বৈশ্বিক অস্থিরতা, যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগমাধ্যম হিসেবে সোনার দিকে ঝোঁকেন। ফলে মূল্যবান ধাতুটির দামও বেড়ে যায়। কিন্তু এবার চিত্রটা ভিন্ন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে হামলা চালিয়ে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে সোনার দাম বরং নিম্নমুখী। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি প্রতি ট্রয় আউন্স (৩১ দশমিক ১ গ্রাম) সোনার দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩০৩ ডলারে উঠেছিল। গত শুক্রবার তা ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম কমার এ প্রবণতার প্রধান কারণ, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার না কমানোর আশঙ্কা। উল্টো দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরতে সুদের হার বাড়ানো হতে পারে।
মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার পেছনে বড় কারণগুলোর একটি, হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি এ পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলা শুরু করার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় তেল ও গ্যাসের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মূল্যস্ফীতিতে।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার এখন ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে খুব শিগগির দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা অনেকটা কমে গেছে। বরং অনেক বিনিয়োগকারী মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে।
মূল্যস্ফীতির সময় সোনা নিরাপদ বিনিয়োগমাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হলেও সুদের হার বাড়লে সাধারণত ধাতুটির দাম চাপের মুখে পড়ে। কারণ, ব্যাংক আমানতের সুদ বা শেয়ারের মতো লভ্যাংশ সোনা থেকে পাওয়া যায় না। তাই এতে বিনিয়োগ করে লাভ করতে হলে এর দাম বাড়তেই হবে।
আর্থিক বাজারবিষয়ক ওয়েবসাইট অপশনস্প্রেডার্স ডটকমের প্রধান অপশন বিশ্লেষক জাস্টিন কার্ডওয়েল বলেন, ‘সোনা এমন একটি সম্পদ, যেটিকে অনেকেই প্রকৃত অর্থের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বিকল্প মনে করেন। তবে এটি থেকে কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না। এর দাম বাড়লেই শুধু বিনিয়োগকারীরা লাভ করতে পারেন।’
এ কারণেই সুদের হার ও সোনা একে অপরের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী। কার্ডওয়েল বলেন, ‘সুদের হার বেশি থাকলে ও মানুষ ডলারে বেশি বিনিয়োগ করলে সোনার আকর্ষণ অনেকটাই কমে যায়।’
ইরান যুদ্ধের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে মার্কিন ডলারের ওপর। যুদ্ধ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকেছেন। ফলে ডলারের মূল্য বেড়েছে। আর যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ডলারে নির্ধারণ করা হয়, তাই সাধারণত ডলারের দাম বাড়লে সোনার দাম কমে এবং ডলার দুর্বল হলে ধাতুটির দাম বাড়ে।
নোবেল গোল্ড ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কলিন প্লুম আল–জাজিরাকে বলেন, ‘ডলারের মূল্য শক্তিশালী হলে সোনার ওপর চাপ পড়ে। আবার ডলার দুর্বল হলে সোনার দাম সাধারণত বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে ডলার শক্তিশালী অবস্থানে আছে। তাই সোনার বাজার চাপের মুখে রয়েছে।’
তবে প্লুমের মতে, ডলার ও সোনা—দুটোর ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘চলতি বছর এবং সম্ভবত আগামী কয়েক বছরেও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে, সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে।’
কলিন প্লুম বলেন, ‘কয়েক মাস আগেও বাজারে ধারণা ছিল, সামনে সুদের হার কমানো হবে। তাই প্রায় সব ধরনের সম্পদের দামই বাড়ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব সব ধরনের সম্পদের ওপরই পড়েছে। তবে সোনার বাজার সুদের হারের পরিবর্তনের প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল।’
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ওপর সুদের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।
তবে ফেডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা পরিমাপকারী সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য বলছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৫০ শতাংশের বেশি।
প্লুম বলেন, সোনার বাজার সুদের হার ও মূল্যস্ফীতির টানাপোড়েনের মাঝে পড়েছে। বর্তমানে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কাই বাজারে বেশি প্রভাব ফেলছে। তাই ধাতুটির দাম চাপের মুখে রয়েছে।
তবে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য চুক্তির খবর প্রকাশের পর সোনার দাম আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেড়েছে।
জাস্টিন কার্ডওয়েলের মতে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার খবর সোনার জন্য ইতিবাচক। কারণ, এতে মূল্যস্ফীতি কমার আশা তৈরি হয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিবর্তন রাতারাতি ঘটবে না।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার এক মাসের মাথায় বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলে নেতৃত্বের ভেতরকার অস্বস্তি প্রকাশ্যে এসেছে। সারা দেশে সাংগঠনিক সপ্তাহ পালন শেষে গতকাল রোববার নয়াপল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি পর্যালোচনা সভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যদিও সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এমন কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করছেন না। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ফিরোজ আবদুল্লাহকে ঘিরেই সভায় বিতর্কের সূত্রপাত। তবে ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়, সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে। একটি সূত্রের ভাষ্য, ফিরোজ আবদুল্লাহকে যুবদলের ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। রোববারের সভায় তিনি সংগঠনের ঢাকা বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে অযাচিতভাবে মতামত প্রকাশ করলে বিতর্ক শুরু হয়। অন্য একটি সূত্র জানায়, ফিরোজ আবদুল্লাহর মন্তব্যের পর কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম (নয়ন) তাঁকে সতর্ক করে বলেন, ‘তুমি তো সভাপতির স্বাক্ষরে সহসভাপতি হয়েছ, ঠিকঠাকমতো চলবে।’ নুরুল ইসলামের এমন মন্তব্যে বিব্রত হয়ে সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান ফিরোজ। পরে যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম (মুন্না) তিনজন নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা হলেন যুবদলের সহসভাপতি কামরুজ্জামান, শামসুজ্জোহা ও মনিরুল ইসলাম। বিগত সময়ে সংগঠনে তাঁদের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে সভায় প্রশ্ন তোলেন যুবদলের সভাপতি। এই তিনজনকে যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ মনে করা হয়। এতে সভার পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয়ে মতানৈক্য হতেই পারে; কিন্তু কেউই শালীনতার বাইরে যাননি। ন্যূনতম লিমিট ক্রস করেননি কেউ।’ সাংগঠনিক সফর নিয়েও সভায় ক্ষোভের প্রকাশ ঘটে বলে জানা গেছে। যুবদলের তিন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ফেরদৌস, মাহমুদুস সালেহীন ও জিয়াউর রহমান সম্প্রতি কক্সবাজারে সাংগঠনিক সফরে যান। রোববারের সভায় মাহমুদুস সালেহীন ও জিয়াউর রহমান অভিযোগ করেন, সেখানে তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি। এ সময় কয়েকজন নেতা প্রশ্ন তোলেন, কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁদের উল্লেখ করার মতো রাজনৈতিক অবস্থান বা পরিচয় নেই। এই সংখ্যা ৩০–৩৫ জনের মতো। তাঁদের বড় একটি অংশ সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পদ পেয়েছেন বলেও সভায় অভিযোগ ওঠে। নেতাদের মতে, এ কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। গত ৪ জুন ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটি ঘোষণার এক মাসের মাথায়, ৫ জুলাই (রোববার) অনুষ্ঠিত জরুরি সভাকে ঘিরে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেতৃত্বের মধ্যে প্রকাশ্য মতভেদের অভিযোগ সামনে এল। রোববারের সভার বিষয়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা হয়েছে সভায়। অনেকে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। একটি সংগঠনের সভায় এ ধরনের কথাবার্তা হওয়া খুবই স্বাভাবিক; কিন্তু কিছু মিডিয়া যুবদল সম্পর্কে সিন্ডিকেট নিউজ করেছে। আমি অবাক হয়েছি, আমি বা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কোনো কথাই তারা বলল না। অথচ তাদের কাছে কোনো রেকর্ড নেই, ফুটেজ নেই।’ এদিকে আজ সোমবার বিকেল থেকে নয়াপল্টন কার্যালয়ে যুবদলের মুলতবি সভা আবার হয়। সেই সভা থেকে ভিডিও কলে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেন যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম। তিনি নিজ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের দেখিয়ে বলেন, তাঁরা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সভা করছেন। তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। ২৩ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত যুবদলের সাংগঠনিক সপ্তাহ পালন করা হয়। এ সময়ে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নেতৃত্বে ১০টি টিম দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগ সফর করে কর্মসূচি পালন করে। সেই কর্মসূচির মূল্যায়ন করতেই রোববার জরুরি পর্যালোচনা সভায় বসেছিলেন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঢাকা জেলা ও মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পৃথকভাবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একইসঙ্গে কয়েকটি সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড। দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকগুলোতে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা চান তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা নিজ নিজ ইউনিটের সাংগঠনিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং দলকে আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান এসব প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি আবু আশফাক এবং সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী অংশ নেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান সবার খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং নেতারা নিয়মিত পার্টি অফিসে যাচ্ছেন কিনা, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছেন। সূত্র জানায়, এদিন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সঙ্গেও এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে উত্তর বিএনপির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে। একই দিনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও একটি পৃথক বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে সংগঠনের সাংগঠনিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করার লক্ষ্যে বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান। বৈঠকে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে বলে জোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে অংশ নেওয়া এক নেতা রাতে যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান বৈঠককালে সংগঠনের বর্তমান অবস্থা সম্পকে বিস্তারিত জানতে চান। পরে তিনি বর্তমান কমিটির নেতাদের বিদায় দেন। আশা করছি, শিগগিরিই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। দলীয় সূত্র আরও জানা যায়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ছাত্রদলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক করার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে সাংগঠনিক নির্দেশনার পাশাপাশি নতুন কমিটিও আসতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করায় এবি পার্টির নেতা ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক খ্যাতি ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করার দায়ে দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে একশ কোটি টাকা দিতে বলা হয়েছে। এই টাকা সরাসরি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিল’ জমা দিতে বলা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তন্ময় কুমার সাহা এ নোটিশ পাঠিয়েছেন। ব্যারিস্টার ফুয়াদের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকেও এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যারিস্টার ফুয়াদ গত ৫০ থেকে ৭০ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের অবদান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তাদের জাতীয় ক্ষতির জন্য দায়ী করেছেন এবং সম্মানিত অনুষদ সদস্যদের লক্ষ্য করে বিদ্বেষপূর্ণ, সাম্প্রদায়িক ও বিভাজন সৃষ্টিকারী গালিগালাজ করেছেন, এবং দাবি করেছেন যে তারা পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করছেন। এই ধরনের বেপরোয়া ও অবমাননাকর বক্তব্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, খ্যাতি ও সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। এই মন্তব্যগুলো লাখ লাখ প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের মনে গভীর মানসিক কষ্ট, যন্ত্রণা এবং জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে বলে আইনজীবী তন্ময় কুমার সাহা নোটিশে উল্লেখ করেছেন।