সরকারের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধের চাপ কমানো এবং বাজেট বাস্তবায়নে গতি আনতে কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা (বিআইপি) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ বিভাগ।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাজেট বাস্তবায়নে বিদ্যমান সমন্বয়, পরিকল্পনা ও মনিটরিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। উদ্যোগটি সফল হলে জুন মাসে অস্বাভাবিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকারি অর্থ ব্যবহারে দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
স্ট্রেংথেনিং পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনেবল সার্ভিস ডেলিভারি (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
২৩ ও ২৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের একটি হোটেলে ১৮টি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় আলোচকরা জানান, সরকারকে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধ করতে হয়। অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আহরণ কম থাকায় সরকারকে প্রায়ই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নিতে হয়।
এতে আর্থিক চাপ আরও বাড়ে। এ পরিস্থিতিতে অর্থবছরের শুরু থেকেই বাজেট বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে সময়মতো, কার্যকর ও ফলভিত্তিক বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।
অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট ও সামষ্টিক অর্থনীতি) মো. হাসানুল মতিন কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌস রওশন আরা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বাজেট) ও এসপিএফএমএস-এর জাতীয় কর্মসূচি পরিচালক ড. জিয়াউল আবেদীন। স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হাসানুল মতিন বলেন, জুন মাসে সরকারের অস্বাভাবিক ব্যয় কমানোর সঙ্গে কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ও গুণগত খাতে বরাদ্দ করা বাজেট যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেন। অর্থবছরের শেষে অতিরিক্ত ব্যয় সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ায় বলেও জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউল আবেদীন বলেন, কার্যকর বাজেট বাস্তবায়নের জন্য পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকই বিআইপি প্রণয়নে চলে যায়। এতে পরিকল্পনার কার্যকারিতা কমে যায়। বাজেট অনুমোদনের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগেভাগেই বিআইপি প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।
ফেরদৌস রওশন আরা বলেন, জাতীয় বাজেটের আকার বাড়লেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা একই হারে বাড়েনি।
তিনি বিআইপি’কে বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা জোরদারের একটি কৌশলগত কাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেন।
মোস্তফা কামাল বলেন, টেকসই ও মানসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবং সরকারি ব্যয়ে যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করতে কার্যকর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অপরিহার্য।
কর্মশালার কারিগরি অধিবেশনে ‘কার্যকর বাজেট বাস্তবায়নে বিআইপির গুরুত্ব’ বিষয়ে আলোচনা হয়।
অধিবেশনটি মডারেট করেন মোহাম্মদ ফারুক-উজ-জামান। উপস্থাপনা দেন অর্থ বিভাগের উপ-সচিব মো. জাকির হোসেন।
আলোচনায় বলা হয়, বিআইপি বার্ষিক বাজেট বরাদ্দকে সময়ভিত্তিক ও কার্যক্রমভিত্তিক বাস্তবায়ন রোডম্যাপে রূপ দেয়। ক্রয় পরিকল্পনা, নগদ প্রবাহ ও ত্রৈমাসিক ব্যয় লক্ষ্যের সঙ্গে বাজেট সংযুক্ত থাকায় বছরের শুরুতে বিলম্ব এবং শেষ মুহূর্তের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে।
আরেকটি গ্রুপ সেশনে ‘বিআইপি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সেশনে মডারেটর ছিলেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. নজরুল ইসলাম।
সেশনে চারটি দলে বিভক্ত হয়ে অংশগ্রহণকারীরা সমস্যা চিহ্নিত করেন এবং সমাধান প্রস্তাব দেন। আলোচনায় বিআইপি জারি বিলম্ব, বিভিন্ন সিস্টেমের সমন্বয়হীনতা, সক্ষমতার ঘাটতি, প্রক্রিয়াগত জটিলতা এবং আইবাস++, ই-জিপি ও বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনার সঙ্গে দুর্বল সংযোগের বিষয়গুলো উঠে আসে।
অংশগ্রহণকারীরা সময়মতো বিআইপি জারি, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন জোরদার, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং অর্থ বিভাগের নেতৃত্বে সমন্বয় বাড়ানোর সুপারিশ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রপ্তানি বাণিজ্যের নিয়মকানুন আরও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ মূল্যের শিপমেন্টের ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকরা সরাসরি আমদানিকারকের কাছে শিপিং ডকুমেন্ট পাঠাতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ এফইপিডি-১ সার্কুলার নং-০৬-এর মাধ্যমে এ নির্দেশনা দিয়েছে জারি করেছে। এতে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই তারিখের এফই সার্কুলার নং-৩১-এর অনুচ্ছেদ ১৪-এর প্রতি অনুমোদিত ডিলারদের (এডি) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, যেখানে রপ্তানি সংক্রান্ত শিপিং ডকুমেন্ট প্রেরণের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, অনুমোদিত ডিলাররা এখন থেকে রপ্তানিকারকদের বিদেশি আমদানিকারক বা অন্য কোনো মনোনীত পক্ষের নামে পরিবহন সংক্রান্ত ডকুমেন্ট ইস্যু করার অনুমতি দিতে পারবেন। এই সুবিধা সর্বোচ্চ এক লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ মূল্যের চালানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে আমদানিকারক বা মনোনিত পক্ষের কাছে এসব ডকুমেন্ট সরাসরি পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ক্যারিয়ার কোম্পানিকে এফই সার্কুলার নং-৩১/২০২৫-এর পরিশিষ্ট-৩ অনুযায়ী একটি সনদ প্রদান করতে হবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সুবিধা পেতে রপ্তানিকারককে গত তিন অর্থবছরে মোট অন্তত ১০ লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ রপ্তানি আয় নিশ্চিত করতে হভে। এছাড়া সুবিধা গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকের কোনো বকেয়া রপ্তানি আয় থাকা যাবে না। অনুমোদিত ডিলারদের এ ধরনের চালান ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বৈধ রপ্তানি আদেশ সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে এফই সার্কুলার নং-৩১/২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ১৩(১) অনুযায়ী বিদেশি আমদানিকারক বা কনসাইনি সম্পর্কে যথাযথ যাচাই-বাছাই করতে হবে। সার্কুলারে রপ্তানি আয় সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি সুরক্ষা ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে। এ সুবিধা নিতে রপ্তানিকারকদের লিখিত সম্মতি দিতে হবে এবং অনুমোদিত ডিলারদের রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আসার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে হবে। অনুমোদিত ডিলারদের নিশ্চিত করতে হবে যে এসব ব্যবস্থায় কোনোভাবেই রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আসার প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আনার জন্য কার্যকর তদারকি বজায় রাখতে হবে। এই নির্দেশনা ৩১ জুলাই ২০২৫ সালের এফই সার্কুলার নং-৩১-এর কাঠামোর ভিত্তিতে রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও সহজ করার একটি উদ্যোগ। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ডিলারদের নির্দেশ দিয়েছে যাতে ২০২৫ সালের সার্কুলারে বর্ণিত সব বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এফইপিডি-১ বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. আবু বকর সিদ্দিক এ নির্দেশনা জারি করেন এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রপ্তানি লেনদেন সংক্রান্ত অন্যান্য সব নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ২৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি বেচাকেনা হচ্ছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায়। বিস্তারিত আসছে...
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে এটিএমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ঈদের ছুটিকালীন সময়ে অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম), পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন ই-পেমেন্ট গেটওয়ে এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এর মাধ্যমে লেনদেন যাতে স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংকগুলোকে সার্বক্ষণিক এটিএম সেবা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো এটিএম বুথে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া, এটিএম বুথগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাক। ব্যাংকগুলোকে সার্বক্ষণিক পিওএস সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতারণা প্রতিরোধে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী ব্যাংক ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বিঘ্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যেকোনো পরিমাণ লেনদেনের জন্য গ্রাহকদের এসএমএস অ্যালার্ট সেবার মাধ্যমে তথ্য জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সরকার ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ছুটি অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে পূর্বঘোষিত ঈদের ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত হিসেবে ১৮ মার্চকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।