প্রবাসী

প্রবাসীদের সাহায্য করে বিপদে সৌদি নাগরিকরা!

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৪, ২০২৬

সৌদি আরবের পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা জাওয়াজাত গত রজব মাসে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১৯ হাজার ৫৫৯ জনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয় নাগরিক ও প্রবাসী উভয়ের বিরুদ্ধেই নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। অপরাধের ধরণ অনুযায়ী আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রশাসনিক কমিটি।

 

201311765211476667

 

সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে বসবাসকারীদের আশ্রয় দেওয়া, পরিবহন সুবিধা দেওয়া বা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া যাবে না। এ ধরনের আইন লঙ্ঘনকারীদের তথ্য গোপন করা বা তাদের যেকোনো উপায়ে সহায়তা করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। সৌদি সরকার কঠোরভাবে জানিয়েছে, নিয়ম ভঙ্গকারীদের সহায়তাকারীদেরও সমভাবে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

 

201311765211617555

 

এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসাধারণকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, মক্কা, মদিনা, রিয়াদ এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের বাসিন্দারা ৯১১ নম্বরে এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দারা ৯৯৯ নম্বরে কল করে এ জাতীয় অপরাধের তথ্য জানাতে পারবেন। কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে, তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে এবং তাদের ওপর কোনো আইনি দায়ভার আসবে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতে মিসাইল-ড্রোন হামলা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।   বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে বসবাসরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সামরিক স্থাপনার আশপাশ থেকে দূরে থাকারও আহ্বান জানানো হয়েছে।   এ ছাড়া কুয়েতের আইন মেনে চলার পাশাপাশি দেশটির সরকারের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি-সংক্রান্ত কোনো ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড না করার জন্যও প্রবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে।   জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য— হটলাইন: +৯৬৫ ৬৯৯২০০১৩ হটলাইন: +৯৬৫ ৬৬৫১৬৪০৪ হটলাইন: +৯৬৫ ৫০৮৯৫১৬১ ই-মেইল: mailto:mission.kuwait@mofa.gov.bd

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তিন ক্যাটাগরিতে ১৩৫ প্রবাসী পাবেন সিআইপি মর্যাদা, আবেদন শুরু

ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রিদে ঢাকা ফ্রুতাসের দুই দশক পূর্তি, লেকের পাড়ে জমকালো মিলনমেলা

ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রিদে জকিগঞ্জ প্রবাসীদের মিলনমেলা, আনন্দ-উৎসবে মুখর রুইদেরাতা

রমজান আলী
পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় প্রবাসী নিহত, দেশে ফেরা হলো না রমজান আলীর

৩৫ বছর পর দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রমজান আলী (৫১)। পাকিস্তানে বসেই বাংলাদেশ দূতাবাসে দেশে ফেরার জন্য আবেদন করেছিলেন। স্বপ্ন ছিল, এক সপ্তাহের মধ্যেই ফিরবেন। দেশে এসে মা-বাবার কবর জিয়ারত করবেন, বিয়ে করে সংসার পাতবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গত রোববার নিহত হয়েছেন তিনি। রমজান আলী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নডালিয়া গ্রামের আবুল খায়েরের দ্বিতীয় ছেলে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তানে পাড়ি জমান তিনি। এরপর সেখানকার একটি টেক্সটাইল মিলে টানা ৩৫ বছর কাজ করেন। বিয়ে করেননি। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন রমজান। এ জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদন করেন তিনি। তাঁর ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য দূতাবাস থেকে সীতাকুণ্ড থানায় তথ্য পাঠানো হয়। পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) তাঁর গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন দেয়। নিহতের বোন মিলি আক্তার বলেন, দেশে স্বজনদের সঙ্গে রমজানের খুব বেশি যোগাযোগ ছিল না। তবে মাঝে মাঝে মা-বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। মা-বাবা মারা যাওয়ার পর গত আট বছর ধরে দেশে থাকা ভাই-বোনদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তিনি বলেন, গত রোববার রাতে পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান রমজান। সবকিছু ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। মিলি আক্তারের ভাষ্য, দেশে ফিরে বিয়ে করে সংসার করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন তাঁর ভাই। তাঁর জন্য পাত্রী খোঁজাও শুরু করেছিলেন বোনেরা। মিলি বলেন, ‘ভাই বলেছিল, ৩৫ বছর পর দেশে এসে মা-বাবার কবর দেখবে, জিয়ারত করবে। দেশে এসে বিয়ে করে সংসার করবে—এমন ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিল। কিন্তু তার সেই আশা আর পূরণ হলো না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমাদের আর কোনো চাওয়া নেই। শুধু ভাইয়ের লাশটা দেশে এনে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করতে চাই। সরকারের সহযোগিতা পেলে আমরা ভাইয়ের শেষ ইচ্ছাটা পূরণ করতে পারব।’ বর্তমানে রমজানের গ্রামের বাড়িতে এক ভাই ও দুই বোন রয়েছেন। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২৬
শেফ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী।

ফ্রান্সে বিশ্বসেরা শেফদের সঙ্গে লড়াইয়ে বাংলাদেশের আলী চৌধুরী

ছবি: সংগৃহীত

এনআইডি-পাসপোর্টে তথ্যের অমিল, দেশে ফিরে বাড়ছে প্রবাসীদের ভোগান্তি

ছবি: সংগৃহীত

বন্ধের নির্দেশ, জরিমানাও হয়েছিল—তবু গ্যারেজ চলছিল, আগুনে প্রাণ গেল প্রবাসী ইউসুফের

ছবি: সংগৃহীত
পাচারকারীদের হাতে নির্যাতনের পর মালয়েশিয়ায় উদ্ধার দুই বাংলাদেশি

মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের শিকার দুই বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বন্দিশিবিরে আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণের দাবির পর তাদের পেনাং রাজ্যের একটি রিফিউজি ক্লিনিকের সামনে ফেলে যায় পাচারকারী চক্র।   উদ্ধার হওয়া দুই বাংলাদেশির একজন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার অটোচালক জনি। অন্যজন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মো. মোশাররফ হোসেন।   জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে বিমানবন্দর এলাকায় এক দালালের সঙ্গে পরিচয় হয় জনির। ভালো চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাকে কক্সবাজারের টেকনাফে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কথা বলে রাতের আঁধারে জোর করে একটি নৌকায় তুলে দেওয়া হয় তাকে।   প্রায় ১০ দিন সমুদ্রপথে যাত্রার পর নৌকাটি থাইল্যান্ডে পৌঁছায়। সেখানে জনিসহ অন্যদের একটি বন্দিশিবিরে প্রায় চার মাস আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। দীর্ঘ সময়ের নির্যাতনে তার হাত-পায়ে পচন ধরে যায় বলে জানা গেছে।   পাচারকারীরা নির্যাতনের ভিডিও জনির পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। কিন্তু দিনমজুর বাবা মো. ফুরকানের পক্ষে দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এরপর তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে তাকে অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় নিয়ে আরও প্রায় দুই মাস বন্দি রাখা হয়।   একই চক্রের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাচারের শিকার হন মো. মোশাররফ হোসেনও। বন্দিশিবিরে থাকা অনেকেই অর্থ দিয়ে মুক্তি পেলেও জনি ও মোশাররফ অর্থের ব্যবস্থা করতে না পারায় তাদের আটকে রাখা হয়।   পরে গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের একটি রিফিউজি ক্লিনিকের সামনে দুজনকে ফেলে রেখে যায় পাচারকারীরা।   বিষয়টি জানতে পেরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর নির্দেশে তাদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দূতাবাসের অথরাইজেশন লেটারের মাধ্যমে স্থানীয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে তাদের।   আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দুই বাংলাদেশির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।   বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলেও দেশটিতে মানবপাচারের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ভ্রমণ ভিসা কিংবা সমুদ্রপথে থাইল্যান্ড হয়ে বিভিন্ন চক্র বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়ায় পাচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া সীমান্তের দুর্গম বনাঞ্চল ও পাহাড়ি পথও মানবপাচারকারীদের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দালালদের প্রলোভনে পড়ে অনেকে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া এড়িয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।   পাচারের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের ওপরও এর বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেক পরিবার জমিজমা বিক্রি কিংবা ঋণ করে দালালদের টাকা দেওয়ার পর স্বজনদের কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।   সংশ্লিষ্টদের মতে, মানবপাচার বন্ধে সীমান্ত নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি পাচারকারী ও দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে গ্রাম পর্যায়ে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ই-পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি প্রবাসীদের জন্য সুখবর দিলেন রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত

কানাডার এমপি হলেন বাংলাদেশি-কানাডিয়ান তানভীর শাহনেওয়াজ

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইয়াসমিন

0 Comments