আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ক্যালিফোর্নিয়ার পাহাড়বেষ্টিত প্রান্তরে তখন দিনের আলো ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। এমন সময় এক বাসিন্দা নিজের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হলেন। তবে তাঁর যাত্রাসঙ্গী কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নয়। বাড়ির পাশে থাকা বিশাল দরজাওয়ালা স্থাপনায় অপেক্ষা করছিল একটি ঝকঝকে ছোট উড়োজাহাজ।
দরজাটি ওপরে উঠতেই স্পষ্ট হয়, সেটি সাধারণ গ্যারেজ নয়, বরং একটি ব্যক্তিগত হ্যাঙ্গার। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তিনি ককপিটে বসেন, ইঞ্জিন চালু করেন এবং বিমানটি নিয়ে এগিয়ে যান নিকটবর্তী বিমানবন্দরের দিকে। রানওয়েতে পৌঁছে অল্প সময়ের মধ্যেই উড়োজাহাজটি আকাশে ভেসে ওঠে।
অফিসে যাওয়ার জন্য এমন দৃশ্য পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের কাছে কল্পনার মতো মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিশেষ আবাসিক এলাকায় এটি একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা। সেই এলাকার নাম ক্যামেরন এয়ারপার্ক এস্টেটস।
বিশ্বের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বসতিগুলোর কথা উঠলে ক্যামেরন এয়ারপার্কের নাম সহজেই সামনে চলে আসে। কারণ এখানে বাড়ির সামনে ব্যক্তিগত বিমান পার্ক করা থাকে, যা অন্যত্র গাড়ির মতোই সাধারণ বিষয়। অনেক পরিবারের কাছে উড়োজাহাজ দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বাড়ি ও বিমানবন্দর যেখানে পাশাপাশি
ক্যালিফোর্নিয়ার এল ডোরাডো কাউন্টিতে অবস্থিত ক্যামেরন এয়ারপার্ক এস্টেটসের পুরো নকশা তৈরি হয়েছে একটি বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে। পরিকল্পনাটি এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে বাসিন্দারা সরাসরি নিজেদের বাড়ি থেকে বিমান নিয়ে বিমানবন্দরে যেতে পারেন।
এখানকার বহু বাড়ির নকশা প্রথম দেখায় বড় কোনো গুদামঘরের মতো মনে হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলো ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ রাখার জন্য নির্মিত হ্যাঙ্গার। সাধারণ মানুষ যেমন গাড়ির জন্য গ্যারেজ তৈরি করেন, এখানকার বাসিন্দারাও তেমনি বিমান রাখার জন্য বিশাল আকারের হ্যাঙ্গার বানিয়েছেন।
ফলে বাসিন্দারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজেদের প্লেনে চড়ে আকাশপথে যাত্রা শুরু করতে পারেন। এ সুবিধাই এলাকাটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শুরু হয় যাত্রা
ক্যামেরন এয়ারপার্কের ধারণার পেছনে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী এক বিশেষ প্রেক্ষাপট। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অসংখ্য সামরিক বিমানঘাঁটি এবং এয়ারফিল্ড ব্যবহারহীন হয়ে পড়ে। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত পাইলট বেসামরিক জীবনে ফিরে আসেন।
১৯৩৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্সধারী পাইলটের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ হাজার। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কয়েক বছরের মধ্যেই সেই সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছে যায়। ফলে এই বিপুলসংখ্যক বিমানচালকদের জন্য নতুন ধরনের আবাসন ও অবকাঠামোর প্রয়োজন দেখা দেয়।
সেই প্রয়োজন থেকেই জন্ম নেয় ‘ফ্লাই-ইন কমিউনিটি’ ধারণা—এমন আবাসিক এলাকা, যেখানে বসবাস ও বিমানচালনা একই জীবনধারার অংশ। ক্যামেরন এয়ারপার্ক সেই ধারণার অন্যতম সফল বাস্তব রূপ।
সড়ক, কিন্তু শুধু গাড়ির জন্য নয়
এই এলাকায় প্রবেশ করলে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে এর প্রশস্ত সড়কগুলো। সাধারণ আবাসিক এলাকার তুলনায় এগুলো অনেক বেশি চওড়া। কারণ এসব রাস্তা শুধু গাড়ির জন্য নয়, ছোট উড়োজাহাজ চলাচলের জন্যও ব্যবহৃত হয়।
এখানে এমন দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়, যেখানে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির পাশে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে একটি ছোট বিমান। অবশ্য এসব বিমান রাস্তা থেকেই উড্ডয়ন করে না। সড়ক ব্যবহার করে তারা বিমানবন্দরের রানওয়েতে পৌঁছে, এরপর আকাশে ওঠে।
এই কারণেই ডাকবাক্স, সাইনবোর্ড ও আলোকস্তম্ভের মতো অবকাঠামোও বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। অধিকাংশই তুলনামূলক নিচু, যাতে বিমানের ডানার সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ না ঘটে।
রাস্তার নামেও বিমানপ্রেমের ছাপ
ক্যামেরন এয়ারপার্কের ভেতরে ঘুরলে বোঝা যায়, বিমানচালনা এখানে কেবল পরিবহনের মাধ্যম নয়, সংস্কৃতিরও অংশ। এলাকার বহু রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে বিখ্যাত বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিমান-সংশ্লিষ্ট শব্দের নামে।
বাড়ির সামনে সারিবদ্ধ ব্যক্তিগত বিমান, মাথার ওপর ছোট উড়োজাহাজের আনাগোনা এবং বিমানভিত্তিক নামের সড়ক—সব মিলিয়ে এলাকাটি যেন একটি জীবন্ত এভিয়েশন জাদুঘর।
প্রতিবেশীদের আড্ডার কেন্দ্রেও বিমান
বিশ্বের অধিকাংশ পাড়ায় প্রতিবেশীদের আলোচনার বিষয় হয় গাড়ি, বাগান বা খেলাধুলা। কিন্তু ক্যামেরন এয়ারপার্কে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে উড়োজাহাজ।
এখানে কে নতুন প্লেন কিনেছেন, কার বিমানের ইঞ্জিনে সমস্যা হয়েছে কিংবা কে কোথায় উড়ে বেড়াতে গেছেন—এসবই নিয়মিত আলোচনার বিষয়। অনেক বাসিন্দাই সাবেক সামরিক পাইলট, বাণিজ্যিক বিমানচালক, প্রকৌশলী বা বিমানপ্রেমী। ফলে পুরো কমিউনিটির সামাজিক জীবন বিমানকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়।
যানজট এড়িয়ে আকাশপথে যাত্রা
এখানকার অনেক বাসিন্দার কাছে ব্যক্তিগত বিমান কেবল শখ নয়, বাস্তব যাতায়াতের মাধ্যমও। একসময় এ এলাকার বাসিন্দা বার্ল স্ক্যাগস নিয়মিত নিজের উড়োজাহাজে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করতেন।
যে পথ সড়কে অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগত, আকাশপথে সেটি শেষ হতো এক ঘণ্টারও কম সময়ে। ক্যালিফোর্নিয়ার দীর্ঘ যানজট বিবেচনায় নিলে বিষয়টি আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে।
যখন অন্যরা মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের ভিড়ে আটকে থাকেন, তখন এয়ারপার্কের কিছু বাসিন্দা মেঘের ওপরে উড়ে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছে যান।
শনিবারের সকাল মানেই বিমানপ্রেমীদের মিলনমেলা
ক্যামেরন এয়ারপার্কের সামাজিক সংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণ হলো শনিবার সকালের আড্ডা। এ সময় অনেক বাসিন্দা বিমানবন্দরে একত্রিত হন।
কেউ নিজেদের উড়োজাহাজ পরিষ্কার করেন, কেউ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ব্যস্ত থাকেন, আবার কেউ নতুন যন্ত্রাংশ নিয়ে আলোচনা করেন। মাঝেমধ্যে ছোট আকারের উড্ডয়ন সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। ফলে এটি কেবল একটি আবাসিক এলাকা নয়, বিমানপ্রেমীদের একটি প্রাণবন্ত সম্প্রদায়।
খ্যাতিমান পাইলটদেরও পছন্দের ঠিকানা
ক্যামেরন এয়ারপার্কের পরিচিত বাসিন্দাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিখ্যাত অ্যারোবেটিক পাইলট Julie Clark।
আকাশে দুঃসাহসিক কসরতের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এই বিমানচালক দীর্ঘদিন এখানে বসবাস করেছেন। তাঁর মতো আরও অনেক অভিজ্ঞ পাইলট একই ধরনের মানুষ ও জীবনধারার আকর্ষণে এই এলাকাকে নিজেদের আবাসস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
এমন বসতি কি আর কোথাও আছে?
ক্যামেরন এয়ারপার্ক অনন্য হলেও একক নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়েক শত ফ্লাই-ইন কমিউনিটির অস্তিত্ব রয়েছে। তবে এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এমন বসতি দেখা যায় যুক্তরাষ্ট্রে।
ফ্লোরিডা, টেক্সাস, আরিজোনা এবং ওয়াসিংটন-সহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এমন বহু আবাসিক এলাকা রয়েছে, যেখানে বাড়ির সামনেই ব্যক্তিগত বিমান রাখা যায়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম ও বিমানপ্রেমীদের আলোচনায় ক্যামেরন এয়ারপার্ক সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছে। কারণ এখানে দৈনন্দিন জীবন ও বিমানচালনার সমন্বয় সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
ভবিষ্যতের শহর মনে হলেও এটি বাস্তব
প্রথমবার ক্যামেরন এয়ারপার্কে গেলে অনেকেরই মনে হতে পারে, যেন কোনো বিজ্ঞান কল্পকাহিনির জগতে প্রবেশ করেছেন। কারণ পৃথিবীর অধিকাংশ শহরে বাড়ির সামনে গাড়ি দেখা যায়, কিন্তু এখানে দেখা যায় বিমান।
অন্যান্য স্থানে শিশুরা বড় হয় গাড়ির শব্দ শুনে, আর এখানে তারা বেড়ে ওঠে উড়োজাহাজের গর্জন শুনতে শুনতে। আমরা কর্মস্থলে যাওয়ার আগে গাড়ির চাবি খুঁজি, আর এখানে অনেকেই খোঁজেন বিমানের চাবি।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, এটি কোনো চলচ্চিত্রের সেট নয়, কোনো ধনকুবেরের ব্যক্তিগত দ্বীপও নয়। এটি বাস্তবের একটি আবাসিক এলাকা, যেখানে মানুষ সত্যিই নিজেদের বাড়ির হ্যাঙ্গার থেকে বিমান বের করে আকাশপথে কর্মস্থলে যান।
আর সেই কারণেই ক্যামেরন এয়ারপার্ক পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যতিক্রমী, রোমাঞ্চকর এবং নিঃসন্দেহে সবচেয়ে ‘উড়ন্ত’ আবাসিক এলাকাগুলোর একটি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসিকে একটি ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ প্রতিষ্ঠান বলে আখ্যা দিয়ে এর সব সদস্যকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক বাহিনী বা অন্য কাউকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের দ্বারা তদন্ত বা বিচারের সম্মুখীন হতে দেবে না, যেটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এখতিয়ার নেই। যে কারণে তিনি আইসিসির সব সদস্য রাষ্ট্রকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাগুলোরও সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, তারা বিশ্বের প্রকৃত নৃশংসতার দিকে মনোযোগ না দিয়ে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি এবং অভিবাসন প্রয়োগ সংক্রান্ত মার্কিন নীতির সমালোচনা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, বিশ্বজুড়ে ‘খ্রিস্টানদের ওপর নিপীড়ন’ চললেও এই বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ নীরব রয়েছে।
ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগেই কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর নাম ভোটার তালিকায় উঠেছিল কি না, তা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় নতুন মোড় এসেছে। দিল্লির দ্বারকা এলাকার বিশেষ আদালত আগের নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল করে বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে নতুন করে শুনানি হওয়ার কথা। সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করে তদন্তের আবেদন করেছিলেন আইনজীবী বিকাশ ত্রিপাঠী। তার অভিযোগ, ১৯৮০ সালের ভোটার তালিকায় সোনিয়া গান্ধীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অথচ তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পান ১৯৮৩ সালের ৩০ এপ্রিল। অর্থাৎ অভিযোগ অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রায় তিন বছর আগেই তার নাম ভোটার তালিকায় উঠেছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে তদন্তের আবেদন করা হয়। অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বৈভব চৌরাসিয়া সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে তদন্তের মতো যথেষ্ট উপযুক্ত প্রমাণ দেওয়া হয়নি। এরপর ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হন বিকাশ ত্রিপাঠী। সোমবার বিশেষ বিচারক বিশাল গোগনে আগের আদেশটি বাতিল করে দেন। তার মতে, নিম্ন আদালতের আদেশে সিদ্ধান্তের পক্ষে যথেষ্ট কারণ দেখানো হয়নি। অভিযোগের মূল বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলেও আদালত মনে করেছে। আদালত আরও জানিয়েছে, এ ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট থানার অবস্থানও বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আগের শুনানিতে সেই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে মামলাটি আবার নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারীর আইনজীবী পবন নারাংয়ের দাবি, ১৯৮০ সালে নয়াদিল্লি কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় সোনিয়া গান্ধীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পরে ১৯৮২ সালে সেই নাম বাদ দেওয়া হয় এবং ১৯৮৩ সালে আবার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ১৯৮০ সালের ভোটার তালিকার একটি নথির ভিত্তিতেই এই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন বিজেপি নেতা অমিত মালবীয়। ২০২৫ সালে তিনি সমাজমাধ্যমে ১৯৮০ সালের ভোটার তালিকার একটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছিলেন, তখনও সোনিয়া গান্ধী ভারতীয় নাগরিকত্ব পাননি। বিজেপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছিল, ১৯৮২ সালে তার নাম বাদ যাওয়ার পর ১৯৮৩ সালে আবার ভোটার তালিকায় নাম ওঠে। তবে ওই নথি এবং অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও আদালতের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। সোমবারের নির্দেশের অর্থও সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালত শুধু আগের খারিজের সিদ্ধান্ত বাতিল করে অভিযোগটি আইন অনুযায়ী নতুন করে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে। ফলে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের শুনানির দিকে এখন নজর রয়েছে। সেখানে তদন্তের আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না এবং এফআইআর নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নতুন করে বিবেচনা করবে সংশ্লিষ্ট আদালত।
হিমালয়ের বিরোধপূর্ণ একটি অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের নতুন সীমান্ত চুক্তিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় পাকিস্তান-চীন সীমান্তকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে দিল্লি। তাদের দাবি, অঞ্চলটি ভারতের ভূখণ্ডের অংশ। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে দুর্গম পার্বত্য ওই এলাকায় সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণের উদ্যোগ নেয় পাকিস্তান ও চীন। দুই দেশ ‘পাকিস্তান-চীন বাউন্ডারি জয়েন্ট কমিশন’ গঠনের বিষয়ে চুক্তি করেছে। পাকিস্তান এটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হবে। তবে ভারত এই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারতীয় ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করা এলাকায় পাকিস্তান-চীন কোনো সীমান্তের আইনগত ভিত্তি তারা স্বীকার করে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। তথাকথিত যৌথ কমিশনকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। চুক্তিটি মূলত পাকিস্তান-চীন সীমান্তের শাকসগাম উপত্যকাসহ পার্বত্য এলাকার সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের শাকসগাম উপত্যকা ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান চীনের কাছে হস্তান্তর করে। তবে ভারত এটিকে লাদাখের অংশ হিসেবে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে। ভারতের দাবি, অঞ্চলটি ছিল সাবেক দেশীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরের অংশ। পাকিস্তান অবৈধভাবে অঞ্চলটি দখল করার পর চীনের কাছে হস্তান্তর করে। তাই ১৯৬৩ সালের চুক্তিকে ভারত কখনো স্বীকৃতি দেয়নি এবং এটিকে অবৈধ ও অকার্যকর বলে মনে করে। এ কারণেই নতুন ঘোষণাটি ভারতের কাছে বিশেষভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তানের অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত অধিকার পাকিস্তানের নেই। অন্যদিকে পাকিস্তানের অবস্থান হলো, জম্মু ও কাশ্মীর এখনও একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। তাই চীনের সঙ্গে ১৯৬৩ সালের সীমান্ত চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার ভারতের নেই। ইসলামাবাদ চুক্তিটিকে বৈধ বলে মনে করে। দিল্লির শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গভর্ন্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জাবিন টি জ্যাকব বিবিসিকে বলেন, নতুন উদ্যোগটি পুরোপুরি নতুন কোনো ব্যবস্থা নয়; বরং পুরোনো একটি ব্যবস্থাকে আবার সক্রিয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান চুক্তিতেই একটি যৌথ সীমান্ত কমিশনের বিধান ছিল। এখন মূল বিষয় হলো, এটি কোন সময়ে কার্যকর করা হচ্ছে। জ্যাকবের মতে, এর সময় নির্ধারণের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে চীনের বিভিন্ন সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণের বৃহত্তর উদ্যোগ এবং পাকিস্তানের অন্যান্য সীমান্তে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার সময় চীন-পাকিস্তান সীমান্তে যোগাযোগ ও চলাচলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা অন্যতম। তবে এই উন্নয়নে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে বলেও মনে করেন জ্যাকব। বিশেষ করে ১৯৬৩ সালের চুক্তির একটি ধারার সঙ্গে বর্তমান উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তার তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় কাশ্মীর বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর যে দেশ ওই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তার সঙ্গে চুক্তিটি পুনরায় আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক তথ্য ও গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও ভারতের জন্য বিষয়টি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মনে করেন জ্যাকব। তার মতে, চীনের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও তথ্যপরিসরে তুলনামূলক প্রভাব বেশি থাকায় দেশটি বিশ্বজুড়ে নিজেদের মানচিত্র ও অবস্থান তুলে ধরতে পারছে। অন্যদিকে ভারতের প্রতিক্রিয়া অনেক সময় অন্যান্য দেশের রাজধানীগুলো উপেক্ষা করতে পারে। তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বাস্তব দিক থেকে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে এরই মধ্যে বিস্তৃত অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) এবং কারাকোরাম মহাসড়ক অন্যতম। যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বর্তমানে আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমি এবং হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো হুসেইন হাক্কানি বিবিসিকে বলেন, নতুন কমিশনটি একই সঙ্গে বাস্তবধর্মী ও রাজনৈতিক। তিনি বলেন, এটি দুটিরই সমন্বয়। সীমান্ত ও সীমানা নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানো, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সিপিইসির সঙ্গে যুক্ত কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখার জন্য এটি একটি ব্যবস্থা। তবে এর মাধ্যমে ভারতকেও একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন হাক্কানি। তার মতে, কাশ্মীর ইস্যুতে বেইজিং এখনো পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গিকেই গুরুত্ব দেয়। হাক্কানি বলেন, চীন কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান কখনও মেনে নেয়নি। গিলগিট-বালতিস্তানকেও চীন পাকিস্তানের দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখে, ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। তার মতে, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের পর পাকিস্তানের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে। ২০১৯ সালে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মতো পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৬৩ সাল থেকে চীনের সঙ্গে বাস্তবে যা হয়ে আসছে, সেটিকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পাকিস্তানের আপত্তি নেই। বেইজিংয়ের জন্যও এই উদ্যোগ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ভারতের প্রতি নিজেদের অবস্থান জানানোর বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন হাক্কানি। তিনি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করা চীনের জন্য কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক; দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং ভারতের সামনে চীন-পাকিস্তান দুই দিক থেকে সম্ভাব্য চাপের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘোষণার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। হাক্কানি বলেন, চীন সাধারণত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর আগেই পরিকল্পনা করে। ফলে যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর করার সিদ্ধান্তও কিছু সময় আগেই নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তার মতে, সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের পর এই তথ্য প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়ে আশ্বস্ত করা এবং ভারতকে জানানো হয়েছে যে বহুপক্ষীয় যোগাযোগের অর্থ দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন নয়। তবে প্রতিটি বিষয়কে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন জ্যাকব। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) ওপর এর কোনো তাৎক্ষণিক বা দৃশ্যমান প্রভাব নেই। এ থেকে বোঝা যায়, গত সপ্তাহের ঘোষণার তাৎপর্য তাৎক্ষণিকভাবে হিমালয়ের বিরোধপূর্ণ সীমান্তের চিত্র বদলে দেওয়ার চেয়ে ভারত যে ব্যবস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে, সেগুলোকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মধ্যেই বেশি নিহিত। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট ও ধারাবাহিক উল্লেখ করে জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের অবৈধ দখল বলে ভারত যে ভূখণ্ডকে বিবেচনা করে, সেটিকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য এবং ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর এর কোনো প্রভাব নেই। তবে হাক্কানির মতে, এই বিরোধ কেবল সীমান্তের আইনগত বিষয় নয়। তিনি বলেন, সীমান্ত ও সীমানা নিয়ে ভারত ও চীনের মূল মতবিরোধ ভূ-রাজনৈতিক, মানচিত্রগত নয়। তাই সীমান্ত নিয়ে আলোচনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর সমাধানেরও একটি সীমা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চীনের দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠতা দিল্লির কাছে সেই বার্তাই অব্যাহতভাবে পৌঁছে দেবে। সূত্র : বিবিসি