ঢাকা: দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সরকারি ও বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক শক্তিকে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকলেও দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্র এবং প্রান্তিক জনগণের উন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে ধাপে ধাপে বিনিয়োগনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ এবং জনগণের রায়ে সমর্থিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
দেশের সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সরকারের সব কল্যাণমূলক সুবিধা এই একক কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজে সরকারি সেবা ও সহায়তা পেতে পারেন।
তিনি জানান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রতি বিরোধী দলের সমর্থন সরকারকে আরও উৎসাহিত করছে। সংসদে একজন বিরোধী দলীয় সদস্য তাঁর এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম কবে শুরু হবে—এ প্রশ্ন তুলেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত হওয়া উচিত।
শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, বিতর্কিত পাঠ্যক্রম সংশোধন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবেই। তবে সেই মতপার্থক্য যেন কখনো শত্রুতায় রূপ না নেয়।
তিনি বলেন, “প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নয়, বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়পরায়ণতা। এই দেশ যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার কিংবা বিদেশি তাঁবেদারির শিকার না হয়—সেই লক্ষ্যেই জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বৈষম্য থেকে মুক্ত করতে হবে। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার ও বিরোধী দলকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পাবনার আতাইকুলা এলাকায় নাতনির মরদেহ বহনকারী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের দুই সদস্যসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহত শিশুটির মা ও ভাইসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা–পাবনা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের মাহমুদ গ্রামের সলিম প্রামাণিক, তার স্ত্রী বুলু খাতুন এবং অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ (৩০)। সলিম প্রামাণিক ও বুলু খাতুন মারা যাওয়া শিশু কেয়া খাতুনের নানা-নানি। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির মা নাজমিন খাতুন এবং ভাই রিয়াদ সরদার। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাধপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেয়া খাতুনের মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা পাবনায় ফিরছিলেন। পথে সড়াডাঙ্গী এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সচালক ও এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে দুইজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথে সলিম প্রামাণিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নবম জাতীয় পে-স্কেলের পূর্ণ বাস্তবায়নের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। পে-স্কেল বাস্তবায়নসংক্রান্ত সুপারিশমালা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি। এ কারণে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশেও আরও সময় লাগবে। গতকাল (১৫ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে সচিব কমিটির একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও সুপারিশমালা চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসবে কমিটি। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর দেখানো হলেও গেজেট প্রকাশের জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রথম ধাপে বেসিক বেতন এবং পরবর্তী দুই ধাপে অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। জানা গেছে, বৈঠকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাস্তবায়নের ধাপ এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। সচিব কমিটি সরকারের কাছে একটি সুপারিশমালা দেবে, যার ভিত্তিতেই ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। এদিকে চলমান আর্থিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ১২ জুলাই থেকে ঢাকা সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। সূত্র জানায়, সচিব কমিটির বৈঠকে পে-কমিশনের প্রস্তাবিত ২০টি গ্রেড নিয়েও আলোচনা হয়েছে। গ্রেডের সংখ্যা কমানো বা বাড়ানোর বিষয়েও মতামত উঠে এসেছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা এবং প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, কমিটি কতটি বৈঠক করবে বা কত সময় নেবে, সেটি তাদের বিষয়। তারা কাজ করছেন। তাদের সুপারিশ পাওয়ার পর অর্থ বিভাগ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। এজন্য আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। অর্থ বিভাগের সূত্রগুলো বলছে, অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা দিলেও বর্তমান বিএনপি সরকার এটি বাস্তবায়নে আন্তরিক। এজন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। পাশাপাশি নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা এবং পেনশনভোগীদের সমন্বিত সুবিধা দিতে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমএফ। সংস্থাটির মতে, পর্যাপ্ত অর্থের উৎস নিশ্চিত না করে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করলে আর্থিক চাপ ও মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। সূত্র আরও জানায়, নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার হিসাব নির্ধারণে সরকারকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। ফলে সুপারিশকৃত কিছু গ্রেড, মূল বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধায় পরিবর্তন আনার চিন্তা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিন ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এতে কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা সমাধান করেই সচিব কমিটি সরকারকে সুপারিশ দেবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি করা হবে এবং পরবর্তী ধাপে অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করা হবে। তবে ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর দেখিয়ে সে অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন-ভাতার প্রাপ্য হবেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি সরকার সেই সুপারিশ হুবহু গ্রহণ করেনি। ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি, সরকারি ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিটি নতুন একটি খসড়া তৈরি করেছে। বর্তমানে সেই খসড়ার ভিত্তিতেই গেজেট চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির স্মরণে রাজধানীর একটি উপযুক্ত সড়কের নামকরণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের আনীত কাতারের সাবেক আমিরের নামে ঢাকার একটি সড়কের নামকরণ করা সম্পর্কিত এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা ইতোমধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে মৌখিকভাবে দেওয়ার কথা সংসদকে জানান। তিনি বলেন, ‘যেটি প্রস্তাবনা সন্মান্বিত বিরোধী দলের নেতা উপস্থাপন করেছেন। আমি এরই ভেতরে গতকালকেই ঢাকা সিটি করপোরেশনে একটি উপযুক্ত সড়ক নির্ধারণ করে সেটিকে মরহুমের নামের নামকরণের জন্য এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে মৌখিকভাবে নির্দেশনা প্রদান করেছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে বিরোধীদলীয় নেতা এই বিষয়টি উপস্থাপন করার জন্য আমি সরকারের পক্ষ তাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাবেক আমিরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘মরহুম শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রতি সম্মান দেখিয়ে কাতারের জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করছি। কাতার এমন একটি দেশ যারা আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দেশের অগ্রযাত্রায় আমাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে এবং এখনো করছে।’ তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ বাংলাদেশিকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়ে কাতার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন যাত্রাতেও অংশীদার। শুধু তাই নয়, এর ভেতরে যখন মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং কাতার নিজেও বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হওয়ার পরেও আমাদের লাখ লাখ প্রবাসীকে তারা নিজেদের নাগরিকদের মতো টেক কেয়ার করেছে। তাদের নিরাপত্তা তারা নিশ্চিত করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সব বিষয় বিবেচনা করে মরহুম শেখ হামদ বিন খলিফা আল থানির জন্য আজকে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আজকে আমাদের জাতীয় পতাকাকে হাফ মাস্ট করা হয়েছে।’ কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মারা গেছেন। রোববার সামাজিক মাধ্যমে কাতারের বর্তমান আমিরের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর কথা জানানো হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে আজ (বুধবার) বাংলাদেশ শোক পালন করছে এবং জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের শোক ও সমবেদনা জানাতে সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কাতারের দোহায় গেছেন। শেখ হামদ বিন খলিফা আল থানি ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতারের আমির হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।