বিশ্ব

পরিবার প্রমাণ চায় জীবিত আছেন ইমরান খান

খবর৭১ ডেস্ক, নভেম্বর ২৯, ২০২৫ 0

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের ‘মৃত্যুর’ খবর ভেসে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে। পাকিস্তানের সরকার অবশ্য এই খবরকে ‘গুজব’ হিসেবে উল্লেখ করে বলছে, কারাগারে থাকা ইমরান খান বেঁচে আছেন এবং সুস্থ আছেন। তবে গত বেশ কিছুদিন ধরে ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি তার পরিবারকে। এ অবস্থায় তার ‘মৃত্যুর’ খবরে সোশ্যাল মিডিয়া সয়লাব হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইমরান খান যে সত্যিই জীবিত আছেন, জেল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণ চেয়েছে তার পরিবার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ইমরান খানের ছেলে কাশিম খান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, তার বাবাকে কয়েক সপ্তাহ ধরে সম্পূর্ণ ‘একা’ রাখা হয়েছে এবং আত্মীয়স্বজন বা আইনজীবীদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া ইমরান খান চার বছর পর পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে বন্দি। কয়েকটি মামলায় সাজাও হয়েছে তার। অবশ্য তার দল পিটিআইর দাবি, ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তার বাবা ৮৪৫ দিন ধরে কারাগারে আটক আছেন জানিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে এক্সে দেওয়া পোস্টে ইমরান খানের ছেলে কাশিম লিখেছেন, ‘গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি ডেথ সেলে একা রাখা হয়েছে। স্পষ্ট আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে তার বোনদের সঙ্গে সব ধরনের সাক্ষাৎ থেকে বিরত রাখা হয়েছে। কোনো ফোনকল নেই, কোনো সাক্ষাৎ নেই, আর তার শারীরিক অবস্থার কোনো খবরও নেই। আমার ভাই ও আমি কোনোভাবেই বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি।’

কাশিম আরও অভিযোগ করেন, তার বাবার ওপর যে শর্তগুলো আরোপ করা হয়েছে, তা কোনো আইনি প্রক্রিয়ার অংশ নয়, বরং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি গোপন করার জন্য এটি একটি ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা। তিনি লিখেছেন, ‘সবকিছু এভাবে অন্ধকারে রাখা কোনো নিরাপত্তা প্রটোকলের অংশ নয়। এটা স্পষ্ট থাকা দরকার যে আমার বাবার নিরাপত্তা এবং এই অমানবিক বিচ্ছিন্নতার প্রতিটি পরিণতির জন্য পাকিস্তান সরকার এবং তার মাস্টাররা সম্পূর্ণ আইনি, নৈতিক ও আন্তর্জাতিক দায় বহন করবে।’ কাশিম বিদেশি সরকার এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার বাবা যে জীবিত আছেন তার প্রমাণ, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের প্রবেশাধিকার, ‘অমানবিক বিচ্ছিন্নতা’ বন্ধ করা এবং ‘শুধু রাজনৈতিক কারণে বন্দি পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতার’ মুক্তি দাবি করেন।

এদিকে, ইমরান খানের বোন আলিমা খানম জানিয়েছেন, ইসলামাবাদ সংলগ্ন উচ্চ-নিরাপত্তা সম্পন্ন আদিয়ালা জেলে তার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য পরিবারকে মাসের পর মাস ধরে চেষ্টা করতে হচ্ছে। তিনি ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বলেন, ‘গত ছয়-সাত মাস ধরে তারা অনেক ঝামেলা করছে; কখনো আমাকে দেখা করতে দেয়, কখনো আমার কোনো বোনকে দেখা করতে দেয়, কখনো আবার কাউকেই দেখা করতে দেয় না। অনেক সময় আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরে অপেক্ষা করি।’

আরেক বোন নুরীন নিয়াজি ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানান, চার সপ্তাহ ধরে আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুই জানি না। তারা আমাদের কিছু বলছে না বা কাউকেই দেখা করতে দিচ্ছে না। এমনকি সাক্ষাতের সময় পূর্বনির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও পিটিআই নেতাদেরও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ নিয়াজি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত বছর প্রায় তিন সপ্তাহের জন্য ইমরান খানকে বিদ্যুৎ বা পড়ার সামগ্রী ছাড়া সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রাখা হয়েছিল।

গুজবের কারণ বিচ্ছিন্নতা, বলছে পিটিআই: ইমরান খানের জ্যেষ্ঠ সহযোগী জুলফি বুখারি জানান, যদিও তার দল সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর গুজবকে বিশ্বাস করে না, তবুও এটি অনলাইনে জোরদার হয়েছে। কারণ, ‘ইমরান খানকে প্রায় এক মাস ধরে কারও সঙ্গে দেখা করতে না দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের শুধু তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া উচিত। এতেই সব সামাজিক মাধ্যমের জল্পনা এবং তার স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যের অবনতি, তার জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ শেষ হবে।’ তিনি আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যখন পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীর প্রধানের অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়ে সংশোধনী পাস করা হচ্ছে এবং তার মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে, তখন ইমরান খানকে ‘বন্দি’ রাখা হয়েছে, যাতে তিনি এর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে না পারেন।

যা বলছে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ: আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান কারাগারেই আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থাও ভালো। জেল প্রশাসনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইমরান খানের স্বাস্থ্য সম্পর্কে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। পিটিআই প্রধানকে সব প্রয়োজনীয় যত্ন দেওয়া হচ্ছে।’ তারা তাকে গোপনে অন্য কোথাও স্থানান্তরের খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, ‘ইমরান খান আদিয়ালা জেলে আছেন এবং সুস্থ আছেন। তার স্থানান্তর নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের গুজব ভিত্তিহীন।’

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ খানও ইমরান খানের ‘মৃত্যুর’ খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘এটা একেবারে ভুল। তার স্বাস্থ্য ভালো আছে এবং তার যত্ন নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের একটি দল তাকে সাপ্তাহিক ও দৈনিক ভিত্তিতে পরীক্ষা করে এবং তার ওষুধ, খাবার, সুযোগ-সুবিধা ও ব্যায়ামের দেখভাল করে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ছবি : সংগৃহীত
আরও দুই দেশের সেনা প্রস্তুত, দাবি মোজতবা খামেনির

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, ‘ইরান লড়াই চালিয়ে যাবে এবং শহীদদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে। ইয়েমেন ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসলামি বিপ্লবকে সমর্থন করে এবং নির্দেশনা পেলেই তারা তাদের অ্যাকশন শুরু করবে।’   বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম টেলিভিশন ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। সহযোগীদের বিষয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘ইয়েমেনের প্রতিরোধ যোদ্ধারাও তাদের দায়িত্ব পালন করবে। একইভাবে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও ইসলামি বিপ্লবকে সহায়তা করতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী হলেও এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত থাকবে। ইরানি বাহিনী কেবল মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং এই অভিযান চলবে।’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ভাষায়, এই অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। অন্যথায় সেগুলোতে হামলা চালানো হবে।   এর আগে ভাষণের শুরুতে তিনি ইরানের সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘দেশ যখন আক্রমণের শিকার হয়েছিল, তখন ইরানের সামরিক বাহিনীই দেশকে পরাধীন হওয়া বা বিভক্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে। সাহসী যোদ্ধারা কঠিন সময়েও দেশের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের ভূমিকা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ১৩, ২০২৬ 0

ট্রাম্প ‘অনুতপ্ত’ না হওয়া পর্যন্ত থামব না, বললেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান

সংগৃহীত ছবি

মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডে আগুন, ২ সেনা আহত

ছবি : রয়টার্স

সতর্কতা জারির পরপরই বৈরুতে ইসরায়েলের হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রচুর অর্থ উপার্জন’ করে: ট্রাম্প

  ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বক্তব্য যখন প্রচার হচ্ছিল, ঠিক সেই একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বক্তব্য দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশালে তিনি লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ, তাই তেলের দাম যখন বাড়ে, আমরা তখন অনেক টাকা আয় করি।’ ‘তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার কাছে এর চেয়েও বড় স্বার্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরানের মতো একটি শয়তান সাম্রাজ্যকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে এবং মধ্যপ্রাচ্য ও প্রকৃতপক্ষে বিশ্বকে ধ্বংস করা থেকে থামানো। কখনোই আমি তা হতে দেব না’ লিখেছেন ট্রাম্প।

মারিয়া রহমান মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে একযোগে শতাধিক রকেট-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ছবি: সংগৃহীত

তেহরানে হামলায় নিহত ইরানের আরেক মন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা, জাহাজে হামলার পর ইরানের সতর্কবার্তা

ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজে হামলা, নিহত ভারতীয় নাবিক

মধ্যপ্রাচ্যে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে জাহাজে থাকা অন্য নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera।   বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, Iraq–এর Basra উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজে কর্মরত এক ভারতীয় নাবিক নিহত হন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে India–এর বাগদাদস্থ দূতাবাস। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, বুধবার (স্থানীয় সময়) মার্কিন মালিকানাধীন Seafsia Vishnu crude oil tanker নামের একটি ক্রুড অয়েল ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়। জাহাজটি Marshall Islands–এর পতাকা নিয়ে চলাচল করছিল। ভারতের দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানায়, জাহাজে থাকা বাকি ১৫ জন ভারতীয় নাবিককে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।   এদিকে একই সময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আবারও দাবি করেছে Iran। দেশটির সামরিক অভিযান তদারককারী Khatam al-Anbiya Central Headquarters এক বিবৃতিতে জানায়, প্রণালিটি বর্তমানে Islamic Revolutionary Guard Corps Navy–এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, United States এবং সাম্প্রতিক হামলায় জড়িত দেশগুলোর জাহাজের এই জলপথ দিয়ে চলাচলের কোনো অধিকার নেই। এর আগে তেহরান ঘোষণা দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও Israel–এর হামলার সঙ্গে জড়িত দেশগুলোর জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়।   এদিকে পৃথক আরেক ঘটনায় United Arab Emirates–এর Jebel Ali Port থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উত্তরে একটি কনটেইনার জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে। এতে জাহাজটিতে ছোট আকারের আগুন লাগে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা United Kingdom Maritime Trade Operations। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা চালাল ইরান

ছবি : সংগৃহীত

ইরানের স্কুলে হামলা: যা জানা গেছে

ছবি : সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় নতুন তেলমন্ত্রী নিয়োগ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের

0 Comments