বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বেলজিয়াম। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সিয়াটল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চার্লস ডি কেটেলারের জোড়া গোলের সঙ্গে হান্স ভানাকেন ও রোমেলু লুকাকুর একটি করে গোলে দাপুটে জয় তুলে নেয় রেড ডেভিলস। যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র গোলটি করেন মালিক টিলম্যান।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেলজিয়াম। ম্যাচের নবম মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে নিকোলাস রাসকিনের পাস থেকে সহজেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ডি কেটেলারে।
৩১তম মিনিটে দারুণ এক ফ্রি-কিক থেকে সমতায় ফেরে যুক্তরাষ্ট্র। মালিক টিলম্যানের নেওয়া শট হান্স ভানাকেনের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়ালে বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার কিছই করার ছিল না।
তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয় মাত্র দুই মিনিট। ৩৩তম মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসারের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ডি কেটেলারে। তাতেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বেলজিয়াম।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধাক্কা দেয় তাদের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিসের ভুল। ৫৭তম মিনিটে ফ্রিসের ভুল পাস ডি কেটেলারের পায়ে লেগে হান্স ভানাকেনের সামনে চলে আসে। ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন তিনি।
শেষ দিকে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। বরং যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে রোমেলু লুকাকু গোল করে বেলজিয়ামের ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বেলজিয়াম। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন। অন্যদিকে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো যুক্তরাষ্ট্রকে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ মহাতারকা জানিয়েছেন, আগামী বছরেই ফুটবলকে বিদায় বলে দিতে পারেন তিনি। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগাল অধিনায়ককে বিবেচনা করা হয় সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন হিসেবে। ২০০২ সালে স্পোর্তিংয়ের হয়ে পেশাদার ফুটবলে অভিষেকের পর থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রেয়াল মাদ্রিদ, ইউভেন্তুস ও বর্তমান ক্লাব আল নাস্রের হয়ে অনেক শিরোপা জিতেছেন তিনি। পাঁচবারের ব্যালন দ’র জয়ী রোনালদো তার অর্জনের তালিকায় বিশ্বকাপ শিরোপা যোগ করতে পারেননি। গত জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় তার দল পর্তুগাল। ফলে ফুটবলের সবচেয়ে বড় পুরস্কারটি তার অধরাই রয়ে যায়। গত বছরের নভেম্বরে রোনালদো বলেছিলেন, ‘এক বা দুই বছর’ খেলা চালিয়ে যাওয়ার আশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে নিশ্চিত করেছিলেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপই হবে তার শেষ বিশ্বকাপ। স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ফুটবল থেকে ঠিক কবে অবসর নেবেন, তা যদিও নির্দিষ্ট করে বলতে রাজি হননি তিনি। তবে রেয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি এখন বলছেন, ফুটবল-পরবর্তী জীবনের পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন তিনি। লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ‘ভোগ’-এ রোববার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অবসরের ইঙ্গিত দেন রোনালদো। হয়তো এটাই ফুটবলে আমার শেষ বছর (মৌসুম) এবং আমি এক অসাধারণ লেগ্যাসি রেখে যেতে চাই।” এক হাজার ক্যারিয়ার গোলের পথে ছুটছেন রোনালদো। দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে এই ফরোয়ার্ড ক্লাব ও দেশের হয়ে ৯৭৬টি গোল করেছেন। পর্তুগালে গত মঙ্গলবার জর্জিনা রদ্রিগেসের সঙ্গে ১০ বছরের সম্পর্ককে বিয়ের বন্ধনে রূপ দেন রোনালদো। এর একদিন পর, বৃহস্পতিবার আল নাস্রের অনুশীলনে ফেরেন তিনি। শনিবার আল ফাতেহর বিপক্ষে লড়াই দিয়ে সৌদি প্রো লিগ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরুর ম্যাচে যদিও তাকে খেলায়নি দলটি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের রেকর্ড গোলদাতা রোনালদোর পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ২৫তম মৌসুম এটি। অবসরের পর নানা উপায়ে সময় কাটাতে চান তিনি। “নিজেকে ব্যস্ত রাখার মতো এত কিছু করার আছে যে, আমি শুধু একটি বেছে নিতে পারব না। কারণ, ফুটবল (থেকে অবসর) বিশাল শূন্যতা তৈরি করতে পারে, তাই কেবল একটি দিয়ে নয়, বরং বিভিন্ন বিষয় দিয়ে তা পূরণ করতে হবে। এটা হবে আরও উপভোগ্য, আরও বেশি ভ্রমণ করা, প্যাডেল খেলা ও দেখা, যা আমি সত্যিই উপভোগ করি, আর আমি যা অর্জন করেছি বা আমরা যা অর্জন করেছি, তা উপভোগ করা চালিয়ে যাওয়া। কারণ, সর্বোপরি এই ২৫ বছর খুবই কঠিন ছিল।” আল নাস্র সঙ্গে রোনালদোর চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের জুনে। ততদিনে তার বয়স হবে ৪২ বছর। এমন একটা সময়ে অবসরের ইঙ্গিত দিলেন রোনালদো, যখন তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসিও তার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাবা হোর্হের মৃত্যুর পর গত বুধবার ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন মহাতারকা বলেন, আর কতদিন খেলা চালিয়ে যাবেন, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক সাফল্যে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১৬ আগস্ট) ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে স্মরণীয় এই জয় তুলে নেয় টাইগাররা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেই এই সাফল্য অর্জন করলো বাংলাদেশ। টাইগার দল যখন এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে, তখন কিশোরগঞ্জের পথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন এবং ঐতিহাসিক জয়ের জন্য তাদের অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকেও দলের খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মনোবল, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরের টেস্টেও বাংলাদেশ ভালো খেলবে এবং সিরিজ জয়ের এই সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দেবে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবার টেস্ট র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ যে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে, সেটিকে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, শক্তিশালী দলীয় সমন্বয় ও বিকল্প খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক প্রস্তুতির ফল হিসেবে দেখছেন বিসিবির দুই কোচ মিজানুর রহমান বাবুল ও সোহেল ইসলাম। ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে বাংলাদেশ। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই স্বাগতিকদের ওপর চাপ তৈরি করতে সক্ষম হন শান্ত, মিরাজ, হাসানদের নিয়ে গড়া দলটি। এই সাফল্যের পেছনে কোনো একক ক্রিকেটারের অবদান নয়, বরং সম্মিলিত প্রচেষ্টাকেই বড় করে দেখছেন কোচরা। মিজানুর রহমান বাবুল বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের এমন জয় দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমেরই প্রতিফলন। তিনি বলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ কেউ অনুপস্থিত থাকলেও বিকল্প খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রমাণের সুযোগ তৈরি হয়। নাহিদ রানা নিয়মিত একাদশের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেও তার অনুপস্থিতিতে যে ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েছেন, তিনিও নিজের জায়গা ধরে রাখতে ভালো করার বাড়তি তাগিদ অনুভব করেন। বাবুলের মতে, একটি দলের শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চ থাকলে মূল একাদশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমে যায়। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের মধ্যে পারফর্ম করার ইতিবাচক প্রতিযোগিতাও তৈরি হয়। এ প্রসঙ্গে ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশও ধীরে ধীরে একই ধরনের শক্তিশালী বেঞ্চ তৈরি করার পথে এগোচ্ছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ভাবমূর্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে বলে মনে করেন বিসিবির আরেক কোচ সোহেল ইসলাম। তার ভাষায়, এতদিন বাংলাদেশকে নিজেদের কন্ডিশনে তুলনামূলক শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু বিদেশের মাটিতে বড় দলের বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে ভালো করার ফলে সেই ধারণা বদলাচ্ছে। এখন থেকে অ্যাওয়ে কন্ডিশনেও বাংলাদেশকে প্রতিপক্ষদের বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্যের দিকটি তুলে ধরে সোহেল বলেন, বিদেশের মাটিতেও বড় দলকে হারানোর সক্ষমতা বাংলাদেশ এখন দেখাতে পারছে। ফলে শুধু ঘরের মাঠে শক্তিশালী দল—বাংলাদেশ সম্পর্কে পুরোনো সেই ধারণা থেকে বের হয়ে আসার সময় এসেছে। এই জয় ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলেও মনে করেন তিনি। ভিন্ন কন্ডিশনে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে পারায় ভবিষ্যতে বিদেশের সিরিজগুলোতে ব্যাটার ও বোলাররা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পারবেন। সোহেল ইসলামের মতে, বর্তমান বাংলাদেশ দল কোনো একজন ক্রিকেটারের ওপর নির্ভরশীল নয়। একজন ব্যর্থ হলে অন্যরা দায়িত্ব নিয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করেছে। ড্রেসিংরুমের ইতিবাচক পরিবেশ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।