অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও আধুনিক জীবনযাপনের পরিবর্তনের ফলে অনেকের মধ্যেই ওজন বৃদ্ধি, রক্তে সুগার বেড়ে যাওয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা বাড়ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে বহু চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এসব সমস্যার সহজ সমাধানে ভেজানো মেথি হতে পারে কার্যকর উপায় এমনটাই জানাচ্ছে বিভিন্ন গবেষণা।
মেথির দানায় থাকা দ্রবণীয় ফাইবার, অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিজিয়ে রাখলে আরও সক্রিয় হয় এবং শরীর সহজে শোষণ করতে পারে। নিয়মিত ভেজানো মেথি খাওয়া ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে, হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীরের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীরা যদি ৬০ দিন ধরে প্রতিদিন ১০ গ্রাম ভেজানো মেথি খান, তবে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য উপকার পাওয়া যায়। সকালে খালি পেটে ভেজানো মেথির দানা চিবিয়ে খেলে বাড়তি ফোলাভাব কমে এবং ব্লাড সুগার স্থিতিশীল থাকে।
মেথি খাওয়ার নিয়ম সহজ
১-২ চামচ মেথি রাতে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।
সকালে দানাগুলো চিবিয়ে খান এবং অবশিষ্ট পানি পান করুন।
তবে দুই চামচের বেশি খাওয়া উচিত নয়, বেশি ফাইবার পেটে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
হজম সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে মেথি বিশেষভাবে উপকারী। পানিতে ভিজে মেথি জেলি জাতীয় রূপ ধারণ করে, যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে, এসিডিটি কমায় এবং ব্লোটিং দূর করে। যাদের হজমে সমস্যা বা পেট খারাপের প্রবণতা রয়েছে, তাদের জন্য এটি কার্যকর এক প্রাকৃতিক সমাধান।
এ ছাড়া মেথির অন্যতম বড় উপকার হলো ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করা। মেথির গ্যালাক্টোম্যানান নামক ফাইবার কার্বোহাইড্রেট ধীরে হজম করায়, ফলে সুগার আকস্মিকভাবে বাড়ে না এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে, যা ওজন কমাতে সহায়ক।
মোটকথা, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে ভেজানো মেথি যুক্ত করলে রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ, হজম শক্তি বৃদ্ধি ও ওজন কমাতে উল্লেখযোগ্য উপকার পাওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ঈদ মানেই শহর ছাড়ার তাড়া। ব্যাগ গোছানো, শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা, তারপর দীর্ঘ যাত্রা শেষে গ্রামের বাড়ির উঠোনে পা রাখা। চারদিকে কদমফুলের গন্ধ, টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ, আত্মীয়স্বজনের ভিড়; সব মিলিয়ে অন্যরকম এক আনন্দ। তবে এই উৎসবের ভেতরেই শিশুদের জন্য লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু নীরব ঝুঁকি। বিশেষ করে বর্ষাকালে গ্রামের পরিবেশ, অনিয়মিত জীবনযাপন আর ভিড়ভাট্টার মধ্যে একটু অসাবধানতাই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই ঈদের আনন্দের পাশাপাশি সন্তানের নিরাপত্তার দিকেও বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। পানির আশপাশে এক মুহূর্তও নজরহীন নয় বর্ষাকালে গ্রামের প্রায় সবখানেই পানি জমে থাকে। কোথাও পুকুর, কোথাও ডোবা, আবার কোথাও বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নালা। শিশুদের কাছে এসব জায়গা খুব আকর্ষণীয়। খেলতে খেলতে কখন যে তারা পানির ধারে চলে যায়, অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না। তাই শিশুকে একা উঠোনে বা বাড়ির বাইরে খেলতে না দেওয়াই ভালো। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ‘দেখছি তো’ ভেবে নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, দুর্ঘটনা ঘটতে সময় লাগে মাত্র কয়েক সেকেন্ড। ঈদের আড্ডা, রান্নাবান্না বা অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততার মধ্যেও পরিবারের একজন সদস্যকে শিশুদের দিকে নজর রাখার দায়িত্বে রাখা যেতে পারে। ছোট এই সতর্কতাই বড় দুর্ঘটনা ঠেকাতে পারে। আত্মীয়বাড়ির ভিড়ে শিশুর রুটিন যেন হারিয়ে না যায় ঈদে এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যাওয়া যেন উৎসবেরই অংশ। খালা–ফুপু–দাদুবাড়ি; সবখানেই শিশুকে নিয়ে ঘোরাঘুরি চলে। কিন্তু এই অনিয়মিত যাতায়াত অনেক সময় শিশুদের ক্লান্ত করে ফেলে। অপরিচিত বা দূরের আত্মীয়দের কাছে দীর্ঘ সময় শিশুকে রেখে দিলে তার খাবার, ঘুম বা ওষুধের নিয়ম ভেঙে যেতে পারে। কেউ হয়তো আদর করে এমন খাবার দিচ্ছেন, যা শিশুর জন্য উপযোগী নয়। আবার অতিরিক্ত ভিড় বা শব্দে ছোট শিশুরা বিরক্ত বা অস্থিরও হয়ে উঠতে পারে। তাই উৎসবের আনন্দের মধ্যেও শিশুর দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। সময়মতো খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান ও বিশ্রাম নিশ্চিত করলে ঈদের ক্লান্তিও কম হবে। হাঁচি-কাশির ভিড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকিও মাথায় রাখুন ঈদের সময় স্বাভাবিকভাবেই অনেক মানুষের সঙ্গে মেলামেশা হয়। তবে বর্তমানে কিছু এলাকায় হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের খবর থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা দরকার। শিশুর টিকা সম্পূর্ণ হয়েছে কি না, তা আগে থেকেই নিশ্চিত করুন। কারও জ্বর, কাশি বা ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ থাকলে শিশুকে খুব কাছাকাছি না নেওয়াই ভালো। ভ্রমণের সময় শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরিষ্কার পানি ও হাত পরিষ্কারের ব্যবস্থা সঙ্গে রাখুন। কারণ, ঈদের আনন্দের মাঝেও অসুস্থতা খুব দ্রুত পুরো পরিকল্পনা এলোমেলো করে দিতে পারে। ঈদ মানেই বাঁধনহারা আনন্দ, এটাই সবার চাওয়া। আর সেই আনন্দটুকু অটুট রাখতে খুব বড় কিছু নয়, দরকার শুধু একটু সচেতনতা। শিশুরা যেন নিরাপদে খেলতে পারে, সুস্থ থাকে, আর ঈদের স্মৃতিগুলো যেন শুধু আনন্দেরই হয়; সেই চেষ্টাটুকুই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শরিকানা কোরবানির সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরিয়তের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এসব বিষয়ে সচেতন না হলে কোরবানি সহিহ হওয়া নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই শরিকানা কোরবানিতে নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা জরুরি। ১. অংশীদার বা শরিকের সংখ্যা শরিকানা কোরবানির ক্ষেত্রে প্রথমেই যে বিষয়টি গুরুত্ব পায়, তা হলো অংশীদারের সংখ্যা নির্ধারণ। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারেন। সাতজনের বেশি হলে কোরবানি সহিহ হবে না। হজরত জাবের (রা.) বলেন, ‘আমরা হোদাইবিয়ায় নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে গরু এবং উটে সাতজন করে শরিক হয়ে কোরবানি করেছিলাম।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩১৮) ২. একনিষ্ঠ নিয়ত ইবাদতের প্রাণ হলো ইখলাস বা একনিষ্ঠতা। কোরবানি বাহ্যিকভাবে পশু জবাইয়ের নাম হলেও এর মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর কাছে কোরবানির গোশ্ত ও রক্ত কিছুই পৌঁছে না, পৌঁছে কেবল তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭) বর্তমান সময়ে অনেকেই সামাজিক মর্যাদা, লোক-দেখানো মনোভাব, প্রতিযোগিতা বা পারিবারিক চাপের কারণে কোরবানি করে থাকেন। এসব মানসিকতা ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে দিতে পারে। ৩. হালাল অর্থ নিশ্চিত করা কোরবানি একটি পবিত্র ইবাদত। এর জন্য ব্যবহৃত অর্থও হতে হবে পবিত্র ও হালাল। শরিকানা কোরবানিতে যদি কারও উপার্জনে সুদ, ঘুস, প্রতারণা, আত্মসাৎ বা হারাম লেনদেনের প্রভাব থাকে, তাহলে সবার কোরবানি বিনষ্ট হয়ে যাবে। নবীজি (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া কিছুই কবুল করেন না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৫) এজন্য শরিক নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। ৪. শরিকদের সঠিক অংশ নির্ধারণ শরিকানা কোরবানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— শরিকদের অংশ সঠিকভাবে নির্ধারণ করা। কোরবানির পশুতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তির অংশ কমপক্ষে এক সপ্তমাংশ হতে হবে। এক সপ্তমাংশের কম অংশ নিয়ে শরিক হওয়া কিংবা একাধিক ব্যক্তি মিলে এক সপ্তমাংশের ভাগ নেওয়া শরিয়তসম্মত নয়। এভাবে অংশীদার হলে কারো কোরবানিই সহিহ হবে না। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭) ৫. অংশীদারদের কেউ মারা গেলে সাতজন মিলে কোনো পশু কেনার পর যদি অংশীদারদের মধ্যে একজন মারা যান, তাহলে তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশদের (উত্তরাধিকারীদের) অনুমতি সাপেক্ষে তাঁর পক্ষ থেকে কোরবানি করা বৈধ হবে। তবে ওয়ারিশরা অনুমতি না দিলে মৃত ব্যক্তির অংশে কোরবানি আদায় হবে না। সেক্ষেত্রে ওই পশুর অন্য শরিকদের কোরবানিও সহিহ হবে না। এমতাবস্থায় করণীয় হলো, এক ভাগের সমপরিমাণ টাকা মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদের দিয়ে দেওয়া। এক্ষেত্রে চাইলে মৃত ব্যক্তির স্থলে অন্য কাউকে শরিক নেওয়া যাবে। (মাজমাউল আনহুর: ৪/১৭৩, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত) ৬. পশু কেনার পর শরিক নেওয়া যৌথ উদ্যোগে কোরবানি করতে চাইলে পশু কেনার আগেই অংশীদার নির্ধারণ করে নেওয়া উত্তম। পরে নিতে চাইলে তার হুকুম হলো: কোনো সামর্থ্যবান ব্যক্তি (যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব) একা কোরবানি করার নিয়তে পশু কেনার পর কাউকে শরিক নিতে চাইলে তা বৈধ হবে। আর যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তিনি যদি কোরবানির উদ্দেশ্যে পশু কেনেন, তাহলে সেই পশু তাঁর পক্ষ থেকে আল্লাহর জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়। তাই পরে ওই পশুতে অন্য কাউকে শরিক করা তাঁর জন্য জায়েজ হবে না। (কাজিখান: ৩/৩৫০-৩৫১, বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২১০) ৭. গোশ্ত বণ্টনে সতর্কতা কোরবানির পর সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি হলো গোশ্ত বণ্টন। শরিকানা কোরবানিতে গোশ্ত ওজন করে সমানভাবে বণ্টন করা ওয়াজিব। অনুমান করে ভাগ করা জায়েজ নেই, কারণ ভাগে কমবেশি হলে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। গোশ্তের অংশ সুনির্দিষ্ট করার পর প্রত্যেক শরিক নিজের অংশ থেকে গরিব-মিসকিন, আত্মীয়স্বজন এবং নিজের পরিবারের জন্য বিতরণ করতে পারবেন। (আদ্দুররুল মুখতার: ৬/৩১৭, কাজিখান: ৩/৩৫১) ৮. কসাই বা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক অনেকেই ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত কোরবানির গোশ্ত, চামড়া বা পশুর কোনো অংশ দিয়ে কসাইয়ের পারিশ্রমিক পরিশোধ করে থাকেন। শরিয়তের দৃষ্টিতে এমনটি করা বৈধ নয়। কসাই বা শ্রমিকদের পারিশ্রমিক আলাদা অর্থ দিয়ে পরিশোধ করতে হবে। তবে পারিশ্রমিক দেওয়ার পর অতিরিক্ত উপহার হিসেবে গোশ্ত দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেটি যেন মজুরি হিসেবে না হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩১৭) ৯. আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা শরিকানা কোরবানিতে অনেক সময় বিরোধের মূল কারণ হয় আর্থিক লেনদেনের অস্পষ্টতা। ইসলাম লেনদেনে স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতাকে গুরুত্ব দিয়েছে। তাই শরিকানা কোরবানির ক্ষেত্রেও হিসাব-নিকাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। প্রয়োজনে লিখিতভাবে নোট রাখা যেতে পারে, যেন পরে মতবিরোধ সৃষ্টি না হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্যাগী নেতা হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও মনোনয়ন পাননি বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কোটায়ও জায়গা হয়নি এই নেতার। এমপি-মন্ত্রিত্ব না পাওয়া নিয়ে এবার যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন বিএনপির এ নেতা। তার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি বর্তমানে দলের নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এটাই তার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান। দল তাকে যেভাবে রাখে, যে কাজ দেয় সেটাই তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে করেন। দল থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি মূলত দলের সৃষ্টি। দল তাকে তৈরি করেছে। তাই দল যখন যেভাবে রাখে, তিনি সেভাবেই কাজ করেন; উইথ হার্ট অ্যান্ড সোল তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি কী পেলেন বা কী পেলেন না—এ নিয়ে তিনি খুব একটা ভাবেন না। দল যে কাজ দেয় সেটিই তিনি খুশি মনে করেন এবং দেশের ও জনগণের জন্য কাজ করতে পারলেই সন্তুষ্ট থাকেন। বেগম খালেদা জিয়া থাকাকালীন সময়ে নির্বাচন হলে অনেক ত্যাগী নেতা এমপি বা মন্ত্রী হতে পারতেন কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি এভাবে মনে করেন না। দল সবসময় একই দৃষ্টিকোণ থেকে সবকিছু দেখে এবং তথ্য-উপাত্ত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। যেখানে অন্য কেউ বেশি উপযুক্ত বা জয়ের সম্ভাবনা বেশি, দল তাকেই মনোনয়ন দেয়। তিনি এটাকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন এক জিনিস, ত্যাগ-তিতীক্ষা আরেক জিনিস। দল যাকে সঠিক মনে করে তাকেই বেছে নেয়, আর দলে যারা কাজ করেন তারা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই নেন। মন্ত্রিপরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তার নাম শোনা যাচ্ছে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, দল যাকে যোগ্য মনে করবে তাকেই দায়িত্ব দেবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, সমর্থন এবং সেবার সক্ষমতাই আসল মাপকাঠি। তিনি আরও জানান, দলই তাকে তৈরি করেছে এবং দল যেভাবে তাকে কাজে লাগাবে, তিনি সেভাবেই কাজ করবেন। এমপি হওয়া বা না হওয়াকে তিনি চূড়ান্ত বিষয় হিসেবে দেখেন না; তার কাছে রাজনীতি হলো জনগণের জন্য কাজ করার মাধ্যম।