বিশ্বজুড়ে গরম বেড়ে যাওয়ার খবর প্রায়ই শোনা যায়। তবে অধিকাংশ বাসযোগ্য এলাকায় পরিস্থিতি এখনো মানুষের জন্য জীবনযাপন অসহনীয় নয়। বিশেষ করে শুষ্ক অঞ্চলে গরম হলেও শরীর ঘাম দিয়ে নিজেকে ঠাণ্ডা রাখতে পারে।
কিন্তু এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে গরমের সঙ্গে আর্দ্রতাও বেশি থাকে। মধ্যপ্রাচ্য, পাকিস্তান ও ভারতের কিছু এলাকায় গরমে সামুদ্রিক আর্দ্রতা যুক্ত হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। সেখানে ঘাম দ্রুত বাষ্পীভূত হয় না, তাই শরীর ঠাণ্ডা হয় না এবং দীর্ঘ সময় থাকলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।
গবেষকরা ‘ওয়েট বাল্ব থার্মোমিটার’ ব্যবহার করে এই ঝুঁকি মাপেন। যদি ওয়েট বাল্ব তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হয়, শরীর যথেষ্ট তাপ বের করতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের মে মাসে দিল্লিতে তাপমাত্রা ৪৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালে অনেক মানুষ তাপদাহে মারা গিয়েছিলেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ : যখন আমরা কয়লা, তেল বা গ্যাস জ্বালাই, তখন কার্বন ডাই অক্সাইড তৈরি হয়। এটি বায়ুমণ্ডলে জমে সূর্যের তাপ ধরে রাখে। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন হয়।
তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপজ্জনক গরম এবং আর্দ্রতা আরও বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গালফ কোস্ট ও মরুভূমি এলাকায়, যেখানে কৃষিকাজে জল স্প্রে করা হয়, সেসব অঞ্চলেও গরম ও আর্দ্রতার ঝুঁকি বাড়ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন শুধু গরমের সমস্যা নয়। এটি আগুন, খরা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ায়। একুশ শতকের শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উর্ধ্বগতির কারণে প্রায় ২০ কোটি মানুষ বাসস্থান হারাতে পারেন। এছাড়া কৃষি ও অর্থনীতিও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
খারাপ খবর হলো, যতক্ষণ আমরা কার্বন জ্বালাবো, তাপমাত্রা বাড়তেই থাকবে। ভালো খবর হলো, আমরা সোলার ও উইন্ড পাওয়ারের মতো পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবহার করে কার্বন নির্গমন কমাতে পারি। গত ১৫ বছরে পরিষ্কার শক্তি আরও সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য হয়েছে, এবং প্রায় সব দেশ জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সম্মত। যেমন আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে এই পৃথিবী বাসযোগ্য রাখতে পারি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সৎসাহস থাকলে অপরাধ স্বীকার করে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দাবি তার স্বভাবসুলভ বাগাড়ম্বর এবং রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি। তার সৎসাহস থাকলে অপরাধ স্বীকার করে দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ঈদযাত্রা নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের নানামুখী ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে এবার দেশের মানুষ অত্যন্ত স্বস্তিতে ও শান্তিতে ঈদ যাপন করতে যাচ্ছে। ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতীতে ঈদে বাড়ি ফেরার পথে মানুষের মাঝে যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও শঙ্কা কাজ করত, এবার তা নেই। সড়কে ও মহাসড়কে চাঁদাবাজি এবং অরাজকতা মোকাবিলায় বর্তমান সরকার অত্যন্ত তৎপর। ফলে এবার ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষকে তেমন কোনো যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না।’ রিজভী আরও বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমান সরকারের কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ১০০ দিনে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার যে আন্তরিকতা ও তৎপরতা দেখিয়েছে, তা প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, আগামী দিনেও জনগণকে দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে দল ও সরকার একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
ছাত্র জীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দলটির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্যাগী নেতা হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও মনোনয়ন পাননি বিএনপির এ নেতা। এবার যুগান্তরের সঙ্গে একান্ত এক সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনাবলি তুলে ধরেছেন তিনি। ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া দিনগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার পুরোনো স্মৃতিগুলো অনেক সময় খেয়াল করতে একটু সমস্যা হয়। তবে যতদূর মনে পড়ে আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়ি, রংপুর কারমাইকেলের স্টুডেন্ট ছিলাম। তখন আমার আব্বা কারমাইকেলেরই গণিতশাস্ত্রের অধ্যাপক ও হেড অব ডিপার্টমেন্ট ছিলেন। তাকে বলা হতো অংকের জাহাজ। শিক্ষক হিসেবে তার সুনাম ছিল। সবাই তাকে খান স্যার বলে চিনতেন। সারা বাংলাদেশেই ওনার অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছে। অনেক শক্ত ব্যক্তিত্বের মানুষ ছিলেন। তার (হাবিব উন নবী খান সোহেলের বাবা) প্রেজেন্সে ওখানে আমার রাজনীতি করাটা খুব কঠিন ছিল। হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, বাবা চাইতো না যে আমি ওনার কলেজে রাজনীতি করি, মিছিল মিটিং করি, এটা চিন্তাও করা যেত না। তবে আমি যখন সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, তখন কলেজের ইলেকশন হলো, আমরা সে সময় যারা জেলা স্কুল থেকে কলেজে একসঙ্গে এসেছিলাম; তারা মিলে তখন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষে কাজ করলাম। বিশেষ করে আমি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি বিশেষভাবে খুব দুর্বল ছিলাম। কারণ তার সততা এবং দেশপ্রেম আমাকে সবসময় উজ্জীবিত করতো, কাছে টানতো। কিন্তু মিছিল মিটিং করতে পারতাম না আব্বার ভয়ে। ইলেকশনে আমি একটু গোপনেই কাজ করলাম। সেই ৪০-৫০ দশকের কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতারা যেভাবে গোপনে কাজ করতেন সেভাবে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেলকে আমরা জেতাতে পেরেছিলাম। এরপরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি, রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বেড়েছে, দলের প্রতি ভালোবাসা বেড়েছে। দল যখন যে নির্দেশ দিয়েছে সে নির্দেশই পালন করেছি।
যানবাহনের মালিকদের মোবাইলে বিদেশি নম্বর থেকে পাঠানো হচ্ছে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ভুয়া এসএমএস। এর মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকদের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য রাজধানীতে সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হয়ে সেই তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট চালকের মোবাইল নম্বরে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রতারক চক্র সাধারণ নাগরিকদের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এআই মামলার নামে একটি এসএমএসের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট নিয়ে এই প্রতারণা চলছে। এসএমএস পাঠিয়ে বলা হচ্ছে গ্রাহকের নামে এআই মামলা হয়েছে, দেওয়া হচ্ছে মামলা নম্বর এবং বিআরটিএর লোগো সংবলিত একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা। সেখানে গিয়ে করতে হবে মামলার জরিমানা পরিশোধ। রোববার (২৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী এই এসএমএসের সত্যতার বিষয়ে জানতে চেয়ে স্ট্যাটাস দেন। এমনকি ট্রাফিক অ্যালার্ট গ্রুপে পরিচয় গোপন করেও একজন নাগরিক পোস্ট করেছেন। সেখানে বেশ কয়েকজন গ্রাহক এমন বার্তা পেয়েছেন বলে কমেন্টও করেছেন। এ ছাড়া অনেকেই নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে পোস্ট করেও এই এসএমএসের কথা জানতে চেয়েছেন। তাদের মধ্যেই একজন রাজধানীর লালবাগের বাসিন্দা ইয়াসিন পাটোয়ারী। প্রতারকের পাঠানো এসএমএসের ছবিসহ তিনি তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘আমার ফোনে একটি এসএমএস এসেছে। এটা কি সত্যিকারের এআই মামলা, নাকি কোনো স্ক্যাম?’ আর সেই ছবিটি তিনি সংযুক্ত করেছেন সেখানে লেখা আছে “[বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ] জরিমানা পরিশোধ-সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি। জরিমানা নম্বর: ২০২৬-বিডি-৫৬১২৩০৪৩টি। তারিখ: ২৪ মে, ২০২৬। স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা (ক্যামেরা নম্বর: টিআর-৭৭২) অনুযায়ী, আপনার যানবাহনটি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করা না হলে, আপনার লঙ্ঘনের রেকর্ড জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং আপনি আইনানুগ শাস্তির সম্মুখীন হবেন। অনুগ্রহ করে ২৪ মে মধ্যরাতের পূর্বে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধ করুন: https://bspbrtcar-govbd.online। এই বার্তাটি পুনরায় খুলতে ‘১’ চাপুন, লঙ্ঘনের রেকর্ড দেখুন এবং ক্যামেরার ছবি ও জিপিএস অবস্থানের তথ্য যাচাই করুন।” এ বিষয়ে ইয়াসিন কালবেলাকে বলেন, ‘সরকার কীভাবে জরিমানা নেবে, পদ্ধতিটা কীভাবে হবে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য গ্রাহককে না জানিয়ে এই প্রকল্প চালু করায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চালকরা। আমাদের জানানো উচিত ছিল কীভাবে মামলা হবে, কীভাবে জরিমানা দেওয়া হবে, অথবা মামলাটি আসলেই হলো কি-না। সে বিষয়গুলো সম্পর্কে আমাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া প্রয়োজন ছিল। সরকার এই উদ্যোগ না নেওয়ায় একটি অসাধু চক্র এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে।’ এই এসএমএসের সত্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল তানভীর হাসান জোহা কালবেলাকে বলেন, ‘এই মেসেজে থাকা কিছু বিষয় বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। যার মধ্যে বিদেশি নম্বর (+63) থেকে বার্তা এসেছে, যা বাংলাদেশের সরকারি ট্রাফিক বা জরিমানা ব্যবস্থার স্বাভাবিক যোগাযোগ পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ছাড়া ওয়েবসাইট ‘.gov.bd’-এর পরিবর্তে ‘.online/.icu’ ডোমেইন ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল সেবা সাধারণত gov.bd ডোমেইনের অধীনে পরিচালিত হয়। ‘govbd’ শব্দটি ডোমেইনে থাকলেই সেটি সরকারি হয় না। তানভীর হাসান জোহা আরও বলেন, ‘প্রতারকদের পাঠানো ওই মেসেজে, ভয়ভীতি ও জরুরি চাপ (আরজেন্সি ট্যাকটিক) প্রয়োগ করা হয়েছে। যেমন ‘জাতীয় ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত’, ‘আইনানুগ শাস্তি’ ইত্যাদি। এটি ফিশিং ক্যাম্পেইনের একটি পরিচিত কৌশল, যার মাধ্যমে মানুষকে দ্রুত লিংকে ক্লিক ও পেমেন্টে প্রলুব্ধ করা হয়। এ ছাড়া সাধারণ নাগরিক যদি বিশ্বাস করে পেমেন্ট করেন, তাহলে কার্ড তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য, ওটিপি বা ব্যক্তিগত ডাটা চুরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা নোবেল দে কালবেলাকে বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমি এ বিষয়ে কথা বলেছি। বিআরটিএ থেকে এআই মামলা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একই সঙ্গে বিআরটিএ এই ধরনের কোনো মামলার পেমেন্টও নিচ্ছে না। কেউ যদি বিআরটিএর নাম ভাঙিয়ে কোনো এসএমএস বা অন্য কোনো পন্থায় এই মামলার কোনো পেমেন্ট নেয়, সেটি স্পষ্টতই প্রতারণা।’ এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ‘এআই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপির পক্ষ থেকে কারও মোবাইলে এখনো কোনো মেসেজ পাঠানো হয়নি। ডাকযোগে বাসার ঠিকানায় মামলার ডকুমেন্ট পাঠানো হচ্ছে। যার গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হবে, তিনি সরাসরি ট্রাফিক বিভাগের অফিসে গিয়ে জরিমানা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করবেন।’