ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পর এবার সাংগঠনিক কাজে নজর বিএনপির। আন্দোলন-সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা মহানগর বিএনপির (উত্তর ও দক্ষিণ) নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। মূলত সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন ও পুরোনো নেতৃত্বের সমন্বয়ে কমিটি গঠনে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে দলটির হাইকমান্ড। যে কোনো সময় ভেঙে দেওয়া হতে পারে দলের ঢাকা মহানগরীর দুই কমিটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই মহানগরীর শীর্ষ দুজন নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মহানগর বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক কাজে তারা ব্যস্ত থাকায় মহানগরের রাজনীতিতে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থবিরতা ও শৃঙ্খলার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো দরকার। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুরোনো নেতাদেরও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। কেননা, অভিজ্ঞদের রয়েছে বিরাট কর্মীবাহিনী এবং সাংগঠনিক দক্ষতা। ফলে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীতে রাজনৈতিক গতিহীনতা কাটাতে এবং মহানগর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা নেতৃত্বে পরিবর্তন করতে আগ্রহী বলে সূত্রের দাবি।
যদিও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দুই ধরনের আলোচনা শোনা যাচ্ছে। একটি হলো—এমপি-মন্ত্রী রেখেই দল পরিচালনা করা; অন্যটি হচ্ছে—নতুন-পুরোনো মিলে একটি চৌকশ কমিটি করা। তবে দলটির দায়িত্বশীল নেতারা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলছেন না। বরং তারা বলছেন, কমিটি গঠনে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি কোন প্রক্রিয়ায় কমিটি দেবেন, সেটি তিনিই ভালো জানেন।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এবারও নতুন ও পুরোনো নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি গঠন করা হবে। যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য—তাদেরই শীর্ষ পদে অগ্রাধিকার থাকবে। শিগগির এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক শক্তি নতুন করে জানান দিতে চায়, যা আগামী দিনে যে কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে। এবার কমিটি গঠনে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলনে ত্যাগ ও সক্রিয় ভূমিকা এবং বিতর্কমুক্ত ও ক্লিন ইমেজ।
এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, বহু বছর পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে। সুতরাং বিএনপির জনগণের প্রতি যে কমিটমেন্ট আছে সেটাও দেখতে হবে, বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা সরকারে নেই তারা দলীয় কার্যক্রমগুলো দেখছেন। তবে সারা দেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে, কোথাও সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো এক এক করে দেওয়া হবে। সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা স্থান পাবেন। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই চূড়ান্ত।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৭ জুলাই রফিকুল আলম মজনুকে আহ্বায়ক এবং তানভীর আহমেদ রবীনকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং সাইফুল আলম নীরবকে আহ্বায়ক ও সাবেক ফুটবলার আমিনুল হককে সদস্য সচিব করে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। তবে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগে পরবর্তী সময়ে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর আমিনুল হককে আহ্বায়ক ও মোস্তফা জামানকে সদস্য সচিব করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। এতে বাদ দেওয়া হয় সাইফুল আলম নীরবকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির অধীনে ২৪টি থানা এবং মহানগর উত্তর বিএনপির অধীনে ২৬টি থানা। দক্ষিণ বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু জানান, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ২৪টি থানার মধ্যে ২২টিতে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। প্রায় সব ওয়ার্ডেও কমিটি হালনাগাদ করা হয়েছে।
মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক জানান, তাদের মহানগরে ২৬টি থানা এবং ৭১টি ওয়ার্ড ও ৬১৯টি ইউনিট। সবকটিতেই হালনাগাদ কমিটি করা হয়েছে।
এদিকে নতুন কমিটির বিষয়ে দলটির কয়েকজন নেতা জানান, এ নিয়ে দলের ভেতরে দুই ধরনের আলোচনা আছে। প্রথমত, বর্তমান নেতৃত্ব কাজ করতে আগ্রহী হলে নতুন কমিটি হবে না। দ্বিতীয়ত, তারা যদি মনে করেন, সরকারি কাজ এবং দলীয় কাজ একসঙ্গে করা যাবে না, তাহলে তারা দলের নীতিনির্ধারককে জানাবেন। এতে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।
জানা যায়, সাংগঠনিক কাজে গতি বাড়াতে মূল দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো গুছিয়ে আনতে চাইছে বিএনপি। এজন্য চলতি বছরেই দলের জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি রয়েছে। মূলত গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর এককভাবে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। কিন্তু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কিছুটা মন্থর গতিতে এগোচ্ছে। এমন অবস্থায় গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বসে বিএনপি। সেখানে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে বিভিন্ন নির্দেশনা এসেছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি চলছে। মূল দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগেই এ কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য নেতৃত্বের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তারা আরও জানান, সরকারে দায়িত্বে আছেন অথবা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এমন কেউ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ পদে জায়গা না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
আলোচনায় ডজনখানেক নেতা: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির দুই আহ্বায়কই সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার মধ্যে দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ফেনী-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক নির্বাচনে বিজয়ী না হতে পারলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দুজনকে জাতীয় সংসদে ও নিজের নির্বাচনি এলাকায় অনেক সময় দিতে হয়। তারা আর আগের মতো মহানগরীর রাজনীতিতে সময় দিতে পারছেন না বা পারবেন না। যে কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসছে। দুই মহানগরে বিএনপির আগামীর নেতৃত্বে কারা আসছেন—এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ঘুরেফিরে অন্তত ডজনখানেক নেতার নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের জন্য জোরালোভাবে নাম শোনা যাচ্ছে বর্তমান সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার এবং বর্তমান সহসভাপতি লিটন মাহমুদের। ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তাদের নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা-৫ আসনে ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী, দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু।
উল্লিখিত নেতাদের মধ্যে কাজী আবুল বাশার দীর্ঘদিন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ছিলেন। তিনি সেসময় ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে হামলা-মামলার শিকার হয়েও রাজপথের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। পুরান ঢাকার স্থানীয় এই নেতার রয়েছে বিশাল কর্মীবাহিনী।
কাজী আবুল বাশার প্রায় ১৮ বছর একাধারে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ছিলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণে প্রায় সব কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তাকে ঢাকা-৬ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি জোর আলোচনায় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ফলে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা তাকে আবারও ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি হিসেবে দেখতে চান।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক আমিনুল হক ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। পরে তাকে সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়। তিনিও মহানগরীর রাজনীতিতে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না। ফলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিতেও পরিবর্তন আসন্ন। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নতুন কমিটির শীর্ষ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, বর্তমান কমিটির সদস্য ও সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক কফিল উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা মামুন হাসান, উত্তর বিএনপির সদস্য এ জি এম শামসুল হক। বিগত দিনের আন্দোলনগুলোয় তাদের প্রায় সবার সক্রিয় ভূমিকা হাইকমান্ডের নজর কেড়েছে।
আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মহানগরীর রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। হামলা-মামলা সহ্য করে রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন। দলের হাইকমান্ড যদি মহানগর বিএনপির দায়িত্বে আমাকে যোগ্য মনে আমি প্রস্তুত। সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন বলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এফ রহমান হলের নির্বাচিত ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। দল যেখানে দায়িত্ব দেবে তিনি সেখানে কাজ করবেন।
এ জি এম শামসুল হক বলেন, নতুন কমিটির বিষয়ে আলোচনা শুনছি। কিন্তু আমাদের কাছে পরিষ্কার কোনো বার্তা নেই।
মামুন হাসান যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছিল। একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। তিনি বলেন, দলের প্রয়োজনে যেখানেই দায়িত্ব দেবে, আমি কাজ করতে রাজি।
বড় চ্যালেঞ্জ কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব: অনেকেই মনে করেন, বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এ দুই কমিটিতে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা। যেখানে দক্ষ, পরিচ্ছন্ন ও জনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দিতে হবে। একদিকে প্রতিপক্ষের আগাম প্রস্তুতি, অন্যদিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা—এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারলে নির্বাচনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে দলটিকে।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের একাধিক নেতা বলেন, যারা কঠিন সময়ে মাঠে ছিল, এখন তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বরং নতুন করে আসা বা বিতর্কিতদের কমিটিতে জায়গা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংগঠন আরও দুর্বল হবে এবং সিটি নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জানতে চাইলে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন কালবেলাকে বলেন, ‘দলের কমিটি দেওয়া না দেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি।
অন্যদিকে মহানগর উত্তর বিএনপির দুজন যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, তারা কমিটি গঠনের বিষয়টি মুখে মুখে শুনছেন। তবে তাদের কাছে এখনো কোনো চূড়ান্ত ম্যাসেজ আসেনি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের অধীনে দায়ের করা চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য চেকের অর্থ আদায় নিশ্চিত করা, আসামিকে কারাগারে পাঠানো নয়—এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ ধরনের মামলায় কারাদণ্ড শুধুমাত্র বিশেষ ও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে দেওয়া উচিত। ‘মো. আলাউদ্দিন বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য’ মামলায় বিচারপতি ড. মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২২ জুলাই এ রায় দেন। রায়ের লিখিত অনুলিপি বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বহাল রাখা হলেও আসামির ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বাতিল করা হয়েছে। ‘কারাদণ্ড কঠোর শাস্তি, অর্থ আদায়ই আইনের উদ্দেশ্য’ রায়ে হাইকোর্ট বলেন, এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার মামলার মূল লক্ষ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পাওনা অর্থ আদায় নিশ্চিত করা। কারাদণ্ড এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য নয় এবং তা কেবল বিশেষ পরিস্থিতিতেই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আদালত ‘আমান উল্লাহ বনাম রাষ্ট্র’ মামলার নজির উল্লেখ করে বলেন, চেক ডিজঅনার মামলায় কারাদণ্ড একটি অত্যন্ত কঠোর শাস্তি, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আইনটির উদ্দেশ্য পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখে না। আদালত ওই নীতির সঙ্গে পূর্ণ একমত পোষণ করেন। যেভাবে শুরু হয় মামলা মামলার নথি অনুযায়ী, গবাদিপশুর ব্যবসার জন্য মো. আলাউদ্দিন বরিশালের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন। পরে ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি রূপালী ব্যাংক, বরিশাল বাজার রোড শাখার একটি চেক দেন। ২০২০ সালের ২ নভেম্বর চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা ডিজঅনার হয়। এরপর আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় ২০ ডিসেম্বর ২০২০ এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকেনি ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি বরিশালের তৃতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালত মো. আলাউদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। পরবর্তীতে অর্থদণ্ডের অর্ধেক অর্থ জমা দিয়ে তিনি আপিল করেন। তবে আপিল আদালত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড বহাল রেখে আপিল খারিজ করে দেন। এরপর তিনি হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। হাইকোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের অর্থদণ্ড বহাল রেখে কারাদণ্ডের অংশ বাতিল করেন। একই সঙ্গে রায়ের কপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে অবশিষ্ট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে আসামিকে দুই মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে কারাদণ্ড ভোগ করলেও অর্থদণ্ড পরিশোধের দায় থেকে তিনি মুক্ত হবেন না। প্রয়োজন হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়ায় বকেয়া অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হবিগঞ্জে পদযাত্রা কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (২৯ জুলাই) এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এনসিপির দপ্তর সেলের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে বিএনপির সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ২৯ জুলাই (বুধবার) সারা দেশে দলীয় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। সংশ্লিষ্ট সব সাংগঠনিক ইউনিটকে কর্মসূচি সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। এ সময় সাংবাদিক ও এনসিপি নেতাকর্মীরা আহত হন। পরে তাদের পুলিশ উদ্ধার করে।
আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য তারেক রহমান ইতোমধ্যে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ শুরু করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় পরিচয়ের ব্যক্তিকে বসানো হলে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় এনসিপির 'জুলাই পদযাত্রা' কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা খুব ভালো করেই বুঝে গিয়েছি, তারেক রহমানকে দিয়ে বাংলাদেশের পরিবর্তন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আমি আপনাদের লিখে দিয়ে গেলাম। আজকে এই কথা ছয় মাস পরে আপনারা আমাদেরকে খুঁজবেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা দাবি করেন, বিএনপির ছত্রছায়ায় অসংখ্য বিভিন্ন ‘খারাপ লোক’ বিভিন্ন সুবিধা বাগিয়ে নিচ্ছে। এমন সব ব্যক্তিদের উপজেলা প্রশাসনের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় সাধারণ মানুষরা উপজেলা প্রশাসনে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। ভালুকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রসঙ্গে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কোনো রাজনৈতিক নেতার স্থানীয় মানুষের ভবিষ্যৎ ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আপনার সন্তানের ভাগ্য পরিবর্তন আপনাকেই করতে হবে। এ সময় এলাকা থেকে সব ধরনের সামাজিক অনাচার দূর করতে আহ্বান জানিয়ে তিনি ভালুকায় স্থানীয়ভাবে মাদক, জুয়া, চোরাচালান ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার তাগিদ দেন। আওয়ামী লীগের বিচার ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিও জানান এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, যদি সংস্কার বাস্তবায়িত না হয়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিচার সুসম্পন্ন না হয় এবং জুলাই বিপ্লবে শহীদ ১৪শ আত্মদানকারীর রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হয়—তবে রাজপথে এনসিপি এক সেকেন্ডও অপেক্ষা করব না তারেক রহমানের সরকারকে পালাইতে।