জাতীয়

গভর্নরের ১০০ দিন: নিয়োগ বিতর্ক পেরিয়ে নীতি স্বচ্ছতা-স্থিতিশীলতার পথে যাত্রা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ করেছেন এমন এক সময়ে, যখন তার নিয়োগ প্রক্রিয়া, পেশাগত পরিচয় এবং নীতিগত অবস্থান ঘিরে শুরুতে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখনও পুরোপুরি স্তিমিত হয়নি। তবে এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত দিকনির্দেশনা, মুদ্রানীতি ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাত সংস্কারের নানা উদ্যোগ অর্থনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রসঙ্গত, মো. মোস্তাকুর রহমান গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে নিয়োগ পান। আগামী ৬ জুন তার মেয়াদ ১০০ দিন পূর্ণ হবে।

 

নীতিনির্ধারক, ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশের মতে, প্রথম ১০০ দিনকে চূড়ান্ত সাফল্য বা ব্যর্থতার মানদণ্ডে বিচার করা না গেলেও নীতিগত দিক থেকে একটি স্পষ্ট ‘স্ট্যাবিলিটি-ফার্স্ট’ অবস্থান দৃশ্যমান হয়েছে।

 

এই প্রেক্ষাপটে গভর্নরের সাম্প্রতিক নীতিগত অগ্রাধিকারকে তিনটি প্রধান স্তম্ভে ভাগ করে বিশ্লেষণ করা যায়—১. অর্থনৈতিক উদ্দীপনা ও প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার, ২. সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ৩. ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও কাঠামোগত সংস্কার।

 

অর্থনৈতিক উদ্দীপনা ও বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার: স্থবিরতা ভাঙার চেষ্টা

 

প্রথম ১০০ দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবচেয়ে বড় ফোকাস ছিল দেশের উৎপাদন ও বিনিয়োগ খাতে গতি ফেরানো। বিশেষ করে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন ও প্রণোদনা তহবিলকে অর্থনীতিতে ‘লাইফলাইন ইনজেকশন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই উদ্যোগের পাশাপাশি বন্ধ ও অচল শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর কর্মসূচি, উৎপাদনমুখী খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি এবং সিএমএসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প) খাতে অর্থায়ন সম্প্রসারণকে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

ইতোমধ্যে বন্ধ ও অর্ধচালু শিল্প পুনরুজ্জীবনে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ নামে এ উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদন, রফতানি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

স্কিমটির আওতায় তফসিলি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে তহবিল নিয়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে পারবে। তিন বছর মেয়াদি রিভলভিং ফান্ড থেকে বন্ধ, আংশিক চালু ও সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও মূলধন সংকটে থাকা শিল্প-সেবা প্রতিষ্ঠান সুবিধা পাবে। তবে খেলাপি ও অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠান বাদ থাকবে। ঋণ শুধুমাত্র কার্যকর মূলধনে ব্যবহার করা যাবে—বেতন, কাঁচামাল, ইউটিলিটি ও উৎপাদন ব্যয়ে। সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, উদ্যোগটি সফল হলে শিল্প পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে। তবে সঠিক যাচাই-বাছাই ও তদারকি না হলে ঝুঁকি রয়ে যাবে। এটি দেশের স্থবির শিল্প খাতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা অর্থনীতিবিদরা বলছেন।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ডলার সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির কারণে যে শিল্পমন্দা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এ ধরনের পুনরুজ্জীবনমূলক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তারা একইসঙ্গে সতর্ক করে বলছেন, এসব নীতির বাস্তব সফলতা নির্ভর করবে ব্যাংকিং খাতের কার্যকারিতা এবং মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের গতির ওপর।

 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা তহবিল গঠন করেছে, যা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে তার মতে, অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে এখনও উল্লেখযোগ্য বা দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।

 

তিনি আরও বলেন, ‘‘সংস্কার প্রক্রিয়ায় অংশীজনদের যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি, যা নীতিগত কার্যকারিতার ক্ষেত্রে একটি ঘাটতি হিসেবে রয়ে গেছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ৮০ দিনের মধ্যে অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যেতে পারে।’’

 

এ সময় তিনি ইতিবাচক দিক হিসেবে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহ অর্থনীতিকে কিছুটা স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেছেন, এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন, কার্যকর তদারকি এবং সঠিক খাতে অর্থ ব্যবহারের ওপর। তার মতে, এসব শর্ত ঠিকভাবে পূরণ হলে প্রণোদনা প্যাকেজ দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

 

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘‘কম সুদে ঋণ দিলে ব্যবসায়ীদের তারল্য বাড়বে, তবে তারল্য বাড়লেই তা সঠিক বিনিয়োগে রূপ নেবে—এটা নিশ্চিত নয়।’’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘মাঝারি ব্যবসা খাতে খেলাপি ঋণের চাপ এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিতে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।’’

 

সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: মূল্যস্ফীতি ও রিজার্ভে কঠোর নজর

 

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা। উচ্চ মূল্যস্ফীতি বর্তমানে সাধারণ মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় চাপ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক তুলনামূলক কঠোর মুদ্রানীতি বজায় রেখেছে এবং নীতিসুদের ক্ষেত্রে সংযত কিন্তু কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

 

একইসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা এবং ডলার বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ বাজারে আস্থার কিছুটা পুনরুদ্ধার ঘটিয়েছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। তবে ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশের মতে, দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকলে বিনিয়োগ ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যা নতুন শিল্প স্থাপন এবং বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণে কিছুটা ধীরগতি আনতে পারে।

 

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সংস্কার: আস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা

 

তৃতীয় এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল ক্ষেত্র হলো ব্যাংকিং খাতের সংস্কার। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নেতৃত্ব ব্যাংকিং সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সিএমএসএমই পুনঃঅর্থায়ন সম্প্রসারণ, ডিজিটাল ঋণ ব্যবস্থার অগ্রগতি, ঋণের দণ্ডসুদ হ্রাস এবং পুনঃতফসিল নীতিতে কিছুটা নমনীয়তা আনা।

 

এই পদক্ষেপগুলো একদিকে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হলেও অপরদিকে কিছু নীতির ক্ষেত্রে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন নীতি নিয়ে সমালোচকরা বলছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদে খেলাপি সংস্কৃতিকে আরও দৃঢ় করতে পারে এবং নৈতিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

 

নীতির ভারসাম্য: উন্নয়ন বনাম ঝুঁকি

 

বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম ১০০ দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামগ্রিক অবস্থানকে একটি ‘স্ট্যাবিলিটি-ড্রিভেন গ্রোথ অ্যাপ্রোচ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়—অর্থাৎ প্রথমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, তারপর ধীরে ধীরে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।

 

এই নীতির ফলে একদিকে যেমন অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার ইঙ্গিত মিলছে, অন্যদিকে এর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব এখনও দৃশ্যমান হয়নি। বিশেষ করে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

 

প্রেক্ষাপট: চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনীতির মধ্যেই দায়িত্ব গ্রহণ

 

গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেন এমন এক সময়ে, যখন দেশের অর্থনীতি একাধিক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিল। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট, খেলাপি ঋণের চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দুর্বলতা, ডলার বাজারে অস্থিরতা এবং বিনিয়োগ স্থবিরতা—সব মিলিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতি এক জটিল পরিস্থিতিতে ছিল।

 

এই বাস্তবতায় তার গৃহীত নীতিগত পদক্ষেপগুলোকে সামষ্টিক অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জনগণের জীবনযাত্রার ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এটি এখনও ‘প্রাথমিক পর্যায়ের নীতি পরীক্ষা’ মাত্র।

 

সামগ্রিক মূল্যায়ন

 

সব মিলিয়ে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের প্রথম ১০০ দিনকে অর্থনীতির একটি ‘পজিশনিং পিরিয়ড’ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এই সময়ে তিনি মূলত একটি কাঠামোগত ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করেছেন, যেখানে নিয়ন্ত্রণ, স্থিতিশীলতা এবং ধীরে ধীরে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার—এই তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়। অবশ্য অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নরকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাংকের সমালোচনা করছেন অনেকে।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, তার নীতিগুলোর চূড়ান্ত সফলতা নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর—১. নীতির বাস্তবায়ন গতি, ২. ব্যাংকিং খাতের সক্ষমতা ও শৃঙ্খলা এবং ৩. বেসরকারি খাতের আস্থা পুনরুদ্ধার।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি : সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি থাকতেই শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলার আসামি হন সাহাবুদ্দিন

মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারির অভিযোগে এক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছিল, যা সামনে এসেছে প্রায় ১০ মাস পর, যখন তিনি পদত্যাগ করেছেন।   ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।   ‘দুর্নীতি, প্রতারণা ও অবৈধ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ লুণ্ঠন ও আত্মসাতের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে পারস্পরিক যোগসাজশে’ ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগ আনা হয় মামলার ২০ আসামির বিরুদ্ধে।   বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটি আমলে নেন। একই সঙ্গে আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।   সর্বশেষ গত ২৩ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ছিল। তবে ওইদিন দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি ৷ এ কারণে ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর আগামী ১১ অগাস্ট প্রতিবেদন জমার পরবর্তী দিন রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান।   বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা যায় না। তাহলে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হল কী করে? আদালত তদন্তের নির্দেশইবা কী করে দিল?   মামলার এজাহারে দেখা যায়, ১২ নম্বর আসামির নাম দেওয়া হয়েছে মো. শাহাবুদ্দিন। তার পরিচয় দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, তিনি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক। পাশে ব্র্যাকেটের ভেতরে বলা হয়েছে, “জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেড কর্তৃক মনোনীত এবং ১ নম্বর ও ৩ নম্বর আসামির যোগসাজসে নির্বাচিত।”   জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হিসেবে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ও পরে ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছিলেন দুদকের সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন। ব্যাংকের অডিট কমিটিরও সদস্য ছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তিনি সেই পদ ছেড়ে দেন।   রোববার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে মামলার শাহাবুদ্দিন আর সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন একই ব্যক্তি কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়।   কেবল সাহাবুদ্দিনের নামের বানান নয়, তার বাবার নামের বানান এবং ঠিকানাতেও গড়মিল রয়েছে। তার বাবার নাম শরফুদ্দিন আনছারী হলেও মামলার এজাহারে লেখা হয়েছে সারাফ উদ্দিন আনসারি।   সাহাবুদ্দিনের স্থায়ী ঠিকানা পাবনা জেলায়। তবে মামলায় ঠিকানা লেখা হয়েছে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, "মামলার এজাহারে ১২ নম্বর আসামি শাহাবুদ্দিন সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি কি আমার জানা নেই। আমি ব্যাংকের পক্ষে প্যানেল আইনজীবী হিসেবে মামলা ফাইলিং করেছি। এর বাইরে আমার কিছুই জানা নেই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যে লিস্ট দিয়েছে তা ধরে মামলা ফাইলিং করা হয়েছে।"   পরে মামলার বাদী আবদুচ ছামাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তখন ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক ছিলেন, তিনিই এ মামলার আসামি।   মামলার অপর আসামিরা হলেন- ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন, আরাস্ত খান, অধ্যাপক মো. নাজমুল হাসান, আবু সাইদ মোহাম্মদ কাশেম, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সৈয়দ আবু আসাদ, মো. কামরুল হোসেন, আহসান আলম, ডা. মো. সেলিম উদ্দিন, শওকত হোসেন, খুরশিদ-উল-আলম, ডা. কাজী শহীদুল আলম, মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল মতিন, জামাল মোস্তফা চৌধুরী ও ডা. মো. সিরাজুল করিম।   কী অভিযোগ? মামলার অভিযোগ বলা হয়, আসামিদের পরিচালিত ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড ইসলামী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করে, যা কোম্পানির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ। এসব শেয়ারের মোট দাম ২৫১ কোটি টাকা।   ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলেও পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। মাত্র ৮ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের একটি কোম্পানির নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   এ কারণে আসামিরা ‘পরিকল্পিতভাবে, পরস্পরের যোগসাজশে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে’ এ লেনদেন সম্পন্ন করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।   মামলায় বলা হয়, ইসলামী ব্যাংকের মোট ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করেছিল ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি, যার অনেকগুলোই এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।   আর্জিতে বলা হয়, এই শেয়ার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস এবং ক্রয়-বিক্রয়ের তারিখ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শেয়ার বিক্রি ও কেনার তারিখ একই। অর্থাৎ শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি পূর্ব-পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।   “এস আলম গ্রুপ, তার মালিক এবং উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি এবং তাদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালকেরা সম্মিলিতভাবে এই ব্যাংকের উপর দখল প্রতিষ্ঠার কৌশল অবলম্বন করেছেন এবং তার দায়-দায়িত্বও সম্মিলিতভাবেই তাদের উপর বর্তায়। এই প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, অবৈধভাবে নিজেরা লাভবান হয়ে জনগণের অর্থের তসরূপে একই অভিপ্রায়ে ফৌজদারী বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে।”   কী বলছে দুদক? সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, “রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তাহার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে কোনো প্রকার ফৌজদারী কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাইবে না এবং তাহার গ্রেপ্তার বা কারাবাসের জন্য কোনো আদালত হইতে পরোয়ানা জারি করা যাইবে না।”   তাহলে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে মামলা কী করে হল জানতে চাইলে দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "রাষ্ট্রপতি থাকাকালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। হয়ত তারা (বাদীপক্ষ) পরিচয় গোপন করে কোর্টকে মিসগাইড করে আদেশ করিয়ে নিয়েছে।"   তিনি বলেন, "আমি মামলাটা সম্পর্কে অবগত না। দুদক তদন্ত করছে। এখন দুদক সিদ্ধান্ত নেবে কী করা যায়।"   এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড-সংক্রান্ত একটি মামলার নথিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নাম থাকার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে তদন্তের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট তদন্ত দলের কাছে পৌঁছায়নি।   “আদালত থেকে কোনো বিষয় তদন্তের জন্য দুদকে পাঠানো হলে তা কমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া ও অনুমোদন শেষে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আসে। বিষয়টি কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে কি না, সে তথ্যও তদন্ত দলের কাছে নেই।   তিনি বলেন, কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও দায়িত্ব না পাওয়া পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা নিজ উদ্যোগে এ ধরনের তদন্ত শুরু করতে পারেন না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পাউরুটিতে বিষাক্ত পটাশিয়াম ব্রোমেট বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারের ২৬টি টুথপেস্টে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক, গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি : সংগৃহীত

১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার, দায়িত্বমুক্ত ৯০ পুলিশ সদস্য

ছবি : সংগৃহীত
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: খুব শিগগিরই স্পিকারের সাক্ষাৎ চায় ইসি

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে কথা বলতে ইসির পক্ষ থেকে খুব শিগগিরই স্পিকারের সাক্ষাতের জন্য সময় চাওয়া হবে।     রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় স্পিকারের সঙ্গে কমিশনের একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এজন্য খুব দ্রুতই সময় চেয়ে স্পিকারের কাছে বার্তা পাঠানো হবে। স্পিকারের সাক্ষাতের পর তপশিল ঘোষণার পরবর্তী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত করা হবে।   রেওয়াজ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। সে মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।     এদিকে রোববার সিইসি’র কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও সার্বিক পরিস্থিতি সব নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিব আখতার আহমেদ অনির্ধারিত বৈঠক করেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইন নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়- রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরবর্তী কার্যক্রম ঠিক করতে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। এরপর ইসি সচিব সিইসির কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।    গত শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ক্ষমতাবলে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান আছে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক কর্মীদের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ২ মাসে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪২১ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে ১৫৫ অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা

ছবি: সংগৃহীত
১৫ বছরের কমবয়সী ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবে না

  ২৭ জুলাই হতে শুরু হচ্ছে ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন। এ বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ নিবন্ধন কার্যক্রম। এ সময়ের মধ্যেই হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।    সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত হজ কার্যক্রমের রোডম্যাপ অনুযায়ী এই সময়সূচি ঘোষণা করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।    সাড়ে তিন লক্ষ টাকা জমা দিয়ে সরকারি ও বেসরকারি যেকোনো মাধ্যমে হজের প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত ব্যক্তিদেরকে চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের পূর্বে হজযাত্রীদের আবশ্যিকভাবে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন করতে হবে।   যেসকল স্থানে নিবন্ধন করা যাবে: সরকারি মাধ্যমে ই-হজ সিস্টেমে (hajj.gov.bd) ইউজার তৈরি করে যেকেউ  নিজেই নিবন্ধন করতে পারবে। এছাড়া, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম অফিস ও ঢাকা হজ অফিসে হজের নিবন্ধন করা যাবে। সরকারি মাধ্যমে হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদেরকে সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। তবে, বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদেরকে হজ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে এজেন্সির নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দিতে হবে। এজেন্সির ব্যাংক হিসাবের তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।     যেসকল ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না: ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবে না। এছাড়া, দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন: হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগ, স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত ও ডিমনেশিয়া রোগী, কেমোথেরাপি বা বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিচ্ছেন-এমন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী হজে যেতে পারবে না। এছাড়া, জনস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে এমন সক্রিয় সংক্রামক রোগ যেমন- যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তি হজে যেতে পারবে না। গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাস ও ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় কোনো মহিলা হজযাত্রী ফিটনেস সনদ পাবে না।   উল্লেখ্য, প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীদেরকে আবশ্যিকভাবে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরণ ও হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ সম্বলিত পাসপোর্ট প্রয়োজন হবে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা, সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে স্পষ্ট নয় তথ্য

‘বাংলাদেশকে জ্ঞান ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায় সরকার’

চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

0 Comments