অন্যান্য

দুর্ভিক্ষের আবিষ্কার

স্বরূপকাঠিতে মাটি সিদ্ধ করে লবণ

মারিয়া রহমান মে ২১, ২০২৬
পরিত্যক্ত লবণমিশ্রিত মাটি সিদ্ধ করে তৈরি হচ্ছে ঝরঝরে সাদা লবণ। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার ডুবি গ্রাম থেকে তোলা।
পরিত্যক্ত লবণমিশ্রিত মাটি সিদ্ধ করে তৈরি হচ্ছে ঝরঝরে সাদা লবণ। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার ডুবি গ্রাম থেকে তোলা।

সাগরপারের বিস্তীর্ণ মাঠ। যেখানে জমিতে থাকা লোনাপানি সূর্যের তাপে শুকিয়ে হয়ে ওঠে সাদা লবণ। শ্রমিকরা সেই লবণ তুলে স্তূপ করেন মাঠের পাশে। কক্সবাজার কিংবা উপকূলীয় অঞ্চলের পরিচিত সেই দৃশ্যই যেন লবণচাষের চেনা গল্প। কিন্তু পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার ডুবি গ্রামে গিয়ে সেই ধারণা বদলে যায়। সাগর নেই, উপকূলও নেই, তবু এখানে তৈরি হচ্ছে লবণ। তাও আবার কোনো আধুনিক প্রযুক্তিতে নয়, প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এক পদ্ধতিতে। পরিত্যক্ত লবণমিশ্রিত মাটির সঙ্গে পানি মিশিয়ে তা আগুনে সিদ্ধ করে তৈরি হচ্ছে ঝরঝরে সাদা লবণ।

পিরোজপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরের ডুবি গ্রামের এই লবণশিল্পের পেছনে রয়েছে এক মর্মস্পর্শী গল্প। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় দেশে দেখা দেয় লবণের তীব্র সংকট। সেই সময় ঝালকাঠির লবণ পরিশোধন কারখানার আশপাশের লবণমিশ্রিত পরিত্যক্ত মাটি সংগ্রহ করে তাতে পানি মিশিয়ে আগুনে জ্বাল দিয়ে লবণ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই উদ্যোগের পথিকৃৎ ছিলেন গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর ফরাজী।

নেছারাবাদের (স্বরূপকাঠি) পাশেই বাণিজ্যনগরী ঝালকাঠি। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ থেকেই সেখানে লবণ পরিশোধনের কারখানা ছিল। দুর্ভিক্ষের সময় যখন লবণ পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে, তখন ডুবি গ্রামের আবু বক্কর ফরাজী ছুটে যান ঝালকাঠিতে। সেখানকার কারখানার আশপাশের মাটি সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেই মাটির সঙ্গে পানি মিশিয়ে রেখে দেন। পরে পানিতে লবণের ঘনত্ব তৈরি হলে তা আগুনে ফুটিয়ে তৈরি করেন লবণ। শুরুটা ছিল কেবল পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য। কিন্তু বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় এলে এলাকার মানুষও আগ্রহী হয়ে ওঠেন এই পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদনে।

১৯৭৫ সালের শুরুর দিকে নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে লবণ উৎপাদনের মিল স্থাপন করেন আবু বক্কর ফরাজী। তার দেখাদেখি ডুবি গ্রামের আরও কয়েকজন লবণ উৎপাদনে যুক্ত হন। পরে পাশের সোহাগদল, সারেংকাঠি, এমনকি বরিশালের বানারীপাড়া ও উজিরপুরের কিছু পরিবারও একই পদ্ধতিতে লবণ তৈরি শুরু করে।

এই লবণ তৈরির কারিগর আবু বক্কর বর্তমানে আর বেঁচে নেই। তার শুরু করা ব্যবসা এখন পরিচালনা করছেন ভাই আবুল হোসেন ফরাজী। তিনি বলেন, ‘ভাই প্রথম মাটি দিয়ে ঝরঝরে লবণ তৈরি করেছিলেন। প্রথমে গ্রামের মানুষের চাহিদা মিটত। পরে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হলে একে একে অনেকে এই শিল্পে আসেন।’

অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেলেও ডুবি গ্রামের লবণশিল্প এখনো টিকে আছে। বর্তমানে অন্তত ১১ জন ব্যবসায়ীর ২০টি কারখানায় চলছে লবণ উৎপাদন। এসব কারখানায় রয়েছে প্রায় অর্ধশত চুলা। স্থানীয়দের মতে, প্রতিমাসে প্রায় ৩২০ টন লবণ উৎপাদন হয়। শুধু উৎপাদন নয়, এ শিল্পকে ঘিরে জীবিকা গড়ে উঠেছে বহু মানুষের। প্রায় ৫০০ পরিবার কোনো-না-কোনোভাবে জড়িত এ কাজের সঙ্গে। কেউ মাটি বহন করেন, কেউ পানি ছেঁকে পরিষ্কার করেন, কেউ আবার চুল্লির আগুন সামলান ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

লবণ তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিও বেশ ব্যতিক্রমী। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, খুলনা কিংবা ঝালকাঠির লবণ পরিশোধন কারখানা থেকে লবণমিশ্রিত পরিত্যক্ত মাটি ডুবি গ্রামে আনা হয়। বড় বড় স্তূপ করে সেই মাটি সংরক্ষণ করা হয়। এরপর মাটির সঙ্গে পানি মিশিয়ে গলানো হয়। কয়েক ধাপে উপরের ময়লা অপসারণ করে আলাদা করা হয় লবণাক্ত পানি। সেই পানি পরে চুল্লির ওপর রাখা চারকোনা ডোঙ্গায় ঢেলে তীব্র আগুনে ফোটানো হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা জ্বাল দেওয়ার পর পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। শেষে ডোঙ্গার তলায় পড়ে থাকে সাদা ঝরঝরে লবণ।

লবণ তৈরির কারিগররা বলছেন, দীর্ঘ সময় জ্বাল দেওয়ায় লবণ জীবাণুমুক্ত হয়ে যায়। পরে মেশিনের মাধ্যমে আয়োডিন মিশিয়ে বাজারজাত করা হয় খাবার লবণ হিসাবে। শিল্পকারখানায়ও ব্যবহার হয় এ লবণের একটি অংশ।

ডুবি গ্রামের মনির হোসেন প্রায় ২৫ বছর এ পেশায় আছেন। প্রতিদিন চুল্লির আগুন, ধোঁয়া আর তাপের মধ্যে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দুইজনে মিলে দিনে প্রায় ৩০ মন লবণ তৈরি করি। এতে গড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা আয় হয়। আগুনে জ্বাল দেওয়ার কারণে লবণ ভালো থাকে। পরে আয়োডিন মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করি।’

একসময় এ শিল্পের ব্যাপক চাহিদা ছিল বলে জানান ব্যবসায়ীরা। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বানারীপাড়ার একটি বাজারে সপ্তাহে দুইদিন প্রায় দেড় হাজার মন লবণ বিক্রি হতো। ডুবি গ্রামের পদ্ধতি অনুসরণ করে ঢাকা, কক্সবাজারের পটিয়া ও নারায়ণগঞ্জেও গড়ে উঠেছিল লবণ উৎপাদনের কারখানা। তবে গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে সেসব কারখানার বেশির ভাগ এখন বন্ধ।

মেসার্স সোনালী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক সেলিম মিয়া বলেন, আমার কারখানায় আয়োডিন মেশানোর মেশিন রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন শ্রমিক এখানে কাজ করেন। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ নেই।’

ডুবি গ্রামের মানুষ শুধু লবণ উৎপাদন বা বিক্রি করছেন না। ধরে রেখেছেন দুর্ভিক্ষের সময় বেঁচে থাকার তাগিদে জন্ম নেওয়া এক প্রাচীন শিল্পের ইতিহাস।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দেশে ফেরার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের, রয়েছে সংবিধানেই: রুমিন ফারহানা

দেশের কোনো নাগরিক দেশ ত্যাগের পর আবার যেকোনো সময় দেশে ফিরে আসতে পারে-এমন অধিকার সংবিধানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।   শুক্রবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যে কোনো সময় দেশ ছাড়তে পারে আবার যে কোনো সময় দেশে ঢুকতেও পারে। এটা সংবিধানে পরিষ্কার বলে দেওয়া আছে। বাংলাদেশে ঢোকার পরে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, সেটা সরকারের হাতে।” আশুগঞ্জের ‘আব্দুল কাদির শাহ পাঠাগার’ শুক্রবারের এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। সম্প্রতি সংসদে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে রুমিন ফারহানার দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ঝাড়ু মিছিল করে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি। বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার হুঁশিয়ারিও দেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ওই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রুমিন ফারহানা বলেন, “রাজনীতিতে এটা হয়। এটা কিছু না।   “রাজনীতিতে ভিন্ন মত থাকবে, অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে। রাজনীতিতে মিছিল-মিটিং হবে, সেটাই না রাজনীতি। তো এগুলো সবই স্বাভাবিক।”

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
ডাকসু নেতা ফেরদাউস। ফাইল ছবি

পরীক্ষা চলাকালে ফোন হাতে ধরা, ডাকসু নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

ছবি: সংগৃহীত

পাহাড়ি ঝর্ণায় আনন্দের মুহূর্তে ভয়ংকর চমক, উপর থেকে পড়ল বিশাল সাপ

প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। ফাইল ছবি

শেখ হাসিনার নির্দেশে ডিএমপিতে টর্চার সেল বানান ইশতিয়াক: রাশেদ খান

ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে ভাইভার তারিখ ঘোষণা, লাগবে যেসব কাগজ

বেসরকারি এমপিওভুক্ত প্রায় ১৩ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ১ অক্টোবর। এদিন সকাল ৯টা থেকে পরীক্ষা শুরু হবে। নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে প্রার্থীদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।   বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অষ্টম এনটিআরসিএ নিয়োগ (প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান) পরীক্ষা-২০২৬-এর এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা আগামী ১ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব প্রার্থীকে আগে দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে।   মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সব প্রার্থীকে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত কাগজপত্রের মূলকপি এবং প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার সত্যায়িত এক সেট ফটোকপি নিয়ে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে (৩৭/৩/এ, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০) নির্ধারিত তারিখ এবং নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।   যেসব কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সমর্থনে সব সনদপত্র ও নম্বরপত্র; অভিজ্ঞতার সনদপত্র (সংযুক্ত নমুনা অনুযায়ী)। এমপিওভুক্তি ও এমপিও সংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র; সব যোগদানপত্র ও নিয়োগপত্র; প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ সনদপত্র; জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষার প্রবেশপত্র।   বিস্তারিত তথ্য পেতে এনটিআরসিএর ওয়েবসাইট (এখানে ক্লিক করুন) এবং টেলিটক ওয়েবসাইট (এখানে ক্লিক করুন) ভিজিট করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।   এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার জন্য ১২টি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিটি বোর্ডে প্রতিদিন ৩৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। সেই হিসাবে ১২ বোর্ডে প্রতিদিন মোট ৪২০ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে।   গত ২২ এপ্রিল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ওই পরীক্ষায় ৪৮ হাজার ১৪৬ জন অংশ নেন এবং তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ৯৪২ জন উত্তীর্ণ হন। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধানের মোট ১২ হাজার ৯৫১টি শূন্যপদে নিয়োগ দেওয়া হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা জরুরি: রুহুল কবির রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী দিল জামায়াত

ছবি: সংগৃহীত

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির রায় আগামীকাল

ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক দায়মুক্তি পেতেই আসিফ মাহমুদের নতুন জোট: রাশেদ খাঁন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তার দাবি, নানা দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপ থেকে দায়মুক্তি পেতে এবং নিজেকে সুরক্ষার স্বার্থেই আসিফ মাহমুদ জামায়াত জোটে যোগ দিয়েছেন।     রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।     ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, আসিফ মাহমুদ যখন জামায়াতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদ যেসময় জামায়াত বিরোধী ছিলেন, সেসময় তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ সত্য ছিলো! এবং সেসময় দুর্নীতির অভিযোগে ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের অনুরোধ সত্ত্বেও জামায়াতের আমির তাকে ঢাকা-১০ আসনের নমিনেশন পর্যন্ত দেননি। এখন যেহেতু তিনি জামায়াত জোটের রাজনীতির চর্চা করেন, সুতরাং তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন!        একজন ব্যক্তি অপরাধী নাকি নিরপরাধ, তা বর্তমানে তিনি জামায়াতের সঙ্গে আছেন কি না তার ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি অপরাধী নাকি নিরপরাধ ,সেটি নির্ভর করে সে জামায়াতের লোক কি না! জামায়াত করলে বা জামায়াতকে সমর্থন করলে, একজন ব্যক্তির সমস্ত অপরাধ ধুয়েমুছে যায় এবং তিনি পুরোদস্তুর ফেরেস্তা হয়ে যান! আর তাই আসিফ মাহমুদও তার অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতে জামায়াত জোটে যোগদান করেছেন!     তিনি আরও বলেন, এখন আসিফ মাহমুদ পুরোপুরি নিষ্পাপ ,একদম কলঙ্কমুক্ত! আবার যদি কখনো এনসিপি জামায়াত জোট ছাড়ে, তখন আর দুদক লাগবে না, জামায়াত শিবিরই তার দুর্নীতির বিচারের রায় দিয়ে দিবে! দেখা যাক, আসিফ মাহমুদ আর কতোদিন জমায়াত জোটের রাজনীতি করে নিজেকে সেইফ করতে পারেন! তবে এতোটুকু জানতে পারলাম, বাঁচার জন্য তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে সেইফ এক্সিট নিয়েছেন! জামায়াত তাকে ঢাকা দক্ষিণ ছাড়বে না, সাফ জানিয়ে দেওয়ার পর তিনি উত্তরে গেছেন! পরবর্তীতে জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিনকে সমর্থন দিয়ে তিনি বসে পড়বেন! গণঅভ্যুত্থানের একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্রকে জামায়াতের সমর্থনে দুর্নীতি থেকে বাঁচতে এতো বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে... খুবই দুঃখজনক , খুবই দুঃখজনক!

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে এনসিপির মেয়র প্রার্থী নাসীরুদ্দীন ও আসিফ

ছবি: সংগৃহীত

অক্সফোর্ডের ইএমবিএতে শীর্ষে রিশাদ, স্পিকারও নির্বাচিত

ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি। ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে ঢাবি শিক্ষিকা মোনামির রেটিং ১.৫৯

0 Comments