জাতীয়

পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

 নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশকে জনগণের বন্ধু হতে হবে। পুলিশের যে ভাবমুর্তি আগে বিনষ্ট হয়েছে, তা ফিরিয়ে আনতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর, আজ বুধবার প্রথম কর্মদিবসে নিজ দপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সবার একাউন্টিবিলিটি ও ট্রান্সপারেন্সি বজায় রাখতে হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে। কোন প্রকার অবৈধ তদবির চলবে না। আর বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে, সাথে সাথে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশে মব কালচার পুরোপুরি বন্ধ করতে চাই। মব কালচার শেষ। দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না। 

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল ও সমাবেশ করা যাবে, স্মারকলিপিও দেয়া যাবে। আমরা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।

তিনি এ সময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। 

এর আগে মন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছলে সালাহউদ্দিন আহমদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোসহ ‘গার্ড অভ অনার’ প্রদান করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সিল-স্বাক্ষর জালিয়াতি, গাইবান্ধায় বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে মামলা

গাইবান্ধায় জমি রেজিস্ট্রি ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনসংক্রান্ত এফিডেভিটে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সিল ও স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জাল স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে তৈরি একটি এফিডেভিট আদালতে বৈধ নথি হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।   বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ও মামলার বাদী নাজমুল হুদা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার সদর আমলি আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলার নম্বর সিআর-১৩৫/২৬।   মামলায় আসামি করা হয়েছে পলাশবাড়ী উপজেলার পূর্বপাড়া মহেশপুর গ্রামের মানিকুল্ল্যার ছেলে সাকোয়াত হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামানকে।   আদালত ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট সকালে সাকোয়াত হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান এনআইডি সংশোধনসংক্রান্ত একটি এফিডেভিটের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আদালতের বেঞ্চ সহকারীর কাছে জমা দেন। কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় একই ব্যক্তিকে নিয়ে একই ম্যাজিস্ট্রেটের নামে করা আরেকটি এফিডেভিটের ফটোকপি দেখতে পান বেঞ্চ সহকারী।   এরপর আসাদুজ্জামান তার বাবা সাকোয়াত হোসেনের ‘একই ব্যক্তি মর্মে’ করা এফিডেভিটের মূল কপি জমা দেন। সেটি পরীক্ষা করে দেখা যায়, নথিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির আহম্মেদের নামে ব্যবহৃত স্বাক্ষর ও সিল তার নয়।   মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই এফিডেভিটে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩, গাইবান্ধার সিল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির আহম্মেদ গত ১৫ জুলাইয়ের আগে পলাশবাড়ী উপজেলার এফিডেভিট সম্পাদনের দায়িত্বে ছিলেন না।   এজাহারে আরও বলা হয়, এফিডেভিটটি ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে সম্পাদিত দেখানো হয়েছে এবং এতে সাব্বির আহম্মেদের স্বাক্ষর রয়েছে। নথিতে ৬২৩/২৬ নম্বর স্মারক উল্লেখ করা হলেও আদালতের প্রকৃত এফিডেভিট রেজিস্টার যাচাই করে ওই নম্বরের কোনো এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। রেজিস্টারে সর্বশেষ ৫ মে তারিখে ৪৫০/২৬ নম্বর স্মারকের এন্ট্রি রয়েছে।   এসব তথ্য যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট এফিডেভিটটি জাল ও সৃজিত বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বাবা-ছেলে পরস্পর যোগসাজশে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল নকল করে এফিডেভিটটি তৈরি করেন। পরে সেটিকে বৈধ নথি হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।   এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জাল এফিডেভিটে ব্যবহৃত ইংরেজি ভাষার সিলটিও ভুয়া। কারণ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর এফিডেভিটে ব্যবহৃত প্রকৃত সিল বাংলায় লেখা।   এ ঘটনায় সাকোয়াত হোসেন, আসাদুজ্জামানসহ অজ্ঞাতনামা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে।   জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ও মামলার বাদী নাজমুল হুদা বলেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির আহম্মেদের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় এফিডেভিট করতে আসা বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে সদর আমলি আদালতে মামলা হয়েছে। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বরখাস্ত ও হয়রানি বন্ধে পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

সেপ্টেম্বরে এলপিজির দাম কমল, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৫৮৫ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু বাড়ছেই, একদিনে শনাক্ত আরও ২২ জন

ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে দেড় দশকের ভুল নীতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতা: প্রতিমন্ত্রী

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা দেওয়া বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য গত দেড় দশকের ভুল নীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।   জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, গত ৯ আগস্ট দেশে গত ৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল। তবে কারিগরি সমস্যা সমাধান এবং সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।   বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।   অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে বর্তমানে দৈনিক ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।   তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় পুরো গ্যাস সরবরাহ করলে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে। তাই দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি সচল রাখতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি খাতের মধ্যে গ্যাস বণ্টনে ভারসাম্য করতে হচ্ছে।   বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে কয়েকটি কারিগরি সমস্যার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট বর্তমানে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে।   এ ছাড়া আগের চুক্তি অনুযায়ী আদানি থেকে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ২১ জুলাই আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত দুটি এফএসআরইউর একটি বিকল হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। তবে বর্তমানে ওই সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।   অমিত বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপনের চুক্তি বাতিল না হলে বর্তমান পরিস্থিতি এতটা কঠিন হতো না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা মেটাতে দ্রুত নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮ সালের মধ্যে এটি চালু করা সম্ভব হবে।   তিনি আরও জানান, গত ১৫ আগস্ট বিকল এফএসআরইউটি পূর্ণ সক্ষমতায় পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছু সময় লাগছে। চলতি সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   ফার্নেস অয়েল কেন্দ্র চালানোর সিদ্ধান্ত: বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতি মোকাবিলায় ফার্নেস অয়েল বা এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব কেন্দ্র থেকে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হলেও বাস্তবে তা সম্ভব নয়। কারণ এগুলো ‘পিকিং পাওয়ার প্লান্ট’ হওয়ায় দীর্ঘ সময় একটানা চালানো যায় না। সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সক্ষমতায় এসব কেন্দ্র পরিচালনা করা সম্ভব। সে হিসাবে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।   প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপুল অর্থের প্রয়োজন। আগের সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জমে থাকা বকেয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই অর্থ দ্রুত ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দেওয়া হচ্ছে। মাতারবাড়ী ও পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি করে ইউনিট বর্তমানে কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সরকার নজরদারি করছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য রাত ৮টার পর বিপণিবিতান ও দোকানপাট বন্ধ রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।   ছাদে সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্ব: মধ্যমেয়াদে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ‘রুফটপ সোলার’ ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুম সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে রুফটপ সোলার সিস্টেম স্থাপনকারীরা পরবর্তী তিন বছর উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। এতে তিন বছরের মধ্যে বিনিয়োগের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম—সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও ভোল্টেজ রেগুলেটর আমদানিতে আগামী ছয় মাসের জন্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর মওকুফ করা হয়েছে। আমদানিকারকদের শুধু ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি দিতে হবে বলেও জানান তিনি।   ‘জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ’: বিগত দেড় দশকে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, খুলনা-৩ আসনে নির্মিত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে, তারও নিশ্চয়তা নেই। একই সঙ্গে ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থার সক্ষমতা যথেষ্ট বাড়ানো হয়নি। এ ছাড়া জ্বালানি আমদানিতে নির্দিষ্ট একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকেও ভুল নীতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলেই বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। বর্তমান সরকার জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। সবশেষে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে জনগণের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুতই সংকট কেটে যাবে বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সংসদে হান্নান মাসুদ: সংবাদ সরানো ও সাইবার হামলায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কি সংকুচিত হচ্ছে?

ছবি: সংগৃহীত

প্রেমিকের ব্যবসার কথা বলে ৪ লাখ টাকা যৌতুক দাবি, স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর মামলা

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক পারস্পরিক স্বার্থে আবদ্ধ: দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
মাদক ও নৈতিক অবক্ষয় ঠেকাতে প্রাথমিক থেকেই উদ্যোগ চান শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘মাদকাসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে শিক্ষার একেবারে প্রাথমিক স্তর থেকেই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউটদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে হবে আজকের মেধাবীদেরই। দেশ গঠনে তাদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে হবে। মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের যথাযথভাবে উৎসাহিত করার কোনো বিকল্প নেই।’ স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘স্কাউটিং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেওয়া, মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া, দেশকে ভালোবাসা এবং প্রয়োজনে দেশের জন্য আত্মত্যাগের মানসিকতা তৈরি করে। একইভাবে খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’ তিনি বলেন, ‘তরুণদের মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে হবে। স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হয়, কীভাবে মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হয় এবং দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হয়-এসব শিক্ষা পাওয়া যায়।’ এ লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। দেশের ২২ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মধ্যে ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী পুরস্কৃত করেছেন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পোশাক ও মিড ডে মিলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। শিক্ষাক্রমের পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘চতুর্থ শ্রেণি থেকে স্পোর্টস, কালচার, এথিকস ও মরালস এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্কাউটের জন্য পৃথক স্কিম নেওয়া হয়েছে এবং বিএনসিসির জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা ভালো ফল করেছে, তাদের যথাযথভাবে সম্মানিত ও পুরস্কৃত করা হবে। আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার দায়িত্বও মেধাবী শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের মেধা ও বিশাল জনসংখ্যা দেশের উন্নয়নের অন্যতম বড় সম্পদ। এই মানবসম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি উদাহরণ তৈরি করতে সক্ষম হবে। আগামী প্রজন্মের হাত ধরেই দেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।’

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধিমান মানুষ, সফরের সিদ্ধান্ত তার ওপর: ভারতীয় হাইকমিশনার

দুর্নীতির মামলায় স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হয়নি

ছবি: সংগৃহীত

গৃহকর্মীর মৃত্যুর মামলায় সাংবাদিক আশফাক ও স্ত্রীর বিচার শুরু

0 Comments