প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজ বাংলাদেশের পলি, পানি ও পরিবেশগত সংকট সমাধানের পরিবর্তে আরও গভীর করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার ভূতত্ত্ব ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও পানি বিশেষজ্ঞ ড. মো. খালেকুজ্জামান। দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক খায়রুল হাসান জাহিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি পদ্মা ব্যারাজের বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।
নিচে সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
দ্য ডেইলি স্টার: প্রস্তাবিত ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্পটিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
মো. খালেকুজ্জামান: মূল প্রশ্নে আসার আগে, প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটির নাম প্রসঙ্গে আমার কিছু বলা প্রয়োজন। প্রকল্পটির মূল নাম ছিল ‘গঙ্গা ব্যারাজ’ এবং সেটিই বেশি উপযুক্ত। কারণ, বাংলাদেশে প্রবেশের পর দৌলতদিয়া পর্যন্ত নদীটি ‘গঙ্গা’ নামেই পরিচিত। এটিকে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ বলা হলে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যার বিষয়টি আমরা উপেক্ষা করছি।
বঙ্গীয় ব-দ্বীপ বা বেঙ্গল ডেল্টা হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম একটি ব-দ্বীপ। নদীবাহিত পলি জমার মাধ্যমে ব-দ্বীপ গঠিত হয়। একটি ব-দ্বীপের টিকে থাকা, এর ভূখণ্ড ধরে রাখা এবং সমুদ্রের দিকে বিস্তৃত হতে থাকায় উপকূলীয় এলাকায় পলি জমা হওয়া অত্যন্ত জরুরি। পলি জমা কমে গেলে বদ্বীপ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে, বিশেষত যখন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমাগত বাড়ছে। সেই বিবেচনায় পলি সঞ্চয়ের কোনো বিকল্প নেই।
১৯৬০-এর দশকে বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলো দিয়ে বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ২০০ কোটি টন পলি আসত। বর্তমানে এই পরিমাণ ১০০ কোটিরও নিচে নেমে এসেছে। কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, এটি ৬০ থেকে ৭০ কোটি টনের মধ্যে। এর প্রধান কারণ উজানের হস্তক্ষেপ। গঙ্গা-যমুনা নদী অববাহিকার মাত্র প্রায় ৮ শতাংশ বাংলাদেশের ভেতরে, বাকি ৯২ শতাংশ রয়েছে ভারত, নেপাল, চীন ও ভুটানে। ফারাক্কার উজানে গঙ্গা অববাহিকায় অন্তত ৩৪টি বড় স্থাপনা রয়েছে। ছোট-বড় সব ধরনের হস্তক্ষেপ মিলিয়ে এ সংখ্যা প্রায় ৩০০ বলে ধারণা করা হয়।
১৯৭৫ সালে ফারাক্কা ব্যারাজ চালু হওয়ার পর থেকে, গঙ্গা নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকারী পলির একটি বিশাল অংশ উজানেই আটকে যাচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, এই পলির এক-তৃতীয়াংশ থেকে প্রায় অর্ধেক এখন ফারাক্কার পেছনে জমা হয়ে থাকছে। রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মার ওপর আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণ করা হলে, বর্ষাকালে এখনো বাংলাদেশে প্রবেশ করা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পলিও সেখানে আটকে যেতে পারে।
বর্তমানে গঙ্গা প্রতিবছর আনুমানিক ৪০ থেকে ৬০ কোটি টন পলি বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এর বড় অংশ মেঘনা নদীপ্রণালির মধ্য দিয়ে মোহনার দিকে প্রবাহিত হয়। কিছু অংশ উপকূলীয় প্লাবনভূমিতে জমা হয়, আর বাকিটা সাগরে চলে যায়। আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণ করা হলে ভাটির দিকে পলির সরবরাহ আরও কমে যাবে এবং অধিকাংশ পলি উজান ও ব্যারাজের আশপাশেই জমা হতে থাকবে।
ফারাক্কার অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। স্যান্ডর্প ও কল্যাণ রুদ্রের গবেষণায় দেখা গেছে, ফারাক্কা বছরে গড়ে ৩০ থেকে ৬০ কোটি টন পলি আটকে রাখে। এর ফলে উজানে ব্যাপক পলি জমা হয়েছে, নদীর পানি বহনক্ষমতা কমেছে এবং জলাবদ্ধতা, বন্যা ও ভাঙন বেড়েছে। ভারতের মালদায় প্রায় ৪০ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়। অন্যদিকে ভাটির দিকে মুর্শিদাবাদে পানির সংকট প্রায়ই দেখা দেয়। আবার হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি ছাড়লে ভাঙন তীব্র হয়। প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার জমি বিলীন হয়েছে এবং প্রায় ৫০ হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এগুলো হয়তো ভারতের সমস্যা বলে মনে হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের জন্যও তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ভারতের বহু বিজ্ঞানী, পানি বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদরা মনে করেন, ফারাক্কা ছিল মৌলিকভাবে একটি ভুল সিদ্ধান্ত। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে এর কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবাদে ব্যারাজটি অপসারণের দাবিতেও আন্দোলন হয়েছে। একই নদী ব্যবস্থায় বাংলাদেশ আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণের কথা ভাবার আগে সেই অভিজ্ঞতাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
ডেইলি স্টার: উজান থেকে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রাপ্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ২০২৬ সালে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প কতটা বাস্তবসম্মত?
মো. খালেকুজ্জামান: ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এটি একটি অত্যন্ত অপরিণত এবং অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত। পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে আলোচনা করার আগে আমাদের আরও মৌলিক একটি বিষয় মোকাবিলা করা প্রয়োজন। ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে বাংলাদেশ শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি পায় না। চুক্তি সইয়েরর পরও আমরা ধারাবাহিকভাবে আমাদের ন্যায্য হিস্যা পাইনি। ১৯৯৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ২০ বছরের তথ্য নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়েছিল, যেখানে আমিও যুক্ত ছিলাম। আমরা দেখেছি, চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ৫২ শতাংশ সময় বাংলাদেশ তার ন্যায্য পরিমাণ পানি পায়নি। সবচেয়ে সংকটপূর্ণ সময় ১১ মার্চ থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত। এ সময়ে বাংলাদেশ প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় তার প্রাপ্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
মূল সমস্যাটি হলো, বর্তমান চুক্তিতে কোনো 'নিশ্চয়তা বিধান' বা গ্যারান্টি ক্লজ নেই। ফারাক্কায় পানিপ্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেকের নিচে নেমে গেলে যে পরিমাণ পানি থাকে, তা মোটামুটি ৫০-৫০ ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। ধরুন, প্রবাহ কমে ৫০ হাজার কিউসেকে নেমে এলো। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাবে ২৫ হাজার কিউসেক, যদিও তার পাওয়ার কথা ছিল ৩৫ হাজার কিউসেক। কারণ, প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ফারাক্কা পর্যন্তই পৌঁছায় না।
তাই জরুরি প্রশ্ন হলো, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কী হবে? আমার মতে, পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখা উচিত। বাংলাদেশের প্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত গঙ্গা চুক্তিকে আরও শক্তিশালী আকারে নবায়ন করা, যেখানে একটি গ্যারান্টি ক্লজ থাকবে। ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে এমন গ্যারান্টি ছিল, কিন্তু বর্তমান চুক্তিতে তা নেই। পরবর্তী চুক্তি আরও দৃঢ় হওয়া উচিত এবং সম্ভব হলে শুধু শুষ্ক মৌসুমের পাঁচ মাস নয়, পুরো ১২ মাসকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরন, নদীর প্রবাহ ও পানির প্রাপ্যতা বদলে যাচ্ছে। তাই আমাদের এমন একটি অববাহিকাভিত্তিক চুক্তি প্রয়োজন, যা ফারাক্কায় শুষ্ক মৌসুমে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করবে।
বর্তমানে এই চুক্তি শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু নেপালও গঙ্গা অববাহিকার অংশ। যদি আমরা বৈজ্ঞানিক ভিত্তিসম্পন্ন কোনো চুক্তি চাই, তাহলে সেটি হতে হবে অববাহিকাভিত্তিক, বছরজুড়ে কার্যকর, নেপালকে অন্তর্ভুক্তকারী এবং শুষ্ক মৌসুমে ন্যূনতম পানিপ্রবাহ নিশ্চিতকারী। চুক্তিতে শুধু পানি নয়, পলির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে এবং কীভাবে সেই পলি ভাটিতে বাংলাদেশে প্রবাহিত হবে, তা স্পষ্ট করতে হবে। একইসঙ্গে, ফারাক্কার উজানে নতুন কোনো পানি প্রত্যাহারমূলক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলে ভারতকে তা বাংলাদেশকে জানাতে হবে। বৃহত্তর গঙ্গা অববাহিকায় ইতোমধ্যে অন্তত ৩৪টি বড় স্থাপনা রয়েছে। নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা অতিরিক্ত পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই অবহিত করতে হবে। কৌশলগত কারণেও বাংলাদেশের আগে দেখা উচিত, চুক্তি নবায়নের আলোচনা কোন দিকে যাচ্ছে। এরপরই কেবল আমরা অনুমান করতে পারব বাস্তবে কতটুকু পানি পাওয়া যাবে এবং তা কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা করতে পারব।
ডেইলি স্টার: তিস্তা ব্যারাজের অভিজ্ঞতা প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারাজের জন্য কী শিক্ষা দেয়? সেচ, নৌ-চলাচল ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রকল্পটির দাবিগুলো কতটা বাস্তবসম্মত?
মো. খালেকুজ্জামান: তিস্তার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিস্তা নদীতে বাংলাদেশের একটি ব্যারাজ ও সেচ প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু ভারত থেকে পর্যাপ্ত পানি না আসায় তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ অংশ শুকনো বালুচরে পরিণত হয়েছে। কোনো ব্যারাজ বা বাঁধ নিজে পানি সৃষ্টি করতে পারে না। পানি আসতে হবে উজান থেকে।
তিস্তা ব্যারাজ থেকে যদি আমরা শিক্ষা নিতে চাই, তাহলে প্রতিটি মৌসুমে ভারত থেকে ঠিক কতটুকু পানি আসবে এবং সেই প্রবাহের নিশ্চয়তা থাকবে কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে গঙ্গা বা পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ কোনো বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত হবে না।
বাংলাদেশের যেসব এলাকা গঙ্গা নদীর পানির ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল, সেগুলোর অবস্থান মূলত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে। দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৩৭ শতাংশ এলাকা এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এবং বর্তমানে এই অঞ্চলটি তীব্র পরিবেশগত ও পানিসম্পদ-সংক্রান্ত সংকটের সম্মুখীন। সুন্দরবন এলাকা, ‘গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প’ এলাকা এবং ভবদহের মতো জলাবদ্ধতাকবলিত অঞ্চলগুলোতে বর্তমানে লবণাক্ততার মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের উদ্বেগ বা শঙ্কাটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও যথার্থ। তবে এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ নির্মাণ করাটা সঠিক বা উপযুক্ত পদক্ষেপ নয়।
দেশের মোট ভূমির প্রায় ৩৭ শতাংশ গঙ্গানির্ভর অঞ্চলগুলো মূলত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। ওই এলাকা ইতোমধ্যে মারাত্মক চাপের মধ্যে রয়েছে। সুন্দরবন, গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) প্রকল্প এলাকা এবং ভবদহের মতো জলাবদ্ধ অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে। বাংলাদেশের উদ্বেগ একেবারেই যৌক্তিক। কিন্তু এর সমাধান হিসেবে পদ্মা ব্যারাজ সঠিক পথ নয়।
প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, ব্যারাজে ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ঘনমিটার বা প্রায় ৩ বিসিএম পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। এখন এটিকে পদ্মা দিয়ে বছরে বাংলাদেশে প্রবেশ করা মোট পানিপ্রবাহের সঙ্গে তুলনা করুন, যা বছরে প্রায় ৩৫০ থেকে ৫২৫ বিসিএম। সেই তুলনায় ৩ বিসিএম পানি সংরক্ষণ অত্যন্ত সামান্য।
বড় বন্যার সময় পদ্মা দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৭৫ হাজার ঘনমিটার পানি বাংলাদেশে ঢুকতে পারে। বড় ধরনের বন্যায় মাত্র একদিনেই পদ্মা দিয়ে প্রায় ৬ বিসিএম পানি প্রবাহিত হতে পারে। অর্থাৎ, তিন মাসে ব্যারাজে যত পানি সংরক্ষণের কথা বলা হচ্ছে, তার দ্বিগুণ পানি একদিনের বন্যাতেই প্রবাহিত হতে পারে।
প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান দাবি হলো, এর মাধ্যমে ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া যাবে। কিন্তু আমার হিসাব অনুযায়ী, ওই পরিমাণ জমিতে সেচ দিতে ৩ বিসিএম নয়, বরং ৯ থেকে ২৬ বিসিএম পানি প্রয়োজন হবে। নিম্নতম হিসাব ধরলেও ১৯ লাখ হেক্টরে সেচ দিতে প্রায় ৯ দশমিক ৫ বিসিএম পানি লাগবে। অথচ প্রকল্পে দাবি করা হচ্ছে, ব্যারাজ থেকেই পুরো এলাকার সেচের পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
এটি বিভ্রান্তিকর দাবি। আংশিক সেচ দিলেও প্রস্তাবিত সংরক্ষণ সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি পানি প্রয়োজন হবে। আর যদি সংরক্ষিত পানির শতভাগই সেচে ব্যবহার করা হয়, তাহলে পরিবেশগত প্রবাহ, মৎস্যসম্পদ বা নৌ-চলাচলের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ব্যারাজ নৌ-চলাচল বাড়াবে, সেচ সম্প্রসারণ করবে এবং লবণাক্ততা কমাবে। কিন্তু সংরক্ষিত সব পানি সেচে ব্যবহার করলেও ঘোষিত সেচ চাহিদা পূরণ হবে না। ফলে নৌ-চলাচল উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত পানি অবশিষ্ট থাকবে—এমন দাবির কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি নেই।
আরও গভীর সমস্যা হলো, বিদ্যমান চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ফারাক্কার ভাটিতে পদ্মা শুষ্ক মৌসুমে ইতোমধ্যেই পর্যাপ্ত পানি পায় না। আর তিস্তায় কোনো চুক্তিই নেই, সেখানে পানি প্রায় পৌঁছায়ই না। পাংশায় প্রস্তাবিত ব্যারাজের ভাটিতে গোয়ালন্দ পর্যন্ত আরও ২০ থেকে ২৩ কিলোমিটার নদীপথ রয়েছে। যদি সব পানি ব্যারাজের পেছনে আটকে রাখা হয়, তাহলে ওই অংশটি এক ধরনের ‘ডাবল ফারাক্কা’ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে পারে।
ডেইলি স্টার: প্রকল্পে লবণাক্ততা কমানো, মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, ভাঙন হ্রাস ও উন্নত নদী ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এসব দাবি কতটা বাস্তবসম্মত এবং প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে পরিবেশের ওপর কী ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে?
মো. খালেকুজ্জামান: এটি সত্য যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে লবণাক্ততা বাড়ছে। কিন্তু প্রকল্পে মাত্র প্রায় ৩ বিসিএম পরিমাণ পানি সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে লবণাক্ততা কমানোর জন্য এই পরিমাণ যথেষ্ট নয়। প্রকল্পের নথিতেই উল্লেখ আছে, সম্ভাব্য লবণাক্ততা হ্রাসের পরিমাণ হবে সীমিত।
ধরা যাক, গড়াই, মধুমতি, হিসনা, মাথাভাঙ্গা ও চন্দনার মতো নদীগুলো দিয়ে মিঠাপানির সরবরাহ বাড়ার ফলে সুন্দরবন বা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় লবণাক্ততা সামান্য কমল। তবুও মেঘনার মোহনা ও বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে (পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি এবং সম্ভবত মাদারীপুরও রয়েছে) লবণাক্ততা বেড়ে যেতে পারে। কারণ, গঙ্গা-পদ্মা ব্যবস্থা থেকে মেঘনা ও বৃহত্তর বরিশালের নদীগুলো দিয়ে যে মিঠাপানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হওয়ার কথা, তা কমে যাবে। অর্থাৎ, এক অঞ্চলে সামান্য লবণাক্ততা কমলেও অন্যত্র তা বেড়ে যেতে পারে। এটি সমস্যার সমাধান নয়, বরং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর।
প্রকল্পের নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, মাছের উৎপাদন বাড়বে। কিন্তু ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের আগে ইলিশ মাছ এলাহাবাদ পর্যন্ত উজানে যেতে পারত। ফারাক্কা সেই চলাচল ব্যাহত করেছে। পাংশায় আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণ করা হলে পদ্মা ও গঙ্গা হয়ে ইলিশসহ বহু প্রজাতির মাছের চলাচল আরও বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে মাছের উৎপাদন বাড়ার চেয়ে কমে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দুটি ফিশ ল্যাডার বা মাছ চলাচলের সিঁড়ি রাখা হবে। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে ফিশ ল্যাডার কার্যকর হতে পারে। তবে এর সাফল্য অনেকটাই মাছের প্রজাতির ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশে এমন কোনো গবেষণা বা নজির নেই, যা প্রমাণ করে যে ইলিশ, রুই, কাতলা কিংবা অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির মাছ এই সিঁড়িগুলো ব্যবহার করবে। আমাদের নদীগুলোতে দুটি ছোট ফিশ ল্যাডার কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে আমার গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।
আরেকটি প্রতিশ্রুতি হলো, ব্যারাজ নদীভাঙন কমাবে। কিন্তু ফারাক্কার অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। ব্যারাজের উজানে পানি জমা হয়। বর্ষাকালে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ পানি ভাটিতে ছেড়ে দিলে প্রবাহের তীব্রতা বেড়ে গিয়ে ভাঙন আরও বাড়তে পারে। মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রায় ৩৩ হাজার থেকে ৪০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার কৃষিজমি নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন হলো—নদীভাঙন কমবে, নাকি বাড়বে? আমাদের অভিজ্ঞতা ব্যারাজ ভাঙন কমায়, এমন দাবিকে সমর্থন করে না। বাংলাদেশের কোনো বৃহৎ নদীতে এত বড় পরিসরে এ ধরনের পরীক্ষা আগে কখনো করা হয়নি। পদ্মার মতো বিশাল একটি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যারাজের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হলে সেটিকে বিপর্যয়ের দিকেও ঠেলে দিতে পারে।
প্রস্তাবিত ব্যারাজের উজানেও জলাবদ্ধতা বাড়তে পারে। কারণ পানি আগের মতো স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হতে পারবে না। ফারাক্কার উজানেও একই ঘটনা ঘটেছে। প্রতি বছর ফারাক্কা ব্যারাজের উজানে প্রায় ৩২ দশমিক ৮ থেকে ৬০ কোটি টন পলি জমা হয়। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করা হলে এখনো বাংলাদেশে পৌঁছানো বিপুল পরিমাণ পলির বড় অংশ নতুন ব্যারাজের উজানেই জমা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা বাড়বে এবং বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
প্রকল্পে সেচ সম্প্রসারণ, নৌ-চলাচলের উন্নয়ন, লবণাক্ততা হ্রাস, জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, জলাবদ্ধতা কমানো, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নদীভাঙন হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আমার দৃষ্টিতে, এসব প্রতিশ্রুতি অন্তঃসারশূন্য ও বিভ্রান্তিকর। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো পানির প্রাপ্যতা। শক্তিশালী চুক্তি ও গ্যারান্টি ধারা ছাড়া পদ্মা ব্যারাজ তিস্তা প্রকল্পের মতো আরেকটি শুকনো, উন্মুক্ত নদীখাত তৈরি করতে পারে। কোনো ব্যারাজ নিজে পানি সৃষ্টি করতে পারে না।
ডেইলি স্টার: পদ্মা ব্যারাজের মতো বিশাল প্রকল্পের পেছনে না ছুটে দীর্ঘমেয়াদে পানি ও পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কী ধরনের পানি ব্যবস্থাপনা কৌশল গ্রহণ করা উচিত?
মো. খালেকুজ্জামান: বাংলাদেশের উচিত জাতিসংঘের ‘ওয়াটারকোর্স কনভেনশনে’ যোগ দেওয়া এবং সংসদের মাধ্যমে তা অনুমোদন করা। এতে আন্তর্জাতিক নদীগুলো নিয়ে আমাদের আইনগত ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। ভারত, নেপাল এবং ব্রহ্মপুত্রের ক্ষেত্রে চীনের মতো অববাহিকাভুক্ত দেশগুলোকেও এতে যুক্ত হয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কাঠামো হিসেবে এটি গ্রহণ করতে হবে। ভারত হয়তো এতে সই নাও করতে পারে। তবু বাংলাদেশের করা উচিত। এর মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলতে পারব, আমরা আন্তর্জাতিক পানি আইনের প্রচলিত নীতিমালা মেনে চলি এবং নিজেদের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রত্যাশা করি।
এর ফলে আন্তর্জাতিক সব নদীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দাবি আরও শক্তিশালী হবে। অন্যরা তাৎক্ষণিকভাবে এতে সই না করলেও আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত হবে। এই কনভেনশনকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।
আর পদ্মা ব্যারাজের বিকল্প ভাবতে হলে বিষয়টিকে পুরো অববাহিকাজুড়ে বিবেচনা করতে হবে। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার সব দেশকে সমন্বিত নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনার দিকে এগোতে হবে। উজানে যা ঘটে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভাটির অঞ্চলে। এ কারণেই অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত পানি শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
‘পানি-কূটনীতিকে’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভে পরিণত করতে হবে। নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সংযোগ ও ট্রানজিটের ক্ষেত্রে ভারতের কাছে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য পানি ও পলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক নদীগুলোতে আমাদের অধিকার কোনো দয়া বা অনুরোধ নয়, এগুলো আমাদের ন্যায্য অধিকার।
অভ্যন্তরীণ পর্যায়েও বাংলাদেশ নদ-নদী বিষয়ে অনেক কিছু করতে পারে। পদ্মা ব্যারাজ প্রস্তাবে মোট প্রায় ৩৮১ কিলোমিটার ড্রেজিংয়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে গড়াই-মধুমতি ব্যবস্থায় প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার এবং হিসনা-মাথাভাঙ্গা ব্যবস্থায় ২৪৬ কিলোমিটার। এসব উদ্যোগ গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা উচিত। পাশাপাশি উপকূলীয় নদীগুলোতেও ড্রেজিং করে পানি বহন ও ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে।
পরিত্যক্ত খাল, পলিতে ভরাট হয়ে যাওয়া চ্যানেল এবং দখল হয়ে যাওয়া জলপথ পুনরুদ্ধার করাও জরুরি। ড্রেজিং থেকে পাওয়া পলিকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এটি নিচু উপকূলীয় ভূমি উঁচু করতে, ক্ষয়প্রাপ্ত এলাকা পুনরুদ্ধার করতে বা নির্মাণসামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
পদ্মা ব্যারাজের পেছনে সব পানি আটকে রাখার পরিবর্তে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছোট শাখা ও উপনদীগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এসব নদীর অনেকগুলো পলিতে ভরাট হয়ে গেছে, আর বহু পোল্ডারের কারণে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। কিছু পোল্ডারকে আট মাস মেয়াদি বাঁধে রূপান্তর করা যেতে পারে, যাতে বছরের একটি অংশে পানি ও পলি প্রবেশ করতে পারে, আবার মৌসুমি সুরক্ষাও বজায় থাকে।
একই সঙ্গে নদী, খাল ও জলাভূমি পুনরুদ্ধার করতে হবে, যেন সেগুলোর প্রবাহ, পানি বহনক্ষমতা ও সংরক্ষণক্ষমতা সবই উন্নত হয়। যদি আমরা খাল, নদী ও প্লাবনভূমি পুনরুদ্ধার করি, সঠিকভাবে ড্রেজিং করি, পলিকে উৎপাদনশীলভাবে ব্যবহার করি এবং পুরো ভূদৃশ্যজুড়ে প্রাকৃতিক পানির ধারণক্ষমতা বাড়াই তাহলে অন্তর্নিহিত অনেক সমস্যারই অনেক বেশি টেকসই সমাধান সম্ভব হবে।
নেপালে অববাহিকাভিত্তিক পানি সংরক্ষণের সম্ভাবনাও নতুন করে বিবেচনা করা উচিত। কোশি অববাহিকায় যৌথ জলাধার প্রকল্পের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে ছাড়ার জন্য পানি সংরক্ষণ করা যেতে পারে, যা ভারত ও নেপালে সেচে সহায়তা করবে এবং গঙ্গায় শুষ্ক মৌসুমের প্রবাহও বাড়াবে।
পদ্মা ব্যারাজ প্রস্তাবে প্রায় ৭৬ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের কথাও বলা হয়েছে। আমি এটিকে গ্রহণযোগ্য মনে করি না। ফারাক্কা অনেক উজানে, যেখানে নদীর ঢাল অনেক বেশি, তবুও সেখানে উল্লেখযোগ্য জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়নি। তাহলে কি আমরা মাত্র ৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য পুরো গঙ্গা-পদ্মা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলব? আমার কাছে তা যৌক্তিক মনে হয় না।
বিদ্যুতেরএই ঘাটতি আরও নিরাপদভাবে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে এবং বায়ুশক্তি ব্যবহার করে পূরণ করা সম্ভব, বিশেষ করে চরাঞ্চলে। নদীগুলোকে বিচ্ছিন্ন বা প্রকল্পভিত্তিকভাবে দেখা উচিত নয়। এগুলোকে সমন্বিত উন্নয়ন ও অববাহিকাভিত্তিক পানি শাসনের বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে বুঝতে হবে। বাংলাদেশের উচিত অভ্যন্তরীণ নদী ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, দখল ও দূষণ রোধ করা, নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধার করা এবং প্রাকৃতিক পানি সংরক্ষণক্ষমতা বাড়ানো। যদি আমরা বিচ্ছিন্ন মেগা-প্রকল্পের বদলে এসব বিষয় সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করি, তাহলে অনেক সমস্যারই আরও কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সাগরপারের বিস্তীর্ণ মাঠ। যেখানে জমিতে থাকা লোনাপানি সূর্যের তাপে শুকিয়ে হয়ে ওঠে সাদা লবণ। শ্রমিকরা সেই লবণ তুলে স্তূপ করেন মাঠের পাশে। কক্সবাজার কিংবা উপকূলীয় অঞ্চলের পরিচিত সেই দৃশ্যই যেন লবণচাষের চেনা গল্প। কিন্তু পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার ডুবি গ্রামে গিয়ে সেই ধারণা বদলে যায়। সাগর নেই, উপকূলও নেই, তবু এখানে তৈরি হচ্ছে লবণ। তাও আবার কোনো আধুনিক প্রযুক্তিতে নয়, প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো এক পদ্ধতিতে। পরিত্যক্ত লবণমিশ্রিত মাটির সঙ্গে পানি মিশিয়ে তা আগুনে সিদ্ধ করে তৈরি হচ্ছে ঝরঝরে সাদা লবণ। পিরোজপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরের ডুবি গ্রামের এই লবণশিল্পের পেছনে রয়েছে এক মর্মস্পর্শী গল্প। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় দেশে দেখা দেয় লবণের তীব্র সংকট। সেই সময় ঝালকাঠির লবণ পরিশোধন কারখানার আশপাশের লবণমিশ্রিত পরিত্যক্ত মাটি সংগ্রহ করে তাতে পানি মিশিয়ে আগুনে জ্বাল দিয়ে লবণ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই উদ্যোগের পথিকৃৎ ছিলেন গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর ফরাজী। নেছারাবাদের (স্বরূপকাঠি) পাশেই বাণিজ্যনগরী ঝালকাঠি। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ থেকেই সেখানে লবণ পরিশোধনের কারখানা ছিল। দুর্ভিক্ষের সময় যখন লবণ পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠে, তখন ডুবি গ্রামের আবু বক্কর ফরাজী ছুটে যান ঝালকাঠিতে। সেখানকার কারখানার আশপাশের মাটি সংগ্রহ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেই মাটির সঙ্গে পানি মিশিয়ে রেখে দেন। পরে পানিতে লবণের ঘনত্ব তৈরি হলে তা আগুনে ফুটিয়ে তৈরি করেন লবণ। শুরুটা ছিল কেবল পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য। কিন্তু বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় এলে এলাকার মানুষও আগ্রহী হয়ে ওঠেন এই পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদনে। ১৯৭৫ সালের শুরুর দিকে নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে লবণ উৎপাদনের মিল স্থাপন করেন আবু বক্কর ফরাজী। তার দেখাদেখি ডুবি গ্রামের আরও কয়েকজন লবণ উৎপাদনে যুক্ত হন। পরে পাশের সোহাগদল, সারেংকাঠি, এমনকি বরিশালের বানারীপাড়া ও উজিরপুরের কিছু পরিবারও একই পদ্ধতিতে লবণ তৈরি শুরু করে। এই লবণ তৈরির কারিগর আবু বক্কর বর্তমানে আর বেঁচে নেই। তার শুরু করা ব্যবসা এখন পরিচালনা করছেন ভাই আবুল হোসেন ফরাজী। তিনি বলেন, ‘ভাই প্রথম মাটি দিয়ে ঝরঝরে লবণ তৈরি করেছিলেন। প্রথমে গ্রামের মানুষের চাহিদা মিটত। পরে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হলে একে একে অনেকে এই শিল্পে আসেন।’ অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেলেও ডুবি গ্রামের লবণশিল্প এখনো টিকে আছে। বর্তমানে অন্তত ১১ জন ব্যবসায়ীর ২০টি কারখানায় চলছে লবণ উৎপাদন। এসব কারখানায় রয়েছে প্রায় অর্ধশত চুলা। স্থানীয়দের মতে, প্রতিমাসে প্রায় ৩২০ টন লবণ উৎপাদন হয়। শুধু উৎপাদন নয়, এ শিল্পকে ঘিরে জীবিকা গড়ে উঠেছে বহু মানুষের। প্রায় ৫০০ পরিবার কোনো-না-কোনোভাবে জড়িত এ কাজের সঙ্গে। কেউ মাটি বহন করেন, কেউ পানি ছেঁকে পরিষ্কার করেন, কেউ আবার চুল্লির আগুন সামলান ঘণ্টার পর ঘণ্টা। লবণ তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটিও বেশ ব্যতিক্রমী। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, খুলনা কিংবা ঝালকাঠির লবণ পরিশোধন কারখানা থেকে লবণমিশ্রিত পরিত্যক্ত মাটি ডুবি গ্রামে আনা হয়। বড় বড় স্তূপ করে সেই মাটি সংরক্ষণ করা হয়। এরপর মাটির সঙ্গে পানি মিশিয়ে গলানো হয়। কয়েক ধাপে উপরের ময়লা অপসারণ করে আলাদা করা হয় লবণাক্ত পানি। সেই পানি পরে চুল্লির ওপর রাখা চারকোনা ডোঙ্গায় ঢেলে তীব্র আগুনে ফোটানো হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা জ্বাল দেওয়ার পর পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। শেষে ডোঙ্গার তলায় পড়ে থাকে সাদা ঝরঝরে লবণ। লবণ তৈরির কারিগররা বলছেন, দীর্ঘ সময় জ্বাল দেওয়ায় লবণ জীবাণুমুক্ত হয়ে যায়। পরে মেশিনের মাধ্যমে আয়োডিন মিশিয়ে বাজারজাত করা হয় খাবার লবণ হিসাবে। শিল্পকারখানায়ও ব্যবহার হয় এ লবণের একটি অংশ। ডুবি গ্রামের মনির হোসেন প্রায় ২৫ বছর এ পেশায় আছেন। প্রতিদিন চুল্লির আগুন, ধোঁয়া আর তাপের মধ্যে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দুইজনে মিলে দিনে প্রায় ৩০ মন লবণ তৈরি করি। এতে গড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা আয় হয়। আগুনে জ্বাল দেওয়ার কারণে লবণ ভালো থাকে। পরে আয়োডিন মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করি।’ একসময় এ শিল্পের ব্যাপক চাহিদা ছিল বলে জানান ব্যবসায়ীরা। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বানারীপাড়ার একটি বাজারে সপ্তাহে দুইদিন প্রায় দেড় হাজার মন লবণ বিক্রি হতো। ডুবি গ্রামের পদ্ধতি অনুসরণ করে ঢাকা, কক্সবাজারের পটিয়া ও নারায়ণগঞ্জেও গড়ে উঠেছিল লবণ উৎপাদনের কারখানা। তবে গ্যাস সংকটসহ নানা কারণে সেসব কারখানার বেশির ভাগ এখন বন্ধ। মেসার্স সোনালী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক সেলিম মিয়া বলেন, আমার কারখানায় আয়োডিন মেশানোর মেশিন রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন শ্রমিক এখানে কাজ করেন। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ নেই।’ ডুবি গ্রামের মানুষ শুধু লবণ উৎপাদন বা বিক্রি করছেন না। ধরে রেখেছেন দুর্ভিক্ষের সময় বেঁচে থাকার তাগিদে জন্ম নেওয়া এক প্রাচীন শিল্পের ইতিহাস।
ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ফখরুলের বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন, উসকানিমূলক ও অসত্য বলে বর্ণনা করেন। বুধবার (২০ মে) দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যে গৎবাঁধা মিথ্যাচার ও বিষোদ্গার করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি সুশৃঙ্খল ও গণমুখী ইসলামী দলের বিরুদ্ধে ন্যক্কারজনকভাবে কুৎসা রটানোর পথ বেছে নিয়েছেন।’ গোলাম পরওয়ার বলেন, “মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেছেন ‘আমরা নাকি ধর্মের নামে রাজনীতি করি বা মিথ্যা বলি।’ অথচ দেশবাসী ভালো করেই জানে, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক, আদর্শিক ও প্রকাশ্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। আমরা ধর্ম নিয়ে কখনো কোনো ধরনের হীন ব্যবসা বা চাতুরীর আশ্রয় নেই না। বরং ধর্ম নিয়ে প্রকৃত ব্যবসা ও ভণ্ডামি করে বিএনপি নিজেই। সারা বছর তাদের বড় বড় নেতাদের নামাজের কোনো খবর থাকে না, অথচ নির্বাচন ঘনিয়ে এলেই তাদের গায়ে পাজামা-পাঞ্জাবি ও মাথায় টুপি পরে, হাতে তসবিহ দেখা যায় এবং আতর মেখে মসজিদে ঢুকতে দেখা যায়। জনগণের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাওয়ার এই সস্তা ও ভণ্ডামিপূর্ণ রাজনীতি বিএনপির জন্যই বেশি প্রযোজ্য, জামায়াতের নয়। তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল অমূলক দাবি করেছেন ‘এ দেশের মানুষ জামায়াতকে কোনো দিন ক্ষমতায় বসাবে না।’ তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জামায়াতে ইসলামী এ দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া একটি দল। অতীতে একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে দেশপ্রেমিক জনতা জামায়াতকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে এবং আমাদের মন্ত্রীরা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনার নজির স্থাপন করেছেন। জনগণের এই রায়কে যারা অস্বীকার করে, তারা আসলে গণতন্ত্রেই বিশ্বাস করে না। তিনি আরো বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের সভায় দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার হীন উদ্দেশ্যে যে সস্তা নাটক তিনি মঞ্চস্থ করার অপচেষ্টা করেছেন, তা তার মতো একজন সিনিয়র রাজনীতিকের কাছে কখনো কাম্য নয়। অপপ্রচার চালিয়ে মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করা যায় না।’ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে জামায়াতকে জড়িয়ে তিনি যে পুরনো ও অসত্য বয়ান দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়। জামায়াতে ইসলামী সব সময় দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও পালন করবে ইনশাআল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মিথ্যা এবং কুৎসার ওপর ভিত্তি করে কখনো টেকসই রাজনীতি করা যায় না। রাজনীতি করতে হবে সত্য, সততা এবং জনকল্যাণমূলক আদর্শের ওপর ভিত্তি করে, যা জামায়াতে ইসলামী জন্মলগ্ন থেকেই করে আসছে। তাই নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা ঢাকতে জামায়াতের বিরুদ্ধে অসত্য ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করার এবং এ ধরনের অসত্য মন্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য আমি মির্জা ফখরুলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিক মির্জা আব্বাসকে হাসপাতালে দেখতে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার। তার এই সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে মানবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের একটি ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মির্জা আব্বাস। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দলীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই অবস্থার মধ্যেই গোলাম পরওয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং মির্জা আব্বাসের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হন। সাক্ষাতের সময় তিনি মির্জা আব্বাসের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। হাসপাতালে অবস্থানকালে তিনি বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও অসুস্থতা ও মানবিক সংকটের সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনৈতিক শিষ্টাচার। দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহমর্মিতা ও মানবিকতার জায়গা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের এই সফরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, এমন উদ্যোগ রাজনৈতিক বিভেদ কমিয়ে মানবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত অসুস্থতা বা মানবিক সংকটে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর নজির নতুন নয়। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ জনমনে ইতিবাচক বার্তা দেয়। এদিকে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীরা দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছেন।