বাংলাদেশে সাধারণ জনগণের মধ্যে সামগ্রিক এইচআইভি সংক্রমণের হার শূন্য দশমিক ০১ শতাংশের নিচে থাকলেও সমকামী যৌন সম্পর্ক, অভিবাসী এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীদের মতো মূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নীরবে এইচআইভি/এইডস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে বৈশ্বিক এইডস চিকিৎসা সেবাপ্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশে এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশনের (এএইচএফ) আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে মূল বক্তব্য প্রদান করেন এএইচএফ-এর এশিয়া ব্যুরোর উপপ্রধান ড. ইউগাগান বাও। তিনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ১৭ হাজার ৪৮০ জন মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছিলেন, যাদের অধিকাংশই নতুনভাবে সংক্রমিত। এর মধ্যে ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি, এরপর রয়েছে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণরা।
তিনি আরও বলেন, গত এক বছরে দেশব্যাপী এক হাজার ৮৯১টি নতুন এইচআইভি কেস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২১৭টি রোহিঙ্গা (এফডিএমএন) জনগোষ্ঠীর মধ্যে শনাক্ত হয়, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবায় বিদ্যমান ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে।
ড. ইউগাগান বাও বলেন, বাংলাদেশ এইচআইভি শনাক্তকরণ, চিকিৎসা কভারেজ এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি অর্জন করলেও সেবায় প্রবেশাধিকার এখনো অসম। বর্তমানে দেশজুড়ে মাত্র ২৩টি জেলায় এইচআইভি পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। কুসংস্কার, বৈষম্য এবং সীমিত জনসচেতনতা এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
তিনি জানান, সরকারি সংস্থা ও অংশীদার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে এএইচএফ জাতীয় এইচআইভি নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে। বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে এএইচএফ এশিয়া ব্যুরোর কার্যক্রম এখন ১১টি দেশে বিস্তৃত হলো, যার প্রথম উদ্যোগ ২০০৪ সালে ভারতে শুরু হয়েছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন পরিচালক (এনএএসসি) এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ শহীদুল হক। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইউএনএআইডসের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. সায়মা হক এবং এএইচএফ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর আক্তার জাহান শিল্পী।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং এইচআইভি নিয়ে কাজ করা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, এইডস হেলথকেয়ার ফাউন্ডেশন (এএইচএফ) একটি বৈশ্বিক অলাভজনক সংস্থা, যা আফ্রিকা, আমেরিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল ও ইউরোপের ৫০টি দেশে ২৮ লাখেরও বেশি মানুষকে এইচআইভি/এইডস চিকিৎসা ও সহায়তা প্রদান করছে। এটি বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম অলাভজনক এইচআইভি চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী সংস্থা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬-এ দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের সম্মানি থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা কর্তনের অভিযোগ উঠেছে। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেন দাবি করেছেন, কর্তনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধান অনুসারে সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে করা হয়েছে। জানা যায়, ৫ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত তারাগঞ্জ উপজেলায় ৪৩টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন ৪৩ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ২৪৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪৮৮ জন পোলিং অফিসার। প্রিজাইডিং অফিসারদের ৮ হাজার টাকা সম্মানি থেকে ১০ শতাংশ উৎস কর কেটে ৭ হাজার ২০০ টাকা দেওয়া হয়।একইভাবে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা ৬ হাজার টাকা থেকে ১০ শতাংশ কেটে ৫ হাজার ৪০০ টাকা এবং পোলিং অফিসাররা ৪ হাজার টাকা থেকে ১০ শতাংশ কেটে ৩ হাজার ৬০০ টাকা পান। এছাড়া প্রত্যেকের জন্য ১ হাজার টাকা যাতায়াত ভাতা বরাদ্দ ছিল। সেখান থেকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ আয়কর মিলিয়ে মোট ২০ শতাংশ (২০০ টাকা) কর্তন করা হয়। মাস্টার রোলে এ কর্তনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং ভাতাগ্রহীতাদের স্বাক্ষরও নেওয়া হয়েছে। ইউএনও জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ ও ভ্যাট আইন ২০২৩ অনুযায়ী এ কর্তন করা হয়েছে। সরকারি আর্থিক বিধান অনুযায়ী সম্মানিতে ১০ শতাংশ আয়কর এবং পরিবহন ব্যয়ে ভ্যাট ও আয়কর প্রযোজ্য। দেরিতে টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, হিসাব-নিকাশ শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ১৭ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকিং সময়ে ভ্যাট ও আয়করের অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ককে আরও গভীর ও অর্থবহ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন-এ আয়োজিত ‘শ্রীরামকৃষ্ণের বিশ্বজনীনতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস-এর ১৯১তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে মঠ ও মিশনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার থেকে চারদিনব্যাপী নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বক্তব্যে প্রণয় ভার্মা বলেন, শ্রীরামকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক সাধনা দক্ষিণেশ্বরে সম্পন্ন হলেও তাঁর দর্শন কোনো নির্দিষ্ট গ্রাম, মন্দির বা দেশের সীমানায় আবদ্ধ ছিল না। তাঁর শিক্ষা ভৌগোলিক ও ধর্মীয় গণ্ডি অতিক্রম করে বিশ্বজনীনতায় পৌঁছেছে। ‘যত মত তত পথ’—ধর্মের সার্বজনীনতা বিষয়ে তাঁর এই বিশ্বাস সে সময়ের ধর্মীয় ভাবনায় নতুন আলোকবর্তিকা জ্বালিয়েছিল এবং সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আজকের বিশ্ব যখন বিভাজন ও মেরুকরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তখন শ্রীরামকৃষ্ণের শিক্ষা আমাদের মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়। তাঁর দর্শন সরলতা, আন্তরিকতা ও গভীর আধ্যাত্মিকতার পথে আহ্বান জানায়। সত্যিকারের ধর্ম যে গ্রহণ, সমন্বয় ও অন্তর্ভুক্তির শিক্ষা দেয়—বিচ্ছেদ বা বর্জনের নয়—তা তিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন। প্রকৃত ধর্ম হলো পরের সেবা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতি; ঘৃণা বা বিভেদ নয়। শ্রীরামকৃষ্ণের এই পবিত্র জন্মবার্ষিকীতে তাঁর সার্বজনীন আদর্শ ধারণ করে শান্তি ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। একইসঙ্গে তিনি ভারত–বাংলাদেশ বন্ধুত্বকে আরও গভীরতর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সবার জন্য শান্তি, ঐক্য ও ঈশ্বরীয় চেতনার কামনা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দজী মহারাজ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. নুরুজ্জামান এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল-এর মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শিঞ্জিনী সরকারসহ অন্যান্য অতিথিরা।
নগরীকে পরিকল্পিত, দৃষ্টিনন্দন ও পরিচ্ছন্ন মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে বিলবোর্ড ও অবৈধ বিজ্ঞাপন স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নগরজুড়ে অনুমোদনহীন বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার অপসারণে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামকে বিলবোর্ডমুক্ত করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে নগরীর কাজীর দেউরী এলাকায় সিটি মেয়র নিজেই উপস্থিত থেকে অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেন। অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদন ছাড়াই স্থাপিত বিভিন্ন আকারের বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোস্টার অপসারণ করা হয়। এ সময় অবৈধ বিজ্ঞাপন স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরকে বিলবোর্ডের জঞ্জাল থেকে মুক্ত করতে আমরা সমন্বিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগ নিয়েছি। নগরীর সৌন্দর্য রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার। অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিলবোর্ড স্থাপন করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত নীতিমালা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিজ্ঞাপন স্থাপন করতে হবে। অন্যথায় নিয়মিত মনিটরিং ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ অব্যাহত থাকবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোয়েব উদ্দিন খান। সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়েও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরিচ্ছন্ন, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।