নকআউট ফুটবলের চরম বাস্তবতা হলো এখানে কোনো আগামীকাল নেই। অতীতের অর্জন, গ্রুপ পর্বের পরিসংখ্যান, দর্শকদের ভবিষ্যদ্বাণী সবকিছু ৯০ মিনিটের ভেতরে এসে দাঁড়ায়।
একটি বাঁশি, একটি গোল, একটি ভুল, একটি মুহূর্তে ইতিহাস নতুন করে লেখা হয়। মঙ্গলবার ডালাসের আলোয় আইভরিকোস্ট ও নরওয়ে মুখোমুখি দাঁড়াবে। তখন শুধু বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচ হবে না, হবে দুই মহাদেশের দুই ভিন্ন আত্মার যুদ্ধ। একদিকে আফ্রিকার আবেগ, গতি, স্বপ্ন; অন্যদিকে উত্তর ইউরোপের অপেক্ষা, ধৈর্য আর নতুন করে উঠে আসার শপথ।
আইভরিকোস্ট এখানে এসেছে এমন এক ইতিহাস নিয়ে, যেখানে বহুবার তারা বড় আসরে এসে থেমে গেছে দরজার সামনে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ বিশ্বকাপ ছিল, প্রতিভা ছিল, বড় নাম ছিল, কিন্তু নকআউট ছিল না। দিদিয়ের দ্রগবার প্রজন্ম যে দরজা খুলতে পারেনি, সেই দরজায় এবার কড়া নাড়ছে নতুন প্রজন্ম।
বিশ্বকাপের চলতি আসরের শুরু থেকেই আইভরিকোস্ট নিজেদের নতুন করে জানান দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১–০ গোলের জয়। এরপর জার্মানির কাছে ২–১ গোলে হার। আর শেষ ম্যাচে কুরাসাওকে ২–০ গোলে হারিয়ে তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত করে। এই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণ কোনো এক ফুটবলারের কাঁধে দাঁড়িয়ে নেই। নিকোলাস পেপে কুরাসাওর বিপক্ষে জোড়া গোল করে ছন্দে ফিরেছেন। আমাদ দিয়ালো গতি আনেন। ইয়ান দিয়োমান্দে সাহস নিয়ে খেলেন। আঞ্জ–ইওয়ান বনি জায়গা তৈরি করেন। তাদের ফুটবলে ব্যক্তির চেয়ে দলগত শক্তি বড়।
আইভরিকোস্টের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন হলান্ড। যিনি পুরো ম্যাচের মানচিত্র বদলে দিতে পারেন। এখন পর্যন্ত চার গোল করেছেন, মাত্র দুই ম্যাচে। এমনভাবে গোল করছেন যেন সময়ের সঙ্গে তার আলাদা কোনো চুক্তি আছে। ইরাক ও সেনেগালের বিপক্ষে যেখানে সুযোগ পেয়েছেন, সেখানেই আঘাত করেছেন। গ্রুপের শেষ ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তাই ডালাসে তিনি ফিরছেন নতুন শক্তি নিয়ে।
নরওয়ে ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে ছিল না। প্রায় তিন দশক ধরে নরওয়ের ফুটবল বড় টুর্নামেন্টের বাইরে থেকেছে। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। তারা এসেছে নতুন মুখ, নতুন আত্মবিশ্বাস আর পুরোনো ক্ষুধা নিয়ে।
গ্রুপ পর্বে তাদের যাত্রা ছিল ভয়ংকর। প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪–১ গোলে হারানো। দ্বিতীয় ম্যাচে সেনেগালের বিপক্ষে ৩–২ গোলের নাটকীয় জয়। দুই ম্যাচেই নকআউট নিশ্চিত হওয়ায় ফ্রান্সের বিপক্ষে মূল একাদশের অনেককে বিশ্রাম দেওয়া হয়। ফল ৪–১ গোলের হার। কিন্তু সেই হারও যেন বড় পথের প্রস্তুতি।
নরওয়ে গোল করেছে আটটি। আবার গোল খেয়েছে সাতটি। আক্রমণ যতটা ভয়ংকর, রক্ষণ ততটাই প্রশ্নবিদ্ধ। আর এই জায়গাটাই আইভরিকোস্টের আশা।
আইভরিকোস্টের রক্ষণ এই বিশ্বকাপে অনেক বেশি পরিণত। তিন ম্যাচে মাত্র দুই গোল হজম করেছে তারা। জার্মানির মতো দলও তাদের সহজে ভাঙতে পারেনি। আর সেই দেয়ালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম ওসমান দিয়োমান্দে। এই ম্যাচে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব হলান্ডকে থামানো।
দুই দল এর আগে কখনও আন্তর্জাতিক ফুটবলে মুখোমুখি হয়নি। কোনো পুরোনো প্রতিশোধ নেই। কোনো অতীত নেই। কোনো হিসাব নেই। শুধু প্রথম সাক্ষাৎ। আর সেটাও সরাসরি নকআউটে।
ডালাসে আজকের রাতে হয়তো নির্ধারিত হবে হলান্ড কি আবারও সব আলো নিজের দিকে টেনে নেবেন, নাকি আইভরিকোস্ট প্রমাণ করবে বড় নামের চেয়েও বড় হতে পারে দল। একদল খেলবে ইতিহাসের প্রথম নকআউট জয় পাওয়ার জন্য। আরেক দল খেলবে ২৮ বছরের অপেক্ষাকে আরও দীর্ঘ যাত্রায় রূপ দেওয়ার জন্য। শেষ বাঁশির পর হয়তো পৃথিবী দেখবে হাতিরা যখন দৌড়ায়, তখন ইতিহাসও তাদের পথ ছেড়ে দেয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রভাব শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও তার ভূমিকা অনন্য—এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী মানুয়েল কাস্ত্রো আলমিদা। তার মতে, রোনালদো হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যার কারণে বিশ্বের বহু মানুষ পর্তুগালকে চেনে। এমনকি রোনালদোকে দেশের সুনাম বৃদ্ধিকারী ‘সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান’ হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে রোনালদোর হঠাৎ বিদায় নিয়ে যখন আলোচনার ঝড় বইছে, ঠিক তখনই এমন মন্তব্য করলেন পর্তুগিজ মন্ত্রী। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য রেসিডেন্ট’-এ প্রচারিত এক বক্তব্যে আলমিদা জানান, বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়াতে রোনালদো এক বিশাল সম্পদ। তিনি বলেন, ‘পর্তুগালের প্রচার ও প্রসার বাড়াতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রভাব অপরিসীম।’ তারকা ফুটবলারকে পর্তুগালের ‘সবচেয়ে বিখ্যাত কোনো প্রতিষ্ঠানের’ সঙ্গেও তুলনা করেন তিনি। তবে রোনালদো ও কোচ জর্জ জেসুসের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি অর্থমন্ত্রী। নিজেকে ফুটবল বিশেষজ্ঞ না দাবি করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কে ঠিক বা কে ভুল তা বিচার করার এখতিয়ার তার নেই। বরং দেশের বাইরে রোনালদোর বৈশ্বিক প্রভাবের দিকেই নজর কাস্ত্রো আলমিদার। তার মতে, এই আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণেই রোনালদো দেশের জন্য একটি অনন্য সম্পদে পরিণত হয়েছেন, ‘পর্তুগালের ভাবমূর্তি ও সুনাম বৃদ্ধির দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিস্টিয়ানোর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। পর্তুগাল যেন প্রতিনিয়ত তার এই প্রভাব থেকে সুবিধা পেতে পারে, সেটাই হবে সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয়।’ এদিকে উয়েফা নেশনস লিগের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে রোববার রাতে নরওয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পর্তুগাল। অন্যদিকে আল-নাসর তারকা রোনালদো তার ক্লাবে যোগ দিতে ইতোমধ্যে মাদ্রিদ হয়ে রিয়াদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
ফিফার আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিন প্রীতি ম্যাচে অংশ নেবে আর্জেন্টিনা। এর মধ্যে দুটি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। তুলে নিয়েছেন বড় ব্যবধানে জয়। বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের জয়ে অবদান রেখেছেন তরুণ প্রতিভাবান ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো। রিয়াল মাদ্রিদের এই খেলোয়াড়, যিনি বর্তমানে ফিওরেন্তিনায় ধারে খেলছেন, রয়েছেন দারুণ ফর্মে। কিন্তু মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি যে চাপ অনুভব করছেন, সে বিষয়ে করা মন্তব্যে অবাক হয়েছেন, কারণ আর্জেন্টিনার অনেকেই তাকে নেতৃত্বের দিক থেকে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাস্তানতুওনো বলেন, ‘লোকেরা আমার কাছে অনেক কিছু চায়। আমি এটা বুঝি, আমার কাছে কী প্রত্যাশা করা হয়, সেটাও আমি জানি। অনেক সময় তারা আমার ওপর কঠোর হন, কিন্তু আমি এটা উপভোগ করার চেষ্টা করি।’ তিনি আরো বলেন, আমি সমালোচনা নিয়ে অভিযোগ করছি না। আমি একজন ফুটবল খেলোয়াড় এবং আমি বিষয়টি বুঝি। কিন্তু মানুষ এমন সব বিষয় নিয়ে কথা বলে যা আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’ আমি শুধু আমার কাজটা করি এবং সবসময় তা ভালোভাবে করার চেষ্টা করি। আমি জানি অনেক প্রত্যাশা থাকে এবং আমি সেটা ভালোবাসি, কিন্তু আমি আমার দলের জন্য এবং নিজের জন্য খেলি, সেই প্রত্যাশাগুলোর জন্য নয় বলে যোগ করেন তিনি।
ম্যানচেস্টার সিটির গোলবারের দায়িত্বে থাকা জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মাকে নিয়ে আবারও আগ্রহ দেখাচ্ছে ইতালির দুই শীর্ষ ক্লাব জুভেন্টাস ও ইন্টার মিলান। সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যেই ইতালিয়ান গোলরক্ষকের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে ক্লাব দুটি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন (পিএসজি) থেকে দোন্নারুম্মাকে দলে নেয় ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবটির দীর্ঘদিনের গোলরক্ষক এদেরসনের পর উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব পান ইতালিয়ান এই তারকা। তবে প্রিমিয়ার লিগে আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সিটির বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া ক্লাবটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অভিযোগগুলোর প্রমাণ পাওয়া গেলে জরিমানা, পয়েন্ট কর্তনসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে সিটি। তবে ক্লাবটি সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ম্যানচেস্টার সিটির গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও দোন্নারুম্মা এখনই ক্লাব ছাড়ছেন—এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে জুভেন্টাস ও ইন্টার মিলানের আগ্রহকে আপাতত সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দোন্নারুম্মার প্রতি অবশ্য এই দুই ক্লাবের আগ্রহ নতুন নয়। সিটিতে যোগ দেওয়ার আগেও জুভেন্টাস ও ইন্টার তাকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছিল। তার এজেন্টও অতীতে ইতালিয়ান লিগে ফেরার সম্ভাবনার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে দোন্নারুম্মাকে সিরি আ-তে ফেরানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে তার পারিশ্রমিক। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ম্যানচেস্টার সিটিতে তার বার্ষিক বেতন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ইউরো। ফলে ইতালিতে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হলে বেতন ও চুক্তির আর্থিক বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।