বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে সরকার। তবে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে আবাসিক লাইফ লাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য আগের বিদ্যুতের দাম বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জুন মাসের জন্য অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানো হলেও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ২০ ও ২১ মে গণশুনানি আয়োজন করে। পরে আইন অনুযায়ী বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
তবে ৩ জুন জারি করা বিইআরসির আদেশে আবাসিক লাইফ লাইন (০-৫০ ইউনিট) এবং আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট) গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন করে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে এই দুই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্যহার বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, বিইআরসির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন ট্যারিফ সব গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য হওয়ার কথা ছিল। তবে সরকার নিজ উদ্যোগে আপিল করে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের বর্ধিত ট্যারিফের আওতামুক্ত রাখার ব্যবস্থা করেছে। দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশ এই দুই শ্রেণির আওতায় রয়েছেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের গড় মূল্য বেড়েছে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা হয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চালন খরচ প্রতি ইউনিটে গড়ে ৩১ পয়সা থেকে প্রায় ৩৯ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। নতুন এই মূল্যহার জুন মাস থেকেই কার্যকর হয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবের কারণে জুন মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যও নির্ধারণ করেছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ কম রাখতে সরকার দীর্ঘ সময় দাম অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করেছে বলে ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করা হয়।
নতুন মূল্য অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকাই রাখা হয়েছে। তবে কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। পেট্রোলের দাম ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে।
সরকারের মতে, গণপরিবহনে মূলত ডিজেল ব্যবহার করা হয়। ফলে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় গণপরিবহন খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ পড়বে না। একই কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন ব্যয়ও বাড়বে না বলে আশা করা হচ্ছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে না। অন্যদিকে অকটেন ও পেট্রোল প্রধানত ব্যক্তিগত যানবাহনে ব্যবহৃত হওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সীমিত থাকবে বলে সরকারের ধারণা।
২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু করে সরকার। এ ব্যবস্থায় আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানির ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাসে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল ব্যবহার হয়। এছাড়া পেট্রোলের ব্যবহার প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন এবং অকটেনের ব্যবহার প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন।
মাসিক জ্বালানি ব্যবহারের সম্ভাব্য হার ডিজেল ৮২ শতাংশ, পেট্রোল ৯ শতাংশ, অকটেন ৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ঢাকার ডেমরার সারুলিয়ায় বোমা সদৃশ বস্তু দুটি হাতবোমা বলেই নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ; যেগুলো নরসিংদীর জেল থেকে পালানো ‘জঙ্গি’ জুয়েল ভুঁইয়া ওরফে ‘ওস্তাদের’ কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ দুটো বোমাসহ তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়ে পুলিশ বলছে, এই জুয়েল নব্য জেএমবির আলোচিত বোমার কারিগর নাজমুল হাসান মামুন ওরফে বোমারু মামুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। পুলিশ বলছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী কারাগারে দাঙ্গার পর পালিয়ে যাওয়া নয়জন জঙ্গির মধ্যে ছিলেন জুয়েল ভুঁইয়া। ছয়দিন পর ২৫ জুলাই তিনি আবার নরসিংদী জেলা পুলিশের হাতে ধরাও পড়েন। পরে ৫ অগাস্ট সরকার পতনের পর সেপ্টেম্বরের দিকে তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন। সবশেষ রোববার বিকালে বিভিন্ন জায়গা থেকে বোমা উদ্ধার এবং পুলিশের ওপর জঙ্গি হামলার তদন্তের সূত্র ধরে ডেমরার সারুলিয়া এলাকার পশ্চিম নিঝুমবাগ থেকে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে দুটি বোমা উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। জঙ্গি নেটওয়ার্কে জুয়েলের ‘কোডনেম’ হচ্ছে ‘ওস্তাদ’। তার বাড়ি নরসিংদীর শিবপুরের কাজীরচরে। ডিএমপির ডেমরা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহসিন মাসুদ বলেন, “বোমারু মামুনের সহযোগী হিসেবে সন্দেহভাজন জুয়েল ওই এলাকায় অবস্থান করছেন–এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) যৌথভাবে এ অভিযান চালায়। অভিযানে দুটি হাতে তৈরি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।” পুলিশ বলছে, জুয়েল যে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, পরে সেটি ঘিরে তল্লাশি চালানো হয়। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে তল্লাশি শেষে উদ্ধার করা বোমা দুটি নিষ্ক্রিয় করে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিম। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিটিটিসির কর্মকর্তারা জুয়েল ভুঁইয়ার বিষয়ে তথ্য দেন। সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ‘হিযবুত তাহরীর’ এর সদস্য সন্দেহে ২০২৩ সালে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট এটিইউ জুয়েল ভুঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ১৯ জুলাই কারাগার থেকে আরও কয়েকশ বন্দির সঙ্গে পালিয়ে যান তিনি। এরপর ২৫ জুলাই জেলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর তাকে পাঠানো হয় কাশিমপুর কারাগারে। সেখানেই বোমারু মামুনের সঙ্গে সখ্যতা হয় তার। এক মাস পরেই সরকার পতনের পর সেপ্টেম্বরে বোমারু মামুনদের সঙ্গে জামিনে বেরিয়ে আসেন জুয়েল। কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় ১৯ জুলাই বিকেলে নরসিংদী কারাগারে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করার ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা কারাগারের ভেতরে ঢুকে সেলের তালা ভেঙে ফেলেন। সেখান থেকে ৯ জঙ্গিসহ ৮২৬ কয়েদি পালিয়ে যান। কারাগারের অস্ত্রাগার ও কারারক্ষীদের কাছ থেকে ৮৫টি অস্ত্র ও ৮ হাজার ১৫০টি গুলি লুট করা হয়। পুলিশ বলছে, গত জুলাইতে সনাতনধর্মীদের ‘উল্টো রথযাত্রার’ পথে মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার ভেতর ‘পাইপ বোমা’ ফেলে রাখা এবং আশুলিয়ার চারাবাগে চায়ের দোকানে ‘প্রেশার কুকার’ বোমা ফেলে রাখার ঘটনার পর মামুন-আরিফদের ধরতে তৎপর হয় পুলিশ। এ ধারাবাহিকতায় আরিফ ধরা পড়লেও মামুন এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নব্য জেএমবির মূল বোমার কারিগর হিসেবে তাকে চিহ্নিত করছে পুলিশ। সবশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাভারের শ্যামপুরে বোমারু মামুনের অন্যতম সহযোগী আরিফকে গ্রেপ্তারের পর সাভারের দক্ষিণ শ্যামপুরে তার আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। সন্ধ্যা থেকে বাড়িটি ঘিরে রেখে রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত অভিযান চলে। সেখান থেকে প্রচুর পাইপ বোমা ও বোমা তৈরির রাসায়নিক ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এর পরদিনই সাভারের ভারের গোপেরবাড়ি লালটেক ঘোড়া মসজিদের সামনে একটি মাঠে পড়ে থাকা আরেকটি ‘প্রেশার কুকার’ বোমা পাওয়ার কথা জানায় পুলিশ। পুলিশ বলছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ, এরপর ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তল্লাশির সময় পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে বোমার ব্যাগ ফেলে পালানো, মার্চে কুমিল্লার শিব মন্দিরে বিস্ফোরণ এবং একই মাসে রাজধানীর সায়েদাবাদে পুলিশের তল্লাশির সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাতেও মামুন ও তার শিষ্য আরিফ ওরফে ইমরানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের ধারাবাহিক অভিযানেই রোববার ডেমরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জুয়েল ওরফে ওস্তাদকে। পুলিশ বলছে, হোটেল ওলিও মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন মামুন। যদিও চলতি বছর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকার একটি আদালত মামুনসহ মামলার ১১ আসামিকেই খালাস দিয়েছে। রায়ের পর্যালোচনায় বিচারক লিখেছেন, “আসামিরা সবাই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী নেতাকর্মী।” গ্রেপ্তার জুয়েলের বিরুদ্ধে কয়টি মামলা আছে সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান কর্মকর্তারা।
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার দাবি করা এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগে রুমন খন্দকার (২১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত প্রায় দেড় মাস ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তবে রুমনের পরিবারের দাবি, চলতি বছরের ২২ মে দুই পরিবারের সম্মতিতে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে ওই কিশোরীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়েতে গায়ে হলুদ, বরযাত্রী, খাওয়া-দাওয়া ও বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাসহ বিভিন্ন আয়োজন করা হয়েছিল। কিশোরীর বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় বিয়ে নিবন্ধন করা হয়নি বলেও দাবি তাদের। অন্যদিকে কিশোরী ও তার পরিবারের দাবি, কোনো বিয়ে হয়নি। তাদের অভিযোগ, গত ১৯ জুন কিশোরীকে অপহরণ করে রুমনদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ অভিযোগে ২ জুলাই নগরকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন কিশোরীর দাদি জহুরন খাতুন (৫২)। রুমন খন্দকার নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের বিল্লাল খন্দকারের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি। রুমনের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ২২ মে ডাঙ্গী ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের মিরাজ মাতুব্বরের মেয়ে মিলার সঙ্গে রুমনের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়েতে প্রায় ৪০ জন বরযাত্রী অংশ নেন। পরে কনের বাড়ি থেকেও প্রায় ২৫ জন অতিথি রুমনের বাড়িতে যান। বিয়ের বিভিন্ন আয়োজনের ছবি ও ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে বলে দাবি পরিবারের। রুমনের মামা হাফিজুর রহমান বলেন, বিয়ের পর থেকেই নবদম্পতির মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় কয়েকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কিশোরী আর রুমনের বাড়িতে ফিরতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বিষয়টি থানায় গড়ায় বলে তার দাবি। তিনি আরও বলেন, গত ২ জুলাই গভীর রাতে পুলিশ রুমনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন থানায় গিয়ে তারা জানতে পারেন, ধর্ষণের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার বাদী জহুরন খাতুন ও কিশোরী বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, গত ১৯ জুন বিকাল ৫টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে কিশোরীকে একটি মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করা হয়। পরে রুমনদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাতভর ধর্ষণ করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। পরদিন সেখান থেকে পালিয়ে এসে পরিবারকে বিষয়টি জানায় কিশোরী। পরে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ বলেন, ২ জুলাই কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে তার দাদী থানায় আসেন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র দেন। সেখানে ধর্ষণের বিষয় উল্লেখ থাকায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। ওসি বলেন, মামলার এজাহারে বিয়ের কোনো বিষয় উল্লেখ করা হয়নি এবং পুলিশকেও আগে এ বিষয়ে জানানো হয়নি। কিশোরীর বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় আইনগতভাবে বিয়ের সুযোগ নেই। মামলাটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম। তদন্ত শেষে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দেয়া হবে। নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুহম্মদ আল ফাহাদ বলেন, কিশোরীর পরিবার চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ থানায় অভিযোগ করায় মামলা নেয়া হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তদন্ত কর্মকর্তা নিয়মিতভাবে মামলার অগ্রগতি জানাচ্ছেন। এদিকে বিয়ে নিবন্ধিত না হওয়ায় ঘটনাটির প্রকৃত ধরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রুমনের পরিবার দাবি করেছে, কিশোরীর বয়স কম হওয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ে নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত ছিল দুই পরিবারের। তবে ডাঙ্গী ইউনিয়নের কাজী মৌলভী বিএম ফজলুর রহমান মণ্ডল এ বিয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং কনের বাড়িতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না। ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী মো. ফারুক হোসেন বলেন, ১৮ বছরের কম বয়সী কারও বিয়ে আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে একই সঙ্গে কোনো ঘটনার প্রকৃত তথ্য নির্ধারণে তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, বিয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক ও আইনগত সুরক্ষার জন্য নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষ্য, কিশোরীর বয়স কম হলে বাল্যবিয়ের বিষয়টিও আইনের আওতায় আসতে পারে। কোনো বিয়ে নিবন্ধক এ ধরনের বিয়েতে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন। তদন্তে বিয়ে, অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন শিল্প মালিকরা। বুধবার থেকে গ্যাসের অভাবে পোশাক খাতসহ অর্ধশতাধিক ছোট-বড় শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ২৫ কোটি টাকার আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পরিচালক ও পূর্বাঞ্চল শিল্পমালিক সমিতির সভাপতি এম জামাল উদ্দিন জানান, বন্দর এলাকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকট বিরাজ করছে। গ্যাস না থাকায় নিয়মিত শিপমেন্ট ও পণ্য সরবরাহ মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, যা সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতির জন্য এক চরম অশনি সংকেত। তিনি জানান, তার মালিকানাধীন ‘জাহিন নিটওয়্যার’ কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ২৩ টন পোশাক উৎপাদিত হতো, যা এখন পুরোপুরি বন্ধ। তার এই একটি কারখানাতেই দৈনিক লোকসান হচ্ছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা। একইভাবে মদনপুর এলাকার ইউনাইটেড অ্যাপারেলস, ইপিলিয়ন ও ল্যারিজ ফ্যাশনের মতো বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনও চার দিন ধরে বন্ধ।