আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বায়োকেমিস্ট খাইম ভাইৎসম্যান জন্মগ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন রুশ সাম্রাজ্যে। তার অ্যাসিটোন নামক রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদন সংক্রান্ত আবিষ্কার ১৯১০-এর দশকে কৌশলগত সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
আসিটোন, কর্ডাইট নামক এক জাতীয় বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহার করা হতো, যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্য ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছিল।
তবে কিছু সময়ের জন্য ব্রিটিশ নাগরিকত্বের অধিকারী এই বিজ্ঞানীর রাজনৈতিক জীবন ছিল আরো উল্লেখযোগ্য। তিনি জায়নবাদের অন্যতম মহান নেতা ছিলেন। জায়োনিস্ট বা জায়নবাদ হলো ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে উদ্ভূত এক জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল ফিলিস্তিনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
হলোকস্টের ভয়াবহতার পর ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ একটা রেজোলিউশনের মাধ্যমে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনাধীন প্যালেস্টাইনকে দু'টো রাষ্ট্রে বিভক্ত করার অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে একটা ইহুদিদের জন্য এবং অন্যটা আরবদের।
ইসরায়েল ১৯৪৮ সালে নিজেদের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষণা করে। তবে ফিলিস্তিনিদের এখনো কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নেই, যদিও ১৪০টারও বেশি দেশ তাদের স্বীকৃতি দিয়েছে।
জায়নবাদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মি. ভাইৎসম্যানকে ১৯৪৯ সালে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও বেছে নেওয়া হয়। তবে এই পদ মূলত আনুষ্ঠানিক ছিল, প্রশাসনিক না। কারণ ইসরায়েল একটা সংসদীয় প্রজাতন্ত্র এবং সেখানে সরকারের প্রধান হলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।
৭৭ বছর বয়সে ১৯৫২ সালে মি. ভাইৎসম্যানের মৃত্যু হয়। ফলে ইসরায়েলের একজন নতুন প্রেসিডেন্টের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সেই সময় প্রেসিডেন্ট হিসেবে এমন বিশিষ্ট ইহুদি ব্যক্তিত্বদের নাম প্রস্তাব করা হয় যারা এই ভূমিকা পালন করতে এবং নবগঠিত দেশে অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে পারেন।
তাই, প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের সরকার এই পদের জন্য আবারও একজন বিজ্ঞানীকেই আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন বিশ্বের অন্যতম খ্যাতনামা বিজ্ঞানী- আলবার্ট আইনস্টাইন।
সেই সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের দূত ছিলেন আব্বা ইবন। এই বিষয়ে আইনস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি।
জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী আইনস্টাইন ১৯৩৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন। সে বছর অ্যাডলফ হিটলার ক্ষমতায় আসেন এবং জার্মানিতে ইহুদিদের ওপর নিপীড়ন শুরু হয়। ডেভিড বেন-গুরিয়নের পক্ষ থেকে আইনস্টাইনকে একটা চিঠি লিখেছিলেন মি. ইবন।
ওই চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, "ভৌগোলিকভাবে ইসরায়েল একটা ছোট দেশ হলেও তা মহত্ত্ব অর্জন করতে পারে। কারণ এই দেশ ইহুদি জনগণের প্রাচীন ও আধুনিক- দু'দিক থেকেই সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধিগত ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করে।"
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত তৎকালীন ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ব্যাখ্যা করেন যে, এর জন্য আইনস্টাইনকে তার বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন ত্যাগ করতে হবে না। তবে তাকে নিউ জার্সি ছেড়ে ইসরায়েলে চলে যেতে হবে। সেই সময় প্রিন্সটনের 'ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ'-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আইনস্টাইন এবং তিনি নিউ জার্সিতেই থাকতেন।
বছর ৭৩-এর আইনস্টাইন এই আমন্ত্রণে রাজি হননি। বিনয়ের সঙ্গে ওই চিঠির জবাব দেন এবং আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি যে আপ্লুত সে কথাও উল্লেখ করেন।
যদিও এই ধরনের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন না আইনস্টাইন।
জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের 'আইনস্টাইন আর্কাইভ'-এর কিউরেটর এবং এই বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানীর ব্যক্তিগত চিঠিপত্র ও ছবি সংকলনকারী বই- 'আইনস্টাইনের নোটবুকস'-এর লেখক জিভ রোজেনক্র্যান্টজের মতে, আলবার্ট আইনস্টাইন যুক্তি দিয়েছিলেন ওই পদের জন্য যে দক্ষতার প্রয়োজন, তার সেসবের অভাব রয়েছে।
আইনস্টাইন চিঠির জবাবে লিখেছিলেন, "ইসরায়েলের সরকারের এই প্রস্তাবে আমি গভীরভাবে অভিভূত এবং একইসঙ্গে তা গ্রহণ করতে না পারায় দুঃখ ও লজ্জাবোধ করছি।"
তিনি আরো লেখেন, "আমি সারা জীবন বস্তুনিষ্ঠ সমস্যা নিয়ে কাজ করেছি, তাই মানুষের সঙ্গে যথাযথভাবে আচরণ করার কিংবা দপ্তরের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় এবং সহজাত দক্ষতা বা অভিজ্ঞতা আমার নেই। শুধু এই কারণেই, আমি এত উচ্চ পদের দায়িত্ব গ্রহণের যোগ্য নই।"
"এই পরিস্থিতি আমাকে আরো বেশি পীড়া দেয়, কারণ বিশ্বে নিজের নড়বড়ে অবস্থান নিয়ে যে সময় থেকে পুরোপুরি উপলব্ধি করা শুরু করি, তখন থেকে ইহুদিদের সঙ্গে সম্পর্কই আমার সবচেয়ে শক্তিশালী মানবিক বন্ধন হয়ে উঠেছে।"
আইনস্টাইনকে নিয়ে বেশ কয়েকটা বই লিখেছেন অ্যালিস ক্যালাপ্রিস। এই লেখিকার মতে ডেভিড বেন-গুরিয়ন এই প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি তার বই 'আইনস্টাইন এনসাইক্লোপিডিয়া'-তে লিখেছেন, "বেন-গুরিয়ন উদ্বিগ্ন ছিলেন যে রাজনৈতিক বিষয়ে আইনস্টাইনের দুঃসাহস তাকে (ডেভিড বেন-গুরিয়নকে) নিজের নীতির বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করতে পারে।"
প্রধানমন্ত্রী তার চিফ অফ স্টাফ আইজ্যাক নাফোনকে (যিনি পরে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন) বলেছিলেন, "উনি (আইনস্টাইন) যদি রাজি হন, তাহলে আমার কী করা উচিত, সে বিষয়ে আমাকে পরামর্শ দিন।"
"এই পদের বিষয়ে তাকে প্রস্তাব দিতেই হতো, কারণ আমি না বলতে পারিনি। কিন্তু উনি যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন, তাহলে আমরা সমস্যায় পড়ব।"
তবে এর অর্থ এই নয় যে ইসরায়েলের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির প্রতি উদাসীন ছিলেন আইনস্টাইন।
রিও ডি জেনিরোর ফেডারেল ইউনিভার্সিটির ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক এম গেরম্যানের কথায়, "আইনস্টাইন জায়নবাদী আন্দোলনের একজন সমর্থক ছিলেন। তিনি ১৯২১ সাল থেকে ভাইৎসম্যানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং জায়নবাদের এমন এক বামপন্থি শাখার প্রতিনিধিত্ব করতেন যা ফিলিস্তিনে আরব ও ইহুদিদের জাতীয় অধিকারসহ দ্বি-জাতীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থন করত।"
জায়নবাদ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন এই অধ্যাপক গেরম্যান।
আইনস্টাইনের লেখা চিঠিপত্র এই বিষয়টি বুঝতে সহায়তা করতে পারে। ১৯৪৭ সালে, ভারতের স্বাধীনতার পর তিনি দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে একটা চিঠি লিখেছিলেন।
তাকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি আইনস্টাইন তার বিশ্বাস সম্পর্কে লেখেন, "আমি জায়নবাদী আদর্শকে গ্রহণ করেছি, কারণ আমি এর মধ্যে দিয়ে একটা সুস্পষ্ট ভুলকে সংশোধন করার পথ দেখতে পেয়েছিলাম।"
পরের বছর ইসরায়েল স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তাদের কয়েক দশকের সংগ্রাম ফলপ্রসূ হয়। এই নিয়ে সন্তুষ্টও ছিলেন তারা। তবে ইসরায়েলের চরমপন্থি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছিলেন।
১৯৪৮ সালের শেষের দিকে তিনি এবং আরো কয়েকজন ইহুদি বুদ্ধিজীবী ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ মেনাখেম বেগিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সমালোচনা করে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে একটা খোলা চিঠি লেখেন।
মেনাখেম বেগিন ছিলেন ইরগুনের নেতা। ইরগুন হলো এক জায়নবাদী আধাসামরিক সংগঠন যা ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার আগে ফিলিস্তিনি ও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে 'সন্ত্রাসী হামলা' চালাত।
ওই বছরই ইরগুন জেরুজালেমের কাছে দেইর ইয়াসিন গ্রামে গণহত্যা চালায়। সেখানে পুরুষ, নারী ও শিশুসহ শতাধিক ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়।
এর কিছু সময় পর, মেনাখেম বেগিন ওই সংগঠন থেকেই হারুত (হিব্রু ভাষায় যার অর্থ 'স্বাধীনতা') নামে একটা নতুন দল গঠন করেন।
নিউইয়র্ক টাইমসকে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়, "এই দলের নেতা মেনাখেম বেগিনের এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের স্পষ্ট উদ্দেশ্য হলো এই ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া যে, তিনি আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনে মার্কিন সমর্থন পেতে চলেছেন।"
ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা একেবারে প্রথম অনুচ্ছেদেই হারুত সম্পর্কে নিজেদের মতামত স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। তারা উল্লেখ করেছিলেন, "সংগঠন, পদ্ধতি, রাজনৈতিক দর্শন এবং সামাজিক প্রভাবের দিক থেকে এই দলের সঙ্গে নাৎসি ও ফ্যাসিবাদী দলগুলোর বেশ সাদৃশ্য রয়েছে।"
এই চিঠি ২০২৪ সালে আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। সেই সময় ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে হলোকাস্টের সাথে তুলনা করেন। তারপর ব্রাজিলিয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু বামপন্থি এই চিঠি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু করেন।
তবে চিঠির বক্তব্য যে প্রসঙ্গ করা হয়েছিল, তার উল্লেখ না করেই উপস্থাপন করা হলে মনে হতেই পারে যে আইনস্টাইন ইসরায়েল-বিরোধী ছিলেন।
ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ রিচার্ড ক্রোকেট তার বই 'আইনস্টাইন অ্যান্ড টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি পলিটিক্স: অ্যা স্যালিউটারি ইনফ্লুয়েন্স'- এর উপসংহারে বলেছেন, "আইনস্টাইনকে কখনো ইহুদিবাদ এবং ইসরায়েলের সমালোচক হিসেবে দেখানো হয়েছে, আবার কখনো এর সমর্থক হিসেবে। যে যখন যেমন পেরেছেন, তেমনভাবে নিজেদের অবস্থানের কথা ভেবে বিষয়টাকে ব্যবহার করেছেন।"
মি. ক্রোকেটের মতে, "রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের কেমন হওয়া উচিত" সে সম্পর্কে আইনস্টাইনের দৃষ্টিভঙ্গির মূল কারণ ছিল বৃহত্তর মূল্যবোধের কাঠামোর প্রতি তার প্রতিশ্রুতি।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, "সব কিছুর ঊর্ধ্বে, জাতীয়তাবাদের প্রতি তার বিতৃষ্ণা এবং আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রতি তার প্রতিশ্রুতির মতো কারণ ইহুদিবাদ এবং ইসরায়েল সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিকে সংজ্ঞায়িত করে এসেছে।"
এই আইনস্টাইনকেই ১৯৫২ সালে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
অধ্যাপক গেরম্যান বলেন, "সম্ভবত এর উদ্দেশ্য ছিল কয়েক বছর আগে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফলে অস্তিত্ব লাভ করা এক রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বৈধতা দেওয়া।"
তিনি ১৯৪৮-১৯৪৯ সালের যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যেখানে ইসরায়েল আরব লীগকে পরাজিত করে এবং ভবিষ্যতের ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত অর্ধেক অঞ্চল দখল করে।
অধ্যাপক গেরম্যান মনে করিয়ে দিয়েছেন যে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের পদ মূলত প্রতীকী হলেও তা ব্যাপকভাবে রাজনৈতিকও।
তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, "আইনস্টাইনকে শুধু ইহুদি হওয়ার জন্যই (প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণের জন্য) আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, এর নেপথ্যে ইহুদিবাদী আন্দোলনের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সংযোগ এবং ইসরাইল প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থনও ছিল।"
তিনি আরও বলেন, "দেশের ভাবমূর্তি উন্নত করার লক্ষ্যে ওই প্রতীকী পদে ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য অন্যান্য বিশিষ্ট ইহুদি ব্যক্তিত্বদেরও বারবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।"
যেমন ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সাইমন পেরেজ সুপরিচিত লেখক আমোস ওজকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
'বেথ শোলোম' নামে ইহুদিবাদে বিশ্বাসী বুদ্ধিজীবীদের একটা আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। আইনস্টাইনও এর অংশ ছিলেন। দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে সংখ্যালঘু বলে বিবেচিত হলেও তা জায়নবাদের অন্যান্য ধারা থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন ছিল না।
এর সদস্যদের মধ্যে ছিলেন দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ হান্না আরেন্ড, অস্ট্রিয়ান-ইসরায়েলি দার্শনিক মার্টিন বুবার এবং ইসরায়েলি দার্শনিক- ইতিহাসবিদ গেরশম শোলোমের মতো বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে কয়েকজনও বেথ শোলমের সদস্য ছিলেন।
কিন্তু অধ্যাপক গেরম্যানের মতে, বর্তমান ইসরায়েলি সরকার এই গোষ্ঠীর সদস্যদের 'বিশ্বাসঘাতক' হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। কারণ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের কাছে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সমর্থক এবং ভিন্ন চিন্তাধারার জন্য কোনো স্থান নেই।
তিনি প্রশ্ন করেছেন, "আমাদের সময়ের আইনস্টাইন কে ছিলেন? কল্পনা করুন কেউ এই পদ গ্রহণ করছেন। রসায়নে নোবেল বিজয়ী এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের দখলদারিত্ব ও গাজার বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচক আদা ইয়োনাত কি এই পদ গ্রহণ করবেন? আমি তা মনে করি না।"
আইনস্টাইন সে বছর প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণ করেননি। সে বছর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণ করেছিলেন ইতিহাসবিদ আইজ্যাক বেন-জেভি।
যে মেনাখেম বেগিনকে আইনস্টাইন এবং অন্যান্যরা সমালোচনা করেছিলেন সেই ব্যক্তিই ক্রমে ইসরায়েলে আরো প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন। তার দল একটা প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছিল।
পরবর্তী দশকগুলোতে হারুত রক্ষণশীলদের প্রধান দল হয়ে ওঠে। মি. বেগিন ১৯৭৭ সালে প্রধানমন্ত্রী হন এবং তিনি ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত ওই পদে ছিলেন।
পাঁচ বছর পরে, হারুত আরেকটা ডানপন্থি দল 'লিকুদ'-এর সঙ্গে মিশে যায়। ২০০৬ সাল থেকে দলটির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারতের উত্তর সীমান্তের দিকে মুখ করে পঞ্চম প্রজন্মের ভয়াবহ ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ (J-20 Mighty Dragon) যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে চীন। স্যাটেলাইট ইমেজিং সংস্থা ‘ভ্যান্টর’ থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুনের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুতে দুটি প্রধান চীনা বিমানঘাঁটিতে কমপক্ষে ১১টি জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আকাশে চীনের এই শক্তিশালী চ্যালেঞ্জের বিপরীতে নিজস্ব প্রতিরক্ষামূলক জবাব বা নিজস্ব স্টিলথ ফাইটার পেতে ভারতকে এখনো বহু বছর অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, চলতি বছরের ৯ জুলাই শিনজিয়াং প্রদেশের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল উইঘুরে অবস্থিত ‘হোতান’ বিমানঘাঁটির রানওয়েতে এক সারিতে সাতটি জে-২০ যুদ্ধবিমান পার্ক করা রয়েছে। এই ঘাঁটির অবস্থান লাদাখের লেহ শহর থেকে মাত্র ৩৮৯ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ও উত্তর লাদাখে অবস্থিত ভারতীয় বিমানবাহিনীর অন্যতম কৌশলগত ঘাঁটি ‘দৌলত বেগ ওল্ডি’ থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে এখন পর্যন্ত কোনো চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি দেখতে পাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। এই স্যাটেলাইট তথ্য ও প্রতিরক্ষামূলক উদ্বেগের বিষয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে প্রকাশিত দ্বিতীয় উপগ্রহ চিত্রটিতে তিব্বতের লহাসা প্রিফেকচারের অধীনস্থ ‘দামশুং’ বিমানঘাঁটির ফ্লাইটলাইনে আরও চারটি জে-২০ স্টিলথ ফাইটার পার্ক করা অবস্থায় দেখা গেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং অঞ্চল থেকে উত্তর-পশ্চিমে মাত্র ৩৪৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সাবেক ফাইটার পাইলট এবং ভারতের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ‘নিউস্পেস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সমীর জোশী বলেন, হোতানে সাতটি ও দামশুংয়ে চারটি জে-২০-এর উপস্থিতি এটিই নিশ্চিত করে যে, ভারতের মুখোমুখি উচ্চতর বিমানঘাঁটিগুলো থেকে পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ বিমানগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা এখন চীনা বিমানবাহিনীর জন্য রুটিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি কোনো সাময়িক সিগন্যালিং বা প্রদর্শন নয়। ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য উত্তর সীমান্তে এই ধরণের অদৃশ্য বা কম-শনাক্তযোগ্য হুমকি এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা কাউন্টার-স্টিলথ সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ও স্ট্যান্ডঅফ স্ট্রাইক ক্ষমতার জরুরি আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। জে-২০ এর প্রযুক্তিগত সুবিধা ও ভারতের এএমসিএ সংকট জে-২০ যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর আধুনিক স্টিলথ বৈশিষ্ট্য, যা শত্রুর চোখ এড়িয়ে নিখুঁত আক্রমণ চালাতে ও আকাশে আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম। উন্নত স্টিলথ কাঠামোর কারণে সাধারণ রাডারে এই বিমানের উপস্থিতি ধরা অত্যন্ত কঠিন। ফলে ফ্রান্স থেকে কেনা ‘রাফায়েল’-এর মতো ভারতের চতুর্থ প্রজন্মের উন্নত কিন্তু নন-স্টিলথ যুদ্ধবিমানগুলোর ওপর এই বিমানটি বিশাল প্রযুক্তিগত সুবিধা ধরে রাখে। বর্তমানে ভারতের হাতে কোনো নিজস্ব স্টিলথ যুদ্ধবিমান নেই। দেশটির সম্পূর্ণ স্বদেশী প্রথম স্টিলথ বিমান ‘অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট’ নির্মাণাধীন রয়েছে। তবে ব্যাপক ফ্লাইট-টেস্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে মূল প্রযুক্তিগুলোর সফল যাচাইকরণ সত্ত্বেও, এটি বিমানবাহিনীর স্কোয়াড্রনে যুক্ত হতে অন্তত আরও এক দশক বা ১০ বছরের বেশি সময় লাগবে। চীনের অবিশ্বাস্য উৎপাদন ক্ষমতা ‘দ্য ওয়ার জোন’-এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে চীনা জে-২০ বহরের দ্রুত বৃদ্ধির বিস্তারিত চিত্র সামনে এসেছে। ২০১৯ সালে যেখানে চীনের হাতে আনুমানিক ৫০টি জে-২০ ছিল, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০০টিতে। পরবর্তী বছরগুলোতে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বার্ষিক উৎপাদন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০টিতে, যার ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এক ডজনেরও বেশি পিএলএএএফ ইউনিটে এই বিমানের সংখ্যা আনুমানিক ৩০০ থেকে ৫০০-তে পৌঁছেছে। যুক্তরাজ্যের ‘রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট’ ধারণা করছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীন প্রায় ১ হাজারটি জে-২০ আকাশে উড়াতে সক্ষম হবে। গত বছর মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত ৮৮ ঘণ্টার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর উপ-প্রধান পদে কর্মরত অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারি বলেন, প্রতি বছর ১২৫টি যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতা প্রদর্শন প্রমাণ করে যে তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা কতটা উন্নত। তারা প্রায় বাণিজ্যিক বিমানের মতো যুদ্ধবিমান তৈরি করছে, যা কেবল তখনই সম্ভব যখন সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পূর্ণ নিখুঁত হয় ও উচ্চমানের মানবসম্পদ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকে। উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চীনের জে-২০ বিমান মোতায়েনের তথ্য কভার করে আসছে। ২০১৬ সালে তিব্বতের চরম উচ্চতায় অবস্থিত দাওচেং ইয়াডিং বিমানবন্দরে প্রথমবার জে-২০ দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের মে-তে সিকিম সীমান্ত থেকে ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে শিগাতসে বিমানঘাঁটিতেও চীনা জে-২০ অবতরণ করতে দেখা গিয়েছিল। ভারতের বর্তমান স্কোয়াড্রন সক্ষমতা ভারতের কাছে বর্তমানে মাত্র ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা হরিয়ানার আম্বালা ও পশ্চিমবঙ্গের হাশিমারা বিমানঘাঁটিতে দুটি স্কোয়াড্রনে বিভক্ত। এছাড়া ভারত ৭৫০ কোটি ডলারের চুক্তিতে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য আরও ২৬টি রাফায়েল অর্ডার করেছে ও বিমানবাহিনীর জন্য ৩৬ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে অতিরিক্ত ১১৪টি রাফায়েল কেনার বিষয়ে দ্যাসোঁ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি ভারতীয় বিমানবাহিনী ২৬০টিরও বেশি রাশিয়ান ডিজাইনের সুখোই-৩০ এমকেআই ফাইটার পরিচালনা করছে, যা বড় ধরনের আধুনিকীকরণের অপেক্ষায় রয়েছে। এর পাশাপাশি মিরাজ ২০০০ ও মিগ-২৯ এর মতো কিছু পুরনো মডেলের যুদ্ধবিমানও বহরে রাখা হয়েছে।
কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আরও সময় দিতে ইরানে টানা দুই রাতের বিমান হামলা স্থগিত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। খবর বিবিসির। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য গোলাবারুদের মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে বলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। তবে এ দাবি নাকচ করে মাইক ওয়াল্টজ বলেন, চলমান অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মূলত আলোচনার জন্য একটি সুযোগ তৈরি করতে চান। সে কারণেই ইরানের ওপর হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে তিনি বলেন, এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আর বাড়াবে না। ট্রাম্প এখনো সব ধরনের বিকল্প খোলা রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ থাকার পর ইরানও প্রতিক্রিয়ায় জানায়, তারা আপাতত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলা স্থগিত রেখেছে। গত জুনে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও চলতি মাসে তা ভেঙে যায়। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ধারাবাহিক হামলা চালায় এবং জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। তবে টানা দুই রাত হামলা না হওয়ায় পরিস্থিতিতে সাময়িক বিরতি দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমান ও ইরান তেহরানে কয়েক দফা কারিগরি বৈঠক করেছে। তবে প্রণালিটি নিয়ে বিরোধ এখনো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। উল্লেখ্য, ১৩ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ জোরদার করে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
যুক্তরাষ্ট্র টানা দুই দিন ইরানে নতুন করে বিমান হামলা না চালানোয় মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ইরান। প্রায় দুই সপ্তাহের টানা হামলার পর উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতায় আপাত বিরতি দেখা গেছে। খবর আলজাজিরার। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেনাবাহিনীর গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসছে—এমন খবর নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত রয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা না হলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন আগের আলোচনা প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসভঙ্গ করেছিল। অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। নাবলুস, রামাল্লাহ, হেবরন ও জেরুজালেমসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান, গ্রেপ্তার এবং বাড়িঘর ভাঙার ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।