বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে একজন রণবীর কাপুর। ব্লকবাস্টার সিনেমা, বিপুল ভক্তসংখ্যা এবং শক্তিশালী পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে তাকে তার প্রজন্মের সবচেয়ে প্রতিভাশালী ও আকর্ষণীয় তারকাদের একজন হিসেবে দেখা হয়। রকস্টার, বারফি এবং সঞ্জু-র মতো ছবিতে তার অভিনয় তাকে ব্যাপক সম্মান এনে দিয়েছে। রণবীরের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ফলোয়ারও অত্যন্ত শক্তিশালী—তার ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনের যে কোনো আপডেট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এ কারণেই ছোট ছোট ঘটনাও বড় মনোযোগ পায়। এবার, এক অপ্রত্যাশিত কারণে আলোচনায় এলেন রণবীর।
সম্প্রতি নেটফ্লিক্সের ‘ডাইনিং উইথ কাপুরস’ শো-এর একটি ক্লিপে দেখা গেছে, পারিবারিক ডিনারে ফিশ কারি, মাটন এবং পায়ার মতো নন-ভেজ খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। টেবিলে বসে থাকতে দেখা যায় রণবীরকে। এরপর ভক্তরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন তার আগের মন্তব্য নিয়ে, নিতেশ তিওয়ারির আসন্ন ‘রামায়ণ’ ছবিতে ভগবান রামের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি নাকি নিরামিষভোজী হয়েছিলেন। যদিও ভিডিওতে তাকে সেই খাবার খেতে দেখা যায় না; কিন্তু দর্শকরা তার অতীত দাবি এবং নতুন ভিডিওর মধ্যে অসংগতি খুঁজে পেতে শুরু করেন।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা রণবীরের পিআর টিমকে সমালোচনা করেন। তারা নাকি এমন ধারণা ছড়িয়েছে যে, তিনি মাংস, অ্যালকোহল এবং ধূমপান ছেড়ে সাত্ত্বিক জীবনধারা গ্রহণ করেছেন। কেউ কেউ রণবীরের পুরোনো এক সাক্ষাৎকারও সামনে আনেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন, তিনি ‘বিগ বিফ গাই।‘
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ভক্ত জানান, তিনি কী খাবার খান, তা নিয়ে তারা বিচার করবেন না, তবে বিভ্রান্তিকর পিআর ন্যারেটিভ তাদের পছন্দ নয়।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে রণবীর কাপুর আরও বলেছিলেন, ‘আমার পরিবার পেশোয়ার থেকে এসেছে, তাই অনেক পেশোয়ারি খাবার আমাদের বাড়িতে এসেছে। আমি মাটন, পায়া আর বিফের ভক্ত। হ্যাঁ, আমি বড় বিফ ফ্যান।‘
অনলাইনে বিতর্ক চললেও আসন্ন সিনেমা ‘রামায়ণ’ নিয়ে উত্তেজনা কিন্তু অটুট। এই ছবিতে রাম চরিত্রে থাকছেন রণবীর, সীতায় সাই পাল্লবী এবং রাবণে ইয়াশ। প্রথম পর্বটি ২০২৬ সালের দীপাবলিতে মুক্তি পাওয়ার কথা, এবং সিনেমাটি ভারতীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে প্রত্যাশিত প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নব্বই দশকের প্রথম ভাগে উল্কার মতো বলিউডে এসেছিলেন, আবার উল্কার মতোই চলে যান। আজও তার কথা মনে করে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা। যার নাম উচ্চারিত হলেই অনেকটা হতাশা ও আক্ষেপ ভেসে উঠে বলিউড পাড়ার লোকজনের চোখে মুখে। যার কথা বলছি তিনি হলেন দিব্যা ওম প্রকাশ ভারতীয়। অর্থাৎ দিব্যা ভারতী। আজ তার ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল মাত্র ১৯ বছর বয়সে দুনিয়ার মায়া ছেড়ে চলে যান সেই সময়ের অন্যতম আলোচিত এই অভিনেত্রী। বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীরা সেইভাবে নাও চিনতে পারে তাকে। কারণ দিব্যা গত হয়েছে ৩৩ বছর আগে। দিব্যা সম্পর্কে জানতে হলে একটু পেছনের দিকে তাকাতে হবে। ১৯৯২ সালে ‘বিশ্বাত্মা’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন দিব্যা। এর আগে ১৯৯০ সালে ‘বাবলি রাজা’ ছবি দিয়ে রূপালী জগতে তার বিচরণ ঘটে। অর্থাৎ এই তেলেগু ছবির মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়। যদিও বিদ্যার জন্ম মুম্বাইয়ের জুহুতে। বলিউড নয়, সেই সময় একের পর এক হিট ছবি উপহার দেন তেলেগু ইন্ড্রাস্ট্রিতে। অভিনয় করেন ‘নিলা পেনি’, ‘না ইল্লে না সরগম’, ‘রাউডি আল্লাডু’, ‘এসেম্বলি রাউডি’ ও ‘ধর্মাক্ষেত্রম’ ছবিতে। তেলেগু দর্শকদের কাছে এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেন যে দিব্যার নামে তামিলনাড়ুতে মন্দির উদ্বোধন করা হয়। ১৯৯২ সালে বলিউডের ‘বিশ্বাত্মা’ ছবিতে বিদ্যার বিপরীতে ছিলেন সানি দেওল। সেই বছরের ২ জানুয়ারি মুক্তি পায় এ ছবিটি। ছবিটি আলোচনায় চলে আসে তার অভিনয় ও গানগুলো দিয়ে। বিশেষ করে ‘সাত সামুন্দর’ গানটি দর্শকদের হূদয়ে আজও জায়গা করে আছে। এমনকি এ গানটির সুর ও কথা নকল করে বাংলাদেশের একটি ছবিতে সালমান শাহ ও সোনিয়ার একটি গানে চিত্রায়িত হয়। গানটি ছিল ‘নীল সাগর পার হয়ে’। এরপর একের পর এক ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হতে থাকেন দিব্যা। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার লরেন্স ডি সুজার রোমান্টিক ছবি ‘দিল কিয়া কাসুর’র মধ্যে তার বিপরীতে থাকেন নায়ক পৃথবী। ১৯৯২ সালের মার্চে মুক্তি পাওয়া ডেভিড ধাওয়ানের ‘শোলে ওর শাবনাম’। এতে তার বিপরীতে ছিলেন গোবিন্দ। কিন্তু টার্নিং পয়েন্ট ছিল শাহরুখ খানের বিপরীতে ‘দিওয়ানা’ ছবিটি। সেই বছরের অন্যতম ব্যবসা সফল ছবি হয় এটি। শাহরুখ খানও পুরস্কার আদায় করে নেন সেরা অভিষেক নায়ক হিসেবে। এ ছবিটির যে গানটি এখনও সবাইকে আন্দোলিত করে সেটি হল ‘অ্যায়সে দিওয়ানে হি....।’ এর পরপরই একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার শুরু হয় দিব্যার। ১৯৯২ এবং ১৯৯৩ এর প্রথমার্ধে তিনি ১৪টি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন যা আজ পর্যন্ত বলিউডে অভিষেক হিসেবে তার রেকর্ড হয়ে আছে। জীবদ্দশায় দিব্যার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি হল- ‘খাতরিয়া’। এছাড়া মৃত্যুর পর আরও ৩টি ছবি মুক্তি পায় তার। এর মধ্যে একটি ছবিতে তার চরিত্রকে দৃশ্যায়ন করেন অভিনেত্রী রাম্বা। এই ৩টি ছবি অন্য অভিনেত্রীকে দিয়ে ডাবিং করানো হয়। এছাড়া তার হাতে ছিল আরও বেশ কয়েকটি ছবি। যেমন লাডলা (মৃত্যুর পর শ্রীদেবীকে নেয়া হয় অনিল কাপুরের বিপরীতে), মোহরা (মৃত্যুর পর রাভিনাকে নেয়া হয় অক্ষয় কুমারের বিপরীতে), আন্দোলন (তার মৃত্যুর পর রাভিনাকে নেয়া হয় সঞ্জয় দত্তের বিপরীতে)। ১৯৯৩ সালের ৫ এপ্রিল রাত ১১.৪৫ মিনিটে মুম্বাইয়ের তুলসি অ্যাপার্টমেন্টের ৫ তলার ব্যালকোনি থেকে পড়ে যান দিব্যা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। ২ দিন পর অনুষ্ঠিত হয় তার শেষকৃত্য। বলিউডের বড় বড় তারকারা যোগ দেন তার শেষকৃত্যে। অমরেশ পুরি, হেমা মালিনী, ববিতা, কারিশমা কাপুর, সাইফ আলী খান, সঙ্গিতা বিজলানী, শ্রীদেবী, মনিষা কৈরালা ও আশা পারেখের মতো প্রখ্যাত তারকাদের দেখা যায় সেখানে। কিন্তু দিব্যার মৃত্যু নিয়ে থেকে যায় নানা কৌতূহল ও প্রশ্ন। কেউ কেউ বলেছেন এটি দুর্ঘটনা না, হয়তো হত্যা। এমনকি তার স্বামী সাজিদ নাদিওয়ালার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠে। কেউ কেউ আবার আঙ্গুল তোলেন মাফিয়া ডনদের দিকে। বাদ যাননি সমসাময়িক মাধুরী দিক্ষিত, জুহি চাওলা ও মনিষা কৈরালার মতো নায়িকারা। সমালোচকরা বলতেন, দিব্যার মৃত্যুতে এ তিন নায়িকার স্থান পুনরায় পাকা হয়। বিষয়টি সত্য মিথ্যা যাই হোক না কেন, সে সময় যথেষ্ঠ বেগবান হয় এ গুঞ্জনটি। ১৯৯৮ সালে মুম্বাই পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে বলা হয়, দিব্যার মৃত্যুটি ছিল দুর্ঘটনাজনিত। আমাদের দেশে প্রয়াত অভিনেতা সালমান শাহর মৃত্যু যে রকম রহস্যে ঘণীভূত, দিব্যার মৃত্যুটিও আজও সেই রকম। দিব্যা ভারতী অভিনীত ছবির গানগুলো আজও জনপ্রিয়। ৯০ দশকের যে গানগুলো মানুষ এখনও খোঁজে বা দেখে সেগুলোর মধ্যে দিব্যা ভারতী অভিনীত চলচ্চিত্রের গানগুলো অন্যতম।
উদয়পুরে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন অভিনেতা বিজয় দেবরকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে ইতিমধ্যেই তেলেগু নিয়মে বিয়ে সেরেছেন তারা। তাদের বিয়েতে আদ্যোপান্ত রয়েছে খাঁটি দক্ষিণী ছোঁয়া। মেনু থেকে সাজপোশাক সবেতেই নিজেদের শেকড় আঁকড়ে অনুষ্ঠানে মেতেছিল দুই পরিবার। খুবই আদুরে এবং আবেগঘন একটি পোস্ট করেন রাশমিকা যেখানে তিনি সরাসরি তার স্বামী হিসেবে বিজয় দেবরকোন্ডার সঙ্গে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন। জানা গেছে বিয়ের অনুষ্ঠানের পর রাশমিকা এবং বিজয়ের বন্ধুরা গণমাধ্যমকর্মী পাপারাজ্জি এবং আইটিসি মেমেন্টোসের বাইরে জড়ো হওয়া সবাইকে মিষ্টি বিতরণ করেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে উপস্থিত কয়েকজন শিশুর হাতেও মিষ্টি তুলে দেন তারা। এদিকে বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই রাশমিকা মান্দানাকে দেখা গেল বিমানবন্দরে। স্বাচ্ছন্দ্য ও স্টাইলের নিখুঁত ভারসাম্য রেখে অনায়াসেই আকর্ষণীয় সাজে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন তিনি। তিনি উজ্জ্বল মেরুন রঙের জুতো বেছে নিয়েছিলেন যা নীল ডেনিমের সঙ্গে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছিল এবং তাক লাগিয়ে দিয়েছিল পাপারাজ্জিদেরও। কাজের দিক থেকে এই জুটিকে পরবর্তীতে পিরিয়ড অ্যাকশন ড্রামা ‘রানাবালি’ সিনেমায় একসঙ্গে দেখা যাবে। এটি পরিচালনা করেছেন রাহুল সাংকৃত্যায়ন যেখানে আরও অভিনয় করেছেন আর্নল্ড ভোসলু যিনি ১৯৯৯ সালের ‘দ্য মামি’ সিনেমায় তার ভূমিকার জন্য পরিচিত।
এবার আইনি বিপাকে পড়লেন বলিউড অভিনেত্রী রিচা চাড্ডা। সম্প্রতি ভারতে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে অপমান এবং তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক মহিলার যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলার পর থেকে। বিমানে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছিলেন ওই মহিলা। এক মুহূর্তে তার সেই পোস্ট ভাইরাল হয়ে যায়। যে পোস্ট নজরে পড়ে রিচার। সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে নেন ওই পোস্ট। পরে বিষয়টি নিয়ে বিতর্কে জড়ান রিচা। নেটিজেনরা সমালোচনা করে বলতে থাকেন, একজন অভিনেত্রী শুধুমাত্র কোনও অভিযোগকে এভাবে পোস্ট করতে পারেন? যা এখনও প্রমাণিতও নয়। অনেকেই বলেন এমন পোস্ট কি আদৌ করা যায়? এই ঘটনায় অনেকেই রিচার বিরুদ্ধে সরব হয়। পরবর্তীতে রিচার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিটি। এ বার আদালতের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন পোস্ট করা ঠিক নয়। ওই ব্যক্তির দাবি, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা। বিমানে উঠে তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তবে শুধু রিচার বিরুদ্ধে নয়, অভিযোগকারিণী মহিলার বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করেছেন তিনি।