জাতীয়

ঢাকার যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল স্থানান্তর অনিশ্চিত

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনে চারটি প্রধান আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবায়নে এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান ছাড়া গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ টার্মিনাল আপাতত আগের স্থানেই থাকছে।

 

বর্তমানে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী ও ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান টার্মিনালকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর বাইরে শ্যামলী, কল্যাণপুর, আসাদগেট, রাজারবাগ, নটর ডেম কলেজ এলাকা ও দোলাইরপাড়সহ বিভিন্ন স্থানে বাস স্টপেজের নামে কার্যত অস্থায়ী টার্মিনাল গড়ে উঠেছে।

 

পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত স্টপেজ না থাকায় নগর পরিবহনের বাস যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামা করায় সড়কে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে মালিবাগ, রামপুরা ও কুড়িল রোড এলাকায় নির্দিষ্ট বাস স্টপেজের অভাব প্রকট।

 

গত জুন মাসে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত রাজধানীর বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী—

  • ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান → কেরানীগঞ্জ
  • গাবতলী → হেমায়েতপুর
  • মহাখালী → পূর্বাঞ্চলে অস্থায়ীভাবে, পরে টঙ্গীর কাছে স্থায়ীভাবে
  • সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী → কাঁচপুর

 

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত টার্মিনাল নয়, বাস ডিপো স্থানান্তরের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। পূর্বাচল, নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জে ডিপোর জন্য সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

সড়ক পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন স্থানে যাত্রী পরিবহন, খাবার, পানি, গাড়ি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলে টার্মিনাল স্থানান্তর কার্যকর হবে না। মহাখালী থেকে কিছু বাস পূর্বাচলে পাঠানো হলেও চালকদের অনাগ্রহের কারণ হিসেবে এসব সুবিধার ঘাটতির কথা উঠে এসেছে।

 

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত বহাল আছে, তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় দূরপাল্লার যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়বেন।

 

পরিবহন বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান মনে করেন, ঢাকার বর্তমান টার্মিনালগুলো যাত্রী ওঠানামার কেন্দ্রের চেয়ে বাস ডিপো হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন টার্মিনালগুলোও যেন একই সমস্যায় না পড়ে, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

 

এদিকে গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, বর্তমানে সংগঠন পরিচালনার জন্য সীমিত প্রশাসনিক ব্যয় ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে না।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু টার্মিনাল সরিয়ে নিলেই ঢাকার যানজট সমস্যার সমাধান হবে না; এর সঙ্গে সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা, নির্ধারিত বাস স্টপেজ, কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং টার্মিনাল ও ডিপোর পৃথক ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
নাম ডাকলেন স্পিকার, আসনে নেই এমপি—সংসদে হাসি

জাতীয় সংসদে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রশ্ন ছিল সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামের (গাজী নজরুল ইসলাম)। তবে প্রশ্ন উত্থাপনের সময় তিনি সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে নির্ধারিত প্রশ্নটি উত্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে গাজী নজরুল ইসলামের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের ক্রমিক নম্বর ছিল ৪০৮। প্রশ্নটি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছিল। লিখিত প্রশ্নে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে চান, বর্তমানে দেশে শ্রম আদালতের সংখ্যা কত, সেগুলো কোথায় কোথায় অবস্থিত এবং এসব আদালতে কতটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাও জানতে চান তিনি। নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তারকা চিহ্নিত প্রশ্নটি উত্থাপনের আহ্বান জানান। মাইক্রোফোনে গাজী নজরুল ইসলামের নাম ডাকার পর স্পিকার ফ্লোরের দিকে তাকিয়ে দেখতে পান, তিনি নিজ আসনে উপস্থিত নেই। এ সময় হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে স্পিকার বলে ওঠেন, ‘জি এম তো নাই।’ স্পিকারের তাৎক্ষণিক এই মন্তব্যে সংসদ কক্ষে হাসির সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সংসদ সদস্যদের অনেককেই এ সময় হেসে উঠতে দেখা যায়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পুলিশে রদবদল, একযোগে বদলি ৭ কর্মকর্তা

ছবি : সংগৃহীত

কলকাতা ভ্রমণে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত

মির্জা আব্বাসের প্রত্যাবর্তনে আবেগঘন সংসদ, র‍্যাব বিল ঘিরে বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত
র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন বিশেষায়িত বাহিনী, সংসদে এসআরবি বিল

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ নামে একটি বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলটি উত্থাপনের পর নতুন বাহিনীর কাঠামো, প্রয়োজনীয়তা, জবাবদিহি ও কার্যক্রম নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে আলোচনা হয়।   বিল উত্থাপনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে র‍্যাব বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সাইবার অপরাধ, মাদক ও জুয়ার মতো অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের অধীনে একটি আধুনিক ও দক্ষ বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রয়োজন থেকেই এসআরবি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।   নতুন বাহিনীতে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ব্যবস্থা রাখার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো সদস্য শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গঠিত কমিটিতে বেসরকারি প্রতিনিধি, মানবাধিকারকর্মী ও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।   তিনি আরও বলেন, অতীতে কোনো বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলেও পুরো প্রতিষ্ঠানকে বিলুপ্ত করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।   র‍্যাব বিলুপ্তিকে স্বাগত, নতুন বাহিনী নিয়ে সতর্ক বিরোধীদল: র‍্যাব বিলুপ্ত করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তবে নতুন করে একই ধরনের কোনো বাহিনী গঠনের আগে এর কাঠামো ও কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন তিনি। সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি র‍্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ও বিভিন্ন বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার মতে, নতুন বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে জনগণের মধ্যে যেন পুরোনো কোনো ভয় বা আশঙ্কা তৈরি না হয়, সে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু বাহিনীর নাম ও পরিচয় পরিবর্তন করে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা হলে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না। নতুন বাহিনীর ক্ষেত্রে কাঠামো, দায়িত্ব, ক্ষমতা ও জবাবদিহির ধারণায় মৌলিক পরিবর্তন থাকা প্রয়োজন। আইনটি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার সুযোগ দিতে বিলটি উত্থাপনের প্রক্রিয়া কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়ারও অনুরোধ জানান বিরোধীদলীয় নেতা।   সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে যাবে বিল: বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর বিলটি নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর এটি সংসদের সম্পত্তি হিসেবে থাকবে এবং পরবর্তী সময়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে। স্থায়ী কমিটিতে বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতামত গ্রহণের সুযোগ থাকবে। এ জন্য কমিটিকে কয়েক কার্যদিবস সময় দেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির আলোচনায় বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার মতামত বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে আলোচনার ভিত্তিতে বিলটিতে সংশোধনীও আনা যেতে পারে। ফলে র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের প্রস্তাবটি এখন সংসদীয় প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যাচ্ছে। নতুন বাহিনীর কাঠামো, ক্ষমতা, দায়িত্ব ও জবাবদিহির বিষয়গুলো স্থায়ী কমিটির পর্যালোচনার পর আরও স্পষ্ট হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নারীর ক্ষমতায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখছে ফ্যামিলি কার্ড : শামা ওবায়েদ

সংগৃহীত ছবি

নেপালের বন্যার্তদের জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তা বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত

মালিকানা ফেরার বিতর্কিত ধারা বাদ, সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন বিল উত্থাপন

ছবি: সংগৃহীত
তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরুর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে : ত্রাণমন্ত্রী

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, নকশা তৈরির কাজ শেষে কিছুদিনের মধ্যেই এর কাজ শুরু করা হবে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে গবাদিপশু আশ্রয়কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন।   মন্ত্রী বলেন, পাশ্ববর্তী দেশের পানি বৈষম্যের কারণে তিস্তা এখন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে শুধু ধুধু বালুচর। এটা নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুদূর লন্ডন থেকে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিএনপি যদি ম্যান্ডেট পায়, তাহলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।   মন্ত্রী আরও বলেন, যমুনার চরাঞ্চলে বন্যায় মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। তাদের জীবন ও প্রাণী নিয়ে তারা বিপাকে পড়ে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে চরাঞ্চলে গবাদিপশুর আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। যাতে গবাদিপশু ও মানুষ আশ্রয় নিতে পারে।   পরে বেলকুচির সোহাগপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালী ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রী। সমাবেশে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। যারা দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছিল, তাদের কারণে দেশে সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের ব্যর্থতার কারণেই বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে বিএনপি গঠিত হয়েছিল। বিএনপি সব সময় মানুষের ভালোবাসা নিয়ে রাজনীতি করে।   খালেদা জিয়া হিমালয়ের পর্বতের মতো অবিচল ছিলেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তার ওপর অনেক নির্যাতন, জুলুম ও অত্যাচার হয়েছে। এরপরও বিএনপির পতাকা টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত উত্তোলিত হয়েছে। গোটা দেশের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে। সর্বশেষ নির্বাচনে মানুষ বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হচ্ছে।   বিএনপির প্রতি মানুষের আস্থার কারণ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অন্য দলের নেতাদের মতো বিএনপির নেতারা পালিয়ে যাননি। তারা লড়াই-সংগ্রামে মানুষের পাশে থেকেছেন। বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে এবং বাস্তবায়ন করেছে।   ত্রাণমন্ত্রী বলেন, অন্য দলগুলো নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়, পরে তা ভুলে যায়। কিন্তু বিএনপি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে। তারেক রহমানের ৩১ দফায় থাকা ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা ও বৃক্ষরোপণ করছে এছাড়া বাকী প্রতিশ্রুতি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।   আলোচনা সভা শেষে বর্ণাঢ্য র‌্যালীর উদ্বোধন করেন ত্রাণমন্ত্রী। র‌্যালীটি আলহাজ সিদ্দিক উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে বেলকুচি সরকারি কলেজ পর্যন্ত বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালীতে হাজার হাজার নারী-পুরুষসহ দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে মন্ত্রী বেলকুচির তামাই এলাকায় তাঁতশিল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (ফাইল ছবি)

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি স্বপ্ন নয়, বাস্তবায়নের পরিকল্পনা : প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী সব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স গ্রহণের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

চোটের কারণে নয়, ধোনির ‘না খেলার’ পেছনে ছিল অন্য সিদ্ধান্ত

0 Comments