আন্তর্জাতিক

যে শহরে প্রায় প্রতি বাড়িতেই থাকে উড়োজাহাজ

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্যালিফোর্নিয়ার পাহাড়বেষ্টিত প্রান্তরে তখন দিনের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। এমন সময় এক বাসিন্দা নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হলেন। তবে তাঁর যাত্রাসঙ্গী কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নয়। বাড়ির পাশে থাকা বিশাল দরজাওয়ালা স্থাপনায় অপেক্ষা করছিল একটি ঝকঝকে ছোট উড়োজাহাজ।

 

দরজাটি ওপরে উঠতেই স্পষ্ট হয়, সেটি সাধারণ গ্যারেজ নয়, বরং একটি ব্যক্তিগত হ্যাঙ্গার। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তিনি ককপিটে বসেন, ইঞ্জিন চালু করেন এবং বিমানটি নিয়ে এগিয়ে যান নিকটবর্তী বিমানবন্দরের দিকে। রানওয়েতে পৌঁছে অল্প সময়ের মধ্যেই উড়োজাহাজটি আকাশে ভেসে ওঠে।

 

অফিসে যাওয়ার জন্য এমন দৃশ্য পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের কাছে কল্পনার মতো মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিশেষ আবাসিক এলাকায় এটি একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা। সেই এলাকার নাম ক্যামেরন এয়ারপার্ক এস্টেটস।

 

বিশ্বের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বসতিগুলোর কথা উঠলে ক্যামেরন এয়ারপার্কের নাম সহজেই সামনে চলে আসে। কারণ এখানে বাড়ির সামনে ব্যক্তিগত বিমান পার্ক করা থাকে, যা অন্যত্র গাড়ির মতোই সাধারণ বিষয়। অনেক পরিবারের কাছে উড়োজাহাজ দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

বাড়ি ও বিমানবন্দর যেখানে পাশাপাশি

ক্যালিফোর্নিয়ার এল ডোরাডো কাউন্টিতে অবস্থিত ক্যামেরন এয়ারপার্ক এস্টেটসের পুরো নকশা তৈরি হয়েছে একটি বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে। পরিকল্পনাটি এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে বাসিন্দারা সরাসরি নিজেদের বাড়ি থেকে বিমান নিয়ে বিমানবন্দরে যেতে পারেন।

 

এখানকার বহু বাড়ির নকশা প্রথম দেখায় বড় কোনো গুদামঘরের মতো মনে হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ রাখার জন্য নির্মিত হ্যাঙ্গার। সাধারণ মানুষ যেমন গাড়ির জন্য গ্যারেজ তৈরি করেন, এখানকার বাসিন্দারাও তেমনি বিমান রাখার জন্য বিশাল আকারের হ্যাঙ্গার বানিয়েছেন।

 

ফলে বাসিন্দারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেদের প্লেনে চড়ে আকাশপথে যাত্রা শুরু করতে পারেন। এ সুবিধাই এলাকাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হয় যাত্রা

ক্যামেরন এয়ারপার্কের ধারণার পেছনে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী এক বিশেষ প্রেক্ষাপট। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অসংখ্য সামরিক বিমানঘাঁটি এবং এয়ারফিল্ড ব্যবহারহীন হয়ে পড়ে। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত পাইলট বেসামরিক জীবনে ফিরে আসেন।

 

১৯৩৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্সধারী পাইলটের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ হাজার। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কয়েক বছরের মধ্যেই সেই সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছে যায়। ফলে এই বিপুলসংখ্যক বিমানচালকদের জন্য নতুন ধরনের আবাসন ও অবকাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়।

 

সেই প্রয়োজন থেকেই জন্ম নেয় ‘ফ্লাই-ইন কমিউনিটি’ ধারণা—এমন আবাসিক এলাকা, যেখানে বসবাস ও বিমানচালনা একই জীবনধারার অংশ। ক্যামেরন এয়ারপার্ক সেই ধারণার অন্যতম সফল বাস্তব রূপ।

সড়ক, কিন্তু শুধু গাড়ির জন্য নয়

এই এলাকায় প্রবেশ করলে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে এর প্রশস্ত সড়কগুলো। সাধারণ আবাসিক এলাকার তুলনায় এগুলো অনেক বেশি চওড়া। কারণ এসব রাস্তা শুধু গাড়ির জন্য নয়, ছোট উড়োজাহাজ চলাচলের জন্যও ব্যবহৃত হয়।

এখানে এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়, যেখানে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির পাশে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে একটি ছোট বিমান। অবশ্য এসব বিমান রাস্তা থেকেই উড্ডয়ন করে না। সড়ক ব্যবহার করে তারা বিমানবন্দরের রানওয়েতে পৌঁছে, এরপর আকাশে ওঠে।

এই কারণেই ডাকবাক্স, সাইনবোর্ড ও আলোকস্তম্ভের মতো অবকাঠামোও বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। অধিকাংশই তুলনামূলক নিচু, যাতে বিমানের ডানার সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ না ঘটে।

রাস্তার নামেও বিমানপ্রেমের ছাপ

ক্যামেরন এয়ারপার্কের ভেতরে ঘুরলে বোঝা যায়, বিমানচালনা এখানে কেবল পরিবহনের মাধ্যম নয়, সংস্কৃতিরও অংশ। এলাকার বহু রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিমান-সংশ্লিষ্ট শব্দের নামে।

বাড়ির সামনে সারিবদ্ধ ব্যক্তিগত বিমান, মাথার ওপর ছোট উড়োজাহাজের আনাগোনা এবং বিমানভিত্তিক নামের সড়ক—সব মিলিয়ে এলাকাটি যেন একটি জীবন্ত এভিয়েশন জাদুঘর।

প্রতিবেশীদের আড্ডার কেন্দ্রেও বিমান

বিশ্বের অধিকাংশ পাড়ায় প্রতিবেশীদের আলোচনার বিষয় হয় গাড়ি, বাগান বা খেলাধুলা। কিন্তু ক্যামেরন এয়ারপার্কে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে উড়োজাহাজ।

 

এখানে কে নতুন প্লেন কিনেছেন, কার বিমানের ইঞ্জিনে সমস্যা হয়েছে কিংবা কে কোথায় উড়ে বেড়াতে গেছেন—এসবই নিয়মিত আলোচনার বিষয়। অনেক বাসিন্দাই সাবেক সামরিক পাইলট, বাণিজ্যিক বিমানচালক, প্রকৌশলী বা বিমানপ্রেমী। ফলে পুরো কমিউনিটির সামাজিক জীবন বিমানকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়।

যানজট এড়িয়ে আকাশপথে যাত্রা

এখানকার অনেক বাসিন্দার কাছে ব্যক্তিগত বিমান কেবল শখ নয়, বাস্তব যাতায়াতের মাধ্যমও। একসময় এ এলাকার বাসিন্দা বার্ল স্ক্যাগস নিয়মিত নিজের উড়োজাহাজে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন।

যে পথ সড়কে অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগত, আকাশপথে সেটি শেষ হতো এক ঘণ্টারও কম সময়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার দীর্ঘ যানজট বিবেচনায় নিলে বিষয়টি আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।

 

যখন অন্যরা মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের ভিড়ে আটকে থাকেন, তখন এয়ারপার্কের কিছু বাসিন্দা মেঘের ওপরে উড়ে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছে যান।

শনিবারের সকাল মানেই বিমানপ্রেমীদের মিলনমেলা

ক্যামেরন এয়ারপার্কের সামাজিক সংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণ হলো শনিবার সকালের আড্ডা। এ সময় অনেক বাসিন্দা বিমানবন্দরে একত্রিত হন।

 

কেউ নিজেদের উড়োজাহাজ পরিষ্কার করেন, কেউ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যস্ত থাকেন, আবার কেউ নতুন যন্ত্রাংশ নিয়ে আলোচনা করেন। মাঝেমধ্যে ছোট আকারের উড্ডয়ন সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। ফলে এটি কেবল একটি আবাসিক এলাকা নয়, বিমানপ্রেমীদের একটি প্রাণবন্ত সম্প্রদায়।

খ্যাতিমান পাইলটদেরও পছন্দের ঠিকানা

ক্যামেরন এয়ারপার্কের পরিচিত বাসিন্দাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিখ্যাত অ্যারোবেটিক পাইলট Julie Clark।

 

আকাশে দুঃসাহসিক কসরতের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই বিমানচালক দীর্ঘদিন এখানে বসবাস করেছেন। তাঁর মতো আরও অনেক অভিজ্ঞ পাইলট একই ধরনের মানুষ ও জীবনধারার আকর্ষণে এই এলাকাকে নিজেদের আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

এমন বসতি কি আর কোথাও আছে?

ক্যামেরন এয়ারপার্ক অনন্য হলেও একক নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়েক শত ফ্লাই-ইন কমিউনিটির অস্তিত্ব রয়েছে। তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এমন বসতি দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রে।

 

ফ্লোরিডা, টেক্সাস, আরিজোনা এবং ওয়াসিংটন-সহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এমন বহু আবাসিক এলাকা রয়েছে, যেখানে বাড়ির সামনেই ব্যক্তিগত বিমান রাখা যায়।

 

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম ও বিমানপ্রেমীদের আলোচনায় ক্যামেরন এয়ারপার্ক সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে। কারণ এখানে দৈনন্দিন জীবন ও বিমানচালনার সমন্বয় সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

ভবিষ্যতের শহর মনে হলেও এটি বাস্তব

প্রথমবার ক্যামেরন এয়ারপার্কে গেলে অনেকেরই মনে হতে পারে, যেন কোনো বিজ্ঞান কল্পকাহিনির জগতে প্রবেশ করেছেন। কারণ পৃথিবীর অধিকাংশ শহরে বাড়ির সামনে গাড়ি দেখা যায়, কিন্তু এখানে দেখা যায় বিমান।

 

অন্যান্য স্থানে শিশুরা বড় হয় গাড়ির শব্দ শুনে, আর এখানে তারা বেড়ে ওঠে উড়োজাহাজের গর্জন শুনতে শুনতে। আমরা কর্মস্থলে যাওয়ার আগে গাড়ির চাবি খুঁজি, আর এখানে অনেকেই খোঁজেন বিমানের চাবি।

 

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এটি কোনো চলচ্চিত্রের সেট নয়, কোনো ধনকুবেরের ব্যক্তিগত দ্বীপও নয়। এটি বাস্তবের একটি আবাসিক এলাকা, যেখানে মানুষ সত্যিই নিজেদের বাড়ির হ্যাঙ্গার থেকে বিমান বের করে আকাশপথে কর্মস্থলে যান।

 

আর সেই কারণেই ক্যামেরন এয়ারপার্ক পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী, রোমাঞ্চকর এবং নিঃসন্দেহে সবচেয়ে ‘উড়ন্ত’ আবাসিক এলাকাগুলোর একটি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মোদির আমন্ত্রণে নয়াদিল্লির সফরে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে পৌঁছেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ মিন অং হ্লাইং। শনিবার (৩০ মে) তিনি বিহারের বুদ্ধগয়ায় পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই সফরকে স্বাগত জানিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সভ্যতাগত ও আধ্যাত্মিক সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রণধীর জয়সওয়াল বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বুদ্ধগয়ায় মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আগমনের কথা উল্লেখ করেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন। এক্সের ওই পোস্টে বলা হয়, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ মিন অং হ্লাইংকে বুদ্ধগয়ায় উষ্ণ স্বাগত। বিমানবন্দরে মাননীয় রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন তাকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সফর আমাদের দুটি দেশের মধ্যকার দৃঢ় আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক ও জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক এবং চলমান সহযোগিতার গভীরতাকে প্রতিফলিত করে। ভারতে পৌঁছানোর পরপরই প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং বৌদ্ধদের পবিত্র তীর্থস্থান এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ‘মহাবোধি মন্দির’ পরিদর্শন করেন। ৩০ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত স্থায়ী এই সফরটি বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংয়ের প্রথম ভারত সফর। এই সফরে তার সঙ্গে ক্যাবিনেট মন্ত্রী, সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১ জুন নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। সেখানে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি তিনি একটি বিশেষ বিজনেস ফোরামে অংশ নেবেন। আগামী ২ জুন ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে ভারী শিল্প সংক্রান্ত আলোচনা, ব্যবসায়িক বৈঠক এবং বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি শেষ হবে।   সূত্র: উইয়ন নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যে শহরে প্রায় প্রতি বাড়িতেই থাকে উড়োজাহাজ

ছবি : সংগৃহীত

লেবাননের রকেট-ড্রোন হামলায় কেঁপে উঠল উত্তর ইসরায়েল

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজে জাহাজ চলাচলে ইরানের কড়া বার্তা

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা ডায়ালগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: সংগৃহীত
চুক্তি ব্যর্থ হলে ইরানে পুনরায় হামলার সম্ভাবনা : হেগসেথ

ইরানের সঙ্গে পরমাণু ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি না হলে নতুন করে সামরিক হামলা চালাতে প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই কঠোর বার্তা দিল ট্রাম্প প্রশাসন।   রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ শনিবার সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা সম্মেলন শাংরি-লা ডায়ালগে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেছেন হেগসেথ।   হেগসেথ বলেন, ‘প্রয়োজন হলে পুনরায় (হামলা) শুরু করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকবিলার জন্য আমাদের যথেষ্ট অস্ত্রের মজুত আছে, সেটা মধ্যপ্রাচ্যে হোক কিংবা বিশ্বজুড়ে। সব মিলিয়ে আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছি।’   প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ জানান, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ওপর থেকে তাদের নজর সরিয়ে নেয়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে পারি। আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা শিল্প খাতকে শক্তিশালী করছি, যার ফলে খুব শিগগিরই আমরা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই, তিন বা চার গুণ বেশি গোলাবারুদ তৈরি করব, যাতে বিশ্বজুড়ে আমাদের সমস্ত সামরিক পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।’   পেন্টাগন প্রধান বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে এখন পর্যন্ত নমনীয়। তিনি একটি ভালো চুক্তি করতে চান, যা নিশ্চিত করবে ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।’   এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ অবসানের একটি প্রস্তাবের বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে তিনি হোয়াইট হাউসের একটি নিরাপদ কক্ষে বৈঠকে বসবেন। ওই প্রস্তাবে গত এপ্রিলের শুরুতে নেওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

অমরত্বের খোঁজে পুতিন! অঙ্গ মেরামত প্রকল্পে ২৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

ট্রাম্পের ১.৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিল আটকে গেল

সংগৃহীত ছবি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ল আরও ৬০ দিন

স্টারমারের পতন ব্লেয়ারের পথ অনুসরণ করে

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার—যিনি একদিন ঘোষণা করেছিলেন, 'আমি জোরে ও স্পষ্টভাবে বলেছি—এবং আমি এটা বলতে চেয়েছি—যে আমি শর্তহীনভাবে সিয়নবাদকে সমর্থন করি'—এখন কখনোই এত দুর্বল অবস্থানে ছিলেন না।   যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট স্বনির্মিত সংকট থেকে এখনো কাতর, এবং ৭ মে তার লেবার পার্টি স্থানীয় নির্বাচনে প্রায় ১,৫০০ আসন হারানোর পর, তাঁর অনেক মন্ত্রীই তাঁর বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, স্বীকার করে যে: 'একটি অনুভূতি রয়েছে যে এটা শেষ।'   এটি সেই ব্যক্তির জন্য এক অবিশ্বাস্য পতন, যিনি দুই বছরেরও কম সময় আগে সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিলেন। তবে টনি ব্লেয়ারের মতোই—যিনি শেষ লেবার নেতা হিসেবে দলকে বিপুল বিজয়ের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন—স্টারমারের জনপ্রিয়তা তলানিতে গেছে—আংশিকভাবে কারণ তিনি নিরন্তর ইসরায়েলি রাষ্ট্রের কার্যকলাপকে সমর্থন করেছেন।   ইতোমধ্যে ২০২৩ সালের অক্টোবরে, বিরোধী দলের নেতা হিসেবে, স্টারমার মুসলিম ভোটারদের বিচ্ছিন্ন করেছিলেন গাজার সমগ্র জনগণের খাদ্য ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার ইসরায়েলের 'অধিকার' সমর্থন করে—যদিও পরে তিনি সেই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। যখন কেউ কেউ সতর্ক করেছিলেন যে মুসলিম ভোটাররা এর ফলে লেবার ছেড়ে চলে যাবেন, একজন সিনিয়র দলীয় সূত্র বিখ্যাতভাবে একটি সম্পূর্ণ সম্প্রদায়ের সমর্থন হারানোর সম্ভাবনাকে 'উকুন ঝাড়া' হিসেবে চিত্রিত করেছিল।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান আক্রমণের প্রতি স্টারমারের প্রতিক্রিয়া তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের দুর্বলতার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। ব্রিটেনের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক যুদ্ধে অংশগ্রহণকে 'আত্মরক্ষামূলক' বলে বিক্রি করার হতাশ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র লোড করার ফাঁস হওয়া ছবি যেকোনো এমন ভ্রম ভেঙে দেয়।   স্টারমারের জন্য আরও খারাপ বিষয় হলো, তাঁর প্রাথমিক ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই—যে ট্রাম্পকে 'আত্মরক্ষামূলক আক্রমণের' জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে—সাইপ্রাসের আক্রোতিরি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি একটি ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।   ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত, একই ঘাঁটি থেকে ব্রিটিশ বিমানবাহিনী গাজার আকাশ পর্যবেক্ষণে ৫০০-এরও বেশি গুপ্তচর ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল। ধারণা করা হয় যে ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েলি গণহত্যাকারীদের জন্য গোয়েন্দা সংগ্রহ করতে এই ফ্লাইট ব্যবহার করেছিল।   ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আক্রোতিরি সফরকালে স্টারমার প্রকাশ্যে সংকোচ প্রকাশ করেছিলেন: 'আমরা অবশ্যই বিশ্বকে বলতে পারি না যে আপনারা এখানে কী করছেন।'   এখন, স্টারমার ট্রাম্পকে ইরান আক্রমণের জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছিলেন—যেসব আক্রমণ মার্কিন কর্মকর্তারা প্রায় স্বীকার করে নিয়েছেন যে ইসরায়েলি রাষ্ট্রের কারণে চালানো হয়েছিল।   অর্থদাতা ও প্রভাব ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আক্রমণ স্টারমারের জন্য তাঁর রাজনৈতিক গুরু, ইরাক আক্রমণকারী টনি ব্লেয়ারকে অনুকরণ করার সুযোগ ছিল। স্টারমার স্বীকার করেছিলেন যে ২০২৪ সালের নির্বাচনী জয়ের পূর্বে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে 'অনেক' পরামর্শ করেছিলেন, এবং ব্লেয়ারের বর্তমান সরকারের ওপর প্রভাব 'নীতি থেকে কর্মী... সর্বত্র' বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।   লেবার পার্টির কেউ কেউ এই প্রভাব উদযাপন করেছেন। স্টারমারের ব্যবসা সচিব পিটার কাইল—যিনি লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েলের সাবেক সহ-সভাপতি এবং ব্লেয়ার যুগে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন—বলেছেন যে স্টারমার 'বিশ্বজুড়ে যাকে লোকজন চেনে ও বিশ্বাস করে এমন একজন প্রবীণ রাষ্ট্রনায়কের' সুবিধা পাবেন।   তবে ব্লেয়ারের 'নেতানিয়াহু প্রশাসনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক' এবং জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মনোনীত গাজার জন্য ট্রাম্পের ঔপনিবেশিক 'শান্তি বোর্ড'-এ তাঁর অংশগ্রহণ কোনো নিরপেক্ষতা বা নিষ্ঠার ভান ভেঙে দেয়।   ব্লেয়ারের সাম্প্রতিক 'তিরস্কার'—যে স্টারমার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি ইরান আক্রমণকে আরও জোরালোভাবে সমর্থন করেননি—এটি একটি ধোঁয়াসা। দুজন একই কাপড়ের, এবং স্টারমার ও ব্লেয়ার উভয়েরই ব্রিটেনে ইসরায়েল লবিকে সমর্থন ও শক্তিশালী করার সুদীর্ঘ প্রমাণিত ইতিহাস রয়েছে।   ৩ মে, ব্লেয়ারের জীবনীকার অ্যান্থনি সেলডন অদ্ভুতভাবে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে স্টারমার তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব বাঁচাতে ব্লেয়ারকে পররাষ্ট্র সচিব নিয়োগ দেওয়া উচিত। কিন্তু প্রথমে ব্লেয়ারকে রাজনৈতিক দৃশ্যে নিয়ে আসা অর্থ তাঁর প্রকৃত অনুগত্যকে প্রকাশ করে।   ব্লেয়ারের ক্ষমতায় আরোহণের পেছনে অর্থদাতা ছিলেন মাইকেল লেভি—যাকে একসময় তাঁর 'একক এটিএম' বলা হতো এবং যিনি লেবার পার্টির জন্য ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। লন্ডনে একজন সিনিয়র ইসরায়েলি কূটনীতিক গিডিয়ন মেইর আয়োজিত এক সমাবেশে তাঁরা প্রথম দেখা করেন। সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট একবার ব্লেয়ারকে 'ইসরায়েল রাষ্ট্রের একজন সত্যিকারের বন্ধু' বলেছিলেন।   ১৯৮৩ সালে সংসদে প্রবেশের পর ব্লেয়ারের প্রথম কাজগুলোর একটি ছিল লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল লবি গ্রুপে যোগদান। কিন্তু এই চাপ গ্রুপের লেবার নীতির ওপর প্রকৃত প্রভাবের পরিবর্তন ঘটে একবার ব্লেয়ার দলের নেতা হওয়ার পর। ইসরায়েলপন্থী লবিস্ট জন মেন্ডেলসন ব্যাখ্যা করেছিলেন: 'নিউ লেবারে সিয়নবাদ সর্বব্যাপী। এটি স্বয়ংক্রিয় যে ব্লেয়ার এলএফআই সভায় আসবেন।'   লেভি অন্য ইসরায়েলপন্থী কোটিপতিদেরও লেবারকে সমর্থন করতে উৎসাহিত করেছিলেন: কেই এন্টারপ্রাইজের ইমানুয়েল কেই—যিনি লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক; ওয়েস্টফিল্ডের চেয়ারম্যান ফ্রাঙ্ক লোয়ি—যিনি পূর্বে সন্ত্রাসী হাগানাহ সংগঠনের সদস্য ছিলেন; এবং ট্রেভর চিন—যিনি পরে মরগান ম্যাকসুইনির লেবার টুগেদার সংগঠনের পরিচালক ও প্রধান অর্থদাতা হন।   চিন স্টারমারের ২০২০ সালের লেবার নেতৃত্ব প্রচারাভিযানেও প্রায় ৭০,০০০ ডলার দান করেছিলেন।   ২০২৪ সালের নভেম্বরে চিনকে 'ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বার্থে দক্ষতা ও কাজের' জন্য ইসরায়েলি প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব অনার প্রদান করা হয়। লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল লবি গ্রুপ তাঁকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে লোয়িকেও একই পুরস্কার দেওয়া হয়, ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট ইসাক হারজগ তাঁকে 'বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের জন্য চমৎকার সংযোগ গঠনের' জন্য ধন্যবাদ জানান।   ২০১৩ সালে চিন এক লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরায়েল সভায় বলেছিলেন: 'আমি আমার পুরো জীবন ইসরায়েলের জন্য, ইসরায়েলের উন্নত ভাবমূর্তির জন্য, ইসরায়েলের সাফল্যের জন্য কাজ করেছি।' ম্যাকসুইন reportedly ট্রেভরকে 'রক্ষা করতে' লেবার টুগেদারে ১০ লাখ ডলারেরও বেশি অনুদান গোপন করেছিলেন।   অস্ত্র বিক্রি লেবারে যোগদানের আগে, ম্যাকসুইনি কিছু সময় দখলকৃত ফিলিস্তিনের সারিদে একটি ইহুদি উপনিবেশে বসবাস করেছিলেন। ইসরায়েল লবিস্ট থেকে লেবার এমপি লুক অ্যাকহার্স্ট ম্যাকসুইনিকে 'মূল ব্যক্তিত্ব' ও 'ইসরায়েলের দৃঢ় সমর্থক' বলে অভিহিত করেছিলেন, এবং তাঁকে সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এবং পছন্দের প্রার্থী কিয়ার স্টারমারকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করতে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দেওয়া হয়।   স্টারমারকে ক্লাইভ হলিকও অর্থায়ন করেছিলেন, যিনি ম্যাকসুইনির লেবার টুগেদারের আরেক অর্থদাতা এবং তাঁর 'ঘনিষ্ঠ বন্ধু' পিটার ম্যান্ডেলসনের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী স্টারমারের প্রচারাভিযানে প্রায় ৭০,০০০ ডলার দিয়েছিলেন, 'লর্ড হলিকের কাছে এটি খুব বেশি নয়, মাত্র এক মুঠো খুচরা টাকা।'   হলিক হানিওয়েল ইন্টারন্যাশনাল ইনক.-এর একজন নন-এক্সিকিউটিভ পরিচালক, যা দাবি করে 'বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য যুদ্ধ-পরীক্ষিত প্রযুক্তি' সরবরাহ করে। তিনি পূর্বে ব্রিটিশ অস্ত্র কোম্পানি বিএই সিস্টেমসের পরিচালক ছিলেন, যা বর্তমানে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচির প্রধান অংশীদার।   যুক্তরাজ্য তথ্যানুসারে গাজায় ২,০০০ পাউন্ড বোমা ফেলতে ব্যবহৃত ইসরায়েলি এফ-৩৫-এর ১৫ শতাংশ উৎপাদন করে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লেবারের আংশিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থেকে এফ-৩৫ লাইসেন্স ছাড় পেয়েছিল।   প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, টনি ব্লেয়ার বিদেশি সরকারগুলোকে বিএই-এর কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনতে লবি করতেন, এবং ব্লেয়ারের অধীনে পররাষ্ট্র সচিব রবিন কুক একবার বলেছিলেন: 'আমি জানতে পারলাম যে বিএই-এর চেয়ারম্যানের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাগানের দরজার চাবি ছিল।'   কুক হলিকের ব্লেয়ারের ওপর প্রভাবকেও দায়ী করেছিলেন যে কারণে তিনি সরকারকে অস্ত্র রপ্তানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি।   অতীতে, স্টারমার মিশকন ডে রেয়া নামক একটি আইনি সংস্থার হয়ে হাজার হাজার ডলার উপার্জন করেছিলেন, যা পূর্বে অ্যারিয়েল শ্যারন ও লন্ডনে ইসরায়েলি দূতাবাসের প্রতিনিধিত্ব করেছিল।   মিশকন ডে রেয়া বর্তমানে এপস্টেইন-সহযোগী পিটার ম্যান্ডেলসনের প্রতিনিধিত্ব করছে, যাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া প্রায় স্টারমারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল এবং যিনি ফেব্রুয়ারিতে সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ম্যান্ডেলসন কুখ্যাত পেডোফাইলকেও সংবেদনশীল সরকারি তথ্য সরবরাহ করেছিলেন।   ২০১৭ সালের ফাঁস হওয়া বার্তায় দেখা যায় যে স্টারমার মিশকন ডে রেয়ার সঙ্গে একটি পরামর্শক পদ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তবে তৎকালীন লেবার নেতা জেরেমি করবিন তাঁকে বাধা দিয়েছিলেন।   আরও জোরদার এটি একমাত্র সময় ছিল না যখন স্টারমার করবিনকে তাঁর সংসদীয় কার্যক্রমের বাইরে কাজ সম্পর্কে অন্ধকারে রেখেছিলেন।   ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবরের মধ্যে কোনো এক সময়, স্টারমার ট্রিলেটারাল কমিশনে যোগ দেন, যা ১৯৭০-এর দশকে মার্কিন কোটিপতি ডেভিড রকফেলার 'নির্বাচিতদের জন্য একটি নেটওয়ার্কিং গ্রুপ' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।   স্টারমার পরে কমিশন ছেড়েছেন, এবং আমরা জানি না কে তাঁর আমন্ত্রণের সুপারিশ করেছিলেন, তবে জেফ্রি এপস্টেইন ও পিটার ম্যান্ডেলসন উভয়েই সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   এমপি হওয়ার আগে, কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের অন্যতম সিনিয়র প্রসিকিউটর পদ পাবলিক প্রসিকিউশন ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১১ সালের জুনে, স্টারমার যে একমাত্র বিদেশি রাষ্ট্রীয় অ্যাটর্নির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তার রেকর্ড রয়েছে: ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর মোশে লাডোর।   লাডোর স্টারমারকে 'ইসরায়েলের স্থান ও ইতিহাসের ওপর একটি বই' উপহার দিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তী তথ্যের স্বাধীনতা অনুরোধের জবাবে সিপিএস দাবি করেছিল যে তাদের কাছে 'পরিকল্পনা নথি, ব্রিফিং নোট, সাক্ষাৎ সম্পর্কিত যোগাযোগ' বা সাক্ষাৎ মিনিটের কোনো রেকর্ড নেই।   লাডোরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কয়েক মাস পরেই, স্টারমার সাবেক ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী তজিপি লিভনির জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ব্লক করেছিলেন, যিনি যুক্তরাজ্য সফর করছিলেন। স্টারমারের লিভনি মামলা সম্পর্কিত ইমেইলগুলো সংশোধিত করা হয়েছিল, কিন্তু এর জবাবে ব্রিটিশ সরকার আইন পরিবর্তন করেছিল।   ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, স্টারমার নীরবে ইসরায়েল লবির সঙ্গে সংযুক্ত দুই ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। রুথ অ্যান্ডারসন—পূর্বে রুথ স্মিথ নামে পরিচিত—যুক্তরাজ্যের নির্বাচিত নয় এমন উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে সরকারি চাবুক নিয়োগ পান। গিলিয়ান মেরন—যিনি পূর্বে যুক্তরাজ্যের প্রধান ইহুদি সম্প্রদায় প্রতিনিধি সংস্থা বোর্ড অব ডেপুটিজ অব ব্রিটিশ জিউজের প্রধান নির্বাহী ছিলেন—স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়োগ পান।   ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক তারবার্তায় অ্যান্ডারসনকে লন্ডনে মার্কিন দূতাবাসের 'কঠোরভাবে রক্ষা' করার মতো গোপন সূত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি পূর্বে ব্রিটেন ইসরায়েল কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (বিকম)-এর জনসংযোগ পরিচালক ছিলেন।   লেবার পার্টি একটি অস্তিত্বগত সংকটের মুখোমুখি হওয়ায়, স্টারমার টনি ব্লেয়ারের উত্তরাধিকারী হিসেবে তাঁর অবস্থান আরও জোরদার করেছেন, শেষ মুহূর্তে নিজের ত্বক বাঁচাতে নিউ লেবারের প্রবীণরা গর্ডন ব্রাউন ও হ্যারিয়েট হারম্যানকে সরকারে ফিরিয়ে আনছেন।   কিন্তু লেখা দেয়ালে, এবং এই দুর্বল প্রধানমন্ত্রীর মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে ইতিহাস জনমতের আদালতে তাঁকে বাঁচাতে পারবে না।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সহযোগী’ বলল ইরান

ইসরায়েল ও লাতিন আমেরিকার খ্রিস্টীয় সিয়নবাদীদের 'ইসাক চুক্তি' উদ্যোগ

সংগৃহীত ছবি

‘এলিয়েন’ ওয়েবসাইট চালু করল হোয়াইট হাউস

0 Comments