অন্যান্য

শরীয়তপুরে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা বাদী হয়ে বাবার মামলা, তৃতীয় দিনেও অধরা দুর্বৃত্তরা

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ০২, ২০২৬

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ব্যবসায়ী ও পল্লি চিকিৎসক খোকন চন্দ্র দাসকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শরীয়তপুর জেলা শাখা।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার ধানুকা মনসা বাড়ি মন্দিরের সামনে এ মানববন্ধন হয়।

এতে অংশ নেওয়া সর্বস্তরের মানুষ খোকন চন্দ্র দাসের উপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, এটি শুধু একজন ব্যবসায়ীর ওপর হামলা নয়, এটি মানবতার ওপর আঘাত। তারা দ্রুততম সময়ে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এদিকে খোকন দাসের ওপর হামলার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে মামলা করেছেন। তবে আলোচিত এ হামলার ঘটনার দুদিন পেরিয়ে তৃতীয় দিন গতকালও জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিদের আটকে তৎপরতা চলছে বলে ভাষ্য ডামুড্যা থানার ওসি রবিউল হকের।

বাদী হয়ে বাবার মামলা, তৃতীয় দিনেও অধরা দুর্বৃত্তরা
‘আমরা থানা পুড়েছি, এসআইকে জ্বালিয়ে দিয়েছি’, বৈষম্যবিরোধী নেতার হুমকি
ডামুড্যার কেউরভাঙ্গা বাজারের ওষুধ ও মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে দোকান বন্ধ করে প্রায় ৬ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তিলই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তিনজন সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এবং শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

শুক্রবার মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দুদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এ নৃশংস হামলাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট অমিত ঘটক চৌধুরী বলেন, খোকন চন্দ্র দাসের ওপর যে বর্বরোচিত হামলা হয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এটি শুধু একজন ব্যবসায়ীর ওপর হামলা নয়, এটি মানবতার ওপর আঘাত। অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু আহত খোকন দাসকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন এবং তার চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রেখেছেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি সমীর কিশোর দে, জেলা শাখার উপদেষ্টা অরুণ সাহা, সদর শাখার সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দত্ত, যুব ঐক্য পরিষদের সেক্রেটারি নিলয় ভট্টাচার্যসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মামলায় আসামি তিন : খোকন চন্দ্র দাসকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ডামুড্যা থানায় একটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আহত খোকন চন্দ্র দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন সোহাগ খান, রাব্বি মোল্লা ও পলাশ সরদার। অভিযুক্ত তিনজনই ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

সংবাদভিত্তিক বেসরকারি চ্যানেল সময় টেলিভিশনের পরিচালক ও সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান, সাবেক হেড অব মার্কেটিং আহসানুল ইসলাম ও মার্কেটিং বিভাগের সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকাসহ পাঁচজনের নামে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।    মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম‍্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইশরাত জাহানের কোর্ট এই পরোয়ানা জারি করেন।   মামলাকে ভিন্নখাত নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হস্তক্ষেপ ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন সময় টিভির সিইও জোবায়ের বাবু। তিনি সকাল থেকেই দলবল নিয়ে আদালতে অবস্থান নেন এবং নানা ধরনের হুমকি ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।   মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, সময় টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনের বিল বাবদ আয় করা প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন মার্কেটিং বিভাগের সাবেক প্রধান আহসানুল ইসলাম ও সাবেক সিনিয়র ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকা। আর কাজে তাদের সহায়তা করেছেন সময় টেলিভিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান পরিচালক মো. হাসান। সময় টেলিভিশনের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক শম্পা রহমান। সাবেক চেয়ারম্যান মোরশেদুল ইসলাম আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের আপন ভাই।    অভিযোগ থেকে জানা যায়, মামলার এক নম্বর আসামি আহসানুল ইসলামের কাছে ২০২৪ –২৫ অর্থ বছরের বিজ্ঞাপনের বিলের হিসাব চাইলে নানা টালবাহানা করে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। অবশেষে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। কিন্তু হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে যাননি। আরেক আসামি মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার আয়েশা সিদ্দিকাও জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু কোনো হিসাব বুঝিয়ে দেননি। প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগ অনুসন্ধান করে জানতে পারে ২০২৪ সালে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৮৩ টাকা আদায় যোগ্য ছিল। এই টাকা মার্কেটিং বিভাগের দুই অভিযুক্ত মওকুফ করে দিয়েছেন। তাদের এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা জানায়, মো. হাসান, শম্পা রহমান ও মোরশেদুল ইসলামের সিদ্ধান্তে এই টাকা মওকুফ করা হয়েছে। একটি বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে বিল মওকুফের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানানো হলেও মো. হাসান, শম্পা রহমান এবং মোরশেদুল ইসলাম – কেউই উক্ত বোর্ড মিটিংয়ের কোনো নথি দেখাতে পারেননি।   মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা সবাই কোম্পানিতে নিজেদের উচ্চ পদ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন।    এই প্রেক্ষাপটে সব আসামি আদালতে হাজির হতে ৭ জুলাই মঙ্গলবার সমন জারি করা হয়েছিল। কিন্তু আসামিরা কেউ হাজির না হয়ে তাদের পক্ষে জোবায়ের বাবুকে কোর্টে পাঠান। জোবায়ের বাবু জানান অভিযুক্ত ব‍্যক্তিরা তাকে কোম্পানির বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন।    এর আগে ৬ জুলাই সোমবার জোবায়ের বাবু আদালতে গোপনে মামলার বাদী পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। বিষয়টি বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানতে পেরে বিচারকের নজরে আনলে জোবায়ের বাবুর সেই চেষ্টা সফল হয়নি।   মঙ্গলবার আদালত উভয়পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে মো. হাসানসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

একই দিনে ভালো কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা, চালু হচ্ছে ডে নেটিং

মাছের ঝোলে নারীর ছবিযুক্ত স্টিকার। ছবি : সংগৃহীত

চবির দুপুরের খাবারে মিলল নারীর ছবিযুক্ত স্টিকার

ছবি: সংগৃহীত

স্ক্রিনশট সংস্কৃতি: এক ক্লিকে চারটি পাপ

ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষার্থী সংকটে আল হেরা কলেজের এমপিও স্থগিতের প্রস্তাব

নীতিমালা অনুযায়ী কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ও বোর্ড পরীক্ষার্থী না থাকায় রাজধানীর একটি কলেজের এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) স্থগিতের সুপারিশ করেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। কলেজটি খোদ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত। তবুও কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নাম আল হেরা কলেজ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনের পর নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এমপিও স্থগিতের সুপারিশ তুলে ধরেছেন ডিআইএ কর্মকর্তারা।   ডিআইএ‘র একজন করে শিক্ষা পরিদর্শক, সহকারী শিক্ষা পরিদর্শক এবং অডিটর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করেন। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিতে সামগ্রিকভাবে এবং মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপের বিগত ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী নেই। এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ধারা ১৮ এর অনুচ্ছেদ 'ক' অনুযায়ী ৫নং ধারার ৫.৬ নং উপধারার কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থীর আবশ্যকীয় শর্ত পূরণ না করায় প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত, বাতিল করার সুপারিশ করা হলো।   অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি খুবই অপ্রতুল। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা গ্রুপে ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের বোর্ড পরীক্ষায় কাম্য সংখ্যক পরীক্ষার্থী নেই। নীতিমালা-২০২৫ এর ধারা ১৮ এর অনুচ্ছেদ 'ক' অনুযায়ী ৫নং ধারার ৫ দশমিক ৭ নং উপধারার কাম্য সংখ্যক পরীক্ষার্থীর আবশ্যকীয় শর্ত পূরণ না করায় প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত, বাতিল করার সুপারিশ করা হলো। পাঠাগারে মোট পুস্তক সংখ্যা ৫২০ খানা। কাম্য পুস্তক নেই। পুস্তক সংখ্যা ৫ হাজারে উন্নীত করতে হবে বলে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়।   ডিআইএ কর্মকর্তারা প্রতিবেদনের সঙ্গে নিরীক্ষা আপত্তি তুলে ধরেছেন। নিরীক্ষা আপত্তিগুলো হলো: প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী থেকে সব প্রকার ফি, বেতন, নিজস্ব সম্পদ খাতে আয়, দান, অনুদান ব্যাংকের মাধ্যমে আদায় করা হয় না। পরিচালনা, গভর্নিং বডি মনোনীত একজন সদস্যের নেতৃত্বে দু'জন সিনিয়র শিক্ষকের সমন্বয়ে অর্থ ও ক্রয় উপ-কমিটি গঠন করে যাবতীয় মালামাল ক্রয় উপকমিটির মাধ্যমে ক্রয় করতে হবে।   ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের ভ্যাট বাবদ ১১ হাজার ৮৭ টাকা, ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরের ভ্যাট বাবদ ১৮ হাজার ২৬৭ টাকা এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের ভ্যাট বাবদ ৯ হাজার ৩৫১ টাকাসহ সর্বমোট ৩৮ হাজার ৭০৬ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি খাতে জমা করতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারীদের নামে ভবিষ্য তহবিল চালু নেই। অবিলম্বে স্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর নিজ নিজ নামে ভবিষ্য তহবিলের ব্যাংক হিসাব চালু করে নিয়মিতভাবে টাকা জমা রাখতে হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

চলছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ইরানে কী অবস্থায় আছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

বৃষ্টির দিন মানেই কি খিচুড়ি, বিরিয়ানি কেন নয়!

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাটারিচালিত রিকশা: সড়ক শৃঙ্খলার বড় বাধা

সংগৃহীত ছবি
মুক্তিপণ নিতে এসে আটক এনসিপির দুই নেতা, ছাড়াতে গিয়ে গ্রেপ্তার আরও ৩

দিনাজপুরে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অপহৃত ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে হাতেনাতে আটক হন দুই নেতা। পরে তাদের ছাড়িয়ে নিতে থানায় গিয়ে তদবির ও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে পাঁচজনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরন্নবী। গ্রেপ্তাররা হলেন জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন, পুলিশের দাবি অনুযায়ী এনসিপির দিনাজপুর জেলা কমিটির সদস্য হাসীন ইসরাক মিম, মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলাম।   পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদকে রবিবার রাতে তার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়। পরে পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে চার লাখ টাকার বিনিময়ে সামাদকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে তার ছেলে মো. মামুনকে সোমবার বিকেলে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠের মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে ডেকে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই আরিফ মুন ও হাসীন ইসরাক মিমকে আটক করা হয়।   পুলিশ জানায়, তাদের থানায় নেওয়ার পর এনসিপি ও জাতীয় যুব শক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী সেখানে গিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগে মিনাজ, প্রেম ও হৃদয় ইসলামকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার রাতে আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।   ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার রাতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কোতোয়ালি থানায় অবস্থান নিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে এনসিপি-সমর্থকদের থানা এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরন্নবী বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনাটির পেছনে অর্থ লেনদেন-সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।   তবে জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শামসুল মুক্তাদির দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া হাসীন ইসরাক মিম জেলা কমিটির সদস্য নন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কেউ অপরাধ করে থাকলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রে কুমিল্লা বোর্ডে বহিষ্কার ২০, অনুপস্থিত ২ হাজার ৪২৭

সংগৃহীত ছবি

ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দায়িত্ব ছাড়লেন জাবের-জুমার

ছবি : সংগৃহীত

বন্যার কারণে চট্টগ্রাম ও রাঙামাটিতে বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

0 Comments