আর মাত্র কয়েক মাস পরই শুরু হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসর ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরে খেলবে ৪৮ দল। এরই মধ্যে আসন্ন এই বৈশ্বিক আসরে ৪২ দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ওয়াশিংটন ডিসিতে জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ড্র।
বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে অনুষ্ঠান। ভেন্যু ওয়াশিংটন ডিসির বিখ্যাত জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টস। এই আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
চার পট থেকে একটি করে দল নিয়ে একটি করে গ্রুপ নির্ধারণ হবে। তবে এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকার দুই দল একই গ্রুপে পড়বে না। ইউরোপের যেহেতু বেশি দল খেলবে তাই একই গ্রুপে ইউরোপের দল একে অপরের মুখোমুখি হবে।
ড্র অনুষ্ঠানটি সরাসরি দেখা যাবে ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এবং ফিফার ইউটিউব চ্যানেলে।
বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করা ৪২ দল
যৌথ আয়োজক : কানাডা, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র
এএফসি (এশিয়া) : অস্ট্রেলিয়া, ইরান, জাপান, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান
সিএএফ (আফ্রিকা) : আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, আইভরিকোস্ট, মিসর, ঘানা, মরক্কো, সেনেগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, তিউনিসিয়া
কনক্যাকাফ (উত্তর ও মধ্য আমেরিকা) : কুরাসাও, হাইতি, পানামা
কনমেবল (দক্ষিণ আমেরিকা) : আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে
ওএফসি (ওশেনিয়া) : নিউজিল্যান্ড
উয়েফা (ইউরোপ) : অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পর্তুগাল, স্কটল্যান্ড, স্পেন, সুইজারল্যান্ড
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খেলাধুলায় আর্থিক নিশ্চয়তা না পাওয়ায় দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন আরচারির বড় দুই তারকা রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকী। এসব কারণে বাংলাদেশের অনেক অ্যাথলেটই খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেননি। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের দীর্ঘদিনের এই নাজুক পরিস্থিতি বদলে দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্রীড়াবিদদের জন্য চালু করা হয়েছে ‘ক্রীড়া কার্ড’। গতকাল তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ১২৯ ক্রীড়াবিদের হাতে ভাতা বাবদ এক লাখ টাকা করে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মাসিক এক লাখ টাকার বেতন আগামী চার মাস নিয়মিত পাবেন সাবিনা খাতুন-খই খই সাই মারমারা। ১২০ দিন পর নতুন করে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। যারা ব্যর্থ হবেন, তারা বাদ পড়ে যাবেন ক্রীড়া ভাতা থেকে। উঠতি কোনো তারকা তখন যুক্ত হবেন এই ক্রীড়া ভাতায়। বর্তমান সরকারের এমন উদ্যোগে খেলাধুলার প্রতি ক্রীড়াবিদদের আগ্রহ বাড়বে বলে বিশ্বাস ভাতা পাওয়া খেলোয়াড় থেকে শুরু করে ক্রীড়া-সংশ্লিষ্টদের। ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা: ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের তালিকা করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, সুইমিং, ভারোত্তোলন, উশু, অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সেপাক টাকরো, ফুটসাল, ব্রিজ, টেবিল টেনিস, নারী কাবাডি দল, নারী ভলিবল দল ও ব্যাডমিন্টনের মোট ১২৯ ক্রীড়াবিদ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশকে ১৮০টি পদক এনে দিয়েছেন। এই সাফল্যে প্রথম ধাপে তাদের দেওয়া হয়েছে ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা। ‘ক্রীড়া কার্ড’ ও ভাতা সুবিধাগুলো কী: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশকে পদক এনে দেওয়া ২০টি ইভেন্টের খেলোয়াড়দের সবাইকে ভাতা হিসেবে এক লাখ টাকা দিয়েছে সরকার। গতকাল সবার অ্যাকাউন্টে এই টাকা চলেও গিয়েছে। ভাতার বাইরে পদকজয়ীদের সম্মাননা হিসেবে অর্থ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যারা স্বর্ণপদক জিতেছেন, তাদের নিজ হাতে তিন লাখ টাকার চেক তুলে দেন তারেক রহমান। রুপাজয়ীদের দেড় লাখ ও ব্রোঞ্জজয়ীরা পেয়েছেন সম্মাননা হিসেবে এক লাখ টাকা করে। একই সঙ্গে ছবিসংবলিত নাম, আইডি নম্বরযুক্ত সবাইকে দেওয়া হয়েছে ‘ক্রীড়া কার্ড’, যা মাসিক ভাতা পেতে লাগবে। প্রেরণা দেবে এই স্বীকৃতি: তিন দিন আগে থাইল্যান্ডে কম্পাউন্ড দলগত বিভাগে স্বর্ণ জেতা আরচারি দলের অন্যতম সদস্য হিমু বাছাড় বলেন, ‘ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় কেউ আসতে চায় না। এখন ক্রীড়াবিদরা একটা ভাতার আওতায় আসায় অনেকেই তাঁর পছন্দ অনুযায়ী খেলায় আসবেন। বেশ দারুণ উদ্যোগ।’ আরচার হিমুর সঙ্গে একমত নারী ফুটসাল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও, ‘এখন যে কেউ খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারবে। তাঁকে খেলার পাশাপাশি অন্য কোনো চিন্তা করতে হবে না। পরিবারও তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় থাকবে না।’ টেবিল টেনিস খেলোয়াড় জাভেদ আহমেদও মনে করেন এই ভাতা ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে, ‘আমাদের অনেক দিনের চাওয়া ছিল পেশা হিসেবে খেলাকে নিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটি ক্রীড়াঙ্গনের চেহারা বদলে দেবে। ’ আছে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও: গত বছর জুনিয়র হকি দল খেলেছিল বিশ্বকাপে। বাংলাদেশের হকির ইতিহাসে যেটি বড় অর্জন। সেই হকি দলকে ভাতার আওতায় না দেখে অনেকে বিস্মিত হয়েছেন। আবার সেপাট টাকরোর মতো অপ্রচলিত খেলাকে ‘ক্রীড়া কার্ড’-এর আওতায় আনায় ক্রীড়াঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। যদিও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, ক্রিকেটের বাইরে বাকি সব ফেডারেশনের খেলোয়াড়দের তারা বেতনের আওতায় আনবেন। সে তালিকায় হকিও থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ফুটসাল মাঠ চাইলেন সাবিনা: প্রথমবার অংশ নিয়েই বাংলাদেশ নারী দল সাফ ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে ফুটসালের কোনো মাঠ নেই। গতকাল ক্রীড়া ভাতা ও ‘ক্রীড়া কার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটা ফুটসালের মাঠ চেয়েছেন সাবিনা। সাবিনার বক্তব্য শেষ হতে না হতেই চেয়ারে বসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সাবিনা, তোমার যে মাঠের দাবিটা– আমরা এরই মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মোটামুটিভাবে কাজটা শেষের দিকে।’
পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় বিতর্কের পুরো দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন লাহোর কালান্দার্সের জিম্বাবুইয়ান অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা। পাঞ্জাব পুলিশের একটি ফাঁস হওয়া প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে রাজা স্পষ্ট করেছেন, হোটেল রুমে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার পেছনে তার ব্যক্তিগত অসাবধানতাই দায়ী ছিল, অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি নয়। ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার রাতে, যখন সিকান্দার রাজার সঙ্গে দেখা করতে চারজন দর্শনার্থী হোটেলে আসেন। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, নিরাপত্তাকর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে শাহীন ও রাজা তাদের খেলোয়াড়দের সংরক্ষিত ফ্লোরে নিয়ে যান এবং তারা সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করেন। তবে রাজা এই দাবির বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, আগত অতিথিরা তার দীর্ঘদিনের বন্ধু এবং পরিবারের সদস্য ছিলেন। টুর্নামেন্টের কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় তিনি তাদের ওপরে নিয়ে আসার জন্য অধিনায়কের সাহায্য চেয়েছিলেন। রাজার দাবি অনুযায়ী, তারা সেখানে মাত্র ৪০ মিনিট অবস্থান করেছিলেন এবং পুরো বিষয়টিই ছিল একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদির ওপর আসা অশোভন আচরণের অভিযোগও খণ্ডন করেছেন রাজা। তিনি জানান, শাহীন কাউকে কোনো কিছু করতে বাধ্য করেননি কিংবা কোনো শক্তি প্রয়োগ করেননি। বরং সতীর্থের অনুরোধ রক্ষা করতেই তিনি নিচে নেমেছিলেন। রাজার ভাষ্যমতে, তার পরিবার ও বন্ধুদের বিজনেস সেন্টারে দেখা করতে না চাওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা মূলত দলীয় শৃঙ্খলার অভাব নয় বরং ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ ছিল। এদিকে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে লাহোর কালান্দার্স ফ্র্যাঞ্চাইজি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদিকে ১০ লাখ রুপি জরিমানা করেছে কর্তৃপক্ষ। কালান্দার্সের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শৃঙ্খলার স্বার্থে ও দৃষ্টান্ত স্থাপনে শাহিন আফ্রিদির সংশ্লিষ্টতার কারণে তাকে ১০ লাখ রুপি জরিমানা করার স্বপ্রণোদিত পদক্ষেপ নিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি। এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণসহ একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকেও (পিসিবি) দেওয়া হয়েছে।’ মাঠের পারফরম্যান্সেও কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফখর জামানের বিরুদ্ধে বল টেম্পারিংয়ের তদন্ত এবং এই নিরাপত্তা ইস্যুর মধ্যেই লাহোর কালান্দার্স বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। দুই ম্যাচে এক জয় ও এক হারে তাদের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। মাঠের বাইরের এই বিতর্ক এবং জরিমানা আদায়ের বিষয়টি আগামী ডিসিপ্লিনারি হিয়ারিংয়ে কতটুকু প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
আসন্ন বাংলাদেশ সফরের জন্য সীমিত ওভারের দল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। প্রত্যাশামতোই আইপিএল ও পিএসএলে ব্যস্ত শীর্ষ তারকাদের বাইরে রেখে তুলনামূলক অনভিজ্ঞ স্কোয়াড নিয়েই সফরে আসছে কিউইরা। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দলকে নেতৃত্ব দেবেন উইকেটকিপার ব্যাটার টম ল্যাথাম। দলে সুযোগ পেয়েছেন একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন পেসার উইল ও’রুর্ক, ব্লেয়ার টিকনার এবং ম্যাট ফিশার। তাদের প্রত্যাবর্তনে সন্তুষ্ট প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার। তিনি জানান, চোট কাটিয়ে ফিরতে এই তিন বোলার গত কয়েক মাস কঠোর পরিশ্রম করেছেন, যা দলের জন্য ইতিবাচক দিক। এ ছাড়া দলে ফিরেছেন অফস্পিন অলরাউন্ডার ডিন ফক্সক্রফট, যিনি সাম্প্রতিক ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করেছেন। শ্রীলঙ্কায় ‘এ’ দলের সিরিজ শেষে মোহাম্মদ আব্বাস, আদিত্য আশোক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক এবং বেন সিয়ার্স মূল দলে যোগ দেবেন। আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। সফরের আগে ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছানোর কথা কিউই দলের। নিউজিল্যান্ড ওয়ানডে দল: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ আব্বাস, আদিত্য আশোক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লিভার, ডিন ফক্সক্রফট, নিক কেলি, জেইডেন লেনক্স, হেনরি নিকোলস, উইল ও’রুর্ক, বেন সিয়ার্স, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার ও উইল ইয়াং। নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি দল: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), কাটেনে ক্লার্ক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লিভার, ম্যাট ফিশার, ডিন ফক্সক্রফট, বেভন জ্যাকবস, নিক কেলি, জেইডেন লেনক্স, টিম রবিনসন, বেন সিয়ার্স, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি ও ব্লেয়ার টিকনার।