স্পেন-পর্তুগাল মধ্যকার শেষ ষোলোর লড়াইয়ের প্রথমার্ধ ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। একের পর এক আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে দুদল। সেই তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধ ছিল অনেকটাই ম্যাড়ম্যাড়ে। স্পেনের আক্রমণ সামলাতেই সময় কাটিয়ে পর্তুগিজরা। এভাবেই শেষ হয় ৯০ মিনিট। অবশেষে যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর করা গোলে জয় নিশ্চিত করে স্পেন।
এর মাধ্যমে শেষ আটে জায়গা করে নিলো স্পেন। আর শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে।
ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে স্পেন ও পর্তুগাল ফুটবল দল। ম্যাচের ১২ মিনিটেই দুদল অন ও অফ টার্গেটে শট নিয়েছে মোট সাতটি।
ম্যাচের অষ্টম মিনিটে তো লিড পেয়েই যেত স্পেন। বল নিয়ে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন ওইয়ারজাবাল। তার সামনে ছিল কেবল পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। কিন্তু ওইয়ারজাবালের নেওয়া শটটি লক্ষ্যে ছিল না। সাইডবারের পাশ দিয়ে চলে যায় বলটি। সে যাত্রায় বেঁচে যায় পর্তুগাল।
পরক্ষণেই আক্রমণে উঠে পর্তুগাল। বুলেট গতির এক শট নেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু বীরত্বের সঙ্গে শটটি কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। তিন মিনিট পর ডাবল সেভ করেন পর্তুগালের গোলরক্ষক।
ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে দলগত আক্রমণ করে পর্তুগাল। কিন্তু ডানপ্রান্ত থেকে সতীর্থদের দেওয়া ক্রসে হেড করেন জোয়াও ফিলিক্স। সেটি ফিরিয়ে দেন উনাই সিমন। সঙ্গে সঙ্গে কৌশলগত এক টোকা দিয়েছিলেন রোনালদো। এবার বাজপাখির মতো উড়ে এসে বল তালুবন্দী করেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক।
তিন মিনিট পর দুর্দান্ত এক শট নেন নুনো মেন্ডিস। স্পেনের রক্ষণভাগের কল্যাণে সে যাত্রায় রক্ষা মেলে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে শেখ পারভেজ রহমান যখন আউট হলেন, তখন ৮০ রানও হয়নি আজিজুল হাকিমের। সেখান থেকে শেষ ব্যাটসম্যানকে নিয়ে অসাধারণ লড়াই মেলে ধরলেন তরুণ বাঁহাতি ওপেনার। শেষ জুটিতে যোগ করলেন ৬৭ রান, নিজেকে রাঙালেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরিতে। জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ডে শতকের দেখা পেলেন আরেক বাঁহাতি ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখও। আগের দিনের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে এবারের জাতীয় লিগের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন রাজশাহীর তরুণ ব্যাটসম্যান নাঈম আহমেদ। ঝড়ো ফিফটিতে রেকর্ড গড়লেও অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পাননি জাওয়াদ আবরার। শতরানের সুবাস পেয়েও হারিয়ে ফেলেন অভিজ্ঞ তাইবুর রহমান। শেষ দিনে সেঞ্চুরির হাতছানি আছে অমিত হাসানের সামনে। প্রথম সেঞ্চুরিতে আজিজুলের ১৪২ সিলেটের আউটার মাঠে জমে উঠেছে খুলনা ও চট্টগ্রাম ম্যাচ। শেষ দিন জয়ের জন্য চট্টগ্রামের করতে হবে ১০১ রান। খুলনার নিতে হবে ৫ উইকেট। দিনের শুরু থেকেই চমৎকার ব্যাটিং করেন আজিজুল। তবে দলের আড়াইশ পেরোতেই সঙ্গীর অভাবে একা হয়ে যান ১৯ বছর বয়সী ওপেনার। তবে লড়াই থামাননি। সফর আলিকে নিয়ে দশম উইকেটে আরও ৬৭ রান যোগ করেন আজিজুল। জুটিতে সফরের অবদান ২১ বলে ০ রান! ৭০ ওভারে খুলনা দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার পর শরিফের বলে পরপর দুই ছক্কায় ৮৮ থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান আজিজুল। তবে সেখানেই থেমে যাননি। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে আরও ৪২ রান যোগ করেন তরুণ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পরে মাহমুদুল হাসান জয়ের বলে রিভার্স সুইপের চেষ্টায় থামে ৯ চার ও ১০ ছক্কায় তার ১৪৭ বলে ১৪২ রানের ইনিংস। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আজিজুলের শুরুটা হলো দারুণ সম্ভাবনাময়। প্রথম চার ম্যাচের পাঁচ ইনিংসে তিনটি ফিফটি করেন তিনি। এবার পঞ্চম ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে পেলেন প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ। আজিজুলের বিদায়ে ৩২৩ রানে থামে খুলনার দ্বিতীয় ইনিংস। পরে ২৭৫ রানের লক্ষ্যে উড়ন্ত সূচনা করে চট্টগ্রাম। উদ্বোধনী জুটিতে ১৩০ রান যোগ করেন জয় ও সাদিকুর রহমান। এরপর দিনের শেষ ঘণ্টার নাটকীয়তায় ম্যাচে ফেরে খুলনা। সামিউন বশিরের কনকাশন বদলি হিসেবে নামা রাকিব হাওলাদের বলে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন জয়। ৭ চারে করেন তিনি ৬০ রান। রাকিবের বলে ছক্কায় ওড়াতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৭৬ রান করা সাদিকুর। পরে ইয়াসির আলি চৌধুরির কনকাশন বদলি নামা তাসামুল হক টিকতে পারেননি। শাহাদাত হোসেন ও নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা হাসান মুরাদও দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় চট্টগ্রাম। শেষ দিন দলকে জেতানোর অভিযানে নামবেন অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর ও শামীম হোসেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে) খুলনা ১ম ইনিংস: ২০১ চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: ২৫০ খুলনা ২য় ইনিংস: (আগের দিন ১৬১/৬) ৭৯.২ ওভারে ৩২৩ (আজিজুল ১৪২, আফিফ ৫৯, সামিউন ২১, শেখ পারভেজ ৭, সফর ০*; শরিফ ৯-০-৫৭-১, রুবেল ২৮-৪-১০৯-৩, আশরাফুল ৯-৩-১৯-০, হাসনাত ৯-০-৪৬-০, মুরাদ ১৬-৩-৬১-২, জয় ৮.২-০-৩০-৩) চট্টগ্রাম ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৭৫) ৫২ ওভারে ১৭৪/৫ (জয় ৬০, সাদিকুর ৭৬, তাসামুল ২, শাহাদাত ৭, মুরাদ ৫, ইরফান ১৫*, শামীম ৯*; মেহেদি ১৮-৬-৪৩-১, সফর ৩-০-১৩-০, রাকিব ১৫-৪-৪৪-৪, মৃত্যুঞ্জয় ৩-০-২৯-০, পারভেজ ৯-২-৩১-০, আফিফ ৪-১-১৪-০) নাঈম ২০২*, জাওয়াদ ৯১ আগের দিনই ডাবল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন নাঈম আহমেদ। তৃতীয় দিন সকালে সেই পথটুক পার হতে বেশি সময় নেননি ২১ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। কামরুল ইসলামের বলে বাউন্ডারি মেরে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে নিয়ে যান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ২৬ চার ও ১ ছক্কায় ২৬৭ বলে ২০২ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম। ২২৮ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে রাজশাহী। বড় লিডের বোঝা মাথায় নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন জাওয়াদ আবরার। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় মাত্র ২২ বলে ফিফটি করে ফেলেন বরিশালের তরুণ ওপেনার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এটিই দ্রুততম ফিফটি। ২০১৪-১৫ মৌসুমের জাতীয় লিগে ২৪ বলে পঞ্চাশ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। রেকর্ড গড়া ইনিংসে সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও জাগান জাওয়াদ। তবে শেষ পর্যন্ত ৯ রান বাকি থাকতে ফিরে যান ড্রেসিং রুমে। ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৪ বলের ইনিংসটি সাজান তিনি। পরের ব্যাটসম্যানরা উইকেটে থিতু হলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তবু দিন শেষে খুলনার লিড ছাপিয়ে ২১ রানে এগিয়ে যায় বরিশাল। সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে) বরিশাল ১ম ইনিংস: ২২৯ রাজশাহী ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৪২৪/৫) ১০২.১ ওভারে ৪৫৭/৭ডি. (নাঈম ২০২*, মেহেরব ৫৭, সানজামুল ৩, নিহাদ উজ জামান ২*; কামরুল ১৭.১-১-৭৭-১, রুয়েল ১৯-১-১০০-৩, অভি ১৮-১-৭২-২, মইন ২৫-৩-১০৮-১, শহিদুল ১৫-০-৬২-০, ইফতেখার ১-০-৮-০, রাফসান ৭-১-২৮-০) বরিশাল ২য় ইনিংস: ৭৫ ওভারে ২৪৯/৫ (জাওয়াদ ৯১, ইফতেখার ২৬, রাফসান ৩০, ফজলে মাহমুদ ৩৩, হাফিজুর ৩৯, আবদুল্লাহ ২৮*; শফিকুল ১৫-১-৬২-১, মোহর ১০-২-২০-০, মেহেরব ১৬-৪-৪৪-১, সানজামুল ২০-৩-৯০-১, নিহাদ উজ জামান ১৪-১-৩২-১) অমিতের ৬ রানের অপেক্ষা চট্টগ্রামে রংপুরের বোলার-ফিল্ডারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছে সিলেট। পুরো দিন ৮৬ ওভার ব্যাটিং করে মোটে ২০১ রান করেছে তারা। বিপরীতে অবশ্য হারিয়েছে ৮টি উইকেট। তৃতীয় দিন শেষে সিলেটের লিড এখন ২০৮ রানের। শেষ দিন লক্ষ্য বাড়ানোর অভিযানে নামবেন অমিত হাসান। তবে অন্য প্রান্তে তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো স্বীকৃত ব্যাটসম্যান কেউ বাকি নেই। দিনের শুরুতে জাকির হাসানের বিদায়ের পর আর তেমন বড় কোনো জুটি পায়নি সিলেট। ষষ্ঠ উইকেটে আশরাফুল হোসেনের সঙ্গে এখন পর্যন্ত ইনিংসের সর্বোচ্চ ৫৩ রানের জুটি গড়েন অমিত। আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থতার পর এবার ৬ চারে ৯৪ রানে অপরাজিত সম্প্রতি জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া ব্যাটসম্যান। সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে) সিলেট ১ম ইনিংস: ১৭৯ রংপুর ১ম ইনিংস: ২০৬ সিলেট ২য় ইনিংস: (আগের দিন ৩৪/০) ১০০ ওভারে ২৩৫/৮ (সৈকত ৩৬, জাকির ১৮, অমিত ৯৪*, গালিব ৪, জাকের ১০, নাসুম ১৯, আশরাফুল ২১, তোফায়েল ১২, খালেদ ১, নাঈম ২*; মেহেদি ১৬-৪-৩৯-২, নাসির ৪-১-৭-০, ইকবাল ২-০-৬-০, হাশিম ৩০-৯-৪৬-২, হাসিবুল ১২-২-২৬-১, রিজওয়ান ১০-০-৪০-১, মামুন ১২-৩-২৭-১, স্বাধীন ১৪-২-৩৬-১) ড্রয়ের পথে ময়মনসিং-ঢাকা কক্সবাজারে তিন দিনেও শেষ হয়নি দুই দলের প্রথম ইনিংস। ময়মনসিংহের ৩৮৭ রানের জবাবে তৃতীয় দিন শেষে ঢাকার সংগ্রহ ৯ উইকেটে ৩৪২ রান। আগের রাউন্ডে ১৩৭ রানের ইনিংস খেলা মোহাম্মদ নাঈম শেখ এবার করেন ১৩৫ রান। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটিতে তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। ২১৩ বলে ১৩ চারের সঙ্গে ৩টি ছক্কা মারেন তিনি। তিন ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয় শতরানের আশা জাগিয়ে কাছে গিয়ে থমকে যান তাইবুর। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ১৪৮ বলে তিনি খেলেন ৯৩ রানের ইনিংস। সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে) ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: ৩৮৭ ঢাকা ১ম ইনিংস: (আগের দিন ১২০/৩) ১১১.১ ওভারে ৩৪২/৯ (নাঈম ১৩৫, মাহফুজুর ১০, মাহিদুল ৮, তাইবুর ৯৩, আমিনুল ৩৪, সুমন ১০*, আরিফ ০, শাকিল ০*; আবু হায়দার ৯.১-২-৩০-১, গালিব ১৩-১-৪৭-০, রিজান ৫-১-২২-০, রকিবুল ২৯-৩-৬৩-৪, আজিজুল ২০-৩-৪৬-১, শুভাগত ২৪.৫-৩-৮৭-২, আল আমিন ৮.১-১-২৮-০, আরিফুল ২-০-৮-১)
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ এরিক টেন হাগের দ্বন্দ্বের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পর্তুগিজ তারকার অনুশীলন, ফিটনেস এবং ম্যাচে দলের জন্য পরিশ্রম করা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন এই ডাচ কোচ। ২০২২ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দায়িত্ব নেওয়ার পর রোনালদোর সঙ্গে টেন হাগের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে দল থেকে নিজের অবস্থান হারানোর পর ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে বিদায় নেন রোনালদো। এবার সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সাবেক ইউনাইটেড কোচ। টেন হাগের ভাষ্য অনুযায়ী, রোনালদোকে ঘিরে দল সাজানোর পরিকল্পনা থাকলেও মাঠে ও অনুশীলনে প্রত্যাশিত সহযোগিতা সব সময় পাওয়া যায়নি। দলের শৃঙ্খলা ও সম্মিলিত স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তাকে নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল বলেও জানান তিনি। রোনালদোর প্রতি নিজের সম্মানের কথা উল্লেখ করে টেন হাগ বলেন, পর্তুগিজ এই তারকা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তবে একজন কোচ হিসেবে দলের প্রয়োজনে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া তার দায়িত্ব ছিল। রোনালদোকে নিয়ে পরিকল্পনা করার আগে পর্তুগালে গিয়ে তার সঙ্গে আলোচনাও করেছিলেন বলে জানান তিনি। সাবেক এই কোচের অভিযোগ, অনুশীলনের কয়েকটি সেশনে রোনালদো পুরোপুরি অংশ নেননি। অনুশীলনে অংশ নিলেও তার হৃদ্স্পন্দনের হার প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাত না বলে দাবি করেন টেন হাগ। ২০২২ সালের আগস্টে ব্রেন্টফোর্ডের কাছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৪-০ গোলে হারের পর খেলোয়াড়দের দিয়ে অতিরিক্ত দৌড়ের অনুশীলন করানোর ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। টেন হাগের দাবি, নির্ধারিত তিন ল্যাপের মধ্যে রোনালদো মাত্র দুটি সম্পন্ন করেছিলেন। ম্যাচে রোনালদোর দৌড়ানো ও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার প্রচেষ্টা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন টেন হাগ। তার মতে, দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের গোলের সুযোগ তৈরি করতে এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়। টেন হাগ বলেন, রোনালদোকে তিনি একাধিকবার বুঝিয়েছিলেন যে গোল করার সুযোগ পেতে হলে সঠিক জায়গায় পৌঁছানো জরুরি। তার অভিযোগ, বল নিজেদের দখলে থাকুক কিংবা প্রতিপক্ষের কাছে—রোনালদো অনেক সময় প্রত্যাশিতভাবে দৌড়াতেন না। তবে বিষয়টি রোনালদোর নিজের বক্তব্য নয়, বরং সাবেক কোচের দাবি। অনুশীলন নিয়ে রোনালদোর মনোভাব সম্পর্কেও অভিযোগ করেন টেন হাগ। তার ভাষ্য, পর্তুগিজ তারকা সতীর্থদের অনুশীলনে নিজেদের শক্তি সঞ্চয় করে রাখার পরামর্শ দিতেন। কিন্তু টেন হাগের মতে, প্রয়োজনীয় ফিটনেস অর্জনের জন্য অনুশীলনে যথাযথ পরিশ্রম করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক এই কোচের বক্তব্য, একটি দলের সেরা খেলোয়াড়কে কেন্দ্র করে কৌশল নির্ধারণ করা স্বাভাবিক। তবে দলের সাফল্যের জন্য সেই খেলোয়াড়কেও সম্মিলিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। উল্লেখ্য, টেন হাগের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ২০২৩ সালে ইংলিশ লিগ কাপ এবং ২০২৪ সালে এফএ কাপ জেতে। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাকে কোচের পদ থেকে বরখাস্ত করে ক্লাবটি। রোনালদো ও টেন হাগের মধ্যকার পুরোনো দ্বন্দ্ব নিয়ে নতুন এই মন্তব্য ফুটবল মহলে আবারও আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে রোনালদোর অনুশীলন ও পারফরম্যান্স নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে টেন হাগের ব্যক্তিগত বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
তিন কিংবদন্তি ক্রিকেটার ব্রায়ান লারা, ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান ও হানিফ মোহাম্মদের রেকর্ডে ভাগ বসালেন ভারতীয় তরুণ চিন্ময় সুতার। ভারতের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাগাল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে মিজোরাম ৯ উইকেটে ৫৮১ রানের পাহাড় গড়ে। তিন নম্বর পজিশনে ব্যাট করতে নেমে ৫১৭ বল মোকাবেলা করে ৪৬টি চার আর ৭টি ছক্কার সাহায্যে ৪০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সুতার। রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে সুতার ৪০০ রান করলেন এক ইনিংসে। বিশ্বের দশম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। মুম্বাইয়ের এই অলরাউন্ডার চলতি বছর থেকে মিজোরামের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন। মুম্বাইয়ের হয়ে কয়েকটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেললেও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাননি কখনও। রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচে মণিপুরের বিপক্ষে তার অভিষেক হয়। সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে পারেননি। আউট হয়ে যান ৯৯ রান করে। প্রথম ইনিংসে করেন ৩৫ রান। শতরান হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ দ্বিতীয় ম্যাচেই সুদে-আসলে পূরণ করে দিলেন চিন্ময়। বিশ্বের দশম ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪০০ রানের ইনিংস খেললেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক ব্রায়ান লারা এবং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ডব্লিউএইচ পনসফোর্ড দুইবার করে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। লারা ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে ডারহামের বিরুদ্ধে ১৯৯৪ সালে ৫০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এছাড়া ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অপরাজিত ৪০০ রান করেন। পনসফোর্ড ১৯২৭ সালে ভিক্টোরিয়ার হয়ে কুইন্সল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪৩৭ এবং ১৯২৩ সালে তাসমানিয়ার বিরুদ্ধে ৪২৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।