প্রবাসী

ফ্রান্সে ইফতার মাহফিলে এমপি সুমইয়া বোরোয়াহা: ইসলামের আদর্শে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ গড়ার আহ্বান

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ফ্রান্সের সেইন-সাঁ-দোনী (আসন-৪) থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সংসদের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা বিষয়ক কমিটির সদস্য সুমইয়া বোরোয়াহা বলেছেন, ইসলামের শাশ্বত আদর্শের ভিত্তিতে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।


ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার হোসাইনের সভাপতিত্বে এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্তা কম্যুনের মেয়র আজেদিন তাইবি।


এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এসডিআরএম ৯৩-এর সহ-প্রতিনিধি সোর এলোদি ব্লঁদেল, গির্জার মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার জন্য ডায়োসিস পর্যায়ের সেবা বিভাগের উইলহেম কোয়ান্দ্র। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিটি মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের কোষাধ্যক্ষ কামরুল হাসান, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব জালাল আহমেদ, বাংলাদেশি নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাবিবুর রহমান, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব শহিদুল ইসলাম ও অ্যাক্টিভিস্ট খান খালেদ মাহমুদসহ অনেকে।


অনুষ্ঠানে রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন মসজিদের ইমাম ও মাদরাসার শিক্ষক আহমাদুল ইসলাম।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুমইয়া বোরোয়াহা বলেন, ফ্রান্সের মুসলিম নাগরিকরা জাতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের অবদান সমাজকে সমৃদ্ধ করেছে। আমরা সবাই মিলে এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে সম্মান, সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকবে।


তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের একসময় গৌরবময় অধ্যায় ছিল—ধর্মীয় অনুশীলন ও শিক্ষায় তারা শীর্ষে অবস্থান করতেন। সেই হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে আদর্শিক শিক্ষা ও ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে।


বিশেষ অতিথি মেয়র আজেদিন তাইবি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই আয়োজন ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ইফতার মাহফিলটি ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রবাসী

আরও দেখুন
ফাইল ছবি
প্রবাসী করদাতাদের জন্য এনবিআরের বিশেষ সুবিধা চালু

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের ই-রিটার্ন দাখিল সহজ করতে বিশেষ রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে বলা হয়, এ সুবিধার আওতায় মোবাইল ফোনের পরিবর্তে করদাতার নিজস্ব ই-মেইলে ওটিপি পাঠানোর মাধ্যমে পাসওয়ার্ড রিসেট ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। এনবিআর জানায়, যেসব করদাতা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছেন কিন্তু বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করায় মোবাইল ওটিপি ব্যবহার করতে পারছেন না, তাদের জন্য সম্প্রতি ই-মেইল ভেরিফিকেশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। আবেদন যেভাবে বিদেশে অবস্থানরত করদাতাকে তার নিজ ই-মেইল থেকে ereturn@etaxnbr.gov.bd ঠিকানায় আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে- পাসপোর্টের কপি জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ভিসা পেজের কপি বিদেশের বর্তমান ঠিকানা বিদেশে ব্যবহৃত মোবাইল/ফোন নম্বর সর্বশেষ বাংলাদেশ ত্যাগের তারিখ এনবিআর আবেদন যাচাই-বাছাই করে ই-মেইল ভেরিফাই করলে করদাতা ভেরিফাইড ই-মেইলে প্রাপ্ত ওটিপি ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড রিসেট, রেজিস্ট্রেশন এবং ই-রিটার্ন দাখিলসহ অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি সহজ হওয়ায় ২০২৫-২৬ করবর্ষে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৯ লাখ আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা পড়েছে। সব ব্যক্তি করদাতাকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখের মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

পোর্তোতে মাতৃভাষা দিবস ও ইন্টারকালচারালিটি অ্যাওয়ার্ডস-২০২৫ উদযাপন

ছবি : সংগৃহীত

বেলজিয়ামে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

ছবি : সংগৃহীত

ফ্রান্সে ইফতার মাহফিলে এমপি সুমইয়া বোরোয়াহা: ইসলামের আদর্শে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ গড়ার আহ্বান

ছবি : সংগৃহীত
সিডনিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস মিনারে (শহীদ মিনার) গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া। ২১ ফেব্রুয়ারি সিডনির শহীদ মিনারে সংগঠনটির সদস্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ড. সুলতান মাহমুদ, সহ-সভাপতি পিয়াসা বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ, অভিজিৎ বড়ুয়া, অমিয়া মতিন, ফখরুল ইসলাম, তাসলিম আহমেদ বাপ্পি, বেঞ্জামিন গোমেজ, নুসরাত স্মৃতি, ইশাক হাফিজ, লিলি গোমেজ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আল নোমান শামীমসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা ও একুশে পদকে ভূষিত আব্রাহাম লিংকন এবং গামা আব্দুল কাদির শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে Australia Bangladesh Press & Media Club-এর পক্ষ থেকে কাজী সুলতানা সিমি, পূরবী পারমিতা বোস ও মোস্তাফিজুর রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এবং নিপবন পল্লীর পক্ষ থেকেও শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। অনুষ্ঠানটি প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ ও লালন করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় ৫০ দিনে ৭ হাজারের বেশি অবৈধ প্রবাসী আটক

ছবি : সংগৃহীত

প্রবীণ ও গৃহহীনদের পাশে সিডনি বাংলা উইমেন্স নেটওয়ার্ক

সংগৃহীত ছবি

১৪ লাখ বাংলাদেশির ভিসা ইস্যু করা হয়েছে : সৌদি রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে করোনা ত্রাণ তহবিল আত্মসাৎ, ৮ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের দোষ স্বীকার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে করোনা মহামারি চলাকালীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে আটজন বাংলাদেশি ও একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতসহ মোট নয়জন আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার পর কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে তারা নিজেদের অপরাধ মেনে নেন। আদালত অভিযুক্তদের সম্মিলিতভাবে ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।   সরকারি তদন্তে উঠে এসেছে যে, ২০২০ সালের জুন মাস থেকে অভিযুক্তরা নিউইয়র্ক স্টেটের ‘এম্পায়ার স্টেট ডেভেলপমেন্ট প্যান্ডেমিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম’-এর অধীনে ভুয়া নথিপত্র দিয়ে আবেদন করেন। আবেদনে তারা দাবি করেছিলেন, সরকারি অনুদান কর্মীদের বেতন, অফিস ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ব্যয় হবে। কিন্তু ব্যাংক রেকর্ড ও ট্যাক্স নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, অনুদানের অর্থ পাওয়ার পরপরই তা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং বাস্তবে ওই সব প্রতিষ্ঠানের কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রমই ছিল না।   কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এবং নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং এক যৌথ বিবৃতিতে এই জালিয়াতিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা বলেন, মহামারির মতো নজিরবিহীন সংকটকালে যখন প্রকৃত ব্যবসায়ীরা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তখন এই তহবিল চুরি করা অমার্জনীয়। সরকারি অর্থ ব্যক্তিগত লাভের জন্য অপব্যবহার করলে যে আইনি পরিণতি ভোগ করতে হয়, এই রায় তারই দৃষ্টান্ত।   দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মাহবুব মালিক, তোফায়েল আহমেদ, ইউসুফ এমডি, মোহাম্মদ চৌধুরী (খোকন আশরাফ), জাকির চৌধুরী, মোহাম্মদ খান, তানভীর মিলন, জুনেদ খান এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নাদিম শেখ। এ বিষয়ে আসামি জাকির চৌধুরী জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সম্মানহানি এড়াতে তিনি আদালতের নির্দেশে জরিমানা পরিশোধ করে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন, যদিও তিনি এর জন্য তার সাবেক ব্যবসায়িক পার্টনারকে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত খোকন আশরাফ দাবি করেন, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই তিনি তার অংশের টাকা পরিশোধ করেছেন।   নিউইয়র্ক স্টেট ইন্সপেক্টর জেনারেলের অফিসের তদন্তের পর মামলাটি কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসে হস্তান্তরিত হয়। এরপর ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আসামিরা পর্যায়ক্রমে আত্মসমর্পণ করে দোষ স্বীকার করেন। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এই ঘটনায় তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, করোনাকালীন তহবিলের অপব্যবহার সংক্রান্ত আরও কিছু বিষয় বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

রমজান উপলক্ষে ৩ হাজার ২৯৬ বন্দিকে মুক্তি দিলো আরব আমিরাত

ছবি: সংগৃহীত

সৌদিতে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ, দেশে ফেরার আকুতি

ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসে আরব আমিরাতে ৮২৩ খাদ্যপণ্যে বিশেষ ছাড়

0 Comments