ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা দিয়ে পুলিশ একটি সুষ্ঠু ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়েছে।
আজ বুধবার রাজারবাগস্থ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে জানুয়ারি মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ডিএমপি’র পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।
সকল পুলিশ সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচনে আপনারা নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। পুলিশ তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
আগামী দিনগুলোতে পুলিশের এই ভাবমূর্তি ধরে রাখার জন্য সবাইকে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, রমজানে ইফতারের পূর্বে ট্রাফিকের প্রচণ্ড চাপ বাড়ে। সেই সময়ে যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জনসাধারণ নির্বিঘ্নে বাসায় গিয়ে ইফতার করতে পারে। ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন তিনি।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সামনে একুশে ফেব্রুয়ারি ও অমর একুশে বই মেলার মত বড় অনুষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া পবিত্র মাহে রমজানে বিশেষ করে তারাবির সময় চুরি বা ছিনতাই যাতে কোন ভাবেই সংঘটিত হতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
মাসিক অপরাধ সভায় জানুয়ারি মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ডিএমপি’র বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণকে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার।
অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সানা শামীনুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণি, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারগণ, সহকারী পুলিশ কমিশনারগণ, ডিএমপি’র সকল থানার অফিসার ইনচার্জগণ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ড. খলিলুর রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে বালা নন্দ শর্মা দুই মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। বৈঠকে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক পর্যালোচনা করেন। যা সম্পর্ক ভালো প্রতিবেশীত্ব, যৌথ আকাঙ্ক্ষা এবং গভীর সাংস্কৃতিক সংযোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ এবং পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য অব্যবহৃত সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। উভয় মন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন, যাতে দুই দেশ ও জনগণের স্বার্থ এগিয়ে নেওয়া যায়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং মহাপরিচালক ইসরাত জাহান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শর্মার সঙ্গে ছিলেন রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভণ্ডারী, যুগ্ম সচিব গহেন্দ্র রাজভণ্ডারী, উপপ্রধান দূত ললিতা সিলওয়াল এবং আন্ডার সেক্রেটারি মধুসূদন ভট্টরাই। এই বৈঠক নেপাল-বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও মজবুত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের আকাশে আজ ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাস গণনা করা হবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৬ মার্চ সোমবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে। আজ বুধবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। সভায় ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সকল জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ রাতে তারাবিহর নামাজ পড়বেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা; রাতে সাহ্রি খেয়ে বৃহস্পতিবার থেকে রোজা রাখবেন। সভায় ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ থেকে দুর্নীতি, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, জুলুম-নির্যাতন ও মাদক থেকে বিতারিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’ এ জন্য তিনি গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। দেশবাসীকে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী যদি আমরা চলি দেশে শান্তি আসবে। আল্লাহর হুকুমের বাইরে চললে দেশে কখনো শান্তি আসবে না।’ তিনি দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের মুসলমান ভাই বোনেরা এই রমজান মাস অত্যন্ত পবিত্র মাস। সবাই দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে দোয়া করবেন। যাতে আল্লাহ পাক আমাদের হেদায়েত নসিব করেন। আমাদের সহি বুঝ দান করেন। আমরা যেন আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী দেশটাকে চালাতে পারি।’ নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিতিশীলকারী কালাবাজারীদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা সেই সমস্ত কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠিন। তিনি জনগণ ছাড়া কিছু বুঝেন না।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর ২ (কাউখালী-ভান্ডারিয়া-নেছারাবাদ) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)' ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মনজুর (সুমন) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথম বার ভোটে দাঁড়িয়েই এমপি নির্বাচিত হয়ে বাজিমাত করার পাশাপাশি এবারের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের। এর ফলে দীর্ঘ ৪৭ বছর পরে বিএনপি দলীয় কোন মন্ত্রী পেল পিরোজপুর জেলাবাসী। এর আগে ১৯৮৯ সালে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পিরোজপুর জেলা থেকে নুরুল ইসলাম শিশু (বন ও কৃষি মন্ত্রণালয়) ছিলেন এ জেলার সর্বশেষ বিএনপি দলীয় মন্ত্রী। তবে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন পিরোজপুর ও বরিশাল জেলার (স্বরূপকাঠি- বানারীপাড়া) দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত এমপি শহিদুল হক জামাল হুইপ হিসেবে (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) দায়িত্ব পালন করেছেন। সোহেল মনজুর এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল -বিএনপি থেকে অংশ নিয়ে তিনি ১ লাখ ৫ হাজার ১৮৫ ভোট পেয়ে সাঈদীপুত্র শামীম সাঈদীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন। সোহেল মনজুর মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের বেসামরিক প্রধান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী নুরুল ইসলাম মঞ্জুর এর সন্তান এবং ভান্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তার বাবা নুরুল ইসলাম মঞ্জুর শেখ মুজিবুর রহমান সরকারে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তবে পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় সোহেল মনজুর বাসসকে বলেন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সুশাসনই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। জনগণের অর্থ জনগণের উন্নয়নেই ব্যয় করা হবে। সোহেল মনজুর প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবরে তার নির্বাচনী এলাকাসহ পুরো জেলা জুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চিত এ জেলায় নতুন দায়িত্বে তিনি এলাকার ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমসহ সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। কাউখালী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আহসান কবির বলেন, স্বাধীনতার পরে পিরোজপুর-২ আসনে এবারই প্রথম আমাদের দলের এমপি পেলাম। যদিও মাঝখানে ৯৬ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে সামান্য কয়েকদিনের জন্য এ আসনে আমরা ধানের শীষের এমপি পেয়েছিলাম। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় নুরুল ইসলাম শিশু মন্ত্রণালয়ে এই প্রথম আমাদের আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সুমন মঞ্জুর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মত একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। আহসান কবির বলেন, আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান অত্যন্ত বিচক্ষণ মানুষ। তাই তিনি সুমন মজুর এর মত একজন তরুণ, মেধাবী ও সৎ রাজনীতিবিদকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিয়েছেন। এজন্য দলের চেয়ারম্যান এর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন এর পরিচালক, পিরোজপুরের সন্তান সাইদ খান বলেন, বিএনপি'র চেয়ারম্যান ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, "করব কাজ গরব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" এ ভীষণকে সামনে রেখে এবারে প্রবীণ ও নবীনদের মিশেলে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। সেখানে পিরোজপুর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সোহেল মনজুর এর মত একজন তরুণ ও মেধাবী রাজনীতিবিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া জেলাবাসীর জন্য গর্বের। আশা করি সততা ও দক্ষতার সহিত তিনি গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রণালয়টি পরিচালনা করবেন। পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের দুটিতে আমরা জয়লাভ করেছি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর পিরোজপুর থেকে নির্বাচিত আমাদের দলের একজন সংসদ সদস্যের মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া বাড়তি আনন্দের। এতে উন্নয়ন বঞ্চিত এ জেলাবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে এবং জেলার নেতার্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। তিনি বলেন, আমরা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছি।