সারাদেশ

অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলায় বাবাকে হেনস্তার অভিযোগ

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার ছোট ছেলে সাব্বির জামান। একইসঙ্গে গত ১৭ বছর ধরে যে ধরনের পরিস্থিতি চলে এসেছে, এখনো সেই একই কর্মসূচি শুরু হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

শুক্রবার (২ অক্টোবর) মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। 

সাব্বির জামান বলেন, অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিপক্ষে আওয়াজ তোলায় সরকার আমাদের এভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করছে। এটা আমরা আগেও দেখেছি। গত ১৭ বছর একই প্রোগ্রামে চলেছে। এখনো আবার সেই একই প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে।

বাবার ফেসবুকে গেলে উনার স্টেটমেন্টগুলো দেখতে পাবেন উল্লেখ করে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছোট ছেলে বলেন, আমাদের ফেসবুকে উনার স্টেটমেন্টগুলো দেখতে পাবেন। আমাদের ফেসবুকে উনার গতকালের লাইভগুলো আছে। আপনারা সেগুলো দেখে জাজ করেন। এখানে উনি কি অন্যায় করেছেন নাকি এটা কাম্য ছিল?

এর আগে, গতকাল মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

জানা যায়, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর বাসিন্দা। তিনি বিএনপির মনোনয়নে কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একসময় তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাকে বিএনপি থেকে পঞ্চমবারের মতো বহিষ্কার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যুতে টকশো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় ছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন তিনি।

এদিকে গ্রেপ্তারের আগে নিজের ফেসবুকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় আখতারুজ্জামান বলেছিলেন, তাকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম প্রিয় দেশবাসী। সবাই ভালো থাকবেন, সুখে থাকবেন। আমাকে এই মুহূর্তে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। শুধু আপনাদের সবাইকে জানিয়ে গেলাম। দোয়া করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি যেন জনগণের জন্য দেশের মানুষের জন্য বিশেষ করে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য শহীদ হতে পারি। আল্লাহ যেন আমার এই দাবি কবুল করেন। আহ্বান কবুল করেন। জনগণের অধিকারের সংগ্রামে আমি আছি থাকবো আজীবন থাকবো। যতদিন বেঁচে আছি ততদিন জনগণের পাশে থাকবো, জনগণের জন্য সংগ্রাম করব জনগণের জন্য এই জীবন ত্যাগ করব। সবাই ভালো থাকবেন। আসসালামু আলাইকুম।’

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আসা ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব হয়। ওই ফ্লাইটে ছিলেন আখতারুজ্জামান। ঢাকায় বিমানবন্দরে নেমে ওই ঘটনা নিয়ে বিমানবন্দরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘বাজে’ আচরণ শুরু করেন তিনি। তিনি বিমানমন্ত্রীর নাম ধরেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তার উচ্চবাচ্যের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে উদ্দেশ করে বলছেন, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিব, ঘাড় ধরে বের করে দিব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মার খাইতে চান?’ তবে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে শান্তভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

এদিকে ওই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিমানবন্দরের মতো এলাকায় দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন অশোভন আচরণ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। এরপরই গতকাল বিমানবন্দর থানায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজীব মামলা করেন। মামলায় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি প্রদানের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি করেন।

মামলার বিবরণ ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর বেলা পৌনে ১১টার দিকে সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা নামার পর ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি দেখতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় ভিডিও ধারণে নিষেধ করায় নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের সঙ্গে আখতারুজ্জামানের কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতলের ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও মামলায় রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ, এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
তিন মাসের মধ্যে সরছে গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল

আগামী তিন মাসের মধ্যে গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়ার বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ায় স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।    শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনালের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান। ডিএমপি কমিশনার বলেন, চুনকুটিয়ার ঝিলমিল প্রজেক্টে ১০ একর জায়গায় ডিপো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, কাজ শেষ হলেই ফুলবাড়িয়া এবং গুলিস্তানের বাসগুলো সেখানে স্থানান্তর করা হবে। ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, চুনকুটিয়াতে ঝিলমিল প্রজেক্টে ডিপো হিসেবে ১০ একর জায়গা পাওয়ার কথা রয়েছে। আমরা সেখানে ডিপোর কাজ শুরু করেছি। রাজউকের মাধ্যমে সেখানে আরও প্রায় ৭৫ একর জায়গা পাওয়া যাবে, যেখানে স্থায়ীভাবে টার্মিনাল এবং ডিপো করা হবে। সেখানে দক্ষিণবঙ্গগামী ১৯ জেলার সব পরিবহন, ট্রাক এবং বাদামতলী আড়তের ট্রাকসহ স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, চুনকুটিয়াতে মাল্টিমডেল একটি ট্রান্সপোর্ট হাব হবে। দক্ষিণবঙ্গের ১৯ জেলার বাস থেকে থেকে শুরু করে সকল পরিবহন পর্যায়ক্রমে সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে। আপাতত স্থায়ী টার্মিনাল এবং ডিপো হওয়ার আগ পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে ১০ একর জায়গায় গুলিস্তান এবং ফুলবাড়িয়ার টার্মিনালটি আমরা সেখানে শিফট করবো।  ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা সর্বোচ্চ তিন মাস সময় নিয়েছি। সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলবাড়িয়া এবং গুলিস্তানের বাস সেখানে শিফট করবো। সেখানে একটা শৃঙ্খলাবদ্ধ নিয়মের মধ্য দিয়ে চলবে। এই নিয়মের বাইরে কেউ যেন সামান্যতম চেষ্টা না করেন অনিয়ম করার জন্য। এরকম যদি কেউ করেন বা করার চেষ্টা করেন, অবশ্যই আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেব।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলায় বাবাকে হেনস্তার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

থানায় ৮ চোরের সঙ্গে দেখা করতে এসে গ্রেপ্তার আরও ২ চোর

ছবি: সংগৃহীত

মমতাজ আওয়ামী লীগেও একটা ছিল, এখন জামায়াতেও একটা আসছে: রফিকুল ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত
পদ্মা সেতু যেভাবে বদলে দিলো মোংলা বন্দরের রফতানি চিত্র

পদ্মা সেতু চালুর পর মোংলা বন্দর দিয়ে হিমায়িত খাদ্য রফতানি কমে গেছে। সময়মতো জাহাজ পাওয়া ও বায়ারদের সিডিউল ঠিক রাখতে ব্যবসায়ীরা চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। এ কারণে গত তিন বছরে মোংলা বন্দর দিয়ে হিমায়িত খাদ্য রফতানি অর্ধেকে নেমে এসেছে।   অন্যদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় ঢাকা থেকে গার্মেন্টস পণ্য রফতানিতে ব্যবসায়ীরা মোংলা বন্দরের দিকে ধাবিত হচ্ছেন। এ কারণে গত তিন বছরে মোংলা বন্দরে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি শুরু হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর আগে মোংলা বন্দর দিয়ে গার্মেন্টস রফতানি ছিলো না।   মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৪৮ বক্সে ৩ হাজার ৮১ টিইইউ কনটেইনারে ৩৩ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন হিমায়িত খাদ্য রফতানি হয়। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৪৬ বক্সে ২ হাজার ৮৩৩ টিইইউ কনটেইনারে ৩১ হাজার ৭১৫ মেট্রিক টন হিমায়িত খাদ্য রফতানি হয়।   পদ্মা সেতু চালু হয় ২০২২ সালের ২৫ জুন। এ অবস্থায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১ হাজার ২৮ বক্সে ২ হাজার ১৯ টিইইউ কনটেইনারে ২২ হাজার ৫৭৫ মেট্রিক টন হিমায়িত খাদ্য রফতানি হয়। পাশাপাশি গার্মেন্টস পণ্য রফতানি শুরু হয়। এ সময়ে ৩৭ বক্সে ৭৪ টিইইউ কনটেইনারে ৪৫৪ মেট্রিক টন গার্মেন্টস পণ্য রফতানি হয়।   ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭৮৭ বক্সে ১ হাজার ৫২৯ টিইইউ কনটেইনারে ২২ হাজার ৫৭৬ মেট্রিক টন হিমায়িত খাদ্য রফতানি হয়। এ সময়ে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি আগের বছরের তুলনায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পায়। ৩৫৪ বক্সে ৭০৬ টিইইউ কনটেইনারে ৪ হাজার ৭৩০ মেট্রিক টন গার্মেন্টস পণ্য রফতানি হয়।   ২০২৪-২৫ অর্থবছরে হিমায়িত পণ্য রফতানি নেমে আসে অর্ধেকে। এ সময়ে ৭৬৮ বক্সে ১ হাজার ৫২৯ টিইইউ কনটেইনারে ১৭ হাজার ২৬২ মেট্রিক টন হিমায়িত খাদ্য রফতানি হয়। পাশাপাশি ৩২৬ বক্সে ৬৫২ টিইইউ কনটেইনারে ৪ হাজার ১৮১ মেট্রিক টন গার্মেন্টস পণ্য রফতানি হয়।   এরপরও মোংলা বন্দর রাজস্ব আয়ে নতুন সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। অর্জন হয়েছে ৩৮৭ কোটি ৯৫ লাখ ১২ হাজার টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আয়ের পাশাপাশি আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব বেড়েছে ৪০ কোটি ৮২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। যা গত অর্থবছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি।   বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, খুলনার ভাইস প্রেসিডেন্ট এস কে কামরুল আলম বলেন, হিমায়িত খাদ্য রফতানিতে বায়ারদের সিডিউল থাকে, টাইম বেরিয়ার থাকে। মোংলা বন্দরে ওই সিডিউল অনুযায়ী জাহাজ সব সময় থাকে না। কিন্তু চট্টগ্রামে পাওয়া যায়। তাই বায়ারদের সিডিউল ঠিক রাখতে কিছু পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রফতানি করতে হয়। বায়ারদের সিডিউলের সঙ্গে মোংলা বন্দরে জাহাজ থাকলে আমরা মোংলা বন্দরই ব্যবহার করছি।   মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আরিফ আহাম্মেদ মোস্তফা বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়। ঢাকা থেকে মোংলা আসতে চার ঘণ্টা লাগে। আর চট্টগ্রাম যেতে লাগে সাড়ে সাত ঘণ্টা। এ কারণে গার্মেন্টস রফতানিতে মোংলা বন্দর গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু এই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে হিমায়িত পণ্য দ্রুত রফতানিতে চট্টগ্রাম বন্দরে যেতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। হিমায়িত পণ্য রফতানিতে সিডিউল অনুযায়ী জাহাজ দরকার হয়।   চেয়ারম্যান জানান, সংকটের মধ্যেও শুধু রাজস্ব আয় নয়, জাহাজ আগমন, কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়েও প্রবৃদ্ধি হয়েছে।   মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মোংলা বন্দরের বার্ষিক জাহাজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১ হাজার ৫০০টি। কিন্তু বিদায়ী অর্থবছরে জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছে ৮১৫টি। যা সক্ষমতার ৫৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।   কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১ কোটি ৫০ লাখ মেট্রিক টন। বিদায়ী অর্থবছরে কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫১ হাজার মেট্রিক টন। যা সক্ষমতার ৮১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।   কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ১ লাখ টিইইউ। বিদায়ী অর্থবছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৯ হাজার ৭১৪ টিইইউ। যা সক্ষমতার ২৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ২০ হাজার ইউনিট। বিদায়ী অর্থবছরে গাড়ি আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৭৫টি। যা সক্ষমতার ৬০ দশমিক ৩৭ শতাংশ।   বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজ আগমন বাড়াতে ‘ইন্টারনাল বিজনেস ডেভেলপমেন্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি’র মাধ্যমে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা ও কার্যক্রমে গতি আনতে বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত সভা করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে।   বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াতে বন্দরের জন্য সহায়ক জলযান সংগ্রহ, মোংলা বন্দরের আপগ্রেডেশন এবং কনটেইনার টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।   সহায়ক জলযান সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় দুটি টাগবোট, একটি বয়া লেইং ভেসেল, একটি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেল, একটি পাইলট মাদার ভেসেল এবং একটি সার্ভে অ্যান্ড রিসার্চ ভেসেল সংগ্রহের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।   অন্যদিকে ভারতীয় এলওসি-৩-এর অর্থায়নে ‘আপগ্রেডেশন অব মোংলা পোর্ট’ প্রকল্পের আওতায় আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ দুটি কনটেইনার টার্মিনাল, কনটেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড ও ডেলিভারি ইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে বন্দরকেন্দ্রিক শিপিং, সিঅ্যান্ডএফ, স্টিভেডরিং ও শ্রম খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।   মোংলা বন্দরে জাহাজ ও শিল্পকারখানা থেকে উৎপন্ন বর্জ্য সংগ্রহ এবং নিঃসৃত তেল অপসারণে আধুনিক ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে প্রকল্পটি শেষ হয়।   এ ব্যবস্থার ফলে জাহাজের বর্জ্য নদী ও সমুদ্রে ফেলা বন্ধ করার পাশাপাশি পশুর চ্যানেল ও আশপাশের নদ-নদীর দূষণ কমানো এবং সুন্দরবনের পরিবেশ সুরক্ষায় সহায়তা করবে।   বন্দরের সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ১৪৪ কিলোমিটার চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি ও তা ধরে রাখা। একই সঙ্গে নিরাপদ ও দূষণমুক্ত নৌপথ নিশ্চিত করা, পুরোনো সহায়ক জলযান প্রতিস্থাপন, নতুন জলযান সংগ্রহ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং বন্দর ব্যবহারকারীদের আরও বেশি করে মোংলা বন্দর ব্যবহারে উৎসাহিত করার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   এ ছাড়া মোংলা বন্দরকে সরাসরি ‘ফার্স্ট কলিং পোর্ট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা, কনটেইনারবাহী জাহাজের সংখ্যা বাড়ানো, সিঙ্গাপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে সরাসরি ফিডার জাহাজ চলাচল এবং খুলনা-মোংলা ও খুলনা-ভাঙ্গা সড়ক যোগাযোগের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা বলেন, এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করা। এ লক্ষ্যে সরকারের মহাপরিকল্পনা রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে পাঠানোর নামে অফিস খুলে প্রতারণা দম্পতির, এখন প্রতিবেশী দেশে তারা

ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রিজভীর শোকবার্তা

ছবি: সংগৃহীত

সকাল থেকে টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

সংগৃহীত ছবি
মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেপ্তার বহিষ্কৃত যুবদল নেতা

রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে নূর আলম নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি শাহ আলী থানা যুবদলের বহিষ্কৃত সভাপতি। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে আলোচিত এই ঘটনায় মোট ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।   ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার আজ শুক্রবার রাতে নূর আলমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তদন্তে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে নূর আলমের জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।   যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মিরাজ প্রথম আলোকে জানান, নূর আলম শাহ আলী থানা যুবদলের সভাপতি ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে চার বছর আগেই তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয় ‘কিশোর গ্যাং’–এর দলনেতা ইলিয়াস ও নাডা আওলাদকে ভাড়া করেছিলেন এই নূর আলম।   এদিকে দারুসসালাম থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির লুট হওয়া আসবাব, টিকা, রেজিস্টার খাতা, ফ্রিজ, অফিসের নথিপত্র, প্রিন্টার ও জেনারেটরসহ ৪৬ ধরনের মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে সরাসরি ভাঙচুর চালিয়ে মালামাল লুট করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে মিন্টু নামের একজনের কাছ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিনসহ কিছু মালামাল এবং মিলন নামের আরেকজনের কাছ থেকে স্টিলের দরজা উদ্ধার করা হয়েছে।   গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর ১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে সন্ত্রাসী কায়দায় তাণ্ডব চালানো হয়। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢুকে নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও নগদ টাকাসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুট করে তারা। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।   ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এতে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় একটি মামলা করেছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

কারিগরি শিক্ষানির্ভর শিক্ষানীতি জাতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন : এমপি মনিরুল হক

সংগৃহীত ছবি

ধামরাইয়ে স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত ট্রেনের দুই বগিতে আগুন

0 Comments