অন্যান্য

বিএনপি–জামায়াতকে ঘিরে জোটের নতুন বলয় : কারা কার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে?

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৫, ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক মাঠে জোট পুনর্গঠন ও মেরুকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন জোটের সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। এনসিপি, এবি পার্টিসহ সাতটি দল নতুন জোটের আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে। সব মিলিয়ে তফসিলের আগেই অন্তত তিন ধরনের জোটের আকার ফুটে উঠছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর জোট, জামায়াতের সমন্বয়ে ইসলামি ধ্যানধারার জোট এবং বাম ঘরানার আলাদা উদ্যোগ।

 

ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পৃথক পৃথক নির্বাচনি জোট গঠনের তৎপরতাও তত বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে।

সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় ছিল, বিএনপি হয়তো জামায়াতকে আসন ছাড় দিতে পারে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে জামায়াতই বিএনপির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। তবুও বৃহত্তর জোট গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের পাশাপাশি অন্যান্য বাম-ডান, মধ্যমপন্থি ও ইসলামপন্থি অনেক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। অন্যদিকে জামায়াতও সাতটি ইসলামি দলকে নিয়ে নির্বাচনি সমঝোতার পথে এগোচ্ছে। পাশাপাশি বামঘরানার কয়েকটি দলের সমন্বয়ে নতুন একটি জোট গঠনের কথাও শোনা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জোটই হতে পারে ফল নির্ধারণের প্রধান উপাদান। ছোট দলগুলোর কিছু ভোটই অনেক আসনে জয়–পরাজয়ের হিসাব পাল্টে দিতে পারে। তাই কারা কার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে, কত আসনে ছাড় পাওয়া যাবে এসব প্রশ্ন এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে একটি বৃহৎ জোট গঠনের চেষ্টা চলছে। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলো ছাড়াও সরকারবিরোধী অন্যান্য দলকে অন্তর্ভুক্ত করতে আলোচনা চলছে। তরুণদের দল এনসিপির সঙ্গেও আসন সমঝোতা নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। তবে বিষয়টি কতদূর অগ্রসর হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। এনসিপির অংশ কিছু নেতা জোটে আসার প্রতি আগ্রহ দেখালেও দলগতভাবে তারা সংস্কারভিত্তিক অ্যালায়েন্সের কথাই বলছে।

অন্যদিকে জামায়াতের সঙ্গে প্রথমে এনসিপির নানান কর্মসূচিতে মিল দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত এনসিপি তাদের সঙ্গে জোটে যাচ্ছে না। বরং জামায়াত এখন ইসলামি সাতটি দলকে নিয়ে একটি আটদলীয় সমন্বয় গড়ে তুলেছে। তারা ‘এক আসনে এক প্রার্থী’ নীতির ওপর ভিত্তি করে জরিপ চালিয়ে প্রার্থী মনোনয়নের পরিকল্পনা করছে।

জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা আনুষ্ঠানিক জোট গঠন করবে না; বরং নির্বাচনি সমঝোতার মধ্য দিয়েই এগোবে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে বিভিন্ন ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক দল। বর্তমানের আটদলীয় সমন্বয় ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।

এদিকে এবি পার্টি, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, আপ বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দলকে নিয়ে নতুন একটি জোট ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। সবদল সম্মত হলে তফসিল ঘোষণার আগেই এই জোট আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

বিএনপিও তাদের বৃহৎ জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় বিভিন্ন ইসলামপন্থি দল, বাম শক্তি, উদার গণতান্ত্রিক দল, পেশাজীবী সংগঠন এবং আলেম সমাজের প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এজন্য দলটির নেতারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

বাম ঘরানার দলগুলোর মধ্যেও জোট পুনর্গঠনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ছয়টি বাম দল বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিস্তৃতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি নতুন করে বাম শক্তির আরেকটি জোট গঠনেরও উদ্যোগ রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও।

 

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার জোটের প্রকৃতি কিছুটা ভিন্ন হবে, কারণ সব দলকেই নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। ফলে বড় দলগুলোকে শরিকদের আসন ছাড় এবং জোট গঠনের ব্যাপারে আরও সতর্ক ও সময়সাপেক্ষ সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মায়ানমারে পাচারের পথে বিপুল সিমেন্ট জব্দ, আটক ৯

মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ সেন্টমার্টিনে ৯ পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। বুধবার (০৩ জুন) বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনের উত্তর-পূর্ব সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় আজ রাত ২টায় সমুদ্রে টহলরত কোস্ট গার্ড জাহাজ মনসুর আলী কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক ১ টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ৬৫০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত বোটসহ ৯ জন পাচারকারিকে আটক করা হয়। জব্দকৃত সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

মারিয়া রহমান জুন ০৪, ২০২৬
দীপেন দেওয়ান।

পদত্যাগের তিন দিন পর মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের ফেসবুক পোস্ট, যা লিখলেন

এনসিপির পার্বতীপুর উপজেলা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত

ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য নবীজির দেখানো ১০ উপায়

সাফল্যের অন্যতম প্রধান সোপান হলো ক্রমাগত শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন। জ্ঞানহীন মানুষ অন্ধের মতো, যে গন্তব্যে পৌঁছানোর সঠিক পথ খুঁজে পায় না। মহানবী (সা.)-এর কাছে আসা প্রথম ওহি ছিল—‘পড়ো’। তিনি শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই নয়, বরং জাগতিক জ্ঞান, ভাষা এবং কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপরও সমান গুরুত্ব দিয়েছিলেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে তাঁর বলা ১০টি উপায় তুলে ধরা হলো: ১. জ্ঞানার্জন বাধ্যতামূলক মনে করা সাফল্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক দায়িত্ব। রাসুল (সা.) বলেছেন, “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ (অবশ্যপালনীয়)।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৪) ২. আজীবন শিক্ষার মানসিকতা শেখার কোনো বয়স বা সীমা নেই। নবীজি (সা.) দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অন্বেষণের প্রেরণা দিয়েছেন এবং উপকারী জ্ঞানের জন্য সব সময় দোয়া করতেন। রাসুল (সা.) বলতেন, “হে আল্লাহ! আমাকে এমন জ্ঞান দিন, যা আমার উপকারে আসবে এবং আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৫১) ৩. ভাষার দক্ষতা অর্জন সাফল্যের একটি বড় মাধ্যম হলো যোগাযোগ। নবীজি (সা.) তাঁর সাহাবিদের ভিনদেশি ভাষা শেখার জন্য উৎসাহিত করতেন, যাতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ হয়। হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) বলেন, “নবীজি আমাকে ইহুদিদের ভাষা (হিব্রু ও সিরিয়াক) শেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফলে আমি মাত্র ১৫ দিনে তা শিখে ফেলি।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৭১৫) ৪. অন্যের মেধার সম্মান করা একজন সফল নেতা বা মানুষের গুণ হলো অন্যের মেধার মূল্যায়ন করা। নবীজি (সা.) বদর যুদ্ধের শিক্ষিত যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিপণের বিনিময়ে মদিনার শিশুদের অক্ষরজ্ঞান শেখানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। (আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/৫৪৭, দারুল মা’রিফাহ, বৈরুত, ২০০৪) ৫. হাতে-কলমে শিক্ষা তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে ব্যবহারিক বা হাতে-কলমে শেখা কাজের গুণগত মান বাড়ায়। নবীজি (সা.) সাহাবিদের বিভিন্ন কারিগরি ও সমরবিদ্যা হাতে-কলমে শিখিয়েছেন। বলেছেন, “তোমরা তির নিক্ষেপ করা শেখো এবং অশ্বারোহণ শেখো।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫১৩) ৬. অজানাকে জানার কৌতূহল অহংকারবশত প্রশ্ন না করা বা শেখার সুযোগ হারানো সাফল্যের অন্তরায়। নবীজি (সা.) সাহাবিদের প্রশ্ন করার সুযোগ দিতেন এবং নিজেও প্রশ্ন করে তাঁদের মেধা যাচাই করতেন। তিনি একবার জিজ্ঞেস করলেন, “বলো তো, এমন একটি গাছ আছে, যার পাতা ঝরে না এবং যা মুসলিমের উদাহরণ?” সাহাবিরা উত্তর দিতে পারলেন না, তখন তিনি নিজেই শিখিয়ে দিলেন—“সেটি হলো খেজুরগাছ।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১)   ৭. সৃজনশীল সমাধান ও বুদ্ধিবৃত্তি প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন কোনো আইডিয়া গ্রহণ করা নবীজি (সা.)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। খন্দকের যুদ্ধে সালমান ফারসি (রা.)-এর পরামর্শে পরিখা খননের সিদ্ধান্ত ছিল এক অনন্য সৃজনশীল রণকৌশল। (আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি, ফাসলুল খিতাব ফি সিরাতি আমিরিল মুমিনিন উমার ইবনিল খাত্তাব, ১/২৪৫-২৪৬, দার ইবনে কাসির, বৈরুত, ২০০২) ৮. নোট নেওয়া বা লিখে রাখা স্মৃতিশক্তির ওপর শুধু নির্ভর না করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লিখে রাখা সফলতার একটি বড় কৌশল। নবীজি (সা.) সাহাবিদের জ্ঞান লিখে রাখার অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি এক আনসারী সাহাবির উদ্দেশে বলেছিলেন, “তুমি তোমার ডান হাতের সাহায্য নাও (অর্থাৎ লিখে রাখো)।” (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৬৬৬) ৯. বিনয় ও শিক্ষক-ছাত্রের মর্যাদা জ্ঞান অর্জন করতে হলে বিনয়ী হতে হয়। নবীজি (সা.) নিজেকে একজন শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং ছাত্রদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু। তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৯) ১০. অর্জিত জ্ঞানের প্রচার ও প্রয়োগ সাফল্য তখনই সার্থক হয় যখন অর্জিত জ্ঞান নিজের জীবনে প্রয়োগ করা হয় এবং অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। রাসুল (সা.) বিদায় হজের ভাষণে বলেছিলেন, “উপস্থিতরা যেন অনুপস্থিতদের কাছে আমার কথাগুলো পৌঁছে দেয়।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৭) রাসুলের জ্ঞানভিত্তিক এই দর্শন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং জীবনমুখী শিক্ষা এবং সৃজনশীলতাই প্রকৃত অগ্রগতির চাবিকাঠি। যে জাতি জ্ঞানে সমৃদ্ধ, তারাই পৃথিবীতে নেতৃত্ব দেয়।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৩, ২০২৬
ফাইল ছবি

সরকারের পররাষ্ট্রনীতিকে ‘নিন্দনীয় ও দুর্বল’ আখ্যা দিল জামায়াত

ছবি: সংগৃহীত

স্বপ্নাকে বার বার বললাম, বইন দরজাটা খুল, কিন্তু খুলে নাই : আদালতে রামিসার মা

ছবি: সংগৃহীত

মেয়ের হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে রামিসার বাবা

ছবি: সংগৃহীত
এনসিপি নেত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক নওশাবা মুকতার সিয়ামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।   সোমবার (১ জুন) দলীয় ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগে তাকে এ নোটিশ দেয় জেলা শাখার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা কমিটি।   দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির নেত্রী পরিচয়ে নওশাবা মুকতার সিয়ামকে ঘিরে একাধিক বিতর্কিত সংবাদ প্রকাশিত হয়।   এসব সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে এবং দলের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করছে দলটি।   এ বিষয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক মুহাম্মদ হোছাইন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বলা হয়, দলের একজন দায়িত্বশীল পদধারী হিসেবে তার কর্মকাণ্ড দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রত্যাশিত। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান।   নওশাবা মুকতার সিয়ামকে নোটিশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি বা অন্য কোনও দলের সঙ্গে কখনও আলোচনা করিনি: তাসনিম জারা

ছবি: সংগৃহীত

লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা হচ্ছে দুই বড় দলের ইনসিকিউরিটি: মাহফুজ আলম

ছবি : সংগৃহীত

তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের শোক

0 Comments