এক সপ্তাহে পরপর তিন দফা ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্ক না কাটতেই বৃহস্পতিবার ফের ভূপৃষ্ঠের ঝাঁকুনিতে কেঁপেছে বাংলাদেশ। সপ্তাহখানেক ধরেই দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে রাজধানীর মানুষ এখন ভূমিকম্পের প্যানিক থেকে বের হতে পারছেন না। এরই মধ্যে গত কয়েক দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভূমিকম্প নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঝুঁকি বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে জনগণের অসচেতনতা, সরকারের পরিকল্পনাহীনতা এবং প্রস্তুতির অভাবে। ভূমিকম্প নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও পূর্বপ্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বর্তমানে ঢাকার উত্তরাঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণাঞ্চল ভূমিকম্পের বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশে সম্প্রতি ৫ দশমিক ৭ মাত্রার যে ভূমিকম্প হয়েছে, তাতে মানুষ আতঙ্কিত হবে—এটাই স্বাভাবিক। কারণ এমন তীব্র ঝাঁকুনি অনেকে এর আগে কখনো অনুভব করেননি। এজন্য মানুষের আতঙ্কিত হওয়াটা স্বাভাবিক।
তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর আফটারশক হয়, সে কারণে মানুষ আরও বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি বা পেজ থেকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কেউ কেউ বলছে, ৫ ডিসেম্বর নাকি একটি বড় ভূমিকম্প হবে, সামনে আরও বড় কিছু আসছে—এমন কথাবার্তা ছড়িয়ে মানুষের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে। অনেককে দেখেছি ভয়ে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ রাতে ঘুমাতে পারছেন না। অনেক জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যখন বন্ধ ঘোষণা করা হলো, তখন দেশব্যাপী আরও বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা কার সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা আমার জানা নেই। তবে তাদের এটা করা উচিত হয়নি। এর ফলে সমাজে একটি বিরূপ প্রভাব পড়েছে। আমরা যারা ভূমিকম্প নিয়ে গবেষণা করি, আমাদের সঙ্গে অন্তত কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যদি ভূমিকম্প সম্পর্কে সচেতনতা থাকত, তাহলে আমরা এতটা আতঙ্কিত হতাম না বা কারও প্যানিক অ্যাটাক হতো না। এমনকি সেদিন যে ১০ জন মারা গেছে, সেই রকম ঘটনাও ঘটত না—যদি তারা সচেতন থাকতেন। সেদিন তারা আতঙ্কিত হয়ে সঠিক জায়গায় অবস্থান না নিয়ে ভুল জায়গায় ছিলেন, এজন্যই মারা গেছেন। তাই আমাদের সবার ভূমিকম্প সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।’
সম্প্রতি নরসিংদীর মাধবদীতে হওয়া ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পরের দিন আবার একটি ভূমিকম্প হয়। সেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানীর বাড্ডা বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানালেও, তা সরাসরি ‘ভুল ও অপপ্রচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার। তিনি বলেন, ‘বাড্ডায় ভূমিকম্পের যে তথ্য আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ ভুল। ওটা নরসিংদীর ভূমিকম্পের আফটারশক।’
আবহাওয়া অফিসের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদপ্তর এখনো নিজেদের দক্ষতা-সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারেনি। ভূমিকম্প যখন হয়, তখন কোথায় এবং কত মাত্রার হয়েছে, তা ওরা তাৎক্ষণিকভাবে বলতে পারে না।’ প্রশ্ন করলে বলে, ‘আমরা কাজ করছি। পরে যখন ইউএসজিএস, ভারতীয় বা ইউরোপীয় বা অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাইটে তথ্য আসে, তখন তারা সেটিই হুবহু তুলে দেয়।’
ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বড় কোনো ভূমিকম্পের সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নে ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘আমরা এ নিয়ে কাজ করেছি। ভূমিকম্পের উৎস কোথায়, সেটা আমরা নির্ধারণ করেছি। দুটি বড় উৎসের একটি মেঘালয়ের পাদদেশে, যেটা আট মাত্রায় হতে পারে। আরেকটি বড় উৎস আরও ভয়াবহ—সেটি হলো ‘সাবডাকশন জোন’। এটি সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পূর্বের পাহাড়ি অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। সাবডাকশন জোনটি শুরু হয়েছে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, হাওর অঞ্চল হয়ে মেঘনার পূর্বাংশ পর্যন্ত। এটি ১২ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি করতে পারে। তবে এসব ভূমিকম্পের প্রভাব অনেকটা ভারতের দিকে ঝুঁকে যাবে।’
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুসতাক আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা বর্তমানে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। এত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভূমিকম্প হলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। এ ছাড়া রাজধানীতে গড়ে ওঠা ভবনগুলোর গুণগত মান নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ঢাকার উত্তরাঞ্চলের মাটি তুলনামূলকভাবে ভালো, সেখানে ঝুঁকি কম। তবে দক্ষিণাঞ্চলে ভরাট করা জমিতে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যা এলাকাটিকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।’
একই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া বলেন, ‘ভূমিকম্প কখন হবে—এটা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারবে না। তবে আমরা যদি আতঙ্কিত না হয়ে কী করা উচিত, তা আগে থেকেই জেনে রাখি, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি কমবে।’
উন্নত বিশ্বের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাপান বা নিউজিল্যান্ডে ৫-৬ মাত্রার ভূমিকম্প নিয়মিত হয়। তারা এ নিয়ে আতঙ্কিত হয় না, কারণ তাদের বাড়িঘর সেভাবেই নির্মিত। এ ছাড়া সেখানকার মানুষ ভূমিকম্প সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। তারা জানে ভূমিকম্পের সময় কী করতে হয়। আমাদেরও উচিত, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া।’
অধ্যাপক বদরুদ্দোজা মিয়া আরও বলেন, ‘ভূমিকম্প বিষয়টি সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। কখন হবে তা বলা সম্ভব নয়। তবে ক্যালকুলেশন বলছে, বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তঘেঁষা এলাকায় একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। এর মাত্রা আট বা তার বেশি হতে পারে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে আরও চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষীরা হলেন— নরসিংদীর কর কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী সোহেল মিয়া, নারয়াণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের সাব-রেজিস্ট্রার রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসেফ আয়নান বখস ও দুদকের উপপরিচালক সিরাজুল হক। দুদকের কৌঁসুলি মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, মামলাটিতে ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালত আগামী ১ জুলাই দিন ধার্য্য রেখেছে। ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনে আদালতে অভিযোগপত্র দেন হাফিজুল ইসলাম।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ এ রিট দায়ের করেন। আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। রিটে ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন রহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। কারণ আইনটি তার উদ্দেশ্য পূরণ করে ফেলেছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিচারিকভাবে হত্যার অস্ত্র হিসেবে এর অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগ প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে রুল জারি করে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংবিধানের বিধানগুলোর পরিপন্থি হওয়ায় সেটিও অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা চাওয়া হয়েছে।
ফিটনেস অনুপযোগী, ঝুঁকিপূর্ণ, ক্ষতিগ্রস্ত ও পরিবেশ দূষণকারী মোটরযান সড়ক ও মহাসড়কে চালানো যাবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এক বিজ্ঞপ্তিতে বিআরটিএ জানিয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫(১) অনুযায়ী হালনাগাদ ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো মোটরযান সড়ক বা মহাসড়কে চালানো আইনত নিষিদ্ধ। একই আইনের ধারা ৭৫ অনুযায়ী এ ধরনের যান চলাচল শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রংচটা, জরাজীর্ণ, বিবর্ণ বা পরিবেশ দূষণকারী যানবাহনও সড়কে চালানো যাবে না। এ ধরনের যান চলাচল বন্ধে সংশ্লিষ্ট মালিক ও চালকদের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ অবস্থায় হালনাগাদ ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনও মোটরযান সড়ক-মহাসড়কে না চালানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।