সারাদেশ

সাভারে ছয়জনকে হত্যা: সিরিয়াল কিলার ‘সম্রাট’ গ্রেফতার

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২০, ২০২৬

নিজ পরিচয় গোপন করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে বিভিন্ন জায়গা থেকে ভবঘুরে নারীদের পরিত্যক্ত ভবনের নির্জন স্থানে নিয়ে আসতো সিরিয়াল কিলার সম্রাট। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান যুগান্তরকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আদালতে দেওয়া তার দেওয়া সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।


সাভারে ছয় জনকে নৃশংস কায়দায় হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সিরিয়াল কিলার সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তার বাবার নাম পান্না শেখ। তারা তিন ভাই চার বোন। বড় বোন শারমিন, দ্বিতীয় সবুজ শেখ, এরপর আরেক বোন ও আরেক ভাই, এবং আরও দুই বোন। তাদের নানা বাড়ি বরিশালে। সবুজের জন্মস্থান এবং বাবার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে।

শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে বিভিন্ন স্থান থেকে ভবঘুরে নারীদের সে নির্জন স্থানে নিয়ে আসতো। তারা অন্য কারো সঙ্গে কিংবা অন্য কেউ তাদের সঙ্গে অনৈতিক কাজ করলে সে তাদেরকে হত্যা করত। সর্বশেষ ঘটনার ৩-৪ দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সে কমিউনিটি সেন্টারে এনে রাখে। ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবক অনৈতিক সম্পর্ক করলে প্রথমে তাকে কমিউনিটি সেন্টারের দোতালায় নিয়ে মেরে ফেলে সম্রাট। এরপর ওই ভবঘুরে তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে। তারপরে লাশ পুড়িয়ে ফেল।

গত সোমবার আদালতের জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ৬ হত্যা মামলার আসামি সবুজ ওরফে সম্রাট। জবানবন্দি শেষে গত রাতেই তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক কামাল হোসেন।

সাভার মডেল থানার আশপাশে প্রায় সময় ঘুরে বেড়ানো সম্রাট নিজেকে ‘কিং সম্রাট’ এবং ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ বলে দাবি করছে পুলিশের কাছে। সাভার থানা পুলিশ জানায়, ভবঘুরে প্রকৃতির সম্রাট গত কয়েক বছর ধরে মূলত সাভার মডেল থানার সামনে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব রেজিস্ট্রি অফিসের আশপাশ, সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও পাকিজার মোড়ে ঘোরাফেরা এবং রাত্রি যাপন করত।

রোববার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে জোড়া খুনের পর গ্রেফতারকৃত সম্রাট নিজের যে নাম এবং ব্যাংক কলোনি এলাকায় বাড়ির যে ঠিকানা বলেছে, তার সত্যতা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি। ওই এলাকায় ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নাম মশিউর রহমান খান সম্রাট। সম্রাট নিজের পুরো নাম ওই কাউন্সিলরের সঙ্গে মিলিয়ে দাবি করছে।

পর্যায়ক্রমে ছয়জনকে খুনের যে কারণ সে দাবি করছে তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে পুলিশের। ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অজ্ঞাতনামা পাঁচজনসহ ছয় খুনের দায় স্বীকার করার পর সম্রাটকে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে পাঠানো হয়। তিনি জানান, খুনের কারণ হিসেবে সম্রাট একেকবার একেক রকম দাবি করেছে।

ঢাকা জেলার ডিবি (উত্তর) পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম জানান, এর আগে সম্রাট তার বাড়ির ঠিকানা ব্যাংক কলোনি ও বাবার নাম মৃত সালাম ও মৃত রেজেয়া হিসেবে জানিয়েছিল, যা যাচাই-বাছাই করে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আরমান আলী জানান, সম্রাট একজন বিকৃতরুচির মানুষ, সাইকো প্যাথ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের নেত্র বিজনেস সেন্টারের মালিক সুবল রায় জানান, তিন-চার বছর ধরে ভবঘুরে সেখানে আসা-যাওয়া করে নিয়মিত। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা চেয়ে তার দিন চলে। থানার সামনে চৌরাস্তা মোড়ের ডাব বিক্রেতা জুয়েল জানান, অনেক পুলিশ থেকেও সে নিয়মিত টাকা নিত। অনেক গণমাধ্যমকর্মীরাও তাকে চা-সিগারেট খাওয়াত। থানার মূল ফটকের বাইরে পোস্ট অফিসের পাশে মনিরের হোটেলে প্রায়ই খাওয়া-দাওয়া করত। তার হাতে প্রায়শই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল থাকত, তবে একটি বাটন ফোন সার্বক্ষণিক ব্যবহার হতো। অপরিষ্কার থাকত এবং সার্বক্ষণিক উচ্চবাচ্য করে গালিগালাজ করত।

সাত মাসে ছয় খুনের ঘটনা ঘটে: ৭ মাস আগে ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের সামনে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধা (৭৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। তার নাতি মামলা দায়ের করলে পরে আসমা বেগম নামের ওই বৃদ্ধার পরিচয় মিলেছে। এরপর ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের (৩০) লাশ উদ্ধার করা হয়। একই স্থানে ১১ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা এক মহিলার (৩০) লাশ পাওয়া যায়। এরপর ১৯ ডিসেম্বর আরও এক পুরুষের (৩৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাগুলো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে সিসিটিভি ও লাইট লাগানো হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি রোববার পুলিশ দুটি পোড়া লাশ উদ্ধার করে। সিসিটিভি ফুটেজে একটি লাশ সরাতে দেখা যায় সম্রাটকে। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, আদালতে দেওয়া সিরিয়াল হত্যাকাণ্ডের তথ্য ও পরিচয় নিয়ে পুলিশ যাচাই-বাছাই এবং তদন্তে নেমেছে। জানা গেছে, হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামের প্রভাবশালী খালেক শেখ তাদের আত্মীয়। গ্রামের সবাই তাকে ভয়ংকর হিসেবে চিনে। সাভার মডেল থানা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা মঙ্গলবার ভোররাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কারামুক্ত একাধিক হাজতি জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে সম্রাট কাশিমপুর-২ কারাগারে ৬০ নম্বর সেলের পূর্ব বিল্ডিংয়ের নিচতলায় বন্দি ছিল এবং কারাগারের ভেতরে বেপরোয়া ছিল, প্রায়ই চুরি করত।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
সম্পত্তির লোভে বোনকে খুন, ভাই-ভাবিসহ গ্রেফতার ৫

কানের স্বর্ণের দুল, সামান্য সম্পদের লোভ এবং মাদকের প্রতিবাদ করায় আপন ছোট ভাই ও ভাবির চক্রান্তে নওগাঁয় হত্যার শিকার হয়েছেন ৬৫ বছরের বৃদ্ধা হালিমা বেগম। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত হালিমার ছোট ভাই মজনু রহমান (৫৬) ও তার স্ত্রী হোসনে আরাসহ (৪২) মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।   বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।গ্রেফতারকৃত অন্য আসামিরা হলেন— রবিউল ইসলাম (৩৯), হামিদুর রহমান (৫৫) এবং মোশারফ হোসেন (৪৫)। একই সাথে তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রশি ও ওড়না জব্দ করা হয়েছে।   এসপি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গত ১৯ অক্টোবর সকালে ছিলিমপুর (তালবোনা) গ্রামের এক বাঁশঝাড়ের পাশে ধানী জমির আইলে হালিমা বেগমের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, বৃদ্ধার একটি কানের লতি কাটা ও অন্যটি ছেঁড়া অবস্থায় রয়েছে। ঘটনার পরপরই ধামইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হলে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে মজনু ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আলমপুর ও ছিলিমপুর এলাকা থেকে বাকি তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।   এসপি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায় নিঃসন্তান ও স্বামী পরিত্যক্তা হালিমা বেগম তার বাবার বাড়িতে ছোট ভাই মজনুর ঘরের পেছনে এক ছাপড়া ঘরে বসবাস করতেন। মানুষের বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। হালিমার জমানো টাকা ও গবাদিপশুর প্রতি মজনু ও তার স্ত্রীর লোভ ছিল। এর পাশাপাশি স্থানীয় মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় রবিউল এবং জমিজমা সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের কারণে হামিদুর ও মোশারফ হালিমার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এসব কারণে ঘটনার প্রায় ৫ দিন পূর্বে পাঁচজন মিলে হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।  এসপি আরও বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে আসামি হামিদুর কৌশলে হালিমাকে ঘর থেকে ডেকে বের করে। আসামিরা তাৎক্ষণিক তার মুখ চেপে ধরে ২০০ গজ দূরে খড়ের পালার পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত রশি দিয়ে বেঁধে পরিহিত ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর কানের সোনার দুল খুলে নেওয়ার জন্য হামিদুর নৃশংসভাবে বৃদ্ধার এক কানের লতি কেটে ও অপর কানের লতি ছিঁড়ে ফেলে। পরে লাশটি বাঁশঝাড়ের আড়ালে ফেলে রেখে আসামিরা কানের দুল দুটি ভাগ বাটোয়ারা করে পালিয়ে যায়। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২১, ২০২৬
ফাইল ছবি

সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য স্মরণীয় কাজ করতে চাই : ফকির মাহবুব আনাম

সংগৃহীত ছবি

পূজা সমর্থন বা অংশ নিলে ঈমান থাকবে না: বায়তুল মোকাররমের খতিব

ছবি: সংগৃহীত
নভেম্বর থেকে ঢাকায় নতুন নিয়ম, এক রুটে চলবে এক কোম্পানির বাস

রাজধানীর সড়কে একই পথে একাধিক কোম্পানির বাসের প্রতিযোগিতা, যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং নির্ধারিত স্টপেজ না মানার চিত্র দীর্ঘদিনের। এসব অনিয়মের কারণে যানজটের পাশাপাশি গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলাও বেড়েছে। পরিস্থিতি বদলাতে এবার ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ নীতিতে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ১ নভেম্বর থেকে রাজধানীর ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস পরিষেবা।   নতুন ব্যবস্থায় একই রুটে একাধিক কোম্পানির পরিবহনের পরিবর্তে একটি কোম্পানির অধীনে সমন্বিতভাবে বাস পরিচালনা করা হবে। প্রাথমিকভাবে পাঁচটি নন-এসি ও একটি এসি রুটে এই কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সাধারণ বাস রুট ছয়টি এবং সার্কুলার রুট তিনটি নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্কুলার রুটে বাস চালু হতে আরও দুই মাস সময় লাগবে। এসব রুটে নতুন বাস দিয়ে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগরীতে বাস রুট রেশনালাইজেশন বিষয়ক বৈঠকের নথি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে বাসের রুট, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বাসের সংখ্যা ও স্টপেজ নিয়ে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত হয় গত ১৮ অক্টোবর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে।   ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর থেকে সাধারণ ছয়টি রুটে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ ভিত্তিতে বাস চলাচল শুরু হবে। সার্কুলার বাস চালু হতে আরও দুই মাস সময় লাগবে। এসব রুটে নতুন বাস দিয়ে সেবা দেওয়া হবে।   কোন রুটে কোন কোম্পানি প্রথম পর্যায়ে প্রস্তাবিত ৩২টি প্রধান বাস রুটের মধ্যে ছয়টি এবং ২৫টি সার্কুলার রুটের মধ্যে পাঁচটি রুট চিহ্নিত করা হয়েছিল। প্রাথমিক তালিকায় ছয়টি সাধারণ বাস রুট ছিল– গাজীপুর চৌরাস্তা-ঢাকেশ্বরী মন্দির, গাবতলী-ডেমরা, দুয়ারীপাড়া-সদরঘাট, ঘাটারচর-ডেমরা, ঘাটারচর-কাঁচপুর এবং মিরপুর-১২-মাওয়া।   এ ছাড়া পাঁচটি প্রধান সার্কুলার বাস রুট ছিল– ফার্মগেট-পলাশী, মোহাম্মদপুর-পলাশী, কদম চত্বর-পঞ্চবটি, গুলশান-২-আমতলী এবং গুলশান-১-আমতলী। তবে সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সাধারণ রুট ছয়টি এবং সার্কুলার রুট তিনটি রাখা হয়েছে।   গাজীপুর চৌরাস্তা-ঢাকেশ্বরী মন্দির : শিববাড়ী থেকে টঙ্গী, বিমানবন্দর, মহাখালী, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নিউমার্কেট হয়ে বাস চলবে। এ রুটে ভিআইপি পরিবহন ও বিকাশ পরিবহনের বাস ‘ভি.আই.পি পরিবহন’ কোম্পানির আওতায় পরিচালিত হবে। বাসের সংখ্যা ২৫৩টি।   মিরপুর-কেরানীগঞ্জ : চিড়িয়াখানা, মিরপুর-১, কল্যাণপুর, কলাবাগান, শাহবাগ, জিরো পয়েন্ট ও বাবুবাজার হয়ে বাস চলবে। এ রুটে দিশারী পরিবহন, তানজিল পরিবহন ও মেট্রো লিংক ‘চিড়িয়াখানা সিটি বাস’ কোম্পানির আওতায় চলবে। বাসের সংখ্যা ১৩৩টি।   ঘাটারচর-ডেমরা : মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, মৎস্য ভবন, রাজমনি, মৌচাক, রামপুরা ও বনশ্রী হয়ে বাস চলবে। এ রুটে ‘রমজান আলী এন্টারপ্রাইজ’ কোম্পানির অধীনে ৭০টি বাস পরিচালিত হবে।   ঘাটারচর-কাঁচপুর : মোহাম্মদপুর, জিগাতলা, শাহবাগ, পল্টন, যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার, মাতুয়াইল ও সাইনবোর্ড হয়ে বাস চলবে। এ রুটে রজনীগন্ধ্যা পরিবহন, মালঞ্চ পরিবহন, সময় পরিবহন ও মিডলাইন পরিবহনের বাস ‘ফোর স্টার বাস লাইন’ কোম্পানির আওতায় চলবে। বাসের সংখ্যা ১৫০টি।   ঘাটারচর-ধউর : মোহাম্মদপুর, আসাদগেট, টেকনিক্যাল, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, কালশী, বিমানবন্দর ও আব্দুল্লাহপুর হয়ে বাস চলবে। এ রুটে পরিস্থান পরিবহন ও প্রজাপতি পরিবহনের বাস ‘পিএনপি সিটি সার্ভিস’ কোম্পানির আওতায় পরিচালিত হবে। বাসের সংখ্যা ১৯০টি।   টঙ্গী-ঢাকেশ্বরী : কলেজগেট, আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, এক্সপ্রেসওয়ে, ফার্মগেট, আসাদগেট, সায়েন্স ল্যাব ও আজিমপুর হয়ে বাস চলবে। এ রুটে ‘ঢাকা চাকা’ কোম্পানির অধীনে ২০টি বাস চলাচল করবে।   সার্কুলার তিন রুট সর্বশেষ পরিকল্পনায় তিনটি সার্কুলার বাস রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব রুটে নির্দিষ্ট পথে বাস চালিয়ে বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ফার্মগেট-পলাশী : পান্থপথ সিগন্যাল, সেন্ট্রাল রোড, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট ও আজিমপুর হয়ে বাস চলাচল করবে। এ রুটে ‘ঢাকা চাকা’ বাস কোম্পানি অনুমোদন পেয়েছে। বাসের সংখ্যা ২০টি।   মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড-পলাশী : আসাদগেট, ধানমন্ডি-২৭, কলাবাগান, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, পলাশী, নিউমার্কেট, জিগাতলা ও শংকর হয়ে বাস মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাবে। এ রুটেও ‘ঢাকা চাকা’ বাস কোম্পানি অনুমোদন পেয়েছে। বাসের সংখ্যা ২০টি।   কদম চত্বর-পঞ্চবটি : জমজম টাওয়ার, হাউজ বিল্ডিং, সুইচ গেট, কামারপাড়া, খালপাড়, মেট্রোরেল ডিপো, নর্থ স্টেশন ও সেন্ট্রাল স্টেশন হয়ে বাস পঞ্চবটিতে পৌঁছাবে। এ রুটে ‘উত্তরা চাকা’ বাস কোম্পানি অনুমোদন পেয়েছে। বাসের সংখ্যা ২০টি।   এ ব্যবস্থায় যানজট তেমন কমবে না, প্রয়োজন আরও যেসব উদ্যোগ নতুন ব্যবস্থায় শুধু বাস পরিচালনা নয়, স্টপেজ ও সড়কের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডিএমপি ও দুই সিটি করপোরেশনকে বাসস্টপেজ চিহ্নিত করা, টিকিট কাউন্টার স্থাপন, ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিটিসিএ।   তবে শুধু রুট নির্ধারণ বা কোম্পানি গঠন করলেই যানজট কমবে না। নির্ধারিত স্টপেজে বাস থামানো, পরিবহন কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয়, সড়কে আইন প্রয়োগ এবং যাত্রীদের জন্য সুশৃঙ্খল সেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১ নভেম্বর ছয়টি সাধারণ রুটে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে নতুন ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ শুরু হবে।   ডিটিসিএর বৈঠকে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম বলেন, মহানগরীতে বাস চলাচলে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১১ অক্টোবর থেকে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন যৌথভাবে অভিযান শুরু করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহায়তায় ১৭টি স্থানে অবৈধ ও বিশৃঙ্খলভাবে চলাচলকারী বাসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এতে ট্রাফিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে আইন অমান্যকারী বাসচালক ও পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এসব স্থানে সপ্তাহে সাত দিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা প্রয়োজন।   তিনি আরও বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এখনো সব বাসস্টপেজ নির্ধারণ ও নির্মাণ সম্পন্ন করেনি। তবে যেসব স্থানে বাসস্টপেজ রয়েছে, সেখানেও বাস না থামিয়ে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। স্টপেজ ছাড়া অন্য কোথাও বাস থামানো ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।   পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) তত্ত্বাবধানে ডিএমপি, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বয়ে নির্ধারিত রুটগুলোতে ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা কার্যক্রম সফল করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সব মালিক ও শ্রমিক সহযোগিতা করবেন।   তিনি বলেন, একটি রুটে শুধু একটি কোম্পানির বাস চলবে, অন্য কোনো কোম্পানির বাস চলবে না। এতে সড়কে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর বাস পরিচালনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।   যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। একই সড়কে বাসের মধ্যে যাত্রী ওঠানোর প্রতিযোগিতা এবং একে অপরকে পেছনে ফেলার প্রবণতা কমাতে রুটভিত্তিক বাস পরিচালনা জরুরি। একবারে সব রুটে এ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব না হলেও ধীরে ধীরে সব রুটকে এর আওতায় আনার চেষ্টা করতে হবে।   তিনি আরও বলেন, শুধু ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ ব্যবস্থা চালু করলেই যানজট কমবে না। এজন্য নির্ধারিত রুটে অন্য বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অন্যান্য যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে বাস চলাচলে সিগন্যালে অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো ব্যবস্থাও নিতে হবে। যানজট কমাতে এসব উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লাঠি-বৈঠা নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ২

গাইবান্ধায় মাদকবিরোধী ম্যারাথন অনুষ্ঠিত

সংগৃহীত ছবি

পাথরঘাটা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট কাটাতে এক মাসের সময় দিলেন চিফ হুইপ

ছবি: সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড সদস্য মোতায়েন

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপকূলীয় খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার দেড় শতাধিক মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সাড়ে তিন হাজার কোস্ট গার্ড সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান।     মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাগেরহাটের মোংলার কেন্দ্রীয় বটতলা মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।     মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের দেশে যে ধর্মীয় সম্প্রীতি স্থাপন করেছি, এটা অব্যাহত থাকবে। প্রতিমা বিসর্জনের দিন সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে। সেদিন সব জায়গায় কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল মোতায়েন থাকবে।’     তিনি বলেন, কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।     সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে নিরাপত্তা প্রদান, উপাসনালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষা এবং জনসাধারণের জানমাল রক্ষায়ও কাজ করছে এ বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কোস্ট গার্ডের আওতাধীন এলাকায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূজা শুরুর পর থেকেই সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।     মো. মঈনুল হাসান আরো বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।   প্রতিমা বিসর্জনের সময় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলায় বিসর্জনস্থলগুলোতে কোস্ট গার্ডের বিশেষ ডুবুরি দল উপস্থিত থাকবে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।     তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপ্তি হবে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২০, ২০২৬

ভাটারা এলাকায় অতিরিক্ত ডিআইজির বাসায় অভিযান, মাদকসহ আটক ৮৪ জন

সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রীর সফর সামনে রেখে চট্টগ্রামে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা

সংগৃহীত ছবি

ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, রিসোর্ট-কটেজে কম আগ্রহ

0 Comments