জাতীয়

রাজৈরে ঐতিহাসিক ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২৪, ২০২৬

বাংলার ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাগুলোর একটি ঘোড়দৌড় আজ বিলুপ্তির পথে। সময়ের বিবর্তনে গ্রামবাংলার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই জনপ্রিয় খেলাটি অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। তবে ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার প্রয়াসে দেশের কিছু এলাকায় এখনও নিয়মিতভাবে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহাসিক ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। 

গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার চৌরাশী গ্রামের মাঠে স্থানীয় গ্রামবাসীর আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

ঐতিহ্যবাহী এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে মাঠে ভিড় করেন কয়েক হাজার দর্শক। শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মাঠজুড়ে ছোট-বড়, লাল, কালো ও সাদা রঙের নানা জাতের ঘোড়া দৌড়ে অংশ নেয়। মাদারীপুর ছাড়াও ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ঘোড়াগুলো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

ঘোড়সওয়ার সাব্বির হোসেন জানান, তিনি রাজৈর উপজেলার পাইকপাড়া এলাকা থেকে ‘দুই ভাইয়ের মায়া’ নামের ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘পুরস্কারের জন্য নয়, শখের বসেই ঘোড়া দৌড়ে অংশ নিই।’

অপর ঘোড়সওয়ার নাবিল হোসেন বলেন, ‘রনজিৎ বাচ্চা নামের ঘোড়াটি নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিযোগিতায় অংশ নেই। এই দৌড় আমার কাছে আনন্দের।’

দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতা কয়েক দফায় অনুষ্ঠিত হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিটি ঘোড়াই আলাদা ও ব্যতিক্রমী নামে পরিচিত।

কংসরাজ, দুই ভাইয়ের মায়া, টেকর পাখি, দাদা-নাতি, হংসরাজ, টিপু সুলতান, মায়ের রাজা, মুকুট রাজা, বাংলা ভাই, ট্রিগার, রনজিৎ বাচ্চা, আর্মি টাইগার, সোনার ময়না, নিউ সোনার তরীসহ মোট ৪৬টি ঘোড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

ঘোড়দৌড় দেখতে আসা দর্শক নবনীতা রায় বলেন, ‘অনেক দিন পর ঘোড়দৌড় দেখলাম। এখন আর আগের মতো এই আয়োজন দেখা যায় না। এত মানুষ একসঙ্গে এসে ঐতিহ্যবাহী এই খেলা উপভোগ করছে। এটা দেখে খুব ভালো লাগছে।’

আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ঘোড়াগুলোর মালিক ও ঘোড়সওয়ারদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

‘ছোট ঘোড়া’ ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘শুভরাজ’, দ্বিতীয় ‘আমার স্বপ্ন’ এবং তৃতীয় হয় ‘আর্মি টাইগার’।

‘বড় ঘোড়া’ ক্যাটাগরিতে প্রথম হয় ‘জয় বাংলা’, দ্বিতীয় ‘সোনার ময়না’ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ‘নিউ সোনার তরী’। এছাড়া ‘রনজিৎ বাচ্চা’ বিশেষ পুরস্কার অর্জন করে।

বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় দর্শক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাকার ১৬ স্থানে দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুস্থ ও অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করবেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   শনিবার (৩০ মে) বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত রাজধানীর ১৬টি স্পটে এসব বিতরণ করা হবে।   বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ঢাকা মহানগর ১৫টি সংসদীয় আসন এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিস সামনে— মোট ১৬টি স্থানে এসব খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।   এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীদের আয়োজনে প্রতিবছরের মতো এবারও মিলাদ, দোয়া ও খাবার বিতরণ করা হবে।   নির্ধারিত প্রতিটি স্থানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ছাড়াও মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৬, ২০২৬

অতিরিক্ত ভাড়ায় বাস-ট্রেন ছেড়ে মালবাহী ট্রাকে ঈদযাত্রা করছে জনগণ : জামায়াত আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল

ছবি : সংগৃহীত

বৈরী আবহাওয়ায় চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বিপর্যয়

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি : সংগৃহীত

রামিসা হত্যাকাণ্ডে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস আইনমন্ত্রীর

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও দুই শিশুর প্রাণহানি, ভর্তি ৬২

ময়মনসিংহে হামে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুর হারও বেড়েছে। সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত অবস্থায় চিকিৎসাধীন দুই শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামে চিকিৎসাধীন মোট ৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত দুই শিশুই পুত্র সন্তান।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ১৯ মে ময়মনসিংহ সদরের দাপুনিয়া থেকে ছয় মাস বয়সী এক শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার সন্ধ্যায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মৃত্যুবরণ করে।   অন্যদিকে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা থেকে দশ মাস বয়সী এক শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।   হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, দুই শিশুর হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টও ছিল।   হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নতুন করে আরও ১৬ শিশু ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে ২৯ শিশু বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬২ শিশু।   গত ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট এক হাজার ৬০৯ শিশু ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে এক হাজার ৫০৮ শিশু বাড়ি ফিরে গেছেন।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিরোধীদলের গঠনমূলক সমালোচনা আমরা স্বাগত জানাবো: স্পিকার

ছবি : সংগৃহীত

ঈদে সিএনজি স্টেশনগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে

র‌্যাব মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। ফাইল ছবি

ঈদে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো হুমকি নেই: র‌্যাব মহাপরিচালক

ছবি : সংগৃহীত
সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার যেকোনো ধরনের অনিয়ম, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখবে। আজ (মঙ্গলবার) সকালে ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের 'ন্যাশনাল অপারেশন মনিটরিং সেন্টার' পরিদর্শন শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় মন্ত্রী মনিটরিং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অতীত সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বৃত্তায়নের অবসান ঘটিয়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সেন্ট্রাল মনিটরিং সেল সবসময় কার্যকর থাকলেও পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঈদের সাতদিন আগে থেকে সাতদিন পর পর্যন্ত এটিকে বিশেষভাবে শক্তিশালী ও কার্যকর করা হয়েছে। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে দেশের সকল মহাসড়ক, পশুর হাট এবং যমুনা ও পদ্মা ব্রিজসহ সকল এক্সপ্রেসওয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। মহাসড়কের যে সমস্ত অংশে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই, সেখানে পুলিশ সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা দিয়ে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিগত সময়ের তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেক কম বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মূলত অসচেতনতা ও ব্যক্তিগত গাফিলতির কারণে কিছু  দুর্ঘটনা ঘটেছে। নাগরিকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, অনুমোদিত পশুর হাটের বাইরে যেন কোনো অবৈধ হাট বসতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর। সম্প্রতি মিরপুরে মেট্রোরেল লাইনের নিচে বসা একটি অবৈধ হাট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এছাড়া হাটে জাল নোটের ব্যবহার রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে ‘রাষ্ট্রের ভেতর রাষ্ট্র’ গড়ে তোলার যে অপচেষ্টা সন্ত্রাসীরা করেছিল, তা যৌথ অভিযানের মাধ্যমে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণে অস্ত্রসহ দাগী আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে পুলিশ একাডেমি, র‌্যাব একাডেমি, পুলিশ স্পোর্টস কমপ্লেক্স এবং কারাগারসহ একটি সমন্বিত ‘নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক হাব’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীদের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরন কঠোর হস্তে দমন করা হবে এবং খুব শিগগিরই  সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ জনগণের সামনে দৃশ্যমান হবে। উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের যমুনা সেতুর টোল প্লাজায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টোল আদায়ের কারণে এই লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়কে ডিজিটাল অটোমেশন (যেমন: গাড়িতে কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় টাকা কাটার পদ্ধতি) চালুর পরামর্শ দেওয়া হবে এবং ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ইনসেনটিভের ব্যবস্থা করার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে। সাভারে সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত তিন মাসে দেশের প্রতিটি জঘন্য অপরাধের  বিরুদ্ধে সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে। মাদক চক্র ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও একইভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৬, ২০২৬
ফাইল ছবি

হাম ও উপসর্গে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫৫৫

প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার পশুর হাটে চাঁদাবাজির অভিযোগ নেই : প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল আজহার জামাত

0 Comments