বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত আজ নিজ দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এ সময় তারা বাংলাদেশের এভিয়েশন বা বিমান চলাচল খাতকে আধুনিকায়ন করতে স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
আজ বুধবার সচিবালয়ে এই দুই মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। এ উপলক্ষে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, জনস্বার্থে গতিশীল ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদের সহযোগিতা করতে এসেছি। একই সঙ্গে আমরা আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতাও প্রত্যাশা করি। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা জনস্বার্থে এই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও কার্যকর করতে চাই।’
এ সময় তিনি মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ সব সংস্থার কার্যক্রমে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।
এদিকে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত তার বক্তব্যে নতুন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।
জাতীয় উন্নয়নে এভিয়েশন খাতের কৌশলগত গুরুত্বের কথা তুলে ধরে তিনি দেশের বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
নবনিযুক্ত মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সক্ষমতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চলমান এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নফাঁসের খবরকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে জানিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগে বা চলাকালে কোনো স্বীকৃত গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে বোর্ড। শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এসএম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিতে এ দাবি করা হয়। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, একটি টেলিভিশন চ্যানেলে এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর বাংলা প্রথম পত্রের (১০১) সব বোর্ডের প্রশ্নফাঁস হয়েছে মর্মে যে প্রতিবেদন প্রচার করা হয়েছে, তা মিথ্যা, অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। ইতোমধ্যে ২১ এপ্রিল বাংলা প্রথম পত্র (১০১) এবং ২৩ এপ্রিল বাংলা দ্বিতীয় পত্রের (১০২) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বোর্ড জানায়, উভয় পরীক্ষা শুরুর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত কোনো তথ্য স্বীকৃত কোনো গণমাধ্যম, অন্য কোনো মাধ্যম বা কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে পাওয়া যায়নি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার একদিন পর প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত সংবাদ প্রচার করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায়, প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে আরও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত করে জনমনে বিভ্রান্তি দূরীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, বিভ্রান্তি দূর করতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে যথাযথভাবে বিষয়টি প্রচার ও প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে একটি অসাধু চক্র শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক ও নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের চেষ্টা করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে, ২০ এপ্রিল পুলিশের সিটি ইন্টেলিজেন্স অ্যানালাইসিস বিভাগ (সিটিটিসি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ‘এসএসসি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস গ্রুপ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ শনাক্ত করে। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি বিশেষ দল ২৩ এপ্রিল ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার জিরাবো টাঙ্গুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা অবৈধ আর্থিক লাভ এবং সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে প্রশ্নফাঁসের মিথ্যা প্রচার চালিয়ে চলমান পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত গুজব, অপপ্রচার ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে সচেতন থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
মেধাভিত্তিক সৃজনশীল মানবসম্পদ গঠনে সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দক্ষ, উদ্ভাবনী এবং সৃজনশীল মানবসম্পদ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানচর্চা এবং গবেষণার প্রসারে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং বাস্তবমুখী দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে তরুণ প্রজন্মকে যুগোপযোগী জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে হবে। এজন্য শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে, যাতে নতুন প্রজন্ম আত্মবিশ্বাসী ও কর্মদক্ষ হয়ে উঠতে পারে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের যুবসমাজই ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ এবং সৃজনশীল বিকাশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি মানবসম্পদভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাই হবে অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সালিশি বৈঠকের মধ্যে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে সিংগাইর পৌরসভার গোলড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত নজরুল ইসলাম (৫০) ওই এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নজরুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই খন্দকার ওয়াহিদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওয়াহিদ ও তার পরিবারের সদস্যরা নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে অভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে নজরুল ইসলামের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত খন্দকার ওয়াহিদ পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।