মিশরের তরুণ ফরোয়ার্ড হামজা আবদেলকরিমের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন স্পেন ও বার্সেলোনার তারকা লামিনে ইয়ামাল। মিশরের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘ফ্রম কায়রো’-তে দেয়া সাক্ষাৎকারে হামজার প্রশংসা করে তাকে ভবিষ্যতের দুর্দান্ত স্ট্রাইকার হিসেবে অভিহিত করেছেন ইয়ামাল। খবর গোল ডটকমের।
হামজাকে নিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘সে অনেক গোল করে এবং দ্রুত মানিয়ে নেয়ার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। একজন দুর্দান্ত স্ট্রাইকার হওয়ার সব গুণই তার মধ্যে আছে। সে দলের হয়ে অনেক গোল করবে।’
সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনার বর্তমান সাফল্য নিয়েও কথা বলেছেন ইয়ামাল। তার মতে, কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া ও সমন্বয় আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। দলের স্বার্থেই সবাই খেলছেন এবং প্রতিটি ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য থাকছে বলে জানান তিনি।
ফ্লিকের নির্দেশনা মেনে খেলার পাশাপাশি নিজের স্বাভাবিক ফুটবল উপভোগ করা প্রসঙ্গে ইয়ামাল বলেন, দলের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেয়াই তার মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে মাঠে দলের ভারসাম্য ধরে রাখার দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
আফ্রিকান খেলোয়াড়দের ব্যালন ডি’অর মনোনয়ন নিয়েও কথা বলেছেন স্প্যানিশ এই তারকা। তার মতে, ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সই মূল বিষয়, জাতীয়তা নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও অনেক আফ্রিকান খেলোয়াড় এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হবেন।
বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পরও অনুপ্রেরণা ধরে রাখার বিষয়ে ইয়ামালের উত্তর, আরও সাফল্য অর্জনের ইচ্ছাই তাকে এগিয়ে নেয়। তার ভাষায়, ‘জেতার ইচ্ছা কখনো শেষ হয় না।’
চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী ইয়ামাল। শিরোপা জিততে ভাগ্যের সহায়তার পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচ জয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
তথ্যসূত্র : গোল.কম
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আর দশটা সাধারণ দিনের মতোই শান্তিতে ঘুমাতে গিয়েছিলেন তিনি। ঘুণাক্ষরেও আঁচ করতে পারেননি, শুক্রবার সকালে ঘুম ভাঙলেই জীবনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই হাতে আসে একগাদা অচেনা নথিপত্র, যেগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে আগে কখনো শোনেনইনি। সেই কাগজগুলোতে চোখ বুলিয়ে মুহূর্তেই পায়ের তলার মাটি সরে যায় তার—বুঝতে পারেন, ফুটবল খেলে দীর্ঘ ২৪ বছরে রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে যা কিছু অর্জন করেছিলেন, তার প্রায় সবটাই বেদখল হয়ে গেছে। সম্প্রতি পর্তুগালে আয়োজিত এক ফুটবল সম্মেলনে ক্যারিয়ারের সব সম্পদ নাটকীয়ভাবে হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার এই করুণ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি লেফটব্যাক রবার্তো কার্লোস। ৫৩ বছর বয়সী এই তারকা ডিফেন্ডার জানান, ধূর্ত এজেন্ট এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে ফুটবল ক্যারিয়ারের উপার্জনের ৯৯ শতাংশ সম্পদই এখন তার হাতছাড়া। খেলোয়াড়ি জীবনে কার্লোসের আনুমানিক মোট উপার্জন ছিল প্রায় ১৮ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু সেই বিপুল ঐশ্বর্যের প্রায় কিছুই আজ আর অবশিষ্ট নেই তার কাছে। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু মানুষের কারণে আমি সমস্যায় পড়েছিলাম, যারা আমাকে সম্পূর্ণ শূন্য করে রেখে গেছে। এজেন্ট এবং পারিবারিক সমস্যার কারণে ফুটবল খেলে যা কিছু আয় করেছিলাম, তার ৯৯ শতাংশই হারিয়েছি।’ অর্থ লোপাটের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ কিংবা সংশ্লিষ্ট সেই এজেন্টের নাম প্রকাশ করেননি কার্লোস। এর সঙ্গে কোনো গুরুতর পারিবারিক সমস্যার যোগসূত্র রয়েছে বলে জানালেও বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেননি। ফুটবল মাঠের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন ও একাধিক বিয়ে নিয়েও ক্যারিয়ারজুড়ে তুমুল আলোচনায় ছিলেন ব্রাজিলের এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা। সম্প্রতি মরক্কোর ব্যবসায়ী সোহাইলা তাহিরির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তিনি, যা তার তৃতীয় আনুষ্ঠানিক বিয়ে। এর আগে ২০০৩ সালে প্রথম স্ত্রী আলেকজান্দ্রা পিনহেইরোর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ ঘটে, যে সংসারে তার তিন সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের জুনে মারিয়ানা লুকনকে বিয়ে করেন কার্লোস এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্যের পর ২০২৫ সালের শুরুর দিকে তাদেরও বিচ্ছেদ হয়। দ্বিতীয় সংসারে রয়েছে দুটি কন্যাসন্তান। সব মিলিয়ে সাতজন নারীর গর্ভে রবার্তো কার্লোসের সন্তানের সংখ্যা ১১। সর্বস্ব হারানোর সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে ব্যথিত কার্লোস বলেন, ‘আমার খুব গুরুতর একটি পারিবারিক সমস্যা ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় ঘুমাতে গিয়েছিলাম। শুক্রবার একগাদা কাগজপত্র পেলাম, যেগুলো সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। তখনই বুঝতে পারলাম, আমি আমার পুরো ইতিহাস হারিয়ে ফেলেছি।’ মাঠের সাফল্যের নিরিখে তার সেই ‘ইতিহাস’ ছিল রূপকথার মতো। ব্রাজিলের জার্সিতে ২০০২ বিশ্বকাপ জয় ছাড়াও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও চারটি লা লিগা শিরোপা জিতেছেন তিনি। তার বাঁ পায়ের তীব্র গতির শট, বাঁকানো ফ্রি-কিক ও ক্ষিপ্র গতি এখনো ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে অমলিন। তবে মাঠের সেই অর্জন জীবনের বাইরের কঠিন খেলায় তাকে আর্থিক ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেনি। তাই নিজের এই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে তরুণ প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে উপস্থাপন করতে চান তিনি। কার্লোস বলেন, ‘আমি ভুল করেছি। তাই তরুণ খেলোয়াড়দের বলব, তারা যেন একই ভুল না করে। আমি সব সময় খেলার পর কী করব তা নিয়ে ভাবতাম। একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজের সুনাম ও ইতিহাস তৈরি করা এবং নিজের ভাবমূর্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি জানান, ফুটবলকে বিদায় জানানোর আগেই তিনি ভবিষ্যতের প্রস্তুতি হিসেবে স্পোর্টিং ডিরেক্টরের লাইসেন্স নিয়েছিলেন এবং একাধিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ শুরু করেছিলেন। বুটজোড়া তুলে রাখার পরও রিয়াল মাদ্রিদের শুভেচ্ছাদূত ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবে যুক্ত থেকে নতুন করে পথ চলছেন এই কিংবদন্তি।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ডিসিপ্লিন আরচ্যারিতে হতাশার ধারা অব্যাহত রয়েছে। দলীয় ছয়টি ইভেন্টের পর এবার ব্যক্তিগত কম্পাউন্ড ইভেন্ট থেকেও বিদায় নিয়েছেন বাংলাদেশের আরচাররা। ফলে কম্পাউন্ড বিভাগে বাংলাদেশের অভিযান শেষ হয়েছে। আগামীকাল রিকার্ভ ব্যক্তিগত ইভেন্টে মাঠে নামবেন দেশের আরচাররা। কম্পাউন্ড পুরুষ ব্যক্তিগত বিভাগে বাংলাদেশের অন্যতম ভরসা ছিলেন হিমু বাছাড়। তবে প্রথম রাউন্ডেই তাকে বিদায় নিতে হয়েছে। র্যাংকিং রাউন্ডে ১১তম হওয়া কাজাখস্তানের টুটুন আন্দ্রের কাছে ১৪৬-১৪১ পয়েন্টে হেরে যান হিমু। ম্যাচের প্রথম ও তৃতীয় সেটে সমতায় ছিলেন হিমু। তবে দ্বিতীয় ও চতুর্থ সেটে পিছিয়ে পড়ায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি নিজের করে নিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে বাংলাদেশের নেওয়াজ আহমেদ রাকিব প্রথম রাউন্ডে দারুণ লড়াই করে ইরানের মিলাদ রশিদীকে ১৪৬-১৪৫ পয়েন্টে হারিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠেন। তবে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের লিও জিনির কাছে ১৪৮-১৪৫ পয়েন্টে হেরে তারও বিদায় নিশ্চিত হয়। কম্পাউন্ড নারী এককে কুলসুম আক্তার মনি ও বন্যা আক্তার বাই পেয়ে সেরা ৩২-এ জায়গা করে নেন। তবে মনি পরের রাউন্ডে মালয়েশিয়ার নিনা বনিতার কাছে হেরে যান। বন্যা আক্তার অবশ্য ইরানের গিসা বাই বর্দিকে ১৪৭-১৪৩ পয়েন্টে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন। সেখানে ইরানের আরেক আরচার ওসকুর কাছে মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে হারেন তিনি। ম্যাচের স্কোর ছিল ১৪৪-১৪৩। এর মধ্য দিয়ে এশিয়ান গেমসের কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত ইভেন্টেও বাংলাদেশের আরচারদের অভিযান শেষ হলো। এখন রিকার্ভ ব্যক্তিগত ইভেন্টে দেশের আরচারদের দিকে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।
এক ম্যাচ হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৩২ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকেরা। তিন ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা এখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে। টস জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই জশ হ্যাজলউডের বলে শূন্য রানে ফিরেছিলেন এইডেন মার্করাম। তবে এরপর ঘুরে দাঁড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। টেম্বা বাভুমা ও ডেভিড মিলারের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহ পায় তারা। বাভুমা ১১৬ বলে ১০৩ রান করেন। মিলার ছিলেন আরো ভয়ংকর। মাত্র ৯৩ বলে ১৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ১২টি চার ও ৯টি ছক্কা মারেন তিনি। শেষ দিকে ডুয়ান ইয়ানসেনের ২৭ রানের ক্যামিওতে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩৬৫ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে উড়ন্ত সূচনা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডের ব্যাটে ১৩০ রানে পৌঁছে যায় তারা। দুজনই করেন ৮৪ রান। তবে তাদের বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। শেষ দিকে জাভিয়ার বার্টলেট ২৬ বলে ৫০ রান করে আশা জাগালেও তা যথেষ্ট হয়নি। ৪৯.৫ ওভারে ৩৩৩ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার লিজাড উইলিয়ামস নেন ৩ উইকেট। ম্যাচসেরা হন ১৪২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলা মিলার। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে আগামী বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পচেফস্ট্রুমে।