রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সড়কের দুই পাশে পোশাকধারী পুলিশের অবস্থান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ির পরিবর্তে নিজের গাড়িতে চলাচল করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
তিনি বলেন, দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী সাভার ও শেরে বাংলা নগর গিয়েছিলেন নিজের টয়োটা গাড়িতে চড়ে। সেখান থেকে সচিবালয়ে তিনি এসেছেন সেই গাড়িতেই।
শিবলী বলেন, যানজটের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। এত দিন গাড়িবহরে ১৩-১৪টি গাড়ি থাকত। আজ সেটা কমিয়ে চারটি করা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হলে সব মন্ত্রীকে সচিবালয় থেকে আসতে একটা জট সৃষ্টি হয়, ভিআইপি চলাচলের সময় সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়ে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আবদুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি এবং মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন— ১. সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ২. সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল কবীর পল ৩. সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া ৪. সহ-সভাপতি কামাল আনোয়ার আহাম্মদ ৫. সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান মাহফুজ ৬. সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম দুলাল ৭. সহ-সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী ৮. সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান ৯. সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ দিপু ১০. সহ-সভাপতি আবদুল জব্বার খান ১১. সহ-সভাপতি খন্দকার এনামুল হক এনাম ১২. সহ-সভাপতি শরীফ উদ্দীন জুয়েল ১৩. সহ-সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ ১৪. সহ-সভাপতি রফিক আহমেদ ডলার ১৫. সহ-সভাপতি সাইদ ইকবাল মাহমুদ টিটু ১৬. সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ফিরোজ আবদুল্লাহ ১৭. সহ-সভাপতি মাহমুদুস সালেহীন ১৮. সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক ১৯. সহ-সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জল ২০. সহ-সভাপতি এইচ এম তসলিম উদ্দিন ২১. সহ-সভাপতি নাজমুল আলম নাজু ২২. সহ-সভাপতি মো. আনোয়ারুল হক ২৩. সহ-সভাপতি আবু সাঈদ আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র) ২৪. সহ-সভাপতি রহিম উদ্দিন (যুক্তরাজ্য) ২৫. সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ মুন্না ২৬. সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম টিটু ২৭. সহ-সভাপতি ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ২৮. সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল আজিম সুমন ২৯. সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান আকন্দ ৩০. সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল (দপ্তরের দায়িত্বে)। ৩১. সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ৩২. ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক ৩৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ৩৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সোহাগ ৩৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু আতিক আল হাসান মিন্টু ৩৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নাসির উদ্দিন রুমন ৩৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন ভূইয়া ৩৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈনুদ্দীন রুবেল ৩৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মিলন ৪০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলট ৪১. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইখতিয়ার রহমান কবির ৪২. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন ৪৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মিরাজ ৪৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিঞা মোহাম্মদ রাসেল ৪৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম সরকার ৪৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক ৪৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ৪৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল মনসুর খান দীপক ৪৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আল আশরাফ মামুন ৫০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ৫১. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহা সুমন ৫২. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারেক উজ জামান তারেক ৫৩. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শোয়াইব খন্দকার ৫৪. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুর রহমান বাবু ৫৫. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ৫৬. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল ওয়াহাব ৫৭. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ হিরো (সৌদি আরব) ৫৮. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম তমাল আহমেদ ৫৯. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম ৬০. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া (দপ্তরের দায়িত্বে)। ৬১. সহ সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন লিমন ৬২. সহ সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান পারভেজ ৬৩. সহ সাধারণ সম্পাদক এন এম আব্দুল্লাহ উজ্জল ৬৪. সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ ৬৫. সহ সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন মামুন ৬৬. সহ সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন ভূইয়া ৬৭. সহ সাধারণ সম্পাদক রাহাদুল আলম খান ৬৮. সহ সাধারণ সম্পাদক রুহুল ইসলাম মনি ৬৯. সহ সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান ৭০. সহ সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক পাভেল ৭১. সহ সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মাইনউদ্দিন খোকন ৭২. সহ সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন চয়ন ৭৩. সহ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান পলাশ ৭৪. সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফুল হক আরিফ ৭৫. সহ সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ: কামরুল হাসান খান সাইফুল ৭৬. সহ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান ৭৭. সহ সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির সেলিম ৭৮. সহ সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান ভূইয়া সবুজ ৭৯. সহ সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মেহেদী হাসান জুয়েল ৮০. সহ সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হক ৮১. সহ সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন মুন্না ৮২. সহ সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম রানা ৮৩. সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী। ৮৪. সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জুয়েল ৮৫. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ গাফফার ৮৬. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ ফারুকী হীরা ৮৭. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন ৮৮. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব ৮৯. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল আলম ৯০. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন সরকার শাওন ৯১. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান শামীম ৯২. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি ৯৩. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুর রহমান সোহেল ৯৪. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম ৯৫. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার রিয়াজ ৯৬. সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাশেদুল ইসলাম রিপন ৯৭. প্রচার সম্পাদক আল মেহেদী তালুকদার ৯৮. সহ প্রচার সম্পাদক তারেকুর রহমান ৯৯. সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আশরাফ জালাল খান মনন ১০০. সহ সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেল ১০১. তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন ১০২. কোষাধ্যক্ষ রোকনুজ্জামান রোকন। ১০৩. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মুর্তজা কামাল মোস্তাক ১০৪. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. ইউনুস আলী রবি ১০৫. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ ১০৬. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. তানভীর হাসান সোহেল ১০৭. আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. গাজী মো. মাসকুরুল আলম সৌরভ ১০৮. কৃষি বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ সানোয়ার আলম ১০৯. সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ফকির লিঙ্কন ১১০. শ্রম বিষয়ক সম্পাদক পার্থ দেব মন্ডল ১১১. শিল্প বিষয়ক সম্পাদক কারীমুল হাই নাঈম ১১২. যোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক সাজিদ হাসান বাবু ১১৩. ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি ১১৪. সহ ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. মেজবাহউদ্দিন মেজু ১১৫. পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম রুমন ১১৬. গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মহিন উদ্দিন রাজু ১১৭. সহ গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান রয়েল ১১৮. বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাপ্পী ১১৯. সহ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম ১২০. ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ১২১. ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান নান্নু ১২২. ত্রাণ ও পুর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ ১২৩. সহ ত্রাণ ও পুর্নবাসন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মজুমদার ১২৪. সহ-গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার মাহবুবুর রহমান মাহী ১২৫. সহ জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন ১২৬. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কে এস এম মুসাব্বির শাফী ১২৭. তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইমরান আহমেদ প্রিন্স ১২৮. মৎস্য ও পশুপালন বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান রনি। ১২৯. স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. গালিব হাসান ১৩০. স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বেলাল হোসেন নাজিম ১৩১. সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মাহমুদুল হাসান খান সুমন ১৩২. সহ স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. আল মামুন হাসান খান এমিল ১৩৩. সহ কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদ হাসান ১৩৪. আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খায়রুজ্জামান লিঙ্কন (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) ১৩৫. আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এ আর মামুন খান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) ১৩৬. আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম মুরাদ (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) ১৩৭. মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. মাহবুবুল আলম আকতার ১৩৮. প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান ১৩৯. পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক হেদায়েত হোসেন ভূইয়া ১৪০. সহ পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক রাশেদ আল আমিন শুভ। ১৪১. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) আমিনুল ইসলাম খান ১৪২. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মাহবুব শিকদার ১৪৩. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) মহসীন বিশ্বাস ১৪৪. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) জহিরুল ইসলাম বিপ্লব ১৪৫. সদস্য (সহ সাধারণ সম্পাদক পদমর্যাদা) রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু ১৪৬. সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি শাহেদ ১৪৭. সদস্য নাজিম উদ্দিন মিঠু ১৪৮. সদস্য মাহমুদুল করিম সজল ১৪৯. সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ শাহীন ১৫০. সদস্য মো. এমরান হোসেন শাহীন ১৫১. সদস্য ফখরুল বিন খালেক।
দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। দলীয় সূত্রে আলোচনা রয়েছে, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস এবং দায়িত্ব বণ্টনে পরিবর্তন আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত কিছু নেতাকে মূল্যায়নের আওতায় আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই পুনর্গঠন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার পরিবর্তে সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। দলীয় পর্যবেক্ষকদের ধারণা, পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটে নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় বা বিতর্কিত হিসেবে বিবেচিত নেতাদের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে। এর ফলে দলীয় কাঠামোয় একটি নতুন ভারসাম্য সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রে সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও সেই ধারাবাহিকতায় দলকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এদিকে পুনর্গঠন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা চললেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা এখনও দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক মহল এখন আওয়ামী লীগের পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাসের দিকে নজর রাখছে।
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ড থেকে ২ কার্গো, যুক্তরাজ্য থেকে ২ কার্গো এবং সিঙ্গাপুর থেকে ১ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ (আরএফকিউ-ইন্টারন্যাশনাল) পদ্ধতিতে ৩ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬-২৭ জুন সময়ের জন্য ২৬তম কার্গো, ৩০ জুন-১ জুলাই সময়ের জন্য ২৭তম কার্গো এবং ৬-৭ জুলাই সময়ের জন্য ২৮তম কার্গো, এই তিন কার্গো এলএনজি কেনা হবে। ক্রয় প্রস্তাবের আওতায় এক কার্গো এলএনজি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং দুই কার্গো যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এই তিন কার্গো এলএনজি কিনতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪ টাকা (এআইটিসহ)। বৈঠকে আর এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সুইজারল্যান্ড থেকে স্বল্প মেয়াদে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ২ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ২ কার্গো এলএনজি কিনতে মোট কতো টাকা ব্যয় হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুইজারল্যান্ডের এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে এলএনজি সরবরাহ এবং এফআরএসইউ স্থাপনের জন্য আগ্রহ ব্যক্ত করে প্রস্তাব দাখিল করে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে জি-টু-জি ভিত্তিতে চুক্তির আওতায় এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে স্বল্প মেয়াদে ২০২৬ সালে কিছু সংখ্যাক এলএনজি সরবরাহের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। এলএনজি আমদানিতে স্পট মার্কেটের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী মূল্যে জি-টু-জি ভিত্তিতে স্বল্প মেয়াদে এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে ২০২৬ সালে ২ কার্গো এলএনজি নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে নির্ধারিত জাপান কোরিয়া মার্কেট ফরমুলা-অনুযায়ী দরপ্রস্তাব প্রতি এমএমবিটিইউ (জেকেএম+০.১২৫ মার্কিন ডলার) হিসেবে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করলে মন্ত্রিসভা কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে। এক কার্গোতে এলএনজির পরিমাণ হচ্ছে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ।