বিশ্ব

পুতিনের সামনে কেন সম্মানজনক বিদায়ের পথ নেই

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 জঁ–পল সার্ত্রের অন্তহীন নরক নিয়ে অস্তিত্ববাদী নাটক ‘নো এক্সিট’ ১৯৪৪ সালের মে মাসে প্যারিসে প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন পঞ্চম বছরে পা দিতে যাচ্ছে। নাটকে দেখা যায়, সদ্য মৃত তিন লোক নরকের এক কক্ষে বন্দী হয়ে আছেন, নিজেদের জীবনের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর মুখোমুখি হচ্ছেন। সেখান থেকে পালানোর কোনো পথ নেই।

 

২০২৬ সালের এই সময়ে এসে রুশ কর্তৃপক্ষ যদি মস্কোতে সার্ত্রের এই নাটক মঞ্চস্থ করার অনুমতি দিত, তাহলে যে কেউ জিজ্ঞেস করতে পারেন, ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালানোর পর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও সাধারণ রুশরা নাটকটি দেখে কী ভাবতেন।

 

প্রায় সিকি শতাব্দী ধরে পুতিন রাশিয়াতে যে চরম ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা জারি রেখেছেন, সেটা ২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর যেন অদ্ভুত স্থিতিশীলতায় পৌঁছে গেছে। গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, এটা যে সবার জন্যই ফাঁদ। 

 

আপাতদৃষ্টিতে সব শান্ত বলে মনে হবে। পুতিন এই ব্যয়বহুল যুদ্ধের অর্থ জোগানোর পথ খুঁজে পেয়েছেন, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঠেকিয়েছেন, এবং নগদ বোনাসের লোভ দেখিয়ে সেনাবাহিনীতে নতুন নিয়োগ দিচ্ছেন। রাশিয়াও সবার সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। যদিও সম্প্রতি কিছু অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে, তবু পুতিন আত্মবিশ্বাসী যে এসব এখনো তাঁর নিয়ন্ত্রণে।

 

সেনাবাহিনীতে নতুন নিয়োগ রাশিয়াকে কিছুটা সুবিধা দিলেও, এটা রুশদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করেছে। যেকোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার তো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত হবে। এ ধরনের কিছু বিজয় নিশ্চিত তো করবেই না, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পক্ষ থেকে তীব্র সামরিক জবাবের ঝুঁকি থাকবে। এমনকি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে।

 

পুতিন ইউক্রেন থেকে চাইলেই সেনা প্রত্যাহার করতে পারছেন না। রাশিয়া যদি বর্তমান যুদ্ধরেখা অনুযায়ী কোনো সমঝোতা মেনে নেয়, তবে কেবল দক্ষিণ ইউক্রেনের সংকীর্ণ এক ফালি ভূখণ্ড ছাড়া পুতিনের ঝুলিতে দেখানোর মতো তেমন কিছুই থাকবে না। কেবল তাঁর আত্মম্ভরিতায় আঘাতই নয়, এত স্বজন হারানোর পর এই ছোট অর্জন রুশ নাগরিকদের সামনে উল্টো এই যুদ্ধের অর্থহীনতাকেই প্রমাণ করবে। তখন তাঁর দুর্বল কৌশলগত চিন্তাভাবনা এবং আত্মম্ভরিতা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক বড় সংকট হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

 

পুতিন নিজেকেই কৌশলের ফাঁদে ফেলে দিয়েছেন। কেবল নিজেকেই নয়, পুতিনবাদের পুরো প্রকল্প যদি তাঁর মেয়াদের পরও টিকে থাকে, সেখানেও অন্তহীন যুদ্ধের বোঝা রয়ে যাবে। পুতিনের আদর্শের যেকোনো ভবিষ্যৎ নেতাই যখন দেখবেন একটি ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ইউক্রেন পশ্চিমা নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এবং পুরো ইউরোপ সামরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে, তখন হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারবেন না।

 

যদি পুতিনের যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ না থাকে, তাহলে রাশিয়ার সাধারণ জনগণের পুতিনবাদের বাইরেও যাওয়ার উপায় নেই আর। রাশিয়ার সাম্প্রতিক গণ-অসন্তোষকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এই অসন্তোষ বাস্তব, কিন্তু এর মূল নির্যাস হলো এই হতাশা যে পুতিনবাদ তার সব ব্যর্থতা সত্ত্বেও যেন এক অন্তহীন সত্য বলে মনে হচ্ছে।

 

আজ প্রেসিডেন্টকে কোনো যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন সামলাতে হচ্ছে না, কোনো বিরোধী দলও নেই। ইচ্ছামতো রুশ নাগরিকদের দমন করতে পারেন। এমনকি দৈনন্দিন কাজকারবারও এই শাসনব্যবস্থাকে যুদ্ধ এগিয়ে নিতে ও নিপীড়নকে প্রশ্রয় দিতে সহায়তা করে। অধিকাংশ রুশকে কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্রের কাজ করতে হয়। বেসরকারি খাতও সরকারের অধীন। তবু রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে তাদের কোনো মতামত নেই।

 

সামগ্রিকভাবে এই ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিকভাবে অসম্ভব। প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নেই। তাঁর শাসনের অবসান বা প্রতিস্থাপন করার কোনো দৃশ্যমান পথ নেই। এই পরিস্থিতিতে মৌখিক প্রতিবাদের ঝলক দেখা দিলেও সেগুলোকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

 

১৮ এবং ১৯ শতকের বিপ্লবের তাত্ত্বিকেরা ‘ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা’র গুরুত্বকে অনুঘটক হিসেবে দেখতেন। মানুষ যখন বুঝতে পারে যে একটি উন্নত ভবিষ্যৎ সম্ভব, তখন তারা সেই প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করার জন্য পদক্ষেপ নেয়। উদাহরণস্বরূপ ১৯৮৯ সালের পূর্ব ইউরোপীয় বিপ্লবগুলোর কথা বলা যায়। মিখাইল গর্বাচেভের গ্লাসনস্ত এবং পেরেস্ত্রোইকার প্রতিশ্রুতির পরপরই এটা সংগঠিত হয়েছিল।

 

রুশ জনগণের প্রত্যাশা যেন সীমিত থাকে, সে ব্যাপারে পুতিন তৎপর। আধুনিক, সমৃদ্ধ ও উন্মুক্ত রাশিয়ার যে ওয়াদা ছিল, সেটা স্বৈরতন্ত্র ও অন্তহীন যুদ্ধের চাপে তলিয়ে গিয়েছে। এই অস্বস্তিকর ভারসাম্য চিরকাল চলতে পারে না। সোভিয়েত পতনের পর পুতিন ও পুতিনবাদের প্রাথমিক ওয়াদা ছিল—প্রকৃত স্বাধীনতা না মিললেও, একটি আরামদায়ক পরিবেশ ও উন্নত জীবনযাত্রা এবং দক্ষ শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কিন্তু পুতিন নিজেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একদিকে চরম কর্তৃত্ববাদী হিসেবে গড়ে তুলেছেন, মাঝারি মানের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

 

অন্যদিকে, দুর্বল অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে এমন পরিস্থিতিতে ফেলেছেন, যা বুমেরাং হয়ে খোদ রাশিয়ার দিকেই আঘাত হানছে। রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের একেকটি আঘাত যেন রুশ নাগরিকদের ভালো থাকাটাকেও ক্রমশ ক্ষয় করে দিচ্ছে।

 

রাশিয়ায় একটি দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য এখন ‘পুতিনবাদে’র সম্পূর্ণ অবসান প্রয়োজন। বর্তমান ব্যবস্থাটি যতই তার বৈধতা ও কার্যকারিতা হারাবে, পুতিন-পরবর্তী ক্ষমতার দখল নেওয়ার লড়াই ততই তীব্র রূপ ধারণ করবে। যখন সেই সময় আসবে, তখন সেই বছর বিশেক আগে যে স্থিতিশীলতাকে পুতিন চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, সেটাও পুরোপুরি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যেতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

মিয়ানমারের উত্তরের খনি বলয়ের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল চীন। ফাইল ছবি
বিরল খনিজের খনি হাতবদল: আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থ জান্তা সরকার

গত আগস্টের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীনের বিরল খনিজ উপাদান (রেয়ার আর্থ) আমদানি ২৩ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ২১ টনে পৌঁছেছে, যার ৭০ শতাংশই সরবরাহ করেছে মিয়ানমার। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে মিয়ানমারের সঙ্গে লিয়াজোঁ রক্ষা এবং ভারতের আগ্রহের পর জান্তা সমর্থকেরা দাবি করছেন যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে জান্তা সরকারের হাতে এই বিরল খনিজের খনিগুলো একটি বড় হাতিয়ার। কিন্তু বাস্তবে উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ ও আঞ্চলিক তথ্যে দেখা গেছে, চীনের সাপ্লাই চেইন বজায় রাখা মিয়ানমারের প্রায় ৬০০টি বিরল খনিজের খনিগুলোর প্রায় কোনোটিই জান্তা সরকারের ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণে নেই।       পাঁচ বছর পর মা সু চির সঙ্গে ফোনে কথা বলে যা জানালেন তার ছেলেপাঁচ বছর পর মা সু চির সঙ্গে ফোনে কথা বলে যা জানালেন তার ছেলে বৈদ্যুতিক যানবাহন, উইন্ড টারবাইন, স্মার্টফোন এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল উপাদান হিসেবে ভারী রেয়ার আর্থ (এইচআরইই) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন বৈশ্বিক নিষ্কাশনের ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের নিজস্ব মজুত মূলত হাল্কা রেয়ার আর্থ কেন্দ্রিক। ফলে দেশটি মিয়ানমারের উত্তরের খনি বলয়ের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় অর্ধেক ভারী রেয়ার আর্থ আসে মিয়ানমার থেকে, বিশেষ করে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য জরুরি ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়াম।       স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, কাচিন রাজ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ খনি অবস্থিত, যার মধ্যে ছিপউই ও মোমাউক অঞ্চলে ৩৭০টিরও বেশি সক্রিয় খনি রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষের দিক পর্যন্ত এগুলো জান্তা-মিত্র মিলিশিয়া নিউ ডেমোক্র্যাটিক আর্মি-কাচিনের (এনডিএ-কে) নিয়ন্ত্রণে ছিল, যা থেকে জান্তা জেনারেলরা কোটি কোটি ডলারের কর পেতেন। তবে ২০২৪ সালের অক্টোবরে কাচিন ইন্ডিপেনডেন্স আর্মি (কেআইএ) বড় ধরনের অভিযান চালিয়ে এই খনিগুলো দখল করে নেয়। অন্যদিকে শান রাজ্যেও গত পাঁচ বছরে খনি কার্যক্রমে ৪৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা এখন তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ), ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি (ইউডব্লিউএসএ) এবং ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মির (এনডিএএ) মতো সশস্ত্র দলগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।       আরও নির্ভুল পারমাণবিক আলোকঘড়ি বানালেন চীনা বিজ্ঞানীরাআরও নির্ভুল পারমাণবিক আলোকঘড়ি বানালেন চীনা বিজ্ঞানীরা খনিগুলো মূলত সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় পরিবেশগত তোয়াক্কা না করে এসিড দ্রবণ ঢেলে ইন-সিটু লিচিং পদ্ধতিতে খনিজ উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব রাসায়নিক সরাসরি এনমাই খা নদীতে মিশে মিয়ানমারের অন্যতম প্রধান জীবনরেখা ইরাবতী নদীকে মারাত্মক দূষিত করছে।       এদিকে, বেইজিংয়ের প্রভাব রুখতে ওয়াশিংটনও এই খনিজ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা মিয়ানমারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকের কথা প্রকাশ করে। এ ছাড়া মার্কিন কর্মকর্তারা টোকিওতে জান্তা প্রতিনিধিদের সঙ্গে জোড়া বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি ভারতও তাদের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অধীনে এসব খনি খাতে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তবে খনিগুলোতে মিয়ানমার সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নাই।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াই, মুখোমুখি লুলা ও বোলসোনারোপুত্র ফ্লাভিও

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন ট্রাম্প

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ‘লুকাস’ ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের

রয়টার্স ছবি
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: বদলে যেতে পারে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির ৪ দিক

আসন্ন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সম্ভবত সিনেটেও জয়ের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৩ নভেম্বরের এই নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হলে দুই বছর ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবেন ডেমোক্র্যাটরা। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ তুলে ধরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবিধানে যুদ্ধ ঘোষণা ও সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আইনপ্রণেতাদের হাতে থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ইরান যুদ্ধ বন্ধে চাপ চলতি বছরের শুর থেকে প্রায় ৮ মাস ধরে চলমান ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে কংগ্রেসের অনুমোদন নেননি ট্রাম্প। যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে ডেমোক্র্যাটরা একাধিকবার প্রস্তাব এনেছেন। রয়টার্স বলছে, তার মধ্যে একটি প্রস্তাবে কয়েকজন রিপাবলিকান সমর্থন দিলেও ট্রাম্প প্রশাসন তা উপেক্ষা করে।   কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিরক্ষা ব্যয় কমিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে ট্রাম্পকে চাপ দিতে পারেন। পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগও নিতে পারেন তারা। ইউক্রেনকে নতুন সহায়তা রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইরত ইউক্রেনকে সরাসরি মার্কিন আর্থিক ও সামরিক সহায়তা অনেকটাই বন্ধ রেখেছেন ট্রাম্প।তবে দুই দলের বহু আইনপ্রণেতা ইউক্রেনকে সহায়তার পক্ষে।  আসন্ন নভেম্বরে উভয় কক্ষে জয় পেলে ডেমোক্র্যাটরা ইউক্রেনকে নতুন সহায়তার প্রস্তাব ভোটে তুলতে পারবেন। দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেলে ট্রাম্পের ভেটোও অতিক্রম করা সম্ভব। রুশ ডিজেল বিশ্ববাজারে ফেরানোর পরিকল্পনা ঠেকাতেও উদ্যোগ নিতে পারেন তারা। ইসরায়েলকে সহায়তা কমানোর উদ্যোগ গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের ব্যাপক প্রাণহানির কারণে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমেছে।গত অর্থবছরে ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডেমোক্র্যাটরা এই সহায়তা কমানো বা বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারেন।   এ ছাড়া ট্রাম্পের প্রস্তাবিত সামরিক বাজেট বৃদ্ধি ঠেকানো এবং তার প্রশাসনের বাতিল বা আটকে রাখা বৈদেশিক সহায়তার অর্থ পুনর্বহাল করাও ডেমোক্র্যাটদের অগ্রাধিকার হতে পারে। চলতি বছর সামরিক বাজেট ৬৭ শতাংশ বাড়িয়ে দেড় লাখ কোটি ডলারে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সামাজিক কর্মসূচিতে কাটছাঁট ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ না করার অভিযোগ তুলে ডেমোক্র্যাটরা এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম গাড়ি কারখানা স্থাপনে ৪২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে অডি : ট্রাম্প

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে স্টারলিংকের পরিষেবা শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ ইলন মাস্কের

ইউক্রেনের হামলায় অধিকৃত ক্রিমিয়ায় পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত: রাশিয়া

উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে বৈশ্বিক সুশাসন ফোরামের আয়োজন চীনের

বৈশ্বিক সুশাসন আরও উন্নত করতে বিভিন্ন পক্ষের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী প্রথম বৈশ্বিক সুশাসন ফোরামের আয়োজন করেছে চীন। দেশটি বৈশ্বিক সুশাসন উদ্যোগ (জিজিআই) প্রস্তাব করার এক বছর পর এ ফোরামের আয়োজন করা হলো।   শিওংআন থেকে সিনহুয়া জানায়, চীনের উত্তরাঞ্চলীয় হেবেই প্রদেশের শিওংআন নিউ এরিয়ায় শুক্রবার ‘২০২৬ বৈশ্বিক সুশাসন ফোরাম (শিওংআন)’-এর উদ্বোধন করা হয়।   চাইনিজ পিপলস ইনস্টিটিউট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স আয়োজিত এ ফোরামের প্রতিপাদ্য--‘আস্থা ও সহযোগিতা পুনর্গঠন : পরিবর্তনশীল বিশ্বে বৈশ্বিক সুশাসনের সংস্কার ও উন্নয়ন’।   ফোরামে পাঠানো এক বার্তায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, বিশ্ব এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি-- এমন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শান্তি, উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সুশাসনের ঘাটতি কমার পরিবর্তে বাড়ছে।   তিনি বলেন, ‘আরও ন্যায়সংগত ও ন্যায্য বৈশ্বিক সুশাসনব্যবস্থা এবং একটি উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমি বৈশ্বিক সুশাসন উদ্যোগ (জিজিআই) প্রস্তাব করেছি।’   শি বলেন, ব্যাপক পরামর্শ, যৌথ অবদান ও অভিন্ন সুফলের ভিত্তিতে বৈশ্বিক সুশাসনের ধারণা এগিয়ে নিতে চীন সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আস্থা গড়ে তুলে সম্মিলিত শক্তি বাড়ানো এবং সহযোগিতার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি।   তিনি বলেন, অস্থিরতা ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়া বিশ্বে আরও বেশি নিশ্চয়তা ও ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করতে জিজিআই বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। একই সঙ্গে মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।   তুরস্কের আঙ্কারাভিত্তিক সেন্টার ফর এশিয়া-প্যাসিফিক স্টাডিজের পরিচালক সেলচুক চোলাকোগলু বলেন, ফোরামটি বৈশ্বিক সুশাসন বিষয়ে চীনের দৃষ্টিভঙ্গির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের একটি সুযোগ তৈরি করেছে।   তিনি বলেন, ‘এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—সব দেশকে একসঙ্গে আলোচনা, বিশ্ব গঠন এবং সেই অর্জনের সুফল ভাগ করে নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো।’   জাতিসংঘসহ ৯০টিরও বেশি দেশ এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রায় ৪০০ প্রতিনিধি ফোরামে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কৌশলগত, রাজনৈতিক, শিক্ষাবিষয়ক, ব্যবসায়িক, গণমাধ্যম ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।   নেপালের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি বলেন, জিজিআই সার্বভৌম সমতা, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন, বহুপক্ষীয়তা, জনকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বাস্তব ফলাফলের ওপর গুরুত্ব দেয়। এর মাধ্যমে সব পক্ষের জন্য বৈশ্বিক সুশাসনব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সংলাপে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক বৈষম্য, দারিদ্র্য, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে, ক্রমবর্ধমান সংরক্ষণবাদ ও একতরফা নীতি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলছে।   ভান্ডারি বলেন, কোনো একক দেশের পক্ষে এসব অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ জন্য সব দেশের মধ্যে সংলাপ, জোরদার সহযোগিতা ও যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।   কিরগিজস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুমার্ট ওতোরবায়েভ বলেন, গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো জিজিআইকে সমর্থন করে। তারা আধিপত্য বা হস্তক্ষেপের পরিবর্তে প্রবৃদ্ধি, সহযোগিতা ও অগ্রগতির বিশ্ব দেখতে চায়।   জাতিসংঘের উপমহাসচিব গাই রাইডার বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দিয়েই আমাদের বর্তমান ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তাই জাতিসংঘে আমাদের সুশাসনব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আমরা উপলব্ধি করছি।’   চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ে গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্ব ও মতামতের গুরুত্ব বাড়ানো জরুরি। সব পক্ষের সম্মত সময়সূচি ও রোডম্যাপ অনুসারে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে এবং নিরাপত্তা পরিষদে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে।   তিনি বলেন, ব্রিকস ও সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) মতো উদীয়মান বহুপক্ষীয় সহযোগিতা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা প্রয়োজন।   ওয়াং নতুন নতুন ক্ষেত্রে সুশাসনের নিয়মকানুন উন্নত করার আহ্বান জানান। গভীর সমুদ্র, মেরু অঞ্চল ও মহাকাশের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি, সাধারণ ঐকমত্যের ভিত্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালনার একটি কাঠামো দ্রুত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।   ফোরামের সাইডলাইনে এশিয়া সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সহসভাপতি জন এল. থর্নটন এবং ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর কলামিস্ট টমাস এল. ফ্রিডম্যানের সঙ্গে বৈঠকে ওয়াং বলেন, এআইয়ের যথাযথ উন্নয়ন ও পরিচালনায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা ও দায়িত্ব দুটিই রয়েছে।   তিনি বলেন, এআইয়ের বিকাশ যেন মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং জনগণের কল্যাণে কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করতে দুই দেশকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।   থর্নটন ও ফ্রিডম্যান বলেন, চীনের আয়োজনে আসন্ন এপেক অর্থনৈতিক নেতাদের বৈঠকের দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর মনোযোগ দিচ্ছে। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনন্য ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য চীন এ সুযোগ কাজে লাগাবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৫, ২০২৬
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প

হেবরনে ফিলিস্তিনি পরিবারকে উচ্ছেদ করল ইসরাইলি বাহিনী

ফ্রান্সে গণবিক্ষোভ ও সংঘর্ষের জেরে গ্রেফতার ১০০০, প্যারিস থেকে মার্শেই জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি

0 Comments