লর্ডসে হ্যারি ব্রুকের ফিফটি ও দুই ইনিংসেই জো রুটের ব্যর্থতায় বদলে গেছে টেস্ট ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান। দীর্ঘদিন চূড়ায় থাকা রুটকে সরিয়ে সিংহাসন পুনরুদ্ধার করেছেন ব্রুক।
যথারীতি বুধবার ঘোষিত পুরুষ ক্রিকেটারদের র্যাঙ্কিংয়ের সাপ্তাহিক হালনাগাদে, টেস্ট ব্যাটসম্যানদের তালিকায় এক ধাপ এগিয়েছেন ব্রুক। দুই ধাপ পিছিয়ে তিনে নেমে গেছেন ইংলিশ গ্রেট রুট। সেই সুবাদে দুইয়ে উঠে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার ট্রাভিস হেড।
৯৯৬ বলের টেস্ট ম্যাচটিতে কিউইদের ১১৫ রানে হারিয়ে তিন টেস্টের সিরিজে এগিয়ে গেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে ফিফটিই করতে পেরেছিলেন কেবল দুইজন, ব্রুক ও অভিষিক্ত এমিলিও গে।
প্রথম ইনিংসে ১০ চারে ৫২ রান করেন ব্রুক। দ্বিতীয় ইনিংসে রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি। আর দুই ইনিংসে যথাক্রমে ১ ও ৮ রান করেন রুট। ব্রুক, হেড ও রুটের রেটিং পয়েন্ট যথাক্রমে ৮৬৯, ৮৫৩ ও ৮৫১।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবার টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে চূড়ায় উঠেছিলেন ব্রুক। সেবারও রুটকে পেছনে ফেলেছিলেন তিনি।
ইংল্যান্ডের বেন ডাকেট, জেমি স্মিথও উন্নতি করেছেন। নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে উল্লেখ করার মতো অগ্রগতি হয়েছে গ্লেন ফিলিপসের। ১৫ ধাপ এগিয়ে এখন ৪০তম স্থানে আছেন তিনি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে দুই ধাপ এগিয়েছেন ভারত অধিনায়ক শুবমান গিল। ব্যাটসম্যানদের তালিকায় তার অবস্থান এখন অষ্টম।
এছাড়া রিশাভ পান্ত (দ্বাদশ) এক ধাপ, ওয়াশিংটন সুন্দার (৪২তম) ও সাই সুদার্শান (৯৫) পাঁচ ধাপ করে উন্নতি করেছেন।
টেস্ট বোলারদের শীর্ষ তিন স্থানে আসেনি কোনো বদল, যথাক্রমে আছেন ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ, অস্ট্রেলিয়া মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স। নিউ জিল্যান্ডের ম্যাট হেনরি (সপ্তম) তিন ধাপ নিচে নেমে যাওয়ায়, এক ধাপ করে ওপরে উঠে এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মার্কো ইয়ানসেন (চতুর্থ), অস্ট্রেলিয়ার স্কট বোল্যান্ড (পঞ্চম) ও পাকিস্তানের নোমান আলি (ষষ্ঠ)।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫টিসহ মোট সাত উইকেট নেওয়া ইংলিশ পেসার গাস অ্যাটকিনসন শীর্ষ দশে ঢুকেছেন। সাত ধাপ এগিয়ে তিনি আছেন ঠিক ১০ নম্বরে।
চমৎকার বোলিংয়ে টেস্ট বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে পুনরায় ঢুকেছেন কাইল জেমিসন (২২তম) ও অলিভার রবিনসন (২৩তম)। ১৬ ধাপ এগিয়ে ৪৩তম স্থানে কিউই পেসার ন্যাথান স্মিথ।
টেস্ট অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে যথারীতি শীর্ষে ভারতের রাভিন্দ্রা জাদেজা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিকেএসপিতে ৩য় বিকেএসপি কাপ অ-১৮ টেনিস টুর্নামেন্ট-২০২৬ শেষ হয়েছে। টুর্নামেন্টে বিকেএসপি বালক ও বালিকা গ্রুপের ১০ টি ইভেন্টের মধ্যে ৭টি স্বর্ণ ও ৭টি রৌপ্য পদক নিয়ে দলগত চ্যাম্পিয়ন, ঝালোকাঠি টেনিস ক্লাব ২টি স্বর্ণ পদক নিয়ে রানার্স আপ এবং মাদারীপুর টেনিস ক্লাব ১টি স্বর্ণ ও ২টি রৌপ্য পদক নিয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করে। বুধবার (১০ জুন) বিকেএসপির পরিচালক (প্রশিক্ষণ) কর্নেল মো. গোলাম মাবুদ হাসান টুর্নামেন্টের সমাপনী ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন। এর আগে গত ৭ জুন বিকেএসপির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ টুর্নামেন্টো শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিকেএসপির পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. লুৎফর রহমান। টুর্নামেন্টে বালক একক (অনূর্ধ্ব-১২) ইভেন্টে বিকেএসপির আদনান নাফিস, বালক একক (অনূর্ধ্ব- ১৪) ইভেন্টে বিকেএসপির জুবায়ের ইসলাম ও বালক একক (অনূর্ধ্ব- ১৬) ইভেন্টে বিকেএসপির পার্থ সমদ্দার ও বালক একক (অনূর্ধ্ব- ১৮) ইভেন্টে কাব্য গায়েন এবং বালক-দ্বৈত (অনূর্ধ্ব-১৮) ইভেন্টে বিকেএসপির কাব্য গায়েন ও আপন জুটি চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করেন। অপরদিকে বালিকা অনূর্ধ্ব-১২ ইভেন্টে বিকেএসপির জাহিন তাসনিম মানভা ও বালিকা- দ্বৈত অনূর্ধ্ব-১৮ ইভেন্টে বিকেএসপির মিতু ও হালিমা জুটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ৫ দিনব্যপি এ টুর্নামেন্টে বিকেএসপিসহ দেশের বিভিন্ন জেলা, ক্লাব ও সংস্থার ১৩ টি দলের মোট ৯৫ জন খেলোয়াড় ১০টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে। এ ধরনের আয়োজন বিকেএসপির এ্যাথলেটদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আয়োজক কমিটি মনে করেন।
বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে লিওনেল মেসির জাদুতেই দারুণ এক জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশনের আগে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন মেসি। প্রথমার্ধে ভ্যালেন্তিন বারকোর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৮ মিনিটে কর্নার থেকে প্রতিপক্ষের ক্লিয়ার করা বল বক্সের বাইরে থেকে হাফ-ভলিতে জালে জড়িয়ে দলকে লিড এনে দেন বারকো। দ্বিতীয়ার্ধে ৭০তম মিনিটে মাঠে নামেন মেসি। আর নামার মাত্র এক মিনিট পরই ম্যাচে নিজের ছাপ রেখে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। প্রথম স্পর্শেই লাউতারো মার্তিনেজকে দারুণ এক থ্রু পাস দেন তিনি। বক্সে ঢোকার পর ফাউলের শিকার হন লাউতারো এবং পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।স্পটকিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি মেসি। ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করার স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা। এরপরও থামেননি মেসি। ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণে রদ্রিগো ডি পলকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। ডি পলের ক্রস থেকে থিয়াগো আলমাদা গোল করলে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার। এই জয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতি পর্ব শেষ করল লিওনেল স্কালোনির দল। আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
স্বপ্ন পূরণের এত কাছে গিয়েও এভাবে খালি হাতে ফিরে যেতে হবে, মানতেই পারছেন না রেফারি ওমার আব্দুলকাদির আর্তান। ইমিগ্রেশন ইন্টারভিউয়ে ১১ ঘণ্টা কাটানোর পর, বিশ্বকাপের জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সোমালিয়ার রেফারি আর্তানের দাবি, তার কাছে ‘সঠিক কাগজপত্র’ ও ‘বৈধ ভিসা’ থাকার পরও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সোমালিয়ার প্রথম রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে দায়িত্ব পালনের খুব কাছে ছিলেন তিনি। কিন্তু তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। গত সপ্তাহান্তে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচ অফিসিয়ালদের চূড়ান্ত তালিকা থেকে তার নাম ছেঁটে ফেলা হয়। এখন তুরস্কে আছেন ২০২৫ সালের কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) বর্ষসেরা রেফারি। শেষ সময়ে এভাবে স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার কষ্টের কথা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে শুনিয়েছেন আর্তান। আমি খুব, খুব হতাশ। আমি কেবল একজন রেফারি, যে তার প্রিয় কাজটা করার চেষ্টা করছে- আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, বিশ্বকাপে আসার। আমার কাছে সঠিক কাগজপত্র এবং প্রয়োজনীয় সবকিছু ছিল। বৈধ ভিসাও ছিল আমার। সোমালিয়ার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা বিবিসিকে বলেন, বৈধ নথিপত্র নিয়েই ভ্রমণ করছিলেন আর্তান। নাইরোবিতে অবস্থিত সোমালিয়ান দূতাবাসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, এর আগে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়ার পর ভ্রমণ সহজ করার লক্ষ্যেই আর্তানকে বিশেষভাবে কূটনৈতিক পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। আর্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না দেওয়ার পেছনে কোনো কারণ জানায়নি দেশটির ইমিগ্রেশন। তবে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যে কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন, তার একটি সোমালিয়া। আর্তানের পরের কথাটা যেন সেদিকেই ইঙ্গিত করল। আমার মনে হয়, আমার দেশের সঙ্গে তাদের কোনো সমস্যা আছে। আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হবে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ, চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠেয় আসরে ম্যাচ পরিচালনার জন্য ফিফার ৫২ জন রেফারির একজন ছিলেন আর্তান। সোমালিয়ার ন্যাশনাল ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ অফিসিয়াল আর্তান ২০১৮ সালে ফিফা রেফারি হিসেবে স্বীকৃতি পান। এর আগে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সেও ম্যাচ পরিচালনা করেছেন ৩৪ বছর বয়সী আর্তান।