ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (আইএমইসি) নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হলেও এর ভবিষ্যৎ শুধু পণ্যবাহী রেলপথ নির্মাণের ওপর নির্ভর করছে না। ডিজিটাল ক্যাবল, বিদ্যুৎ সংযোগ ও পরিচ্ছন্ন হাইড্রোজেন পরিবহনের মতো পৃথক প্রকল্পও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ফলে রেলপথ নির্মাণে বিলম্ব হলেও এসব সংযোগ আলাদাভাবে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছে এখন মূল প্রশ্ন—কোন প্রকল্প বাস্তবে তৈরি হচ্ছে, এর অর্থায়ন করছে কে এবং গ্রাহকেরা কবে থেকে এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। খবর গালফ নিউজ
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, আইএমইসি কেবল পণ্য পরিবহনের পরিকল্পনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৩ সালের জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে ঘোষিত এই চুক্তিতে ডিজিটাল ক্যাবল, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং পরিচ্ছন্ন হাইড্রোজেন রপ্তানির জন্য পাইপলাইন তৈরির সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা রয়েছে।
প্রকল্পগুলোর প্রতিটি আলাদা আলাদা গ্রাহকশ্রেণিকে সেবা দেবে এবং এগুলোর জন্য প্রয়োজন হবে পৃথক অর্থনৈতিক সংস্থান ও তহবিল। ফলে রেলপথ নির্মাণে কত সময় লাগছে বা দেরি হচ্ছে, সেই একই সময়সূচির সমীকরণে অন্য প্রকল্পগুলোকে বিচার করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।
যখন পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়, তখন এই বিষয়টি বেশ বড় হয়ে সামনে আসে। একটি ডিজিটাল ক্যাবল যদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করে একটি কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে পারে, তবে সেটি নিজেই একটি বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর অর্থ এটি নয় যে মালবাহী রুটটি প্রস্তুত হয়ে গেছে, ঠিক একইভাবে বলা যায়; রেলপথ তৈরিতে বিলম্ব হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি পৃথক ডিজিটাল প্রজেক্টের কাজকে থামিয়ে রাখবে না।
সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে দেওয়া সমর্থন আইএমইসি প্রকল্পটিকে আবারও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে যখন নিরাপদ রুটের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে গেছে, তখন বিভিন্ন দেশের সরকার এমন একটি পথের খোঁজে রয়েছে যা বড় ধরনের বিঘ্ন বা বাধার ঝুঁকি মুক্ত। এমন পরিস্থিতিতে এই আগ্রহ অত্যন্ত স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গত। তবে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য আসল প্রশ্নটি অনেক বেশি নির্দিষ্ট ও বাস্তবমুখী।
তারা জানতে চান, মূলত কী তৈরি হচ্ছে, কে এর খরচ জোগাচ্ছে এবং গ্রাহকরা ঠিক কবে নাগাদ এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।
বাস্তবতার নিরিখে একটি ডিজিটাল ক্যাবল এবং একটি পণ্যবাহী রেলপথকে সম্পূর্ণ আলাদা উপায়ে নিজেদের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে হয়। একটি ক্যাবলের ক্ষেত্রে প্রয়োজন দুই প্রান্তে মজবুত সংযোগ এবং এমন কিছু গ্রাহক যারা এই পরিষেবা ব্যবহারের বিনিময়ে অর্থ দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে একটি কার্যকর পণ্যবাহী সেবা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন প্রতিটি চালানের ক্ষেত্রে জাহাজ, ট্রেন, বন্দর এবং সীমান্ত পারাপারের চমৎকার সমন্বয়।
আইএমইসির বিশাল ডিজিটাল লক্ষ্যের সাথে যুক্ত একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’র একটি নথি অনুযায়ী, এই করিডোরের ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় পরিকল্পিত ৯ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ব্লু রামান’ সাবসি বা সামুদ্রিক ক্যাবল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এতে প্রায় ৪০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের কথা উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে ইইউ প্রদান করবে ৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো।
এই নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানগুলো আলোচনার ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট ও বাস্তব ভিত্তি জোগায়। তবে এই বাজেট সংক্রান্ত তথ্যগুলো থেকে কোনোভাবেই এটি প্রমাণ হয় না যে আইএমইসির মূল রেলপথ নির্মিত হয়ে গেছে বা এর অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে। এমনকি এর অর্থ এটাও নয় যে পরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও হাইড্রোজেন সংযোগগুলো চালুর জন্য তৈরি। প্রতিটি প্রকল্পকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে তাদের নিজস্ব বাণিজ্যিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
যদি পণ্য পরিবহনের দিক বিবেচনা করা হয়, তবে বাণিজ্যিক পরীক্ষাটি অত্যন্ত জটিল ও কঠিন। ভারত থেকে একটি কনটেইনার জাহাজে করে ছেড়ে আসবে, এরপর উপসাগরীয় একটি বন্দরে সেটিকে ট্রেনে তুলে দেওয়া হবে, যা ভূমধ্যসাগরের দিকে এগোবে এবং ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য আবারও তা জাহাজে তোলা হবে। প্রতিবার পণ্য এক যান থেকে অন্য যানে স্থানান্তরের কারণে সময় এবং খরচ দুটোই বেড়ে যাবে। গ্রাহকদের আকর্ষণ করতে হলে পুরো এই দীর্ঘ যাত্রাটিকে সাধারণ সামুদ্রিক জাহাজে পণ্য পাঠানোর তুলনায় স্পষ্ট কোনো বড় সুবিধা অফার করতে হবে।
বর্তমানে জাহাজগুলো ইতোমধ্যেই ভারত, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউরোপকে যুক্ত করেছে। তাই স্থলপথের অংশটিই মূলত ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন এবং বিকল্প একটি পথ তৈরি করে দেবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পণ্যবাহী রেলপথ বর্তমানে সৌদি আরব সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছেছে, কিন্তু ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য যে নিরবচ্ছিন্ন রেল সংযোগ দরকার, তা এখনও অনুপস্থিত।
২০২৫ সালের আটলান্টিক কাউন্সিলের একটি গবেষণা প্রতিবেদনে সৌদি আরব, জর্ডান এবং ইসরায়েলকে যুক্ত করার প্রস্তাবিত এই পথটিকে একটি বড় ঘাটতি বা অনুপস্থিত লিঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হাইফা পর্যন্ত একটি মৌলিক পণ্যবাহী রুট তৈরি করতেই প্রায় ৪.৮৬ বিলিয়ন থেকে ৫.১৮ বিলিয়ন ডলারের বড় তহবিলের ঘাটতি রয়েছে। উল্লেখ্য, এটি কেবল একটি সুনির্দিষ্ট অংশের ধারণাগত হিসাব, সমগ্র করিডোরের জন্য চূড়ান্ত বা অনুমোদিত কোনো বাজেট নয়।
যেকোনো বিকল্প আন্তর্জাতিক পথ গড়ে তুলতে হলে সেটিকে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য হতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নৌপথে চলাচলের বিঘ্ন ও নিরাপত্তা সংকট একটি বিকল্প বাণিজ্য পথের যৌক্তিকতা সহজেই বুঝিয়ে দিয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পণ্য পৌঁছাতে দেরি হলে, একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প রুট তাদের সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে সেই বিকল্প পথটি কেবল তখনই কার্যকর হবে, যখন প্রয়োজনে সত্যি সত্যিই সেটিকে ব্যবহার করা যাবে।
আইএমইসির প্রস্তাবিত এই রুটটি সমুদ্রপথের সব ঝুঁকি পুরোপুরি এড়াতে পারবে না। উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো বন্দরে পৌঁছাতে হলেও পণ্যবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়েই যেতে হতে পারে। আটলান্টিক কাউন্সিল ওমানের মাধ্যমে আরব সাগরে সরাসরি প্রবেশাধিকারকে সেই ঝুঁকি কিছুটা কমানোর উপায় হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে সে ক্ষেত্রে ওমান থেকে মূল রুটের সাথে একটি কার্যকর ও শক্ত সংযোগ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, রেলপথের ক্ষেত্রেও থাকবে নিজস্ব কিছু জটিলতা ও চ্যালেঞ্জ। আন্তঃদেশীয় সীমান্ত পদ্ধতি, শুল্ক এবং চার্জের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে একমত হতে হবে। একই সাথে অপারেটরদের এমন সুনির্দিষ্ট সময়সূচি বজায় রাখতে হবে যেন ব্যবসায়ীরা এর ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা রাখতে পারেন। শুধু রেলের ট্র্যাক তৈরি করলেই কাজ শেষ হবে না; সেটিকে বাণিজ্যিকভাবে বুকিং দেওয়ার মতো পরিষেবায় রূপান্তর করা মূল চ্যালেঞ্জ।
ঠিক এই কারণেই আইএমইসি-কে প্রকল্প ধরে ধরে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যদি একটি ডিজিটাল ক্যাবল সংযোগ গ্রাহক টানতে সক্ষম হয়, তবে সরকারগুলো রেল সংযোগের জটিল সমস্যাগুলো সমাধান করার ফাঁকেই সেই ডিজিটাল প্রকল্পটি এগিয়ে যেতে পারে। একই কথা খাটে একটি কার্যকরী বিদ্যুৎ সংযোগ বা হাইড্রোজেন পাইপলাইনের ক্ষেত্রেও, যদি সেগুলোর অর্থায়ন ও ক্রেতা নিশ্চিত থাকে। ফলে একটি পূর্ণাঙ্গ মালবাহী পথ তৈরি না হলেও এই স্বতন্ত্র প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি একেবারেই বাস্তব ও কার্যকর রূপ নেবে।
২০২৬ সালের এপ্রিলে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাগিদকে বেশ স্পষ্টভাবেই তুলে ধরেছিলেন। কেবল হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল না থেকে রফতানি সচল রাখার পথ খোঁজার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখনই আইএমইসির মতো প্রতিশ্রুতিশীল সংযোগ প্রকল্পগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত সময়।
বর্তমান সময়ের মূল কাজ হলো এই রাজনৈতিক সমর্থনকে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট প্রকল্পে রূপ দেওয়া, যেগুলোর খরচ, সম্ভাব্য গ্রাহক এবং বাস্তবায়নের সময়সূচি একেবারে পরিষ্কার। আইএমইসি অঞ্চলে রেল চলাচল শুরু হওয়ার আগেই অন্যান্য সুবিধাজনক সংযোগ বা কেব্ল সেবা চালু হয়ে যেতে পারে। পুরো করিডোরের অগ্রগতির চিত্রটি তখনই সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব হবে, যখন প্রতিটি সম্পন্ন হওয়া লিঙ্ককে তার কাজের ভিত্তিতে এককভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং ড্রয়িং বোর্ডে যা এখনও আটকে আছে, সে সম্পর্কেও সমানভাবে পরিষ্কার ধারণা রাখা হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরো গভীর করতে চাইছে জাপান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক ভারত সফরে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও সরবরাহব্যবস্থার মতো কৌশলগত খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে। ফলে দিল্লি-টোকিও সম্পর্ক এখন আর শুধু অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূরাজনীতি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠছে। খবর নিপ্পন ডটকম দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলন কেবল দুই দেশের মধ্যকার সুদীর্ঘ বাণিজ্য ও কূটনৈতিক যোগাযোগকেই বেগবান করেনি বরং নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, জ্বালানি এবং প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। ১৬তম জাপান-ভারত বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে দুই দেশের সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার প্রসারের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা চীন-জাপান ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির চেয়েও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। কোয়াড জোটের আওতায় 'মুক্ত ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা' গড়ার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দক্ষ মানবসম্পদ আদান-প্রদান এবং শিক্ষার্থী বিনিময়ের মাধ্যমে দু'দেশের জনযোগাযোগ বাড়াতে দুই পক্ষই ঐকমত্য পোষণ করেছে। ডিফেন্স ও সিকিউরিটি ক্ষেত্রে এবার অভূতপূর্ব অগ্রগতি দেখা গেছে। ইয়োকোসুকাতে আয়োজিত ‘জাইমেক্স ২৫’ নৌমহড়ার ধারাবাহিকতায় ভারতীয় নৌবাহিনী ও জাপানের মেরিটাইম সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। জাপানের মোগামি-ক্লাস ফ্রিগেটে ব্যবহৃত উন্নত স্টিলথ প্রযুক্তি ‘ইউনিকর্ন’ (ইউনিফাইড কমপ্লেক্স রেডিও অ্যান্টেনা) ভারতে হস্তান্তরের একটি নীতিগত চুক্তিও এই সম্মেলনে সম্পন্ন হয়েছে। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষমতায়নে বড় ভূমিকা রাখবে। অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুরক্ষার স্বার্থে সেমিকন্ডাক্টর, বিরল খনিজ পদার্থ, আইসিটি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং ওষুধ; এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে টোকিও ও নতুন দিল্লি। বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন সচল রাখতে এই উদ্যোগ ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অর্থবহ। ১৯৯৭ সালের আগ পর্যন্ত বা জাপানের প্রয়াত ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের সফরের আগে ভারতে জাপানি ব্যবসার প্রসার ছিল বেশ ধীরগতির। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত মারুতি সুজুকি ছিল এর একমাত্র বড় ব্যতিক্রম। তবে ২০০৫ সালে তৎকালীন জাপানি প্রধানমন্ত্রী কোইজুমি জুনিচিরোর সফরের পর থেকে বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের যে প্রচলন শুরু হয়, তা দু'দেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেয়। সরকারি সংস্থা জেট্রোর (জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবর নাগাদ ভারতে ৫,২০৫টি স্থানে ১,৪৩৪টি জাপানি প্রতিষ্ঠান কাজ করছিল। যদিও চীনের ৩০ হাজার স্থানের তুলনায় এই সংখ্যা কম, তবে মহামারী-পরবর্তী সময়ে সুজুকি, ব্রিজস্টোন ও ইউনিচার্মের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতে তাদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় কারখানা স্থাপন করে ব্যবসা সম্প্রসারণ তরান্বিত করেছে। আজকের দিনে এই ব্যবসায়িক বিনিয়োগ কেবল প্রথাগত অটোমোবাইল বা ইলেকট্রনিক্স খাতে সীমাবদ্ধ নেই। ফ্যাশন ব্র্যান্ড ইউনিক্লো ভারতে পাঁচটি বছরের মধ্যে ১০০টি স্টোর খোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। ৭-ইলেভেন ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে ভারতে ৬০টিরও বেশি আউটলেট চালাচ্ছ, এবং গৃহস্থালি সামগ্রীর জায়ান্ট নিতোরি মুম্বাইতে তাদের কার্যক্রম চালু করেছে। অন্যদিকে ভারী শিল্পে নিপ্পন স্টিল আর্সেলরমিত্তালের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বেশি বিনিয়োগ করে কারখানা সম্প্রসারণ করেছে। পাশাপাশি সানটোরি, সুমিতোমো রিয়েলটি, ওসাকা গ্যাস এবং মোনোটারোর মতো বিভিন্ন খাতের নামিদামি প্রতিষ্ঠান তাদের ভারতকেন্দ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় রয়েছে। গত বছরের আগস্টে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইশিবা শিগেরু এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকে ঘোষিত আগামী ১০ বছরে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রাকে সচল রাখতে এ বছরের সম্মেলনে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী টাকাইচির উপস্থিতিতে সম্মেলনে বিগত এক বছরে ঘোষিত ২ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের দীর্ঘ বিবরণ তুলে ধরা হয়, যা নতুন দিল্লিকে গভীরভাবে আশ্বস্ত করেছে। উভয় দেশের শীর্ষ নেতার উপস্থিতিতে আয়োজিত জয়েন্ট ইকোনমিক ফোরামে ১৫০টিরও বেশি জাপানি ও ৮০টিরও বেশি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রগুলোতেও এই সফর নতুন গতি সঞ্চার করেছে। মহাকাশ গবেষণায় ভারতের 'লুপেক্স' মিশন থেকে শুরু করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য অ্যামোনিয়া উৎপাদন, বায়োমিথেন প্রকল্প এবং ইস্পাত কারখানার গ্যাস প্ল্যান্ট পরিচালনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। যোগাযোগ খাতে জাপানের সহায়তায় গড়ে ওঠা দিল্লি মেট্রো; যা বর্তমানে ৪১৬ কিলোমিটার বিস্তৃত হয়ে টোকিও সাবওয়ে নেটওয়ার্ককেও ছাড়িয়ে গেছে; ভারতের শহুরে জীবনের চিত্র বদলে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের (প্রায় ১.৮ ট্রিলিয়ন ইয়েন) ঋণে আহমেদাবাদ থেকে মুম্বাই পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে ভারতের প্রথম 'বুলেট ট্রেন' বা শিনকানসেন প্রকল্প, যা ২০২৭ সালের আগস্ট নাগাদ আংশিক চালুর কথা রয়েছে। জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোপারেশন (জেবিআইসি)-এর জরিপ অনুযায়ী, টানা চতুর্থ বছরের মতো জাপানি কোম্পানিগুলোর কাছে আগামী তিন বছরের ব্যবসা প্রসারের জন্য ভারত ‘সবচেয়ে সম্ভাবনাময়’ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এছাড়া জেট্রোর তথ্যানুযায়ী, ভারতে ব্যবসারত ৭৫.৫ শতাংশ জাপানি প্রতিষ্ঠান চলতি অর্থবছরেই মুনাফা অর্জনের আশা করছে। ২০০০ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ভারতে জাপানের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ ৪৮.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অবশ্য ভারতের সঙ্গে সফল কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা জাপানের জন্য সবসময় মসৃণ নয়। ভারতের নিজস্ব বহুমুখী কূটনৈতিক নীতি রয়েছে, যেখানে দেশটি কোনো পরাশক্তির চাপে নতিস্বীকার করে না। যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ চাপ উপেক্ষা করা বা রাশিয়ার সঙ্গে নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করে জ্বালানি বাণিজ্য বজায় রাখা এবং চীন থেকে শর্তসাপেক্ষে বিনিয়োগ গ্রহণের মতো পদক্ষেপগুলো ভারতের এই স্বাধীন অবস্থানেরই প্রমাণ। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দক্ষ মানবসম্পদের সংকট মোকাবিলায় এবং জনসংখ্যা হ্রাসজনিত চ্যালেঞ্জ উৎরাতে ভারতের বাজার, প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞদের ওপর জাপানের আস্থা দিন দিন দৃঢ় হচ্ছে।
রোববার থেকে সোমবার রাতের মধ্যে ব্রিটেনে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করার সময় ফ্রান্সের উপকূলের কাছে দুই ব্যক্তি মারা গেছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। ফরাসি কর্তৃপক্ষ বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ কথা জানিয়েছে, নিহত দুই অভিবাসীর বয়স ছিল ত্রিশ ও চল্লিশের কোঠায়।
দক্ষিণ চীন সাগরে সন্দেহভাজন ডিনামাইট দিয়ে মাছ ধরার বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান বাধাগ্রস্ত করেছে চীনা জাহাজ। শুধু তাই নয়, আকাশপথেও চীনা নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার তাদের ওপর খবরদারি করে। ফিলিপাইনের নিয়ন্ত্রণাধীন থিতু দ্বীপের কাছে রবিবার এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড (পিসিজি) জানায়, থিতু দ্বীপের পশ্চিমে প্রায় তিন নটিক্যাল মাইল দূরে স্যান্ডি কেইস ২ ও ৩-এর কাছে ডিনামাইট বা বিস্ফোরক ব্যবহার করে মাছ ধরার সন্দেহে একটি বিদেশি মাছ ধরার নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশের মেরিটাইম গ্রুপের সদস্যরা অংশ নেন। পিসিজির দাবি, অভিযান চলাকালে দুটি চায়না কোস্ট গার্ডের জাহাজ হর্ন বাজিয়ে ফিলিপাইনের দলকে রেডিওতে চ্যালেঞ্জ করে। পরে তারা ফিলিপাইনের নৌযানগুলোর গতিবিধি অনুসরণ করে সেগুলোর পথ আটকে দেয়। একই সময় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ফিলিপাইনের সদস্যদের ওপর চারবার চক্কর দেয়। ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড এটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় ভীতি প্রদর্শন’ বলে আখ্যা দিয়েছে। অভিযানে ফিলিপাইনের দলটি সন্দেহভাজন মাছ ধরার নৌযানটিকে থামার নির্দেশ দেয় এবং একাধিকবার রেডিওতে যোগাযোগ করে। তবে নৌযানটি নির্দেশ অমান্য করে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে চীনের নিয়ন্ত্রণাধীন সুবি রিফের দিকে চলে যায়। নিরাপত্তার কারণে ফিলিপাইনের বাহিনী পরে ধাওয়া বন্ধ করে থিতু দ্বীপে ফিরে আসে। পিসিজি বলেছে, থিতুর আঞ্চলিক জলসীমায় চায়না কোস্ট গার্ডের কোনো আইন প্রয়োগের এখতিয়ার নেই। তাদের কর্মকাণ্ডের ফলে সন্দেহভাজন নৌযানটি পালিয়ে যেতে আরও সুবিধা পেয়েছে বলেও দাবি ফিলিপাইনের। এদিকে ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার বিতর্কিত স্কারবরো শোলের কাছে একটি ফিলিপাইন টহল বিমানের খুব কাছে চীনের জে-১৬ যুদ্ধবিমান বারবার এসে গতিপথ পরিবর্তন করে। এতে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। ফিলিপাইনের সশস্ত্র বাহিনী ঘটনাটিকে তাদের বৈধ কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাহাজ ও বিমানের বিরুদ্ধে ‘অনিরাপদ ও জবরদস্তিমূলক আচরণের ধারাবাহিক প্রবণতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। দক্ষিণ চীন সাগরে সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে একাধিক সামুদ্রিক উত্তেজনার মধ্যে সর্বশেষ এসব ঘটনা ঘটল। এ বিষয়ে ফিলিপাইনে চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।