সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে ন্যাম ভবনের বারান্দাতেও ঘুমাতে হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার আদালতকে এ তথ্য জানান তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
এদিন দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় নজরুলকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য দিয়েছেন।
দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে এদিন নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
আবেদনে বলা হয়, “গাজী নজরুল ইসলামকে রিমান্ডে বলেছেন যে, মামলার বাদী (মরিয়মের বাবা) তার আত্মীয় এবং সম্পর্কে ভাগ্নে। মরিয়ম সম্পর্কে আসামির নাতনি। নজরুল ইসলাম ঢাকায় এলেই বাদীর বাসায় রাত্রিযাপন করতেন এবং তার সংসদের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। সেই সুবাদে মরিয়মের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে এবং নজরুল ইসলাম মরিয়মকে বিয়ে করেন।”
জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ বলেছে, গত ১৭ জুন নজরুল ইসলাম মরিয়মকে ধর্মীয় নিয়মে বিয়ে করেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিজ এলাকায় কাবিন রেজিস্ট্রি করেন।
আবেদনে পুলিশ বলেছে, মরিয়ম ও আরেক আসামি মোছা. মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে ন্যাম ভবনে বসবাস করতেন নজরুল ইসলাম।
“মরিয়ম মাঝে মাঝে নজরুল শয়নকক্ষের পাশে বেলকনিতে ঘুমাতেন।”
জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে ‘আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়া গেছে বলে পুলিশ আদালতকে বলেছে।
নজরুল ইসলামের পক্ষে তার আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, "আসামিকে প্রথমে রিমান্ডে নেয় থানা পুলিশ। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো সম্পৃক্ততা, এমনকি প্ররোচনার বিষয়ে কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি। এরপর ডিবি পুলিশও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারাও কোনো অগ্রগগতিমূলক প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। কাজেই আসামি জামিন পাওয়ার যোগ্য।”
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামকে চারদিন ও মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এক দিনের রিমান্ড শেষে মাকছুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আর ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে ২৪ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় নজরুল ইসলামকে আরও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয় আদালত। সেই রিমান্ড শেষে সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হলো।
সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আলোচনায় আসেন গত ২০ জুলাই। সেদিন রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।
পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
কোনো অভিযোগ অনুসন্ধানের শুরুতেই গণমাধ্যমের সামনে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে’ মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বক্তব্য প্রদান ও তা প্রচারের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পক্ষে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদনটি দায়ের করা হয়। রিট আবেদনে তদন্ত কিংবা অনুসন্ধানাধীন কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া থেকে দুদককে বিরত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংস্থাটির পক্ষ থেকে অতীতে প্রচারিত এ ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে সমগুরুত্ব দিয়ে গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আরজি জানানো হয়েছে। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের আওতায় দায়ের করা এই রিট পিটিশনে (নম্বর: ১৩৮৮৫/২০২৬) দুদক চেয়ারম্যান, কমিশনের উপপরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) ও সহকারী পরিচালককে (জনসংযোগ কর্মকর্তা) বিবাদী করা হয়েছে। আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা এ আবেদনটি দাখিল করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক জানান যে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগে ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়’ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী, কোনো অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণ হতে পারে অনুসন্ধান সমাপ্তির পর; অনুসন্ধান শুরুর আগেই এমন মন্তব্য করার কোনো এখতিয়ার কমিশনের কর্মকর্তাদের নেই। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই বক্তব্যের পর ৯ সেপ্টেম্বর দুদকের সচিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিষয়টিকে অসাবধানতাবশত বলা বা ‘স্লিপ অব দ্য টাং’ বলে মন্তব্য করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বার্তা আদান-প্রদানের গ্রুপে এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেন। কিন্তু পরবর্তীতে গণমাধ্যমে এর কোনো আনুষ্ঠানিক ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা প্রত্যাহার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এরপর গত ১০ সেপ্টেম্বর আইনি নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও তা আমলে না নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক আরেকটি ব্রিফিং করেন। সেখানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক নিয়োগ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, ওয়াসা, এলজিইডি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র ও বিদেশে অর্থপাচারসহ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক নতুন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। দুদকের এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব বাতিলের সিদ্ধান্তটি প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের আলোকেই প্রশাসনিক আদেশে নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া যে ১৫০ জন সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির কথা বলা হচ্ছে, তা আসিফ মাহমুদের পদত্যাগের (১১ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রায় পাঁচ মাস পর (১১ মে ২০২৬) কার্যকর হয়। ফলে এই প্রক্রিয়ায় তাঁর সম্পৃক্ত থাকার কোনো আইনগত বা বাস্তবিক সুযোগ নেই। রিটে অভিযোগ করা হয়, আসন্ন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণার পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসিফ মাহমুদের সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এই ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানো হচ্ছে। কমিশনের কর্মকর্তাদের এমন আচরণ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার এবং সংস্থাটির ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা, ২০১১’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
পুরুষের শার্টে সাধারণত বোতাম থাকে ডান পাশে, আর নারীদের পোশাকে দেখা যায় বাম পাশে। পোশাকের এই পার্থক্য বহুদিনের হলেও এর সঠিক কারণ নিয়ে এখনো একক কোনো ব্যাখ্যা নেই। ইতিহাসবিদ ও পোশাক বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছেন। পুরুষের পোশাকে ডান পাশে বোতাম কেন? ফ্যাশন ইতিহাসবিদদের একটি মত হলো, পুরুষের পোশাকে ডান দিকে বোতাম থাকার সঙ্গে সামরিক পোশাক ও অস্ত্র ব্যবহারের ঐতিহ্যের সম্পর্ক রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই নকশার উৎপত্তি সামরিক পোশাকের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। শার্ট বা জ্যাকেটের ডান পাশে বোতাম থাকলে ডান হাত দিয়ে পোশাকের ভেতরে দ্রুত হাত ঢোকানো তুলনামূলক সহজ হতো বলে ধারণা করা হয়। তরবারি ব্যবহারের সঙ্গেও এর একটি যোগসূত্রের কথা বলা হয়। A Gentleman’s Wardrobe-এর পল কিয়ার্স দ্য গার্ডিয়ান-কে জানান, ঐতিহাসিকভাবে অনেক পুরুষ বাম পাশে তরবারি বহন করতেন, যাতে ডান হাত দিয়ে সেটি সহজে বের করা যায়। পোশাকের বোতামের বিন্যাসও এ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে মত রয়েছে। নারীদের পোশাকে বোতাম বাম দিকে কেন? নারীদের পোশাকে বিপরীত দিকে বোতাম রাখার পেছনেও রয়েছে একাধিক প্রচলিত ব্যাখ্যা। শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ অ্যান্ড ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ত্রয়োদশ শতকে বোতামের প্রচলন শুরু হওয়ার পর ধনী নারীদের পোশাক ছিল বেশ ভারী ও জটিল। ফলে তারা নিজেরা পোশাক পরার পরিবর্তে সাধারণত দাসী বা সহকারীর সাহায্য নিতেন। এ কারণে পোশাকের বোতাম এমনভাবে রাখা হয়েছিল, যাতে অন্য কেউ সামনে দাঁড়িয়ে সহজে সেগুলো লাগাতে পারেন। সময়ের সঙ্গে এই বিন্যাসই নারীদের পোশাকে প্রচলিত হয়ে থাকতে পারে। আরেকটি প্রচলিত তত্ত্ব অনুযায়ী, নারীরা ঐতিহাসিকভাবে বাম হাতে শিশু ধরে রাখতেন। ফলে পোশাকের বোতাম বাম পাশে থাকলে প্রয়োজনের সময় পোশাক খোলা বা বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হতে পারে—এমন ধারণাও রয়েছে। এখন কি এই নিয়ম মেনে চলা হয়? বর্তমানে পোশাক তৈরিতে ঐতিহাসিক এসব প্রচলন সবসময় অনুসরণ করা হয় না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ডিজাইনার নারীদের পোশাকেও ডান পাশে বোতাম ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ, নারী ও পুরুষের শার্টে বোতামের অবস্থান নিয়ে প্রচলিত ব্যাখ্যাগুলোর বেশিরভাগই ঐতিহাসিক তত্ত্বনির্ভর। এর পেছনে একটি মাত্র নিশ্চিত কারণ রয়েছে—এমন প্রমাণ নেই। সূত্র: ইনসাইডার, টাইম ও দ্য গার্ডিয়ান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল আমিন রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশকে যারা উপনিবেশ বা তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দল প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিরুদ্ধে’ আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মাওলানা গাজী মো. সেলিম রেজা। রিজভী বলেন, ‘এই দেশে দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী শক্তির কোনো অবস্থান নেই। যারা বাংলাদেশকে উপনিবেশ করতে চায়, যারা বাংলাদেশকে একটি তাবেদার রাষ্ট্র করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে, পথে প্রান্তরে কঠিন বেরিকেড গড়ে তুলবে বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী ওলামা দল।’ রুহুল আমিন রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের তিন প্রজন্মের যে ধারাবাহিকতা, সেটার তারেক রহমান প্রতিনিধি তিন নম্বর প্রতিনিধি। তার বাবা ১৯৮০ সালে বক্তৃতা করেছেন, তার মা ১৯৯২ সালে বক্তৃতা করেছেন। আজকে তাদেরই জ্যেষ্ঠ পুত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে বক্তব্য রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, অস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তিতর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতাকে পরিবর্তনের হাতিয়ার করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। রিজভী আরও বলেন, তারেক রহমান স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের মানুষ শান্তি চায়, যুদ্ধ চায় না। যুদ্ধ হলে খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ে। শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে মানুষ বেকার হয়। যারা আগুন দিয়ে গাড়ি পুড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল প্রতিবাদ করছে। রিজভী দাবি করেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। জনগণের জন্য ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।