান বিগত শাসনামলে জেলা প্রশাসন ও শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “কিশোরগঞ্জ সমতল আর হাওরের মিলনক্ষেত্র, কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। বছরের পর বছর সরকারি শীর্ষ পদ দখল করা সত্ত্বেও জনগণ উন্নয়নের স্বাদ পায়নি। আমরা জয়লাভ করলে হাওরের কৃষিকে শিল্পে পরিণত করব। বিদেশে পাচার হওয়া কোটি কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফিরিয়ে আনব। এখানে প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রী বাড়ির কোনো নজির থাকবে না। আমরা মামলামুক্ত, শোষণমুক্ত ও পারিবারিক জমিদারিমুক্ত দেশ গড়ব এবং আপনাদের আস্থা প্রতিদান দেব।


চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান ও নারীদের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “জুলাইয়ে কেবল যুবকেরা নয়, নারীরাও লড়াই করেছে। বর্তমানে মা–বোন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই। আমরা মায়েদের সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত অংশ হিসেবে মাথায় তুলব।” বেকারত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের বিপুল যুবক বেকার। তারা রাস্তায় নেমে বেকার ভাতা চায়নি, তারা মেধার মূল্যায়ন চেয়েছে। আমরা তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশ গড়ার কারিগর বানাব। বাংলাদেশ নামক উড়োজাহাজে তোমাদের বসিয়ে দিব, তোমরাই চালাবা। আমরা পেছনে বসব। বাংলাদেশ তোমরা গড়বা।


নির্বাচনে প্রতিপক্ষ দলগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, “ছলে–বলে জেতার দিন শেষ। জনগণের সিদ্ধান্তের বাইরে আর কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে না। পুরোনো স্লোগান থেকে বেরিয়ে আসুন। আমার ভোট আমি দিব, তোমার ভোট আমি দিব—সেই দিন আর ফিরে আসবে না।
প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “নির্বাচনে দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করুন। আমরা কারও কাছে আনুকূল্য চাইব না, তবে যদি আমাদের ক্ষতি করা হয়, কাউকেই ছাড়ব না।” দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমার অধিকার মানে হলো মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—১৮ কোটি মানুষের অধিকার। আমরা জামায়াতের বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। যারা অন্ধকার গলিতে হাঁটতে চায়, হাটুক। আমরা আলোকিত রাস্তায় হাঁটব।
তিনি আরও জানান, “জামায়াতে ইসলামীর পালে হাওয়া লেগেছে। পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের বিজয় স্পষ্ট হয়েছে। সবাই ন্যায়–ইনসাফ ও নতুন বাংলাদেশের পক্ষে। চব্বিশের পক্ষে। ১১ দল ক্ষমতায় এলে পাঁচ বছরের মধ্যে শিশুদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে এবং প্রতিটি শিশুকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা হবে। বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, তবে কোনো প্রভুর নির্দেশ মেনে চলা হবে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দুই দিনে অভিবাসী ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকায় দেশটির দূতাবাস। গত সোমবার থেকে অভিবাসী ভিসার জন্য প্রক্রিয়া দুই দিনে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।     দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘোষণা ১ জুন (সোমবার) থেকে কার্যকর হয়েছে। ঢাকার মার্কিন দূতাবাস সব অভিবাসী ভিসা বিভাগের জন্য দুই দিনে প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করছে।     এক বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসার বিভিন্ন শ্রেণি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে ‘ডিরেক্টরি অব ভিসা ক্যাটাগরিজ’ দেখার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে ৬ দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরলেন খলিলুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

বায়ুদূষণের শীর্ষে সান্তিয়াগো, ঢাকার অবস্থান কত?

ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির শিক্ষা সারা বছর যেভাবে ধরে রাখব

ছবি: সংগৃহীত
পুশইনে বাড়ছে তিক্ততা

সৌহার্দ ও সম্পর্কোন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে বিজেপি সরকারের নানা সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে তিক্ততা ক্রমেই বাড়িয়ে চলেছে। ঈদুল আজহার ছুটিতে পশ্চিমবঙ্গের হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে কথিত ‘বাংলাদেশি’ হিসাবে এখন পর্যন্ত ৬০ জনকে পুশইন করা হয়েছে। পরিচয় যাচাই করার জন্য আরও অন্তত ৯০ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করলেও নানা জটিলতায় তারা সেখানকার নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার পাননি। অভিযোগ উঠেছে, এমন অনেককে ‘বাংলাদেশি’ হিসাবে সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ‘হোল্ডিং’ সেন্টারে রেখে মানসিকভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরো বিষয়টি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে নতুন করে বাধা সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি সীমান্তে নতুন করে তৈরি হবে অস্থিরতা। কারণ একদিকে বিষয়টিতে মানবাধিকারও বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্যদিকে এ দেশে জনমনে ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষোভ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এসব কর্মকাণ্ডে দুদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।   ভারতের দিক থেকে অনেক আগে থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলা হচ্ছিল। সেটি মূলত বাংলাদেশ থেকে আসা ভারতে বসবাসরত নাগরিকদের বিষয়ে ইঙ্গিত করা হয়। তবে বিষয়টি আলোচনায় নতুন মাত্রা পায় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচিত হওয়ার পর। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে জয়ী হওয়ার পরপরই কথিত বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসাবে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির মনে করেন, পুশইন ইস্যুটিকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে দুই দেশেরই যুক্তি ও মানবিকতা দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গবেষক ব্রিগেডিয়ার জে. মো. বায়েজিদ সরোয়ারের (অব.) মতে, পুশইনের মতো সংবেদনশীল পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত এক ধরনের চাপ বজায় রাখছে। এসব কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্থিরতা ও আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। সম্পর্কোন্নয়নের বদলে তিক্ততা ও অসন্তুষ্টি বাড়তে পারে। ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এনডিটিভির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, সীমান্ত ইস্যুটিকে কোনো প্রতীকী ঘোষণা দিয়ে নয়, বরং বাস্তবসম্মত ও ফলাফল-ভিত্তিক উপায়ে সমাধান করতে হবে। দেশটিতে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানায়, অমিত শাহ বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে, শুধু প্রচারের উদ্দেশে কোনো ‘অর্ধসমাপ্ত’ অভিযান চালানো যাবে না। প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে আইনগতভাবে টেকসই, কূটনৈতিকভাবে সতর্ক এবং কার্যক্ষেত্রে বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) শীর্ষ কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছেন। এতে জোর দেওয়া হচ্ছে তাড়াহুড়ো করে বা যত্রতত্র জোরপূর্বক ফেরত না পাঠিয়ে, প্রকৃত অনুপ্রবেশকারীদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করার ওপর। প্রতিবেদন মতে, অমিত শাহ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন; যেন এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয় যা ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় ফাটল ধরায়। অতীতে যথাযথ যাচাই-বাছাই না করে বা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া কথিত অনুপ্রবেশকারীদের ‘পুশব্যাক’ করার কারণে ঢাকা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল, যা অনাকাঙ্ক্ষিত কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, এবার কৌশল সম্পূর্ণ ভিন্ন। নয়াদিল্লি এমন একটি প্রক্রিয়া চাইছে যেখানে অনুপ্রবেশকারীদের সঠিকভাবে শনাক্ত ও নথিবদ্ধ করার পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, আন্তর্জাতিক বিতর্ক এড়িয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করা। কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন যে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি একই সঙ্গে মানবিক, ভূরাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জও বটে। কলকাতার একটি কূটনৈতিক সূত্র যুগান্তরকে জানিয়েছে, যাদেরকে এখন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে তাদের বেশির ভাগ মুসলমান। মূলত বাংলাদেশ থেকে যাওয়া এবং নানা জটিলতায় এখনো ভারতের নাগরিকত্ব না পাওয়া মুসলমানরাই পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সীমান্তে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সূত্রটি আরও জানায়, বাংলা ভাষাভাষী এসব মানুষ মূলত শ্রমজীবী। বন্যা, নদীভাঙন এবং দারিদ্র্যের কারণে তারা ভারতে গিয়েছিলেন। তারা নাগরিকত্ব সঠিকভাবে প্রমাণ করতে পারছেন না। কিন্তু এসব মানুষ পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকে চলে যেতে বাধ্য হলে ভবিষ্যতে দেশটিতে শ্রমজীবী মানুষের সংকট দেখা দিতে পারে। হুমায়ুন কবির এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, অবৈধ অভিবাসী হিসাবে যাদের চিহ্নিত করা হয়, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কূটনৈতিক পদ্ধতি আছে। সেটি দুই দেশের সরকারের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে করা যেতে পারে। বর্ডার এলাকায় হলে বর্ডার গাইডলাইন্স আছে সেভাবেও করা যেতে পারে। অনেককে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার তথ্যও এসেছে। সেখানে তাদের তথ্য-উপাত্ত দেখে বাংলাদেশি প্রমাণিত হলে তাদের আমরা ফেরত নেব। কিন্তু তাদের যদি ভারতীয় হিসাবে প্রমাণ করা না যায় তাহলে তাদের আমরা কেন নেব? হাকিমপুরসহ বিভিন্ন সীমান্তে বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে পুশইন বা বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন ব্রি. জে. মো. বায়েজিদ সরোয়ার (অব.)। যুগান্তরকে তিনি বলেন, ভারত সরকার কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের প্রতি বিভিন্ন ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বাংলাদেশকে এখন ভারতের সঙ্গে দৃঢ় কূটনীতির মাধ্যমে বিষয়টি মোকাবিলা বা সমাধান করতে হবে। বিজিবিকে কঠোর ও সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে বাস-মাইক্রোবাস-ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত অন্তত ১৫

ছবি: সংগৃহীত

দুই দিনে ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি : সংগৃহীত

চোখের পাপ থেকে বাঁচার ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

ছবি : সংগৃহীত
প্যারিসে ড. ইউনূস, ফটোকার্ড শেয়ার করে যা বললেন রনি

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ক্রেডিট এগ্রিকোল ফেডারেশন অডিটোরিয়ামে এক সংলাপে ড. ইউনূস অংশ নিয়েছেন। সেই সংলাপের একটি গণমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি।   আজ শনিবার (৩০ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে ফটোকার্ডটি শেয়ার করেন তিনি। ফটোকার্ডের শেয়ার করে গোলাম মাওলা রনি ক্যাপশনে লিখেন, ‘একটা মানুষরূপী প্রাণী যে কতটা নির্লজ্জ, বেহায়া এবং বেপরোয়া হতে পারে তা আমেরিকার পুতুলটিকে না দেখলে আন্দাজ করতে পারতাম না।’ গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ক্রেডিট এগ্রিকোল ফেডারেশন অডিটোরিয়ামে এই সংলাপ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামীণ ক্রেডিট এগ্রিকোল ফাউন্ডেশন এই সংলাপের আয়োজন করে। ক্রেডিট এগ্রিকোল গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ভেরোনিক ফোজোরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে নারী-পুরুষের সমতা ও বৈষম্যবিরোধী লড়াইবিষয়ক ফরাসি মন্ত্রী অরোরে বের্জেও উপস্থিত ছিলেন। ফোরামে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং লিঙ্গ সমতাখাতের ১৫০ জন নেতৃবৃন্দও অংশগ্রহণ করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর শিবপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোর চালক ও শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

গরুর মাংস খাওয়ার পর যা খাওয়া উচিত না

0 Comments