বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকারের প্রতি জনগণের তৈরি হওয়া অনাস্থা আড়াল করতে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকারের কয়েক মাসের মেয়াদেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ উদ্বেগ জানাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি মানবিক, নিরাপদ ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্তরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত, হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটছে বলে তিনি দাবি করেন।
গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সার বিতরণ, সার ডিলার নিয়োগ, ইমাম-খতিবদের ভাতা এবং কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা তৈরিসহ নানা ইস্যুতে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ ও সংঘাত দেখা দিচ্ছে। এমনকি সার বিতরণকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ তোলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের নামে এক শ্রেণির প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও দাবি করেন, এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের বাছাইয়ের উদ্দেশ্য জড়িত থাকতে পারে। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ তিনি ব্রিফিংয়ে উপস্থাপন করেননি।
সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর অনির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। উন্নয়ন বরাদ্দ ও ডিও লেটার দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার এসব ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ইসিবি এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এসব ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, অপরাধের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের কেউ কেউ জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বিরোধীদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বা সংকেত না থাকলে অপরাধীরা এমন সুযোগ পেত না। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ তিনি ব্রিফিংয়ে উপস্থাপন করেননি।
তিনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য, সার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জনগণের ভোট ও গণরায়ের বিষয়টি উপেক্ষা করে সরকার দেশকে নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর দাবি, জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেটি আড়াল করতে বিভিন্ন ইস্যু সামনে এনে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, তাঁদের দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
ব্রিফিংয়ে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার। এর মধ্যে রয়েছে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, লুট হওয়া টিকা ও সংশ্লিষ্ট নথি উদ্ধার, বিকল্প স্থানে টিকাদান কার্যক্রম চালু, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণ ও ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার সময় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, নুরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ড. রেজাউল করিমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির উদ্যোক্তা, পেশাজীবী এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সংলাপ করেছে বাংলাদেশ সরকার। ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালির কাছে অবস্থিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেডার হলে স্থানীয় সময় রোববার ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’ আয়োজন করে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যাওয়া প্রতিনিধি দলের একটি অংশ ওই সংলাপে যোগ দেন। সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন- আর্থিক নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও দক্ষ কর্মসংস্থানকে কীভাবে সমর্থন দেওয়া যায়, তা মূল্যায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার। সম্ভাব্য প্রকল্প, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক সহযোগী এবং স্পষ্ট পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যে কোনো সহযোগিতা যেন জনসেবার উন্নতি ঘটায় এবং বাংলাদেশের মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করে সে বিষয়ে জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। সংলাপে বাংলাদেশের জন্য এআই প্রযুক্তির বিষয়ে উপস্থাপনা দেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা-চ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক শরীফা সুলতানা, উবারের প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক মোস্তফা পাটওয়ারি। সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং এর ইকোসিস্টেম উন্নয়ন নিয়ে উপস্থাপনা করেন গ্লোবালফাউন্ড্রির মাহবুব রাশেদ। সংলাপে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়ার অধ্যাপক সাইফ ইসলামের সঞ্চালনায় ‘মেধা, প্রযুক্তি ও পুঁজির’ ওপর একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ক্রেডো সেমিকন্ডাক্টরের শাতিল হক, এক্সোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ইউসুফ হক, ইনটেলের সাবেক বোর্ড চেয়ারম্যান ওমর ইশরাক, উল্কাসেমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং ক্লাউডএআই-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা বদরুল সরকার এই প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেন। সংলাপে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের অর্জনের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একইসঙ্গে তাদের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতি। এর কেন্দ্রে রয়েছে প্রযুক্তি স্থানান্তর, জনশক্তির উন্নয়ন এবং বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন। সংলাপে আরও বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আরিফুল ইসলাম এবং লস এঞ্জেলসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সরকারের প্রতি জনগণের তৈরি হওয়া অনাস্থা আড়াল করতে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকারের কয়েক মাসের মেয়াদেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজ উদ্বেগ জানাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল একটি মানবিক, নিরাপদ ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্তরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত, হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটছে বলে তিনি দাবি করেন। গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সার বিতরণ, সার ডিলার নিয়োগ, ইমাম-খতিবদের ভাতা এবং কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা তৈরিসহ নানা ইস্যুতে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ ও সংঘাত দেখা দিচ্ছে। এমনকি সার বিতরণকে কেন্দ্র করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হামলার ঘটনাও ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ তোলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের নামে এক শ্রেণির প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও দাবি করেন, এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের বাছাইয়ের উদ্দেশ্য জড়িত থাকতে পারে। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ তিনি ব্রিফিংয়ে উপস্থাপন করেননি। সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর অনির্বাচিত সংরক্ষিত নারী সদস্যদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। উন্নয়ন বরাদ্দ ও ডিও লেটার দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে গোলাম পরওয়ার এসব ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ইসিবি এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এসব ঘটনাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। গোলাম পরওয়ারের অভিযোগ, অপরাধের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের কেউ কেউ জড়িত থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বিরোধীদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বা সংকেত না থাকলে অপরাধীরা এমন সুযোগ পেত না। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ তিনি ব্রিফিংয়ে উপস্থাপন করেননি। তিনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য, সার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জনগণের ভোট ও গণরায়ের বিষয়টি উপেক্ষা করে সরকার দেশকে নতুন সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর দাবি, জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেটি আড়াল করতে বিভিন্ন ইস্যু সামনে এনে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জামায়াতের এই নেতা বলেন, তাঁদের দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। ব্রিফিংয়ে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার। এর মধ্যে রয়েছে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি নেপথ্যের পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, লুট হওয়া টিকা ও সংশ্লিষ্ট নথি উদ্ধার, বিকল্প স্থানে টিকাদান কার্যক্রম চালু, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণ ও ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার সময় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত। ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসাইন, নুরুল ইসলাম বুলবুল, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ড. রেজাউল করিমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সব প্রস্তুতি থাকার পরও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালানবাহী বিমান রাশিয়া থেকে দেশে আসতে পারেনি। বাংলাদেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে রিফুয়েলিংয়ের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়ামের চালানটি আসার কথা ছিল। এ বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, “পাকিস্তান ক্লিয়ারেন্সটা দেয়নি। এখানে তো কতগুলো দেশ রয়েছে, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, পাকিস্তান এবং এরপর ভারত হয়ে আসে। পাকিস্তান থেকে ক্লিয়ারেন্সটা… যেহেতু আগে এসেছে, দিয়ে দেবে। হয়ত কোনো একটা গ্যাপ ছিল, দেয়নি। এটা ক্লিয়ারেন্স হয়ে যাবে। ওরা আবার রিশিডিউল করে দিয়েছে, আমাকে জানিয়ে দিয়েছে যে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে আবার নিয়ে আসবে ওরা (রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটম)। এর মধ্যে ওরা ওদের কাজ করবে।” রাশিয়ান কোম্পানির দায়িত্ব ইউরেনিয়াম আমাদের এখানে পৌঁছে দেওয়া। একটু এদিক-সেদিক তো হতেই পারে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এর আগে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি কার্গো বিমানের ২৪ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিল। তবে বিমানটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে পৌঁছায়নি। পাকিস্তান কেন আকাশসীমা ব্যবহারের ছাড়পত্র দেয়নি, তার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। রাশিয়া নতুন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর তারিখ প্রস্তাব করেছে।” ইউরেনিয়ামের চালান আসতে না পারার ঘটনা বর্ণনা করে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক কবির হোসেন বলেন, “আমার যে ফুয়েল আসার কথা… ইউনিট ওয়ানের ফুয়েল আমি লোড করেছি। এক বছর পরে ইউনিট ওয়ানের ফুয়েল পরিবর্তন করতে হবে। “অর্থাৎ এক বছর পরে যে রিলোড, সেটা। এক বছর পরে যে রিলোড সেটা হইছে, আমার দুইটা ফ্লাইটে আসবে ৪৮টা অ্যাসেম্বলড। এইটা আসার কথা ছিল ২৪ তারিখে একটা ফ্লাইটে। অক্টোবরের ১ তারিখে একটা ফ্লাইট। এই দুই ফ্লাইটে আসার কথা।” একইভাবে পরের সাতটি ফ্লাইটে রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম আসার সূচি থাকার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “৮ অক্টোবর থেকে প্রতি সপ্তাহে একটি করে সাতটি ফ্লাইটে আসার কথা ছিল ইউনিট-২ এর ফার্স্ট লোড। ইউনিট-২ এর ফার্স্ট লোড অর্থাৎ ইউনিট-২ এর ফ্লাইট মানে ফুয়েল। “আমরা ইউনিট ওয়ানের ফুয়েল যে রকমে ২০২৩ সালে আনছিলাম, ওরকমের দ্বিতীয় ইউনিটের ফুল ফুয়েল আরকি। পুরো ফুয়েলটা যেখানে আগের মতই সাতটা ফ্লাইটে আসার কথা।” সাধারণত কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং ভারতের আকাশসীমা দিয়ে এ ইউরেনিয়াম আসার তথ্য দেন প্রকল্প পরিচালক। ইউরেনিয়াম গ্রহণ ও রূপপুরে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি তুলে ধরে কবির হোসেন বলেন, “হঠাৎ করে ২৩ তারিখ ৯টার দিকে জানাল (রসাটম), ফ্লাইটটা স্থগিত। বলছে, আমাদের একটু এয়ার স্পেসে সমস্যা হচ্ছে। সকলের পারমিশন পাওয়া যায়নি, যেসব দেশ থেকে আসবে। আমরা চেষ্টা করছি কূটনৈতিক পথে যাতে অনুমোদন পাওয়া যায়। “২৪ তারিখ সকালবেলা আবার ফোন দিলাম। তোমরা বলো, আমাদের তো প্রস্তুতি নিতে হবে। তখনও বলল, আমরা এখনও কূটনৈতিক মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছি। সবশেষ, ২৪ তারিখ রাতে জানানো হল, রুটের অনুমোদন পায় নাই; এই ফ্লাইট স্থগিত। আমরা তোমাদেরকে পরবর্তীতে শিডিউল জানাব।’ এরপর নতুন করে শিডিউল দেওয়ার কথা তুলে ধরে ধরে কবীর হোসেন বলেন, ১ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট শুরু হবে। অর্থাৎ এক সপ্তাহ পেছাল। এদিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় ইউরেনিয়াম আসতে না পারার মধ্যে সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় দেশটির হাই কমিশনার ইমরান হায়দার। আকাশসীমা ব্যবহার করতে না পারার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এটা নিয়ে আলোচনা হয়নি। হাই কমিশনারের সঙ্গে এটা তার প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে ‘চিন্তিত না’ হওয়ার কথাও বলেন হুমায়ুন কবির।