চলছে বড়দিনের ছুটি। ম্যানচেস্টার সিটির ফুটবলাররা যেন ফিটনেসের ব্যাপারে সজাগ থাকে, সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন দলের কোচ পেপ গার্দিওলা।
তিনি জানিয়েছেন, বড়দিনের ছুটি কাটিয়ে আসার পর খেলোয়াড়দের ওজন পরীক্ষা করবেন এবং কারও ওজন বেড়ে গেলে তাকে পরবর্তী ম্যাচে দলে রাখবেন না।
গত শনিবার ছিল ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে সিটিজেনদের ম্যাচ। সেই ম্যাচ ৩-০ গোলে জিতলেও গার্দিওলা তার খেলোয়াড়দের প্রতি কড়া মনোভাব বজায় রেখেছেন।
তিনি জানান, ছুটির আগে সকল খেলোয়াড়ের ওজন নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ছুটি শেষে ফিরে আসার সময় তিনি নিজে ওজন পরীক্ষা করবেন।
গার্দিওলা বলেন, ফুটবলাররা সব খাবার খেতে পারবে তবে তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। যদি কেউ অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ফেরে, তাহলে ২৭ ডিসেম্বর নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারবে না।
তবে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী এই কোচ খেলোয়াড়দের বিশ্রাম নেয়ার গুরুত্বও উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফুটবলাররা তাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবে এবং কিছুক্ষণ খেলাটাকে ভুলে থাকবে। এতে তারা রিফ্রেশ হয়ে ফিরে আসবে এবং ম্যাচে সতেজ থাকবে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের টেবিলে ১৭ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল। গানারদের পেছন পেছন ছুটছে ম্যানসিটি। সমান সংখ্যক ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৩৭। গানারদের ওপর চাপ রাখতে এবং নিজেদের কাজ ঠিকঠাক রাখতেই বোধহয় গার্দিওলার এমন কঠোর অবস্থান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬-এর গ্রুপ 'বি'-এর দ্বিতীয় ম্যাচে এক দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পায় এআইইউবি। মঙ্গলবার বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে এআইইউবি। খেলার ৯ মিনিটেই রাশাদুলের গোলে লিড নেয় দলটি। এরপর ২৮ মিনিটে এআইইউবি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ব্র্যাকের খেলোয়াড় নিজেদের জালে জড়িয়ে দেয়। এতে আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় এআইইউবির। প্রথমার্ধে ব্রাকের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় এআইইউবি। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আক্রমনের ধার আরো বাড়ায় এআইইউবি। এতে ব্রাকের রক্ষণভাগ একেবারে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। গোল ঠেকাতে ব্যস্ত থাকে ব্রাক। এতে ম্যাচের ৪০ মিনিটে দারুণ ১ গোলে লিড আরো বাড়িয়ে দেন মঈন। খেলার শেষ মিনিটে ব্রাকের জালে আরেকবার বল পাঠিয়ে শেষ পেরেক ঠুকে দেন আক্কাস। এতে ৪-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করেন তারা। পুরো ম্যাচ জুড়েই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে কোনো গোল না হজম করেই মাঠ ছাড়ে এআইইউবি। ব্রাক ইউনিভার্সিটি বড় ব্যবধানে হারিয়ে পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ। ম্যাচে চমৎকার পারফরম্যান্সের জন্য এআইইউবি-এর ফয়েজ ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন। এই দুর্দান্ত জয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্ত অবস্থানের জানান দিল এআইইউবি। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করছে দেশের একমাত্র ক্রীড়াভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল টি স্পোর্টস। দেশের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় গত ২৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ-২০২৬’।
অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে নিউজিল্যান্ড হারিয়ে সিরিজ ২ ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজ জিতে নিল ভারত। পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে তৃতীয়টিতে কিইউদের ৬ উইকেট ও ৪০ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টিম ইন্ডিয়া। মঙ্গলবার ওয়েলিংটনে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশীর বিধ্বংসী ম্যাচ শুরু করেন। শর্মা এবং ১৫ বছর বয়সী বৈভব সূর্যবংশী জ্যাকব ডাফির করা প্রথম ওভারেই ২৬ রান তুলে ভারতকে এক বিস্ফোরক সূচনা এনে দেন। এই জুটি দ্বিতীয় ওভারে ১৭ রান এবং তৃতীয় ওভারে ২১ রান যোগ করলে ভারত মাত্র তিন ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬৪ রান তুলে নেয়। পরবর্তী ওভারগুলোতেও আক্রমণ অব্যাহত ছিল এবং ভারত চতুর্থ ওভারে ২০, পঞ্চম ওভারে ১৬ ও ষষ্ঠ ওভারে ১৮ রান তুলে পাওয়ারপ্লে শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে বিস্ময়কর ১১৮ রান সংগ্রহ করে। শর্মা মাত্র ১৫ বলে তার অর্ধশতক পূর্ণ করেন। অবশেষে নিউজিল্যান্ড অষ্টম ওভারে প্রথম সাফল্য পায়, ম্যাথিউ ফিশারের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন সূর্যবংশী, যিনি ৪টি ছক্কা ও ৪টি বাউন্ডারিসহ ১৯ বলে ৪৫ রান করেছিলেন। সূর্যবংশী আউট হলেও অপরপ্রান্তে থাকা অভিষেক শর্মা সঞ্জু স্যামসনকে নিয়ে সমানতালে ব্যাট একই ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি বাউন্ডারি মেরে আট ওভার শেষে ভারতকে ১৫৬/১ স্কোরে পৌঁছে দেন। নবম ওভারে এসে রানে চাকা কিছুটা স্লো হয়ে যায়। মাত্র ৬ রান নিয়ে ওভারটি শেষ হয়। তবে পরের ওভারে অর্থাত দশম ওভারে কাইল জেমিসনকে দেখে শুনে খেলে মাত্র ৩৫ বলে শতক পূর্ণ করেন শর্মা। অবশেষে জেমিসনের বলে সাজঘরে ফেরার আগে ৩৮ বলে ১১৩ রান করেন অভিষেক। তখন জয় শুধু সময়ের ব্যাপার ভারতের। ১০ ওভার শেষে ২ উইকেটে ১৭৮ রান তুলে ভারত যখন চালকের আসনে, তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি তারা খুব সহজেই জিতে নেবে। তবে শেষের দিকে শ্রেয়াস আইয়ার এবং স্যামসনের দ্রুত উইকেট হারালে রান তাড়ায় কিছুটা স্লো হয়ে যায়। এই ধাক্কা সামলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৩.২ ওভারে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত, এবং নিশ্চিত করে এক দুর্দান্ত ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয়।
কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অন্যদিকে, নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতে তৃতীয়বারের মতো এই পুরস্কার নিজের করে নিয়েছেন স্পেনের আলেক্সিয়া পুতেয়াস। স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে লন্ডনে জমকালো অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতলেন বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার কেইন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে গোলের অসাধারণ ধারাবাহিকতাই কেইনকে এই স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মৌসুমে ৬১ গোল করেন তিনি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে তার গোল ১৯টি বেশি। এক মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনো খেলোয়াড়ের এটাই সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা, যা ২০১৪-১৫ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর করা ৬১ গোলের সমান। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত মৌসুমে কেইনের গোলসংখ্যা ৭৩। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় স্থান অর্জনে সহায়তা করেন তিনি। অসাধারণ গোল করার স্বীকৃতি হিসেবে পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফিও জিতেছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। পুরস্কার ঘোষণার আগেই ব্যালন ডি’অরের ওয়েবসাইটে কেইনের নাম বিজয়ী হিসেবে উল্লেখ করে একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। একইভাবে এমবাপ্পে ও ইয়ামালকে বিজয়ী উল্লেখ করেও নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়। পরে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে কেইনের হাতেই ওঠে পুরুষদের ব্যালন ডি’অর। পুরুষদের মূল পুরস্কারে তৃতীয় হয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে। পঞ্চম হয়েছেন লিওনেল মেসি, আর চতুর্থ স্থানে ছিলেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রদ্রি। তবে কোপা ট্রফি জিতে টানা তৃতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-২১ বয়সী সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছেন ইয়ামাল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৪ গোল করার পাশাপাশি ১৭টি গোলে সহায়তা করেন তিনি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে কিশোর খেলোয়াড়দের মধ্যে তার গোল ও গোলে সহায়তার সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ। বার্সেলোনাকে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ইয়ামাল। পুরস্কার গ্রহণের পর তিনি সতীর্থ পাউ কুবারসির প্রশংসা করেন। ইয়ামালের মতে, এই পুরস্কারটি কুবারসির প্রাপ্য ছিল। বিশ্বকাপে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পেয়েছিলেন এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডার। পুরুষদের বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার অধীনেই বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে স্পেন। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করে দেশটি। বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণভাগের সাফল্যের স্বীকৃতি পেয়েছেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি জিতেছেন তিনি। বিশ্বকাপে স্পেনের আট ম্যাচে মাত্র এক গোল হজম করেন সিমন। বিশ্বকাপজয়ী কোনো দলের টুর্নামেন্টজুড়ে হজম করা গোলের হিসাবে এটি অন্যতম সেরা রেকর্ড। নারীদের ব্যালন ডি’অর জিতেছেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই পুরস্কার জিতলেন বার্সেলোনার সাবেক অধিনায়ক, যিনি বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব লন্ডন সিটি লায়নেসের হয়ে খেলছেন। এর আগে আইতানা বোনমাতিও তিনবার নারী ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। বার্সেলোনার কোচ পেরে রোমেউ জিতেছেন নারীদের বর্ষসেরা কোচের পুরস্কার। তার অধীনে লিগে ৩০ ম্যাচের মধ্যে ২৯টিতে জয় পায় বার্সেলোনা। দলটির গোল ব্যবধান ছিল ১২১। নারী গোলরক্ষকদের মধ্যে সেরা হয়েছেন বার্সেলোনার কাতা কোল। লিগে ১৭ ম্যাচে মাত্র ছয় গোল হজম করেন তিনি এবং ১১টি ম্যাচে ক্লিনশিট রাখেন। নারী বিভাগে বার্সেলোনা জিতেছে বর্ষসেরা ক্লাবের পুরস্কার। পুরুষ বিভাগে এই স্বীকৃতি পেয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে আর্সেনালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের পর এই পুরস্কার পায় ফরাসি ক্লাবটি। নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি জিতে ইতিহাস গড়েছেন মেক্সিকো ও পাচুকার স্ট্রাইকার চার্লিন কোরাল। ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার জেতা প্রথম মেক্সিকান খেলোয়াড় তিনি। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের বিজয়ীদের তালিকা পুরুষদের ব্যালন ডি’অর: হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড) নারীদের ব্যালন ডি’অর: আলেক্সিয়া পুতেয়াস (বার্সেলোনা/স্পেন) পুরুষদের জোহান ক্রুইফ ট্রফি: লুইস দে লা ফুয়েন্তে (স্পেন) নারীদের জোহান ক্রুইফ ট্রফি: পেরে রোমেউ (বার্সেলোনা) পুরুষদের কোপা ট্রফি: লামিন ইয়ামাল (বার্সেলোনা/স্পেন) নারীদের কোপা ট্রফি: ভিকি লোপেজ (বার্সেলোনা/স্পেন) পুরুষদের ইয়াশিন ট্রফি: উনাই সিমন (অ্যাথলেটিক ক্লাব/স্পেন) পুরুষদের গার্ড মুলার ট্রফি: হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড) নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি: চার্লিন কোরাল (পাচুকা/মেক্সিকো)