টিভির পর্দায় বিদেশের ঝকঝকে সড়ক দেখে অনেকের মনে হয়তো প্রশ্ন জাগে—আমাদের রাস্তা এমন পরিচ্ছন্ন হয় না কেন? রাজধানীর জুরাইনে দাঁড়িয়ে সেই প্রশ্নের উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে প্রশ্নটি উল্লেখ করেই থেমে থাকেননি তিনি। শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব যে শুধু সিটি করপোরেশন বা সরকারের নয়, নাগরিকেরও—সে কথাই সহজ উদাহরণে তুলে ধরলেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এর অংশ হিসেবে খিলগাঁও ও জুরাইন এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে শহর পরিচ্ছন্ন রাখা নিয়ে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যে দেশের রাস্তাঘাট পরিষ্কার, সে দেশের সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা যেমন কাজ করেন, তেমনি সে দেশের মানুষও যেখানে–সেখানে ময়লা ফেলেন না। তাঁর ভাষায়, এ কাজ করতে ‘সরকারের কেউ হওয়ার দরকার নেই। এমপি হওয়ার দরকার নেই। মন্ত্রী হওয়ার দরকার নেই। মেয়র হওয়ার দরকার নেই। ওয়ার্ড কমিশনার হওয়ার দরকার নেই।’
নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে কীভাবে শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেন, তার উদাহরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ময়লাটা আপনার পকেটে নিয়ে নেন। যদি টিস্যু পেপার থাকে, কিছু থাকে, ময়লা নেন। বাদাম খাবেন, তখন বাদামের খোসাটা এমনভাবে এক জায়গায় ফেলেন, যাতে জায়গাটা ময়লা না হয়।’
নিজের পোশাকে দাগ লাগার সঙ্গে শহর নোংরা হওয়ার তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিষ্কার শার্টে চা বা খাবারের দাগ পড়লে যেমন খারাপ লাগে, তেমনি বসবাসের জায়গা ময়লা থাকলেও অস্বস্তি হওয়ার কথা। তিনি বলেন, সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে তোলা সম্ভব।
এর আগে আজ সকালে শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন রাজধানী উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শ্যামলী স্কয়ার, সরকারি বাংলা কলেজ এলাকা, পল্লবী মেট্রো স্টেশন, ইসিবি চত্বর, কুড়িল বিশ্বরোড, ফুজি ট্রেড সেন্টার, জোড়পুকুর খেলার মাঠ, বাংলাবাজার, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, জুরাইন, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর মাঠে দেওয়া বক্তব্যেও প্রধানমন্ত্রী শহরকে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা ঢাকা শহরে বসবাস করি, আমরা যারা বাংলাদেশের নাগরিক, এটি আমাদের দেশ, এটি আমাদের শহর। অবশ্যই সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব রয়েছে, তারা তাদের কাজ করছে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে, আমরা যেন যতটা সম্ভব কম ময়লা করি। তাহলেই শহর আরও পরিচ্ছন্ন থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহর পরিষ্কার থাকলে নাগরিকদের চলাফেরায় যেমন সুবিধা হবে, তেমনি পরিবেশও ভালো থাকবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজও সহজ হবে।
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শুধু পরিচ্ছন্নতার কথাই বলেননি; অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান। বিভিন্ন স্থানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সমাজের সচ্ছল ও সামর্থ্যবান মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে মানুষের কষ্ট কমানো সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের নাগরিক হিসেবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও যদি একইভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে আমরা দ্রুতই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল বা সরকারের ওপর নির্ভর না করে সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে একজন অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসে, তাহলে ধীরে ধীরে দেশের চেহারা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুস্থ মানুষের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনা খাবার বিতরণের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বিএনপির নেতা–কর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকীতে বিএনপি সব সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। দলের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করা হয়। তবে শুধু দলের পক্ষ থেকে নয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও যেন নেতা–কর্মীরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, সে আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘এটাই শহীদ জিয়ার শিক্ষা।’
বিভিন্ন স্থানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন। তাঁর আদর্শ ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং কাজের মাধ্যমে দেশ গঠন করা। তাই জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে দেশ গঠনের কাজে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে আয়োজিত কর্মসূচির কারণে মানুষের চলাচলের অসুবিধার বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আজকের এ অনুষ্ঠান রাস্তার মধ্যে আয়োজন করা হয়েছে, দেখুন কত গাড়ি চলাচল করছে, মানুষের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। সে কারণে আমরা কর্মসূচিটি সংক্ষিপ্ত করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের সবাইকে বিভিন্নভাবে একে অপরকে সাহায্য–সহযোগিতা করতে হবে। একজন নাগরিক হিসেবে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে একে অপরের পাশে দাঁড়ালে সেটিই হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
দেশ গঠনে সবার অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটি কারও একার নয়। দেশটি যেমন কোনো সরকারের একার নয়, দেশটি যেমন কোনো রাজনৈতিক দলের একার নয়, দেশটি কোনো পরিবার বা কোনো ব্যক্তির একার নয়।’ তিনি বলেন, দেশটি বাংলাদেশে বসবাসকারী মানুষের; প্রত্যেকেই এই দেশের মালিক। তাই দেশকে গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে। সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির মাধ্যমে সচ্ছল মানুষের সংখ্যা বাড়ানো, কর্মসংস্থান তৈরি এবং শিক্ষাসুবিধা বৃদ্ধির চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিও নিজ অবস্থান থেকে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবে।
দিনের কর্মসূচি শুরুর আগে আজ বেলা ১১টার দিকে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। পরে সেখানে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, ড্যাব, এ্যাব, ওলামা দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বিএনপি ও এর সহযোগী এবং অঙ্গসংগঠনগুলো গতকাল বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন করে। দিবসটি উপলক্ষে ভোরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের গুলিতে নিহত হন জিয়াউর রহমান। বিএনপি দিনটি তাঁর ‘শাহাদাত দিবস’ হিসেবে পালন করে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতির শাহাদাতবার্ষিকী ঘিরে ২৫ মে থেকে বিএনপি আট দিনের কর্মসূচি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে আজ রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
অস্ত্র ও হত্যা মামলায় চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২ আগস্ট) চট্টগ্রামের একটি আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, হত্যা ও অস্ত্র মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতিটি মামলায় সাত দিন করে মোট ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত দুই মামলায় মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময়গত ২৯ জুলাই যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্যমতে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া একাধিক হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তাধীন।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮২ লাখ টাকা মূল্যের ৪২৭ গ্রাম স্বর্ণসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তামিম আনসারী নামের ওই ব্যক্তি ভারতের চেন্নাইয়ের তামিল নাড়ু এলাকার বাসিন্দা। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে এই স্বর্ণ নিয়ে আসেন। তার আন্ডারওয়্যারের ভেতর থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (জনসংযোগ) প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টায় শারজাহ থেকে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে ভারতীয় নাগরিক তামিম আনসারী চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরের কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তার দেহ তল্লাশি করা হয়। পরে তার আন্ডারওয়্যারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো অবস্থায় ক্যাপসুলসদৃশ্য ৯টি বস্তু উদ্ধার করা হয়। বিমানবন্দরে কাস্টমস কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিতে পেস্ট আকারে এসব স্বর্ণ গলিয়ে আনা হয়। তিনি জানান, জানা গেছে, এই স্বর্ণের ওজন ৪২৭ গ্রাম। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭৫ টাকা। আটক ব্যক্তিকে পতেঙ্গা থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক তামিম আনসারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাস্টমস কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিত এই রুটে যাতায়াত করেন এবং কাপড়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
সরকার বর্তমানে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করেনি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি। শনিবার (১ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোবাংলা জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে স্পষ্ট করা হচ্ছে যে, এই মুহূর্তে সরকারের গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তা নিয়ে শিল্প, বাণিজ্য ও আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে পেট্রোবাংলার সর্বশেষ এই বক্তব্যে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিকল্পনা নেই।