‘‘আমরা একসঙ্গে এমন এক অবস্থানে রয়েছি, যেখানে দশকের পর দশক ধরে চলা দুর্ভোগের অবসান ঘটানো, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জমে থাকা ঘৃণা ও রক্তপাত থামানো এবং ওই অঞ্চলসহ সারা বিশ্বের জন্য একটি সুন্দর, স্থায়ী ও গৌরবময় শান্তি গড়ে তোলা সম্ভব।’’ এই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি; যা তিনি এ সপ্তাহে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে বিবেচিত সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ইকোনোমিক ফোরামে নিজের নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্বোধনের সময় ঘোষণা করেন।
অত্যধিক দুর্ভোগ ও সংঘাতে জর্জরিত এই পৃথিবী তাকে (ট্রাম্প) ভীষণভাবে বিশ্বাস করতে চায়। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীর অনেক পর্যবেক্ষক ও কর্মকর্তার মতে, এটি ট্রাম্পের সেই উদ্যোগের আরও এক প্রমাণ; যার লক্ষ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী আন্তর্জাতিক কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং তার জায়গায় নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা তার প্রভাবের অধীনে থাকবে।
‘‘আমরা কাউকে আমাদের নিয়ে খেলতে দেব না,’’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্ষেপে সতর্ক করেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। তবে ইউরোপে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় সমর্থক ভিক্টর অরবান তার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, ট্রাম্প থাকলে শান্তি।
এই বোর্ডটি ঠিক কী করবে, যার নেতৃত্ব আজীবনের জন্য ট্রাম্প নিজেই দেবেন? এটি কি সত্যিই জাতিসংঘের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা?
• বোর্ড চেয়ারম্যানের ক্ষমতা
গত বছর গাজা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় জন্ম নেওয়া এই ধারণা, যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছিল; এখন আরও বৃহত্তর, মহাকায় এবং বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগোচ্ছে। আর সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফাঁস হওয়া খসড়া সনদের তথ্যে দেখা যায়, ট্রাম্প পদ ছাড়ার পরও আজীবনের জন্য বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন। ওই সনদ অনুযায়ী তার ক্ষমতা হবে ব্যাপক; কোনো দেশকে সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হবে নাকি হবে না, উপ-সংস্থা বা সহায়ক সংস্থা গঠন বা বিলুপ্ত করা, এমনকি তিনি যখন ইচ্ছা পদত্যাগ করলে কিংবা অক্ষম হলে নিজ উত্তরসূরি নিয়োগের ক্ষমতাও থাকবে তার হাতে।
অন্য কোনো দেশ যদি স্থায়ী সদস্য হতে চায়, তার মূল্য ধরা হয়েছে চোখ কপালে তোলার মতো; ১০০ কোটি ডলার (৭৪ কোটি পাউন্ড)। এই নতুন বোমা ফাটানো তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন সময়টি ইতোমধ্যে ঘটনাবহুল। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটেছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের কব্জায় নেওয়া, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি ও প্রস্তুতি, আর গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ট্রাম্পের দাবি; যা ইউরোপজুড়ে এবং তার বাইরেও আলোড়ন তুলেছে।
দাভোসে বোর্ডের উদ্বোধনে দিগ্বিদিক থেকে ১৯টি দেশ উপস্থিত ছিল; আর্জেন্টিনা থেকে আজারবাইজান, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র থেকে উপসাগরীয় রাজতন্ত্র পর্যন্ত। আরও বহু দেশ যোগ দিতে সম্মত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
‘‘এই দলে আমি প্রত্যেককে পছন্দ করি,’’ ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলেন, যখন তিনি বোর্ডের সদস্য কিংবা এর অধীনস্থ নির্বাহী স্তরগুলোর তালিকায় থাকা নেতা ও কর্মকর্তাদের দিকে তাকান। সম্ভাব্য আরও অনেক সদস্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি।
‘‘এটি এমন একটি চুক্তির বিষয়; যা আরও বিস্তৃত প্রশ্ন উত্থাপন করে এবং শান্তি সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতি নিয়ে আমাদেরও উদ্বেগ রয়েছে,’’ ব্যাখ্যা করেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার।
ট্রাম্প বলছেন, রাশিয়া এতে যুক্ত আছে, যদিও মস্কো থেকে বার্তা এসেছে, তারা এখনো অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ করছে।
বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী সুইডেন যোগ দিচ্ছে না বলে জানিয়েছে। প্রস্তাবটি এমন কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যার উত্তর পেতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আরও সংলাপ প্রয়োজন; এভাবেই কূটনৈতিক ভাষায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে নরওয়ে।
এমনকি মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের একটি জোট—যার মধ্যে ছয়টি আরব দেশ, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া রয়েছে—স্পষ্ট করেছে যে তারা এতে যুক্ত হচ্ছে গাজায় ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির জন্য, যার মধ্যে বিধ্বস্ত অঞ্চলটির পুনর্গঠনও রয়েছে।
তবে বোর্ডের সনদের ফাঁস হওয়া তথ্যে গাজার কোনো উল্লেখ নেই। কিছু সমালোচকের কাছে, যাদের মধ্যে যোগ দিতে অনিচ্ছুক দেশও রয়েছে; এটি এমন এক প্রেসিডেন্টের আত্মগৌরবের প্রকল্প যিনি সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের আকাঙ্ক্ষা লুকান না। এই পুরস্কারটি ২০০৯ সালে হোয়াইট হাউসে প্রথম মেয়াদের শুরুতে পেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
বিশ্বনেতারা জানেন, এই নতুন ক্লাবে যোগ না দিলে তার মূল্য দিতে হতে পারে। আমি তার ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব, তখন সে যোগ দেবে। তবে তাকে যোগ দিতেই হবে এমন নয়।
এভাবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প, তার পছন্দের অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়ে। শুধু স্লোভেনিয়া প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানায়। প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলব স্পষ্ট করে বলেন, এটি বিপজ্জনকভাবে বিস্তৃত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করছে।
এই উদ্বেগের জবাব ট্রাম্প সরাসরি দেন। তিনি বলেন, এই বোর্ড পুরোপুরি গঠিত হয়ে গেলে আমরা প্রায় যা ইচ্ছা তাই করতে পারব এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করেই তা করব।
ভিড় ঠাসা হলের উদ্দেশে তিনি বক্তব্য দেন। সেখানে উপস্থিত সবাই তার প্রতিটি কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন। তবে তিনি বিশ্বকে ধাঁধায় রাখতেই পছন্দ করেন। এই মন্তব্যের একদিন আগে ফক্স টিভির এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তার বোর্ড কি জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপন করবে। তিনি জবাব দেন, হয়তো করবে। জাতিসংঘ খুব একটা সহায়ক হয়নি।
এরপর তিনি যোগ করেন, জাতিসংঘের সম্ভাবনার আমি বড় ভক্ত, কিন্তু সংস্থাটি কখনোই সেই সম্ভাবনার যথাযথ ব্যবহার করতে পারেনি। আমি যে যুদ্ধগুলোর মীমাংসা করেছি, সেগুলো জাতিসংঘেরই মিটিয়ে ফেলা উচিত ছিল।
• শান্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারীর নতুন দাবিদার?
১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ বহু আগেই কার্যত শান্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা হারিয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসের প্রথম মেয়াদের একেবারে প্রথম দিনেই; নিরাপত্তা পরিষদের প্রায় নজিরবিহীন সর্বসম্মত সমর্থন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর—আমি যখন তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম তিনি শান্তির জন্য কূটনীতির জোয়ার আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
গত এক দশকে জাতিসংঘের প্রচেষ্টা বারবার ব্যাহত হয়েছে; অচল নিরাপত্তা পরিষদ, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধে শান্তি ব্যাহতকারী পক্ষ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক দেশগুলোর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ার কারণে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিগুলোর তুলনায় সংস্থাটির নিজস্ব অবস্থান ক্রমাগত ক্ষয়ে যাওয়ার কারণেও।
যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্পের সক্রিয়তাকে আমাদের সবাইকে স্বাগত জানানো উচিত, বলেন জাতিসংঘের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মার্টিন গ্রিফিথস। তিনি মনে করেন, নতুন উদ্যোগটি স্পষ্টতই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং বৃহত্তর জাতিসংঘের ব্যর্থতার প্রতিফলন।
তবে মানবিক বিষয়ক ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এই আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল সতর্ক করে বলেন, গত ৮০ বছরে অসংখ্য ব্যর্থতা ও জড়তার মধ্য দিয়ে আমরা যা শিখেছি, তা হলো অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব। অর্থাৎ, এটি কেবল ট্রাম্পের বন্ধুদের জন্য নয়, বরং বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষে প্রতিনিধিত্বশীল থাকা সম্পর্কেও প্রযোজ্য।
গুতেরেস নিজেও সম্প্রতি আক্ষেপ করে বলেন, এমন মানুষও আছেন যারা মনে করেন আইনের শাসনের জায়গায় শক্তির শাসন আসা উচিত। ট্রাম্প ক্রমাগত দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধের ইতি টেনেছেন। এ বিষয়ে বিবিসির টুডে অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে গুতেরেসের কাছে জানতে চাওয়া হলে বাস্তববাদী ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ওগুলো যুদ্ধবিরতি। এর কিছু ইতোমধ্যে ভেঙে পড়েছে।
রুয়ান্ডা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর মধ্যে অস্থায়ী শান্তি চুক্তি দ্রুত ভেস্তে যায়, সীমান্তে পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ফের শুরু করে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, আর পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে ট্রাম্পের কেন্দ্রীয় ভূমিকার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। তবে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের দৃঢ় মধ্যস্থতাই কার্যকর হয়েছিল।
গাজায় বিধ্বংসী সংঘাতের অবসানে গত অক্টোবরে তার (ট্রাম্প) ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে; যা একদিকে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমায়, অন্যদিকে ইসরায়েলি জিম্মিদের যন্ত্রণা লাঘব করে। আরব মিত্রদের অনুরোধ ও শোকাহত ইসরায়েলি পরিবারগুলোর চাপে কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে এই বিপর্যয়ের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেন ট্রাম্প। তখন তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও হামাসের মধ্যে সমঝোতার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
তবু বোর্ডের প্রথম পরীক্ষা—গাজা যুদ্ধের অবসানে চুক্তির প্রথম ধাপ থেকে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া অত্যন্ত কঠিন। এমনকি এই নতুন বোর্ড যখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে এই সময়টাতেও। কারণ বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নেতানিয়াহু ও আরব নেতারা।
নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে অঙ্গীকার করেছেন এবং আরব নেতারা মনে করেন, টেকসই শান্তির একমাত্র পথ হলো ফিলিস্তিনিদের স্বশাসন ও ইসরায়েলি দখলদারির অবসান। আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের এজেন্ডায় থাকা আরেক বড় যুদ্ধ হলো ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কো ও মিনস্কের সঙ্গে একই টেবিলে বসতে অনীহা দেখিয়েছেন।
এই বোর্ডের অধীনে রয়েছে তিনটি স্তর; যার বেশিরভাগই গাজা-কেন্দ্রিক। সেগুলো হল নির্বাহী বোর্ড, গাজার একটি নির্বাহী বোর্ড ও গাজা প্রশাসনের জন্য জাতীয় কমিটি।
এগুলোতে একত্রিত হয়েছেন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ও বিলিওনিয়াররা, পাশাপাশি গাজা সম্পর্কে অভিজ্ঞ সাবেক রাজনীতিক ও সাবেক জাতিসংঘ দূত, আরব মন্ত্রী ও গোয়েন্দা প্রধান এবং ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটরা।
কিছু সমালোচকও স্বীকার করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবার একটি পুরোনো বিতর্ক আলোচনায় এনেছেন; দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ কাঠামোটির সংস্কারের অবিরাম দাবি। বিশেষ করে এমন একটি নিরাপত্তা পরিষদকে নিয়ে যা এখন আর বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলের প্রধান শক্তির রাজনৈতিক মানচিত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এটি আসলেই উদ্দেশ্য অনুযায়ী কার্যকর নয়।
‘‘হয়তো ট্রাম্প যা করেছেন, তার একটি অনিচ্ছাকৃত ভালো পরিণতি হলো; এই বিষয়গুলো আবার আন্তর্জাতিক এজেন্ডার শীর্ষে উঠে আসবে,’’ মন্তব্য করেন জাতিসংঘের সাবেক উপ-মহাসচিব মার্ক মালক ব্রাউন। আমরা অত্যন্ত দুর্বল জাতিসংঘ নেতৃত্বের একটি সময়কাল থেকে বেরিয়ে আসছি এবং আমার মনে হয়, এটি হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপের একটি আহ্বান।
পরিহাসের বিষয় হলো, বিশ্বকে শান্তির পথে নেতৃত্ব দেওয়ার ট্রাম্পের উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে; যখন অনেক রাজধানীতে গুতেরেসের উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। গুতেরেস এ বছরের শেষে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করবেন।
একদিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন বলে একসময় মন্তব্য করেছিলেন যেই প্রেসিডেন্ট, তিনি ক্ষমতার শেষ বছরে এসে শিখেছেন; শান্তি প্রতিষ্ঠা একটি দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া।
তবু আজ তিনি মধ্যপ্রাচ্যকে এমন এক অঞ্চল হিসেবে তুলে ধরেন, যেখানে এখন কেবল ছোটখাট সংঘাত চলছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইউক্রেনে একটি সমঝোতা খুব শিগগিরই আসছে। আর সম্ভাব্য প্রধান শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের নতুন ভূমিকায় ট্রাম্প দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তিনি উচ্চস্বরে ঘোষণা করেন, এটি বিশ্বের জন্য। বিবিসি বাংলা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সমুদ্রের নিচে নির্মিত নিজেদের মিসাইল সুড়ঙ্গের ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরান। ধারণা করা হচ্ছে, এসব সুড়ঙ্গে কয়েকশ ক্রুজ মিসাইল মজুত রয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে—তাদের ওপর কোনো হামলা হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আর ‘নিরাপদ’ থাকবে না। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পানির নিচে নির্মিত মিসাইল সুড়ঙ্গের একটি ভিডিও সম্প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখার কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরিকে সুড়ঙ্গের ভেতরে অবস্থান করতে দেখা যায়। সেখানে পানির নিচে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় রাখা একাধিক মিসাইল প্রদর্শন করা হয়। নৌ কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরি জানান, সমুদ্রের নিচে ইরানের মিসাইলের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। এসব মিসাইল উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওমান সাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌজাহাজ লক্ষ্য করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তার দাবি, এসব সুড়ঙ্গে কয়েকশ মিসাইল মজুত রয়েছে, যা এক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। তিনি আরও জানান, ইরানের তৈরি ‘কাদের-৩৮০ এল’ মিসাইলে অত্যাধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা আঘাত হানার আগ পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ট্র্যাক করতে পারে। এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও বড় হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান যদি হামলা এড়াতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই চুক্তিতে আসতে হবে এবং কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, বিশাল একটি যুদ্ধজাহাজ বহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও বিপুল শক্তি নিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাওয়া এই বহর যেকোনো সময় অভিযানে যেতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় পাঠানো বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর বহরের চেয়েও এটি বড়। প্রয়োজন হলে এই বহর আরও দ্রুত ও ভয়াবহ হামলা চালাতে পিছপা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে তীব্র সামরিক সংঘাত চলছিল।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে যদি তেহরানে সরকার ভেঙে পড়ে, তাহলে ইরান সীমান্তের ওপারে একটি বাফার জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে তুরস্ক। মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আইন প্রণেতাদের ব্রিফ করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া দুজনের মতে, সেখানে ইরান পরিস্থিতি ঘিরে একাধিক সম্ভাব্য দৃশ্যপটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানায় আংকারা। ব্রিফিংয়ে উপস্থিত একজন জানান, তুর্কি কর্মকর্তারা ‘বাফার জোন’ শব্দটি ব্যবহার করে বোঝান যে, নতুন করে শরণার্থীর ঢল ঠেকাতে দেশটি সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে চায়। তবে আরেকজন অংশগ্রহণকারী বলেন, কর্মকর্তারা সরাসরি ‘বাফার জোন’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। দ্বিতীয় সূত্রটি বলেন, ‘মূলত তারা বলেছেন, সম্ভাব্য অভিবাসনের ক্ষেত্রে যারা আসতে পারেন, তাদের যেন ইরান সীমান্তের ভেতরেই রাখা যায়—এ জন্য সবকিছু করা উচিত বলে তারা মনে করেন।’ চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের সঙ্গে ৫৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আংকারা। এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ২০৩টি ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল টাওয়ার, ৪৩টি লিফট সংযুক্ত টাওয়ার, ৩৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মডুলার কংক্রিট দেয়াল এবং ৫৫৩ কিলোমিটার প্রতিরক্ষামূলক খাল। মন্ত্রণালয় আরো জানায়, ড্রোন ও বিমানসহ নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্ত এলাকা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। একটি তুর্কি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, একই ব্রিফিংয়ে কর্মকর্তারা আইন প্রণেতাদের জানান, চলতি মাসে সরকারের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভে প্রায় চার হাজার ইরানি নিহত এবং ২০ হাজার জন আহত হয়েছে। দ্রুত মূল্যস্ফীতি ও ইরানের মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নের ফলে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
ইথিওপিয়া দ্রুত নগরায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শহরমুখী মানুষের প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মসংস্থানের চাহিদাও তীব্র হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় নেওয়া একটি নগর উন্নয়ন কর্মসূচি দেশটিতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত ইথিওপিয়া আরবান ইনস্টিটিউশনাল অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউআইআইডিপি)–এর আওতায় দেশের ১১৭টি শহরে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে উপকৃত হয়েছেন প্রায় ৬৬ লাখ শহরবাসী। ইথিওপিয়ার শহরাঞ্চলের জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০১২ সালে শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় কোটি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে তা বেড়ে ৪ কোটি ২০ লাখ ছাড়াবে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউআইআইডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বব্যাংক, ইথিওপিয়া সরকার এবং ফরাসি উন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় প্রকল্পটিতে ৮৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল নগর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি। প্রকল্পটির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। প্রশিক্ষণ ও আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শহরগুলোর রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বাড়ানো হয়। এর ফলে স্থানীয় সরকারগুলো নিজেরাই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সক্ষম হচ্ছে। এর সুফল হিসেবে অনেক শহরের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই অর্থ দিয়ে নতুন সড়ক, নাগরিক সেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে শহরগুলোর আর্থিক স্বনির্ভরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো ছিল প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। জনপরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের যুক্ত করা হয়। এতে শহর প্রশাসনে নারী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ছিল কর্মসূচির প্রধান কাজ। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ২ হাজার ৭০০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। পাশাপাশি ২ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি পরিকল্পিত নগর জমি উন্নয়ন করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি অস্থায়ী এবং ২ লাখের বেশি স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এসব চাকরির প্রায় অর্ধেকই পেয়েছেন নারীরা। উন্নত সড়ক ও নগর সুবিধার কারণে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা দ্রুত গড়ে উঠছে। শহরগুলো বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করছে। করোনা মহামারি ও বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাতের মধ্যেও প্রকল্পটির কাজ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে। নমনীয় পরিকল্পনা ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথিওপিয়ার এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন কর্মসংস্থানের বড় উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে এবং সরাসরি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।