চলতি অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘাটতি আরও বেড়ে ৪৬ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন হবে সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে বর্তমান কাঠামোর চেয়ে ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বেতন-ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্যমান বেতন-ভাতার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বাড়বে। আর এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারকে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।
তবে বেতনের ধাপ শেষ পর্যন্ত ২০টিই থাকছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে বেতন কমিশনের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন এই সুপারিশ করেছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বুধবার এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী ও অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের সদস্যরা।
সরকার পে-কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পরিমাণ চূড়ান্ত করতে একটি কমিটি গঠন করবে। এরপর ওই প্রস্তাব নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত পে-স্কেল অনুমোদন করা হবে। তবে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ আগে বিষয়টির সুরাহা হচ্ছে না। অন্তর্বর্তী সরকার হয়তো পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে যেতে পারবে। কিন্তু সবকিছু চূড়ান্ত হবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের মেয়াদে। কার্যত সরকারি কর্মচারীদের বিশাল ব্যয় বৃদ্ধির চাপ পড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বেতন কমিশন ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এটি অত্যন্ত অযৌক্তিক এবং অস্বাভাবিক। বেতন বৃদ্ধির এ সুপারিশ অত্যন্ত বেশি। এর আগে কোনো কমিশন এই হারে বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করেনি। এই সুপারিশ আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্ট করবে। তিনি বলেন, এই পরিমাণ ব্যয়ের ভার বহন করার সক্ষমতা দেশের অর্থনীতির নেই। এর ফলে পরবর্তী সরকারের ওপর চাপ তৈরি হবে। বেসরকারি খাতেও চাপ বাড়বে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি এক দুষ্টচক্রের মধ্যে রয়েছে। কারণ রাজস্ব বাজেটের ৭০ শতাংশ চলে যায় বেতন-ভাতায়। ২৫ শতাংশ যায় ঋণের সুদ পরিশোধে। এ অবস্থায় বেতন কমিশনের এই সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে এর পরিমাণ আরও বাড়বে। এ কারণে সুপারিশ বাস্তবায়ন আরও বিলম্ব করা উচিত। তার মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের আকার আরও ছোট করতে হবে। কারণ দেশে এতগুলো মন্ত্রণালয় দরকার নেই। মন্ত্রণালয়গুলো দিয়ে শুধু ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। বেতন বাড়ানোর আগে অবশ্যই এই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
পে-কমিশনের সুপারিশ করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরিজীবীরা আগের মতো ২০টি স্কেলেই বেতন পাবেন। সর্বনিম্ন বেতন স্কেল (মূল বেতন) ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান বলেন, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে অতিরিক্ত এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দপ্তরগুলোয় ভাতাসমূহ পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মানবসম্পদ উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। ১০ম ধাপ থেকে ২০তম পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের যাতায়াতের ভাতাও বাড়ানো হবে। পেনশনভোগীদের পেনশনের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
প্রতিবেদন গ্রহণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ড. ইউনূস বলেন, ‘এটি একটি মস্ত বড় কাজ। সরকারি চাকরিজীবীরা বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।’ এ সময়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নই এখন পরবর্তী কাজ। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে।
কমিশনপ্রধান সাবেক সচিব জাকির আহমেদ খান বলেন, গত এক দশকে বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতির প্রায় সব সূচকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের মূল্য বহুগুণ বেড়েছে। কিন্তু সময়োপযোগী ও যথাযথ বেতন কাঠামো নির্ধারণ না হওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সুস্পষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণপূর্বক বিদ্যমান বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে কমিশন কাজ করে।
নির্ধারিত কার্যপরিধি অনুসরণ করে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রণয়নের উদ্দেশ্যে কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে ১৮৪টি সভা করে এবং ২,৫৫২ জনের মতামত ও প্রস্তাব গ্রহণ করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সমিতি ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করে ব্যাপক মতবিনিময় করা হয়। কমিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান নির্ধারণ এবং এর বাস্তবায়নযোগ্যতা পর্যালোচনা করা।
গত বছরের ২৭ জুলাই সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে অনলাইন জরিপের মাধ্যমে ২ লাখ ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারী মতামত দিয়েছেন। ২০১৩ সালে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের পর দীর্ঘ ১২ বছর পর এই কমিশন গঠিত হয়। কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ ছিল আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি। কমিশন তাদের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যয় করে তিন সপ্তাহ আগে প্রতিবেদন দিতে সক্ষম হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের সংগঠন) সভাপতি ও উপসচিব আব্দুল খালেক বলেন, ‘কমিশন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনো হাতে পাইনি। বৃহস্পতিবার (আজ) এই প্রতিবেদন পাব। এরপর পুরো প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানাব। তবে আমি অবশ্যই চাইব, কমিশন যে সুপারিশ করেছে, তা যেন চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বাস্তবায়ন হয়।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জিয়া উদ্যান-এ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগম দেখা গেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুরা ফাতিহা পাঠ এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জিয়া উদ্যান এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল ও স্লোগানের মাধ্যমে কর্মসূচিতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এছাড়াও দল ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, জনপ্রতিনিধি, উপদেষ্টা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
ন্যায্যমূল্য আর ক্রেতা সংকটে কোরবানির পশুর চামড়া কিনে বিপাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। লোকসানের মুখে পড়ে সড়কের পাশে শত শত চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের দৌরাত্মে ন্যায্য দাম না পেয়ে এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। তাই সম্ভাবনাময় এই শিল্পটিকে রক্ষায় দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুরাতন কাচারি সড়ক ঘুরে দেখা যায়, সড়কের পাশে থরে থরে করে রাখা হয়েছে কোরবানির বিভিন্ন পশুর চামড়া। নেই কোন ক্রেতা-বিক্রেতা। মূলত ন্যায্যমূল না পেয়ে এবং ক্রেতা সংকটে সড়কের পাশে এভাবেই শত শত চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন ব্যবসায়ীরা। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন বাড়ি থেকে ১শ থেকে ৫শ টাকা করে কিনে নেন নানা ধরণের পশুর কাঁচা চামড়া। যা বিক্রি হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পুরাতন কাচারী সড়কের অস্থায়ী চামড়ার হাটে। ঈদুল আজহার দিন দুপুরের পর থেকেই শহরের কাচারী মোড় ও টি. এ. রোডে চামড়া নিয়ে আসতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। তবে এবার কাঙ্খিত ক্রেতা ও ন্যায্যমূল্য না পেয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে এসব ব্যবসায়ীরা। সারারাত অপেক্ষা করেও ক্রেতা সংকটে চামড়া বিক্রি করা যায়নি। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা জানান, ৫০০ টাকায় কেনা চামড়ার দাম ২০০ টাকাও উঠেনি। ফলে এবার চামড়া কিনে বড় রকমের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। তাই বাধ্য হয়েই চামড়া সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে গেছেন। মূলত সরকারের নজরদারির অভাবে চামড়া ব্যবসা সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এদিকে, কাঁচা চামড়া সড়কের পাশে স্তূপ করে ফেলে রাখায় দুর্গন্ধ ছড়ানোয় ভোগান্তি বাড়ছে পথচারীদের। মৌসুমী ব্যবসায়ী আলম বলেন, গতকাল থেকে চামড়া নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু ক্রেতা পাচ্ছি না। যারা বড় বড় ব্যবসায়ী তারা চামড়া কিনতে আসেনি। আর যারা আসেন তারাও চামড়ার দাম দুইশো টাকার বেশি দিতে চান না। তাই ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে এসব চামড়া ফেলে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। রফিক নামের অপর বিক্রেতা বলেন, এ বছর ক্রেতাই পাচ্ছি না। মূলত সিন্ডকেটের দৌরাত্মে আমাদের কপাল পুড়ছে। মো. ইমাম হোসেন নামের এক নাগরিক বলেন, দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পটি আজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্মের কারণে ধ্বংস হওয়ার পথে। চামড়ার জুতার দাম বৃদ্ধি পায় অথচ চামড়ার দাম কমছে। সরকার এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এই চামড়া শিল্পটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ তিনি বলেন, চামড়া ফেলে চলে যাওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। মালিক না থাকায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে চামড়াগুলো আগ্রহী মাদ্রাসায় দিয়ে দিতে। চামড়া সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন মাদ্রাসা ও প্রতিষ্ঠানে সরকারিভাবে লবণ দেওয়া হয়েছে। তবে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কিছু দাবি ছিলো তা সরকারকে জানানো হয়েছে। সেগুলোর বাস্তবায়ন সময় সাপেক্ষ।
হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ রাত থেকেই শুরু হচ্ছে ফিরতি হজ ফ্লাইট। তিন জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপের মাধ্যমে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সৌদির স্থানীয় সময় রাত ১২টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়াল দেবে প্রথম ফিরতি ফ্লাইট। সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি ৫৮০৬ ফ্লাইটের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে হাজিদের দেশে ফেরার এই যাত্রা। প্রথম দিনে ১৩টি ফ্লাইটে দেশে ফিরবেন ৫৪৩৪ জন হাজি। শুক্রবার (২৯ মে) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১৭ এপ্রিল রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রী নিয়ে শেষ ফ্লাইটটি সৌদি আসে ২১ মে। এ বছর সৌদি সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই হজযাত্রীদের তাঁবু ভাড়া, পরিবহন চুক্তি, বাসা ভাড়া ও ভিসার কাজ শেষ করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া হজযাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা সুন্দর ও নির্বিঘ্ন করার জন্য এয়ারলাইন্সের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। ফলে কোনোরূপ শিডিউল বিপর্যয় ছাড়াই নিবন্ধিত শতভাগ হজযাত্রী সৌদিতে আসতে পেরেছে। উল্লেখ্য, আগামী ১ জুলাই শেষ হবে হজের ফিরতি ফ্লাইট।