ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট (KKNPP)–সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক র্যানসমওয়্যার গ্রুপ ওয়ার্ল্ড লিকস এই তথ্য প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৯ হাজার নথি, যার মোট আকার ১৪ দশমিক ৩ গিগাবাইট, অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া নথিগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন অবকাঠামোর নকশা, যন্ত্রাংশের কারিগরি তথ্য, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিবরণ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা তথ্য রয়েছে।
ভারতে বর্তমানে সাতটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে তামিলনাড়ুর কুদানকুলামে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি সবচেয়ে বড়।
কেন্দ্রটির একটি প্রকল্পের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, একটি সার্ভারে সংরক্ষিত তথ্যের কিছু অংশ অননুমোদিতভাবে ফাঁস হয়েছে। ওই সার্ভার পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ভারতীয় ডেটা সেবা প্রতিষ্ঠান ইয়োত্তা। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অন্যদিকে ইয়োত্তা রিলায়েন্সের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সমস্যাটি তাদের হোস্ট করা হলেও সার্ভারটির মালিক ছিল রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার। তাদের দাবি, গত ২৯ মে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং রিলায়েন্সকে অবহিত করা হয়। পরে জুনের শেষ দিকে রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার জানায়, একটি বহিরাগত পক্ষ চুরি করা তথ্য প্রকাশের হুমকি দিচ্ছে।
রয়টার্সের হাতে আসা নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কুদানকুলাম প্রকল্পের সার্ভারে মোট প্রায় ৮ লাখ ৫৮ হাজার তথ্য সংরক্ষিত ছিল। ফাঁস হওয়া নথিগুলো ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সংরক্ষিত তথ্যের অংশ। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল রিঅ্যাক্টর বা কোর সিস্টেম–সংক্রান্ত কোনো তথ্য এতে পাওয়া যায়নি। ওই কোর সিস্টেম রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম সরবরাহ করেছিল।
মার্কিন অলাভজনক সংস্থা নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ–এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক নিকোলাস রোথের মতে, এ ধরনের তথ্য ফাঁস পারমাণবিক স্থাপনার নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার ভাষ্য, এসব তথ্য দুর্বৃত্তদের হাতে গেলে স্থাপনাটির স্পর্শকাতর অংশে হামলার পরিকল্পনা করা সহজ হতে পারে।
ভারতের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (NPCIL) ইতোমধ্যে রিলায়েন্স গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। একই সঙ্গে দেশটির জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ইন্ডিয়ান কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (CERT-In) ঘটনাটি তদন্ত করছে।
সূত্র: রয়টার্স
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতীতের দুই দশকের যুদ্ধের তিক্ততা ভুলে অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে এক নতুন কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করতে চায় আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। দেশের অবহেলায় পড়ে থাকা বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তারা ওয়াশিংটনকে অবকাঠামো, কৃষি, বাণিজ্য এবং বিশেষ করে খনিজ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। কট্টরপন্থার বাইরে এসে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি অর্জন এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কাবুলের এই রূপান্তরমুখী কূটনৈতিক উদ্যোগ। তালেবানের অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এক সাক্ষাৎকারে জানান, আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে গত ২০ বছরের সামরিক সংঘাতের চশমায় দেখা উচিত নয়। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতের সহযোগিতার নতুন ভিত্তিতে মূল্যায়নের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কাবুলের অর্থনৈতিক নীতি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং মার্কিন বিনিয়োগকে সেখানে সানন্দে স্বাগত জানানো হবে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক উষ্ণতা বাড়াতে তারা ইতিমধ্যে কাবুলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এলাকাটি পুনর্গঠন করেছে। সেখানে নিরাপত্তা জোরদার, রাস্তাঘাট সংস্কার এবং নতুন গাছপালা রোপণ করে পরিবেশ প্রাণবন্ত করা হয়েছে বলে তিনি মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। তবে আফগানিস্তানে ফেলে যাওয়া মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম এবং বাগরাম বিমানঘাঁটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সার্বভৌম অধিকার মেনে নিতে অস্বীকার করে তিনি এগুলোকে আফগানিস্তানের নিজস্ব জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্তানের মাটির নিচে আনুমানিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বিপুল প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ অলস পড়ে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সোনা, রুপা, প্লাটিনাম, লৌহ আকরিক, ইউরেনিয়াম, জিংক, ট্যান্টালাম, বক্সাইট ও কয়লার মতো মূল্যবান পদার্থের পাশাপাশি রয়েছে বিরল তামার বিশাল মজুত। বিশ্বজুড়ে যেখানে নতুন তামার খনির সংকট তীব্র হচ্ছে, সেখানে আফগান তামার মজুত বৈশ্বিক বাজারে এক বিশাল প্রভাব তৈরি করতে পারে। ইতিপূর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে এই বিপুল সম্পদে আগ্রহ দেখালেও, সামরিক উত্তেজনার কারণে তা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। এদিকে ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ বছর পার হতে চললেও নারীদের শিক্ষা ও চলাফেরার স্বাধীনতা হরণের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে তালেবান সরকার এখনো আন্তর্জাতিকভাবে কার্যত একঘরে হয়ে আছে। এ পর্যন্ত কেবল রাশিয়াই তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এ সত্ত্বেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে চীন, পাকিস্তান, ভারত ও ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বজায় রেখেছে। তালেবানের দাবি, চীন ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে সোনা, মূল্যবান পাথর ও ক্রোমাইট খাতে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের খনি চুক্তি করেছে। কিন্তু একটি টেকসই ও বৃহত্তর অর্থনীতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির অংশগ্রহণ আফগানিস্তানের জন্য এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে এই অর্থনৈতিক আহ্বানে ওয়াশিংটন সাড়া দেবে কি না, তা নির্ভর করছে তালেবানদের মানবাধিকার নীতির পরিবর্তন ও মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে যোগ দিতে আরও অন্তত ছয় থেকে সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার। নতুন দেশগুলোকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া সহজ করতে বর্তমানে একটি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানসহ তিন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাজ্য সফরকালে ইসহাক দার জানান, নতুন দেশগুলোকে চুক্তির আওতায় আনতে কর্মকর্তারা একটি ‘এগ্রিমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরির কাজ করছেন। তবে কোন কোন দেশ জোটে যোগ দিতে আগ্রহী, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম প্রকাশ করেননি। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে অন্য দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চুক্তির আওতায় সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, যৌথ মহড়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা তিন দেশ জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এর আগে জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে মিসরসহ মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশ এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারে। তবে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ঘিরে বাংলাদেশেও আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে ঢাকার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। তবে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি সার্বভৌম দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে এ উদ্যোগকে ‘সাহসী প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার প্রচেষ্টায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নতুন দেশগুলো যুক্ত হলে এটি ভবিষ্যতে একটি বৃহত্তর মুসলিম নিরাপত্তা কাঠামোয় রূপ নিতে পারে কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
পাল্টা হামলায় মার্কিন সেনাদেরও হতাহতের দাবি তেহরানের; হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে নতুন দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুলফজল শেখারচি দাবি করেছেন, ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের এক হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩১ আগস্ট) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘাতের সময় ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ইসরায়েলি সেনাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শেখারচি আরও দাবি করেন, ইসরায়েলি সেনাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ সেনাও নিহত এবং কয়েক হাজার সেনা আহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হতাহতের এসব তথ্য প্রকাশ্যে আনছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, অতীতেও আফগানিস্তান ও ইরাকে মার্কিন সেনাদের হতাহতের তথ্য দীর্ঘ সময় গোপন রাখা হয়েছিল। তার দাবি, বর্তমান সংঘাতেও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র আক্রমণ: বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন শেখারচি। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীকে ‘হলিউড ও প্রোপাগান্ডা আর্মি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, মুসলিম দেশগুলো থেকে সম্পদ লুট করাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন বুঝতে পারছে যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি তাদের সম্ভাব্য হামলা থেকে নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়। তার দাবি, এর ফলে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আগের মতো আস্থা রাখছে না। হরমুজ প্রণালি নিয়ে সতর্কবার্তা: এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা। শেখারচি বলেন, হরমুজ প্রণালিকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির প্রেসিডেন্টের নেই। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল স্বপ্নেই হরমুজকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে ভাবতে পারেন। এর আগে ট্রাম্প বিভিন্ন বক্তব্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বা স্বার্থের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ইসরায়েল ও মার্কিন সেনাদের হতাহতের যে সংখ্যা দাবি করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সূত্র: প্রেস টিভি