জাতীয়

প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫১, হারালেন ১ জন

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১০, ২০২৬ 0

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপিল শুনানির প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৫১ জন। আর একজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে তিনজনের বিষয়টি অপেক্ষমাণ রয়েছে।

 

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন অডিটোরিয়ামে প্রথম দিনের শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে চার নির্বাচন কমিশনাররাও অংশ নেন। প্রথম দিন নির্ধারিত ৭০টি আপিল আবেদনের শুনানি করা হয়।

 

আপিল আবেদন শুনানিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারাসহ ৫১ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তাদের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল করেছিলেন। পরে ইসিতে এ বিষয়ে আপিল করেন তারা।

 

এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে বিএনপির এম এ হান্নানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস কে একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে কমিশন। তার নামে মামলা ও পলাতক থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

 

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যারা

 

আপিল মঞ্জুর হওয়ায় প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন রংপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ আলম বাসার, শরীয়তপুর-১ আসনের মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা (স্বতন্ত্র), শরীয়তপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল হান্নান, নরসিংদী-১ আসনে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় পার্টির মো. ছালাউদ্দিন খোকা, ফরিদপুর-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মিজানুর রহমান, গাজীপুর-৫ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. রুহুল আমীন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নুরউদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে জাতীয় পার্টির মু. খুরশিদ আলম, রাজশাহী-৫ আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. আলতাফ হোসেন মোল্লা, কুমিল্লা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের বড়ুয়া মনোজিত ধীমন, লালমনিরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সামা মো. রেদওয়ানুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আনোয়ার হোসেন, ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারা, চাঁদপুর-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মানসুর, মাদারীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহা. কামরুল ইসলাম সাইদ, বগুড়া-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শাহজাহান আলী তালুকদার, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে মো. শাহীন রেজা চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, চাঁদপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির হাবিব খান, কুমিল্লা-৯ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. আবদুল হক আমিন, নেত্রকোনা-৪ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চম্পা রানী সরকার, ময়মনসিংহ-৭ আসনে বিএনপির ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান, পঞ্চগড়-১ ও ২ আসনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আল রাশেদ প্রধান, নরসিংদী-৫ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মশিউর রহমান, মাগুরা-২ আসনে জাতীয় পার্টির মশিয়ার রহমান, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির, হবিগঞ্জ-৪ আসনে এবি পার্টির মোকাম্মেল হোসেন, গাইবান্ধা-১ আসনে মো. মোস্তফা মহসিন, গোপালগঞ্জ-২ আসনে কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, ঝালকাঠী-১ আসনে জাতীয় পার্টির মো. কামরুজ্জামান খান, কক্সবাজার-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, শরীয়তপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, গাজীপুর-৩ আসনে ইসলামী ঐক্য জোটের মুফতি শামীম আহমেদ, টাঙ্গাইল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, শরীয়তপুর-১ আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির নুর মোহাম্মদ মিয়াআসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সালাহউদ্দিন সরকার, গাজীপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হেদায়াতুল্লাহ হাদী, গাজীপুর-৫ আসনে জাতীয় পার্টির ডা. মো. সফিউদ্দিন সরকার, ফেনী-১ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী, হবিগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কাজী তোফায়েল আহম্মেদ, বগুড়া-৬ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের দিলরুবা, নরসিংদী-২ আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইব্রাহীম, নড়াইল-২ আসনে জাতীয় পার্টির খন্দকার ফায়েকুজ্জামান, দিনাজপুর-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহনেওয়াজ ফিরোজ শুভ শাহ, খুলনা-৫ আসনে জাতীয় পার্টির শামিম আরা পারভীন (ইয়াসমীন), ঢাকা-১৮ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সৈয়দ হারুন-অর- রশীদ এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির পনির উদ্দিন আহমেদ।

 

যাদের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে

 

নরসিংদী-৪ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী শরিফুল ইসলাম, বাগেরহাট-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজিবর রহমান শামীম, রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির মো. মঞ্জুম আলী, গোপালগঞ্জ-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রনী মোল্লা, ঢাকা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনির হোসেন, খুলনা-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আছাদুল বিশ্বাস, ঢাকা-৩ আসনে জাতীয় পার্টির মো. ফারুক, নাটোর-১ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. আজাবুল হক, নড়াইল-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. উজ্জল মোল্যা, পাবনা-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মো. হাসানুল ইসলাম, খুলনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রউফ মোল্যা (অনুপস্থিত), কুমিল্লা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জায়েদ আল মাহমুদ, ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার, কক্সবাজার-৩ আসনে মো. ইলিয়াছ মিয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুছা সিরাজী।

 

সিদ্ধান্ত অপেক্ষমাণ রয়েছে যাদের

 

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন, যশোর-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুজ্জামান ও পটুয়াখালী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবরি প্রার্থিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত অপেক্ষমাণ রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, নৌপরিবহন উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ

শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বন্দরে পৌঁছালে শ্রমিকরা ৪ নম্বর গেটে তার গাড়িবহর আটকে বিক্ষোভ করেন। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি বৈঠকে বসছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। সকালে বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের থাকতে বলা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে একটি চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে শ্রমিকরা টানা তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যান। বর্তমানে বন্দর জেটিতে কনটেইনার ও মালামাল হ্যান্ডলিং, ইয়ার্ড থেকে পণ্য সরবরাহ ও হস্তান্তর এবং জাহাজ চলাচল—সব কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বন্দর সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আন্দোলন আরও কঠোর হয়েছে। আন্দোলনকারীরা বন্দরের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে অবস্থান নিয়ে ট্রাফিক, ইলেকট্রিকাল, মেকানিক্যালসহ অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বন্দরে প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষের চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনাকারী সিডিডিএলের পরিচালক যেন একজন বা দুজন শ্রমিক প্রতিনিধিকে বৈঠকে পাঠান। এ বৈঠকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার অতিরিক্ত পরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর আঞ্চলিক কমান্ডার, চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, কোস্ট গার্ডের জোনাল কমান্ডার এবং নেভি ইন্টেলিজেন্সের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬ 0

দেশে এসেছে ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৪ জন প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট

ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা বৃদ্ধি, ভোটারদের নিরাপত্তা শঙ্কা তীব্র

মানবাধিকার সহায়তা সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) সংবাদ সম্মেলন। ছবি : সংগৃহীত

১৭ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ঝরেছে ১৯৫ প্রাণ : এইচআরএসএস

সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য জনমুখী নীতিমালার আহ্বান বাংলাদেশের

 সামাজিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নতুন করে বৈশ্বিক সংহতি এবং জনমুখী নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এতে সবার জন্য সমান সুযোগসহ অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহানুভূতিশীল সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সামাজিক উন্নয়ন কমিশনের ৬৪তম অধিবেশনে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উন্নয়ন প্রচেষ্টার কেন্দ্রে মানুষকে স্থান দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। আজ ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। অধিবেশনে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আলোকপাত করেন রাষ্ট্রদূত, যেখানে গ্রামীণ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং নিপীড়নের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষার ক্ষেত্রে আরো বেশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সামাজিক উন্নয়ন কমিশনের ৬৪তম অধিবেশন চলতি মাসের ২ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ২০২৩-২০২৭ মেয়াদে কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতারক চক্র থেকে সাবধান থাকার আহ্বান ইসির

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন ও গণভোটের তথ্য পেতে ডায়াল করুন ৩৩৩

ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের

ছবি: সংগৃহীত
বিএনপি কাজে বিশ্বাস করে, সমালোচনায় নয়: মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি সবসময় কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, নিছক সমালোচনায় বিশ্বাস করে না। আজ বুধবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদ্রাসা ও ঈদগাহ মাঠে বিএনপি আয়োজিত পথসভায় তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটি দল রাজনীতিতে এসে ক্রমাগত মিথ্যাচার করছে। রাজনীতি করার অধিকার সবার রয়েছে, নির্বাচন নিশ্চয়ই করবে-কিন্তু দয়া করে মিথ্যা কথা বলবেন না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে দেখছি, একটি দল নারীদের নিয়ে নানা অশালীন ও হেয় প্রতিপন্ন করার মতো কথা বলছে। আপনারাই বলুন, যারা দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী-আমাদের মা-বোনদের সম্মান ও ইজ্জত দিতে জানে না, তারা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে?’ বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কলকারখানা স্থাপন, যুবকদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং দেড় বছরের মধ্যে ১ কোটি যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। নতুন সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে এই আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার আমার বিরুদ্ধে ১১৭টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমি সাড়ে তিন বছর কারাগারে ছিলাম। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০ বছর কারাভোগ করেছেন। এ সময় ২০ হাজার নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন।’ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন, গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করুন।’ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রত্যেক পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ, তেল ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ কিনতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। নারীদের এনজিও ঋণের কিস্তির দায়ভার সরকার নেবে। পাশাপাশি দেড় বছরের মধ্যে ১ কোটি যুবকের চাকরি ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পথসভায় জেলা, উপজেলা ও ওয়ার্ড বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ ভোটার অংশ নেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬ 0
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তারেক রহমানকে ‘সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়েছে দ্য ডিপ্লোম্যাট

ছবি: সংগৃহীত

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ কেউ যেন অনৈতিকভাবে নষ্ট করতে না পারে : নজরুল ইসলাম খান

ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ভোটের সিল তৈরি, প্রেস মালিক আটক

0 Comments