অন্যান্য

নতুন মুখ খুঁজছে ঢাকা মহানগর বিএনপি

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পর এবার সাংগঠনিক কাজে নজর বিএনপির। আন্দোলন-সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা মহানগর বিএনপির (উত্তর ও দক্ষিণ) নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। মূলত সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নতুন ও পুরোনো নেতৃত্বের সমন্বয়ে কমিটি গঠনে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছে দলটির হাইকমান্ড। যে কোনো সময় ভেঙে দেওয়া হতে পারে দলের ঢাকা মহানগরীর দুই কমিটি।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই মহানগরীর শীর্ষ দুজন নেতা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মহানগর বিএনপির সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, রাষ্ট্রীয় ও দাপ্তরিক কাজে তারা ব্যস্ত থাকায় মহানগরের রাজনীতিতে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না। ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা স্থবিরতা ও শৃঙ্খলার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন অবস্থায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো দরকার। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে পুরোনো নেতাদেরও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। কেননা, অভিজ্ঞদের রয়েছে বিরাট কর্মীবাহিনী এবং সাংগঠনিক দক্ষতা। ফলে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানীতে রাজনৈতিক গতিহীনতা কাটাতে এবং মহানগর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা নেতৃত্বে পরিবর্তন করতে আগ্রহী বলে সূত্রের দাবি।

 

যদিও মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দুই ধরনের আলোচনা শোনা যাচ্ছে। একটি হলো—এমপি-মন্ত্রী রেখেই দল পরিচালনা করা; অন্যটি হচ্ছে—নতুন-পুরোনো মিলে একটি চৌকশ কমিটি করা। তবে দলটির দায়িত্বশীল নেতারা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে স্পষ্টভাবে কিছু বলছেন না। বরং তারা বলছেন, কমিটি গঠনে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি কোন প্রক্রিয়ায় কমিটি দেবেন, সেটি তিনিই ভালো জানেন।

 

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এবারও নতুন ও পুরোনো নেতাদের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কমিটি গঠন করা হবে। যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য—তাদেরই শীর্ষ পদে অগ্রাধিকার থাকবে। শিগগির এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক শক্তি নতুন করে জানান দিতে চায়, যা আগামী দিনে যে কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখবে। এবার কমিটি গঠনে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—তৃণমূল পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলনে ত্যাগ ও সক্রিয় ভূমিকা এবং বিতর্কমুক্ত ও ক্লিন ইমেজ।

 

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, বহু বছর পর বিএনপি সরকার গঠন করেছে। সুতরাং বিএনপির জনগণের প্রতি যে কমিটমেন্ট আছে সেটাও দেখতে হবে, বাস্তবায়ন করতে হবে। যারা সরকারে নেই তারা দলীয় কার্যক্রমগুলো দেখছেন। তবে সারা দেশে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে, কোথাও সম্মেলনের প্রস্তুতি চলছে। যেসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে, সেগুলো এক এক করে দেওয়া হবে। সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিতরা স্থান পাবেন। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই চূড়ান্ত।

 

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৭ জুলাই রফিকুল আলম মজনুকে আহ্বায়ক এবং তানভীর আহমেদ রবীনকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এবং সাইফুল আলম নীরবকে আহ্বায়ক ও সাবেক ফুটবলার আমিনুল হককে সদস্য সচিব করে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয়। তবে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগে পরবর্তী সময়ে মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি ভেঙে দিয়ে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর আমিনুল হককে আহ্বায়ক ও মোস্তফা জামানকে সদস্য সচিব করে নতুন কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। এতে বাদ দেওয়া হয় সাইফুল আলম নীরবকে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির অধীনে ২৪টি থানা এবং মহানগর উত্তর বিএনপির অধীনে ২৬টি থানা। দক্ষিণ বিএনপির দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু জানান, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ২৪টি থানার মধ্যে ২২টিতে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। প্রায় সব ওয়ার্ডেও কমিটি হালনাগাদ করা হয়েছে।

 

মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক জানান, তাদের মহানগরে ২৬টি থানা এবং ৭১টি ওয়ার্ড ও ৬১৯টি ইউনিট। সবকটিতেই হালনাগাদ কমিটি করা হয়েছে।

 

এদিকে নতুন কমিটির বিষয়ে দলটির কয়েকজন নেতা জানান, এ নিয়ে দলের ভেতরে দুই ধরনের আলোচনা আছে। প্রথমত, বর্তমান নেতৃত্ব কাজ করতে আগ্রহী হলে নতুন কমিটি হবে না। দ্বিতীয়ত, তারা যদি মনে করেন, সরকারি কাজ এবং দলীয় কাজ একসঙ্গে করা যাবে না, তাহলে তারা দলের নীতিনির্ধারককে জানাবেন। এতে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

 

জানা যায়, সাংগঠনিক কাজে গতি বাড়াতে মূল দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলো গুছিয়ে আনতে চাইছে বিএনপি। এজন্য চলতি বছরেই দলের জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি রয়েছে। মূলত গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর এককভাবে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। কিন্তু সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কিছুটা মন্থর গতিতে এগোচ্ছে। এমন অবস্থায় গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বসে বিএনপি। সেখানে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে বিভিন্ন নির্দেশনা এসেছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর প্রস্তুতি চলছে। মূল দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগেই এ কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে সম্ভাব্য নেতৃত্বের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তারা আরও জানান, সরকারে দায়িত্বে আছেন অথবা সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এমন কেউ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষ পদে জায়গা না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

 

আলোচনায় ডজনখানেক নেতা: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির দুই আহ্বায়কই সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তার মধ্যে দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ফেনী-১ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক নির্বাচনে বিজয়ী না হতে পারলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দুজনকে জাতীয় সংসদে ও নিজের নির্বাচনি এলাকায় অনেক সময় দিতে হয়। তারা আর আগের মতো মহানগরীর রাজনীতিতে সময় দিতে পারছেন না বা পারবেন না। যে কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের নেতৃত্বে পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসছে। দুই মহানগরে বিএনপির আগামীর নেতৃত্বে কারা আসছেন—এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। ঘুরেফিরে অন্তত ডজনখানেক নেতার নাম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

 

জানা যায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সম্ভাব্য নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদের জন্য জোরালোভাবে নাম শোনা যাচ্ছে বর্তমান সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার এবং বর্তমান সহসভাপতি লিটন মাহমুদের। ত্যাগী ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তাদের নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা-৫ আসনে ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী, দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক সাইদুর রহমান মিন্টু।

 

উল্লিখিত নেতাদের মধ্যে কাজী আবুল বাশার দীর্ঘদিন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব ছিলেন। তিনি সেসময় ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে হামলা-মামলার শিকার হয়েও রাজপথের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। পুরান ঢাকার স্থানীয় এই নেতার রয়েছে বিশাল কর্মীবাহিনী।

 

কাজী আবুল বাশার প্রায় ১৮ বছর একাধারে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ছিলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণে প্রায় সব কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তাকে ঢাকা-৬ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি জোর আলোচনায় ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ফলে তার অনুসারী নেতাকর্মীরা তাকে আবারও ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি হিসেবে দেখতে চান।

 

অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক আমিনুল হক ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। পরে তাকে সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী (টেকনোক্র্যাট) হিসেবে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়। তিনিও মহানগরীর রাজনীতিতে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না। ফলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিতেও পরিবর্তন আসন্ন। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নতুন কমিটির শীর্ষ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, বর্তমান কমিটির সদস্য ও সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক কফিল উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা মামুন হাসান, উত্তর বিএনপির সদস্য এ জি এম শামসুল হক। বিগত দিনের আন্দোলনগুলোয় তাদের প্রায় সবার সক্রিয় ভূমিকা হাইকমান্ডের নজর কেড়েছে।

 

আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মহানগরীর রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন। হামলা-মামলা সহ্য করে রাজপথের আন্দোলনে ছিলেন। দলের হাইকমান্ড যদি মহানগর বিএনপির দায়িত্বে আমাকে যোগ্য মনে আমি প্রস্তুত। সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন বলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এফ রহমান হলের নির্বাচিত ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। দল যেখানে দায়িত্ব দেবে তিনি সেখানে কাজ করবেন।

 

এ জি এম শামসুল হক বলেন, নতুন কমিটির বিষয়ে আলোচনা শুনছি। কিন্তু আমাদের কাছে পরিষ্কার কোনো বার্তা নেই।

 

মামুন হাসান যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছিল। একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। তিনি বলেন, দলের প্রয়োজনে যেখানেই দায়িত্ব দেবে, আমি কাজ করতে রাজি।

 

বড় চ্যালেঞ্জ কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব: অনেকেই মনে করেন, বিএনপির সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এ দুই কমিটিতে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা। যেখানে দক্ষ, পরিচ্ছন্ন ও জনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দিতে হবে। একদিকে প্রতিপক্ষের আগাম প্রস্তুতি, অন্যদিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা—এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারলে নির্বাচনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে দলটিকে।

 

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের একাধিক নেতা বলেন, যারা কঠিন সময়ে মাঠে ছিল, এখন তাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বরং নতুন করে আসা বা বিতর্কিতদের কমিটিতে জায়গা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংগঠন আরও দুর্বল হবে এবং সিটি নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

 

জানতে চাইলে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন কালবেলাকে বলেন, ‘দলের কমিটি দেওয়া না দেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি।

 

অন্যদিকে মহানগর উত্তর বিএনপির দুজন যুগ্ম আহ্বায়ক জানান, তারা কমিটি গঠনের বিষয়টি মুখে মুখে শুনছেন। তবে তাদের কাছে এখনো কোনো চূড়ান্ত ম্যাসেজ আসেনি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
প্রতীকী ছবি
মোবাইলের স্ক্রিনে ‘জয়ের’ ফাঁদ, বাস্তবে সর্বনাশ

রাতে মোবাইল হাতে শুরু হয়েছিল ‘মজা করে’ একটি খেলা। প্রথমে জিতলেন কয়েকশ টাকা। বিকাশে টাকা ঢুকতেই বাড়লো আত্মবিশ্বাস। এরপর আরও বড় বাজি, আরও বড় স্বপ্ন। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে গেলো সঞ্চয়, ঋণ হলো, ভাঙলো পরিবার। এমন গল্প এখন শুধু শহরের নয়, গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল, রিকশার গ্যারেজ থেকে অভিজাত ড্রয়িংরুম— সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ার অদৃশ্য জাল। ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়ানো আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন আর সহজ মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে অবৈধ জুয়া ও বাজি ধরার আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ গ্যাং বা নেটওয়ার্ক (বেটিং চক্র) বাংলাদেশে তৈরি করেছে হাজার কোটি টাকার এক ভয়ংকর অর্থনীতি। এই নেশায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোর-তরুণরা, বাড়ছে ঋণ, প্রতারণা, খুন, আত্মহত্যা ও অর্থপাচারের ঘটনা। পরিস্থিতিকে ‘সমাজ ও অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি’ হিসেবে দেখছে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাই ১৮৬৭ সালের পুরানো আইন বাতিল করে অনলাইন জুয়া দমনে আনতে যাচ্ছে কঠোর ও আধুনিক নতুন আইন। ফুটপাত থেকে ড্রয়িংরুম: সর্বত্র অনলাইন জুয়ার থাবা একসময় জুয়া নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা পৌঁছে গেছে হাতের মুঠোয়। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় সমাজের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ জড়িয়ে পড়ছেন অনলাইন বেটিংয়ে। ফুটপাতের চা-দোকানি, সেলুন কর্মী, হকার, সিকিউরিটি গার্ড, বিক্রয়কর্মী, গৃহপরিচারিকা, রিকশাচালক ও দিনমজুরের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে বাস-ট্রাকের চালক-হেলপার, সিএনজিচালক, এমনকি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও দিনের বড় একটি সময় কাটাচ্ছেন অনলাইনে বাজি ধরে। শুরুতে 'ফ্রি বোনাস', 'গ্যারান্টি জয়' কিংবা ‘প্রথম ডিপোজিটে দ্বিগুণ টাকা’র মতো অফারে আকৃষ্ট করা হয় ব্যবহারকারীদের। প্রথম দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু টাকা জিতিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। এতে দ্রুতই তৈরি হয় আসক্তি। পরে বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন অনেকেই। অর্থ পাচার প্রতিরোধে অ্যাকশনে সিআইডি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিয়মিত জুয়াড়ি ও স্থানীয় এজেন্ট গ্রেফতার হলেও আন্তর্জাতিক চক্রগুলোর মূলহোতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। তবে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে সক্রিয় রয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি সূত্র জানায়, তাদের সাইবার ইউনিট ইতোমধ্যে প্রায় দেড় শতাধিক জুয়ার ওয়েবসাইট শনাক্ত করে বন্ধের জন্য বিটিআরসিতে তালিকা পাঠিয়েছে। এছাড়া অবৈধ লেনদেনে জড়িত ৮৭৯টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট এবং ৪৩টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কয়েক স্তরে পরিচালিত এই চক্রগুলো প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন করছে। সিআইডির তথ্যমতে, একটি চক্রই গত কয়েক মাসে দৈনিক গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করেছে, যার বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনাকারী একটি চক্রের মূলহোতাসহ আট সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। পরে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বেটিং পরিচালনা করছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। জুয়ার নেশায় বাড়ছে খুন, আত্মহত্যা ও অপরাধ অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা এখন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ নেই; বাড়ছে খুন, আত্মহত্যা ও সহিংস অপরাধও। গত ২৫ এপ্রিল ঢাকার ধামরাইয়ে জুয়ার ঋণ শোধ করতে গিয়ে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হত্যা করে তার স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এর আগে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে না পেরে এক যুবক নিজের বাবা-মাকে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন বলে অভিযোগ উঠে। রাজধানীর কলাবাগানে জুয়ার টাকার জন্য পরিবারের সঙ্গে বিরোধের জেরে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও আলোড়ন তোলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে প্রতারণা, সাইবার অপরাধ, চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক সহিংসতার মতো অপরাধের সম্পর্ক ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পুলিশের বক্তব্য ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডিসি এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, পুলিশের সাইবার টিমগুলো সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং জুয়ার সাইটগুলো বন্ধে কাজ করছে। তবে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেউ গোপনে আসক্ত হয়ে পড়লে পুলিশের পক্ষে তা জানা কঠিন হয়ে পড়ে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, অনলাইন জুয়া বন্ধে আমাদের সাইবার মনিটরিং ও বিশেষ অভিযান চলছে। নিয়মিত জুয়ার সাইট শনাক্ত করে বিটিআরসিতে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বিষয়টিকে সমাজ ও অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি উল্লেখ করে বলেন, অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়া, প্রচারণা চালানো বা এজেন্ট হওয়া— তিনটিই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গ্রামীণ এলাকায় ইন্টারনেটের সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে কেউ যেন একে ডিজিটাল আসক্তিতে রূপ দিতে না পারে, সেজন্য পুলিশের সাইবার মনিটরিং টিম সক্রিয় রয়েছে। আসছে কঠোর ও আধুনিক আইন ১৮৬৭ সালের পুরোনো আমলের পুরনো জুয়া আইন দিয়ে বর্তমানের আধুনিক ডিজিটাল অপরাধ দমন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সম্পূর্ণ নতুন ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৮৬৭ সালের জুয়া আইন বাতিল করে জুয়া, বেটিং ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে একটি সম্পূর্ণ নতুন, আধুনিক আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এই আইনটি পাসের জন্য বিল আকারে উত্থাপন করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই আইন কার্যকর হলে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মারিয়া রহমান মে ২৯, ২০২৬
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ফাইল ছবি

মহিষ ‌‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে’ নিয়ে যা বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি: সংগৃহীত

এ এক অশনিসংকেত

ছবি: সংগৃহীত

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন খুলনার দর্শনীয় স্থানগুলো

সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
সাতবারের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম আর নেই

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিক আলহাজ দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন। ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।   ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক প্রভাবশালী নেতৃত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।   ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিরল রেকর্ড রয়েছে এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের। তিনি ১৯৮৬ সালের তৃতীয় এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। এরপর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরপর পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।   সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। এরমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। ওই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পাওয়ার পর শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় আনা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তার জীবনাবসান ঘটে।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মতিঝিলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কার্যালয় বন্ধের ঘোষণা

রাজধানীর বাংলা মোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: সংগৃহীত

আগে ছিল পুলিশ লীগ, এখন পুলিশ দল: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ভালো রাখতে কুরবানির গোশত সংরক্ষণের সঠিক উপায়

রংপুরে পাটক্ষেতে নিয়ে সাত বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, বৃদ্ধ আটক

রংপুর মহানগরীর মাহিগঞ্জে পাটক্ষেতে নিয়ে সাত বছর বয়সী এক শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে আটক করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় মাহিগঞ্জ থানার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাড়ী এলাকার একটি পাটক্ষেতে শিশুটিকে ফুঁলিয়ে নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালান বদিয়ার জামান ওরফে জামান নামের এক ব্যক্তি। এ সময় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ওই অভিযুক্ত পলায়ন করেন।   ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে মাহিগঞ্জ থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সমন্বিত দল তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান নির্ণয় করে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে মিঠাপুকুরের রাধাবল্লভপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।   মঙ্গলবার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন।   তিনি জানান, ঘটনা শুনে পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে আটকের চেষ্টা চালায়। প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ বদিয়ার জামানকে আটক করে। তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।   তিনি আরও জানান, আটক বদিয়ার জামান অসাধু চরিত্রের অধিকারী। তাঁর দুই স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ২৬, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। ছবি : সংগৃহীত

দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হতে শেখ হাসিনাকে আহ্বান রিজভীর

ছবি: এআই জেনারেটেড

ঈদে গ্রামে শিশু নিরাপত্তায় নজর রাখুন এই ৩ বিষয়ে

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে যা ঘটেছে, তা অশোভনীয় : আইনমন্ত্রী

0 Comments