জাতীয়

শহর পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব, বললেন প্রধানমন্ত্রী

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩১, ২০২৬

টিভির পর্দায় বিদেশের ঝকঝকে সড়ক দেখে অনেকের মনে হয়তো প্রশ্ন জাগে—আমাদের রাস্তা এমন পরিচ্ছন্ন হয় না কেন? রাজধানীর জুরাইনে দাঁড়িয়ে সেই প্রশ্নের উল্লেখ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে প্রশ্নটি উল্লেখ করেই থেমে থাকেননি তিনি। শহর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব যে শুধু সিটি করপোরেশন বা সরকারের নয়, নাগরিকেরও—সে কথাই সহজ উদাহরণে তুলে ধরলেন তিনি।

 

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এর অংশ হিসেবে খিলগাঁও ও জুরাইন এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে শহর পরিচ্ছন্ন রাখা নিয়ে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যে দেশের রাস্তাঘাট পরিষ্কার, সে দেশের সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা যেমন কাজ করেন, তেমনি সে দেশের মানুষও যেখানে–সেখানে ময়লা ফেলেন না। তাঁর ভাষায়, এ কাজ করতে ‘সরকারের কেউ হওয়ার দরকার নেই। এমপি হওয়ার দরকার নেই। মন্ত্রী হওয়ার দরকার নেই। মেয়র হওয়ার দরকার নেই। ওয়ার্ড কমিশনার হওয়ার দরকার নেই।’

 

নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকে কীভাবে শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেন, তার উদাহরণ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ময়লাটা আপনার পকেটে নিয়ে নেন। যদি টিস্যু পেপার থাকে, কিছু থাকে, ময়লা নেন। বাদাম খাবেন, তখন বাদামের খোসাটা এমনভাবে এক জায়গায় ফেলেন, যাতে জায়গাটা ময়লা না হয়।’

 

নিজের পোশাকে দাগ লাগার সঙ্গে শহর নোংরা হওয়ার তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিষ্কার শার্টে চা বা খাবারের দাগ পড়লে যেমন খারাপ লাগে, তেমনি বসবাসের জায়গা ময়লা থাকলেও অস্বস্তি হওয়ার কথা। তিনি বলেন, সবাই মিলে চেষ্টা করলে দেশকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে তোলা সম্ভব।

 

এর আগে আজ সকালে শেরেবাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে তিনি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসংলগ্ন রাজধানী উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে দুস্থ মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি।

 

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শ্যামলী স্কয়ার, সরকারি বাংলা কলেজ এলাকা, পল্লবী মেট্রো স্টেশন, ইসিবি চত্বর, কুড়িল বিশ্বরোড, ফুজি ট্রেড সেন্টার, জোড়পুকুর খেলার মাঠ, বাংলাবাজার, যাত্রাবাড়ী, খিলগাঁও, জুরাইন, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

 

কম ময়লা করলেই শহর পরিচ্ছন্ন থাকবে

খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর মাঠে দেওয়া বক্তব্যেও প্রধানমন্ত্রী শহরকে পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যারা ঢাকা শহরে বসবাস করি, আমরা যারা বাংলাদেশের নাগরিক, এটি আমাদের দেশ, এটি আমাদের শহর। অবশ্যই সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব রয়েছে, তারা তাদের কাজ করছে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে, আমরা যেন যতটা সম্ভব কম ময়লা করি। তাহলেই শহর আরও পরিচ্ছন্ন থাকবে।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহর পরিষ্কার থাকলে নাগরিকদের চলাফেরায় যেমন সুবিধা হবে, তেমনি পরিবেশও ভালো থাকবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজও সহজ হবে।

 

অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

 

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শুধু পরিচ্ছন্নতার কথাই বলেননি; অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান। বিভিন্ন স্থানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সমাজের সচ্ছল ও সামর্থ্যবান মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে মানুষের কষ্ট কমানো সম্ভব।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের নাগরিক হিসেবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও যদি একইভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে আমরা দ্রুতই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক দল বা সরকারের ওপর নির্ভর না করে সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে একজন অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসে, তাহলে ধীরে ধীরে দেশের চেহারা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।

 

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দুস্থ মানুষের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনা খাবার বিতরণের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বিএনপির নেতা–কর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকীতে বিএনপি সব সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। দলের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করা হয়। তবে শুধু দলের পক্ষ থেকে নয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও যেন নেতা–কর্মীরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, সে আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘এটাই শহীদ জিয়ার শিক্ষা।’

 

বিভিন্ন স্থানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন। তাঁর আদর্শ ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং কাজের মাধ্যমে দেশ গঠন করা। তাই জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে দেশ গঠনের কাজে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

মানুষের চলাচলে অসুবিধা হওয়ায় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত

 

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে আয়োজিত কর্মসূচির কারণে মানুষের চলাচলের অসুবিধার বিষয়টি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আজকের এ অনুষ্ঠান রাস্তার মধ্যে আয়োজন করা হয়েছে, দেখুন কত গাড়ি চলাচল করছে, মানুষের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। সে কারণে আমরা কর্মসূচিটি সংক্ষিপ্ত করেছি।’

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের সবাইকে বিভিন্নভাবে একে অপরকে সাহায্য–সহযোগিতা করতে হবে। একজন নাগরিক হিসেবে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে একে অপরের পাশে দাঁড়ালে সেটিই হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

 

দেশ গঠনে সবার অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশটি কারও একার নয়। দেশটি যেমন কোনো সরকারের একার নয়, দেশটি যেমন কোনো রাজনৈতিক দলের একার নয়, দেশটি কোনো পরিবার বা কোনো ব্যক্তির একার নয়।’ তিনি বলেন, দেশটি বাংলাদেশে বসবাসকারী মানুষের; প্রত্যেকেই এই দেশের মালিক। তাই দেশকে গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে।

 

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছে। সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচির মাধ্যমে সচ্ছল মানুষের সংখ্যা বাড়ানো, কর্মসংস্থান তৈরি এবং শিক্ষাসুবিধা বৃদ্ধির চেষ্টা করবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিও নিজ অবস্থান থেকে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করবে।

 

সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন

দিনের কর্মসূচি শুরুর আগে আজ বেলা ১১টার দিকে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

 

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন। পরে সেখানে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে অংশ নেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, ড্যাব, এ্যাব, ওলামা দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা জিয়ার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

 

বিএনপি ও এর সহযোগী এবং অঙ্গসংগঠনগুলো গতকাল বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালন করে। দিবসটি উপলক্ষে ভোরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।

 

রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের গুলিতে নিহত হন জিয়াউর রহমান। বিএনপি দিনটি তাঁর ‘শাহাদাত দিবস’ হিসেবে পালন করে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতির শাহাদাতবার্ষিকী ঘিরে ২৫ মে থেকে বিএনপি আট দিনের কর্মসূচি পালন করছে। এর অংশ হিসেবে আজ রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সংগৃহীত ছবি
বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও নেতাকর্মীদের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সারা দেশে ভারী বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   শুক্রবার প্রায় সারা দিনই তিনি বন্যাকবলিত ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং সিভিল সার্জনদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।   এ সময় প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মন্ত্রী, সচিব এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।   বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। রুমন জানান, বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে উদ্ধার, পুনর্বাসন ও চিকিৎসাসহ সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার তিনি, ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামে যাবেন।   আতিকুর রহমান রুমন আরও জানান, কয়েকটি এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে পরিস্থিতি এখনো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার নারী ও শিশু, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যেন কোনো অসাধু চক্র চুরি-ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি।   এদিকে, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬

কুরআন পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার মেহেদী কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ থেকে মরক্কোর বিদায়ে আবেগঘন বার্তা দিলেন নোরা ফাতেহি

চট্টগ্রামে বন্যায় ভেসে গেছে ৯৯৩৩টি পুকুর-দিঘির মাছ

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে প্রাণ গেল দুই শিশুর

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভেসে পৃথক ঘটনায় দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট পানির প্রবল স্রোতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত দুই শিশু হলো বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামের প্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ আশিক (৭) এবং একই ইউনিয়নের রত্নপুর এলাকার শিশু মোহাম্মদ মিরাজ (৩)।   স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বাহারছড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে প্লাবিত রয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ নিজ বাড়ির উঠানে থাকা অবস্থায় পাহাড় থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোতে দুই শিশু ভেসে যায়।   পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তাদের উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তারা মারা যায়।   বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. এনাম বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, ঘটনাটি পুলিশ জেনেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১০, ২০২৬

'বিএনপি সরকার মানুষের হাতে বিদ্যুতের বদলে হারিকেন তুলে দিয়েছে’

শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করছে : নাহিদ ইসলাম

ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহামব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম

ছবি: সংগৃহীত
সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ-ইতালির আলোচনা

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো।   বুধবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ইতালির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তারা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং সামরিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতালির সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ইতালির সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করেন তারা। এ ছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ ও ইতালির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে বিশ্বশান্তি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ইতালির রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইতালির সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়। অন্যদিকে, ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও নিবিড় হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার: রয়টার্স

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ইউজিসির উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশ

0 Comments