নির্বাচনের পরও বাংলাদেশকে নিয়ে ভারত দ্বিচারী ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর একদিকে ভারত বন্ধুত্বের কথা বলছে, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক উসকানিসহ বাংলাদেশবিরোধী নানা অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঢাকা মহানগর কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির কর্মকাণ্ড নতুন মাত্রা পেয়েছে। দলীয় রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে ভারত তার নিজ দেশের মানুষকেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার হরণ করেছে। এখন তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইলে ভারতকে অবিলম্বে সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশবিদ্বেষী সব তৎপরতা পরিহার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করলে তাদের ফেরত পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। একইভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অবৈধ ভারতীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সমস্যার টেকসই সমাধানে রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে চুরি, দুর্নীতি, অপচয় ও অব্যবস্থাপনা কমিয়ে আনা গেলে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রয়োজন হবে না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংঘটিত এসব দুর্নীতির দায় সাধারণ মানুষ কেন বহন করবে; এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ঢাকা মহানগর বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান এবং মহানগর কমিটির সদস্য জামাল সিকদার, বাবর চৌধুরী, মীর রেজাউল আলম, মোজাম্মেল হক চুন্নু, আরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ স্বাধীন, কাঞ্চন মিয়া, ফয়েজ ইবনে জাফর, মোহাম্মদ ইয়াসিন, ড্যানিয়েল ডি কোস্টা, নার্গিস আক্তার লিমা, নূরবানু আক্তার, মরিয়ম আক্তার, শামসুল আরেফিন ও শিবু মোহান্ত প্রমুখ।
সভায় আগামী ১৪ জুন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর কমিটির কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে পাঁচটি পরিবহনকে মোট ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও বাস টার্মিনাল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশিকুজ্জামান এবং মো. আশরাফুল ইসলাম। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদুল আজহার পর যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং কর্মস্থলে ফেরা যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে ফেরিঘাট ও আশপাশের এলাকার পরিবহন ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় লঞ্চ ও ফেরিতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন, নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ এবং ফেরিতে ওঠার আগে গণপরিবহন থেকে যাত্রী নামানোসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়া সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিট না থাকা এবং যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে এসপি গোল্ডেন লাইন, রাবেয়া পরিবহন, ঝিনাইদহ লাইন, মাস্টার পরিবহন এবং গোল্ডেন লাইন পরিবহনকে সর্বমোট ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, জনস্বার্থে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের তদারকি ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশন) শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার। এটি চলতি সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন। অধিবেশনের প্রথম দিন বেলা তিনটায় জাতীয় সংসদের বৈঠক শুরু হবে। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট। সাধারণত বাজেট অধিবেশন অন্যান্য অধিবেশনের তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে চলে। এবারের অধিবেশন কত দিন চলবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে অধিবেশন শুরুর আগে জাতীয় সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, আগামীকাল অধিবেশনে দিনের কার্যসূচির মধ্যে রয়েছে অধিবেশনের জন্য সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব, প্রশ্নোত্তর, জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আর্কষণের নোটিশ নিষ্পত্তি। এ ছাড়া সম্প্রতি জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ দিতে গঠিত বিশেষ কমিটি আগামীকাল সংসদে তাদের প্রতিবেদন দেবে। শনিবার বিকেলে সংসদের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ১১ জুন বাজেট উপস্থাপন করা হবে। ১৫ জুন চলতি অর্থবছরের সম্পূক বাজেট পাস হবে। এরপর ১৬ জুন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হবে। চিফ হুইপ বলেন, ৩০ জুন বাজেট পাস করতে হবে। তাই প্রতিদিন সকাল–বিকেল দুইবেলা বৈঠক হতে পারে। এ ছাড়া এ অধিবেশনে কিছু বিল আসবে বলেও জানান তিনি। এর আগে গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়ে চলে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। ওই অধিবেশনে ২৯ এপ্রিল সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নাম দেওয়া হয়নি। আইনমন্ত্রী সংসদে এ প্রস্তাব দেওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছিলেন, এ বিষয়ে তাঁদের ধারণাগত পার্থক্য আছে। তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন। তখন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, পরবর্তী অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন) পর্যন্ত অপেক্ষা করতে তাঁদের অসুবিধা নেই। বিরোধী দলের সূত্র জানায়, তারা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে থাকার পক্ষে নয়। কারণ, তারা চায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংশোধন) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হোক। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম দেওয়া না হলে এই অধিবেশনে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে সরকারি দল আশাবাদী যে বিরোধী দল কমিটিতে নাম দেবে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সংবিধান সংশোধন করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। তিনি আশা করছেন যে বিরোধী দল অবশ্যই বিশেষ কমিটিতে নাম দেবে। প্রসঙ্গত, সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত বিশেষ কমিটি হবে ১৭ সদস্যের। সরকারি দল ইতিমধ্যে ১২ জনের তালিকা তৈরি করেছে। যেখানে বিএনপি, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদেরও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য আছেন সাতজন। বিরোধী দলের কাছে পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়েছে।
নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশইন’ করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে। পরে দীর্ঘ সময় ধরে চলা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার এলাকায় ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবির দ্রুত অবস্থান নেওয়ায় পুরো ঘটনা জটিল পরিস্থিতিতে রূপ নেয়। নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, খবর পাওয়ার পরই সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয় এবং মানবিক বিবেচনায় প্রথমে তাদের শূন্য লাইনে অবস্থান করতে দেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের নোম্যান্স ল্যান্ডে রাখা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৯ ঘণ্টা ধরে দুই বাহিনীর মধ্যে টানাপোড়েন চলে। রাতের দিকে বিএসএফ সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দিয়ে তাদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে রাত ১টার দিকে ১৭ জনকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয় তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ১৭ জনের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ ছিল। তারা যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং কান্নাকাটির ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়রা বিজিবির অবস্থানকে মানবিক ও দৃঢ় বলে প্রশংসা করেন। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সীমান্ত এলাকায় ‘পুশইন’ ইস্যুতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।