বিশ্ব

মিয়ানমারে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল বাংলাদেশও

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬


মিয়ানমারে ৬ দশমিক ০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানায়, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৪ মিনিটে এ ভূমিকম্পটি রেকর্ড করা হয়।

ইএমএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের ২০ দশমিক ৪৮৯ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯৩ দশমিক ৯৫৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর উৎপত্তিস্থল।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাখাইন রাজ্যের সিত্তে শহর থেকে প্রায় ১১৭ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তর-পূর্বে এবং ইয়েনানগিয়াং শহর থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার পশ্চিমে।

এদিকে এ কম্পনে মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা কেঁপে উঠে। প্রাথমিক তথ্যে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে কম্পন অনুভূতের খবর পাওয়া গেছে।

তবে দুই দেশেই প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নির্বাচনী ভূমিকম্প: ইসরায়েলপন্থীদের হারিয়ে ফিলিস্তিনপন্থী অধিকারকর্মীদের ঐতিহাসিক জয়

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা দুই বছর ধরে কঠোর নিরাপত্তার নামে দমন–পীড়ন, একাডেমিক নিষেধাজ্ঞা, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমালোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মতো অভিযানের শিকার হয়েছেন।   এখন নিউইয়র্কের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন এমন এক অধিকারকর্মী, যিনি গাজায় ইসরায়েলের চালানো গণহত্যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক ছিলেন।   গত বছরের নভেম্বরে ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার যখন নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন, তখন খুব কাছের বন্ধুরা ছাড়া কম মানুষই তাঁর নাম জানত।   তবে শুরু থেকেই আভিলা শেভালিয়ার অবস্থান ছিল স্পষ্ট। তিনি অভিবাসনব্যবস্থার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারকে এক করতে কাজ করা একজন সংগঠক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনে চলা ‘গণহত্যার’ বিরুদ্ধেও সরব ছিলেন।   গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডারিয়ালিজা দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইলাতকে হারিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন নিশ্চিত করেন, যা ছিল এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি। নিউইয়র্ক নগরের মেয়র জোহরান মামদানি ডারিয়ালিজাকে সমর্থন দিয়েছিলেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এবং ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থনপুষ্ট অন্যান্য প্রার্থীর জয় ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরে ইসরায়েলপন্থী রাজনীতির জনপ্রিয়তা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   ইহুদিদের অধিকার রক্ষার সংগঠন জিউইশ ভয়েস ফর পিস (জেভিপি) অ্যাকশনের রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেছেন, ‘গত রাতের ফলাফল নিউইয়র্ক নগরের রাজনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের মতো, যা ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বকে সতর্ক বার্তা দিয়েছে।’   বেথ মিলার বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে আপসহীন অবস্থান নেওয়াটা শুধু নৈতিকভাবে সঠিক নয়, প্রগতিশীল প্রার্থীদের জেতার মোক্ষম উপায়ও বটে।’   প্রাথমিক নির্বাচনে তিন জয় গত মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের মনোনয়ন নিশ্চিতের লড়াইয়ে মামদানির সমর্থনপুষ্ট আরও দুজন প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।   ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোর বিরোধী এবং সাবেক সিটি কমপট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার কট্টর ইসরায়েলপন্থী বর্তমান প্রতিনিধি ড্যান গোল্ডম্যানকে পরাজিত করেছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট পার্টির রাজ্য আইনপ্রণেতা ক্লেয়ার ভালদেস একটি শূন্য আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।   বিজয়ী এই দুই প্রার্থীই ডেমোক্রেটিক পার্টির নিরাপদ আসনগুলো থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তাঁরা অনায়াসেই জয়ী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   স্থানীয় পর্যায়েও ভোটাররা ইসরায়েলের বেশ কয়েকজন সোচ্চার সমালোচককে নির্বাচিত করেছেন। তাঁদেরই একজন আবের কাওয়াস। তিনি নিউইয়র্কের প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত সিনেটর হওয়ার পথে বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে আছেন।   সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের (সিইউএনআই) সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হেবা গাওয়ায়েদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে কোন বিষয়টি গ্রহণযোগ্য আর কোনটি কাঙ্ক্ষিত, তার একটি সত্যিকারের রূপান্তর আমরা দেখতে পাচ্ছি।’   গাওয়ায়েদ আল–জাজিরাকে বলেন, ডেমোক্রেটিক পার্টির মঙ্গলবারের প্রাথমিক বাছাইয়ের এই ফলাফল—বিশেষ করে প্রভাবশালী ও সুপরিচিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আভিলা শেভালিয়ারের জয়—সেই সুবিধাবাদী ও প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির জন্য বড় এক পরাজয়, যাঁরা ইসরায়েলের সমালোচনাকে শুরুতেই নস্যাৎ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।   গাওয়ায়েদ আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা এই আজেবাজে জিনিস আর দেখতে চাই না।’   এই অধ্যাপক জোর দিয়ে বলেন, মামদানির মতোই নিউইয়র্কে যেসব প্রগতিশীল প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, তাঁরা ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলার কারণেই জিতেছেন।   ‘ইউএস ক্যাম্পেইন ফর প্যালেস্টাইন রাইটস অ্যাকশন’–এর রাজনৈতিক পরিচালক ইমান আবিদও আভিলা শেভালিয়ার এবং ভালদেসের এই জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন।   এক বিবৃতিতে আবিদ বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) রাতে নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনবিরোধী রাজনৈতিক বলয় আমাদের চোখের সামনে ভেঙে পড়ছে। ন্যায়বিচার, শ্রমিকদের অধিকার, সাশ্রয়ী ভাড়া, অভিবাসীদের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনের জন্য লড়াই করা সাহসী প্রগতিশীলেরা তাঁদের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।’   নিউইয়র্কের বাইরে বিভিন্ন জনমত জরিপ থেকে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে—বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন দ্রুত কমছে।   ফলে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা আন্দোলনের কর্মীরা আত্মবিশ্বাসী, নিউইয়র্কের এই ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের আরও বড় বিজয়ে ভূমিকা রাখবে। তাঁরা এই নির্বাচনী মৌসুমে ফিলিস্তিনপন্থী অন্য প্রার্থীদের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন, যাঁদের মধ্যে পেনসিলভানিয়ার ক্রিস রাব এবং নিউজার্সির অ্যাডাম হামাওয়ি অন্যতম।   গত মঙ্গলবার আভিলা শেভালিয়ার এবং ভালদেসের এই জয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্রিস রাব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি লিখেছেন, ‘আভিলা শেভালিয়ার খুব ভালো করেই জানেন, আমাদের বোমার পেছনে নয়, শিশুদের পেছনে বিনিয়োগ করা দরকার। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চেয়ে অভিবাসীদের এবং রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের চেয়ে ভাড়াটেদের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।’   ক্রিস রাব আরও লিখেছেন, ‘কংগ্রেসে একসঙ্গে কাজ করে আমরা ওয়াশিংটনের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক শক্তিকে মোকাবিলা করব এবং দেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করব।’ আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি যা আইপ্যাক নামে পরিচিত এবং অন্যান্য ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠী এসব প্রগতিশীল প্রার্থীকে পরাজিত করতে কোটি কোটি ডলার খরচ করে আসছে।   তবে জেভিপি অ্যাকশনের রাজনৈতিক পরিচালক বেথ মিলার বলেন, আইপ্যাকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবিকে সমর্থন করা এবং ইসরায়েলের বর্ণবাদ, গণহত্যা ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারত্বের সম্পূর্ণ অবসান ঘটানোর ডাক দেওয়াই ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ের মূল চাবিকাঠি হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।   বেথ মিলার বলছেন, ২০২৭ সালের শুরুতে যখন ফিলিস্তিনপন্থী বিজয়ী প্রার্থীরা পরবর্তী কংগ্রেসে যোগ দেবেন, তখন তাঁরা ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের ব্যাপারে ক্যাপিটল হিলে উভয় দলের মধ্যকার গড়ে ওঠা ফাটলটিকে আরও বড় করে তুলবেন।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

‘ইরানের পক্ষে রাশিয়া, চীন ও তুরস্কের যুদ্ধ ঠেকাতে পেরেছি’: ট্রাম্পের দাবি

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের প্রথম ইনডোর মাছ ধরার পুকুর হচ্ছে মস্কোর শপিং সেন্টারে

এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

পাকিস্তানের আকাশসীমায় ভারতের উড়োজাহাজ, এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলট বরখাস্ত

ছবি : সংগৃহীত
অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে মিলল ৩ কোটি ৪০ লাখ বছর প্রাচীন নদী অববাহিকা

কুমেরুর বরফ গলা নিয়ে নানা আলোচনা শোনা গেলেও এখনও সে এক অনন্ত বরফের রাজ্য। সেই অতি পুরু বরফের তলায় এবার খোঁজ পাওয়া গেল ৩ কোটি ৪০ লক্ষ বছর পুরনো নদীর।   কুমেরু হোক বা সুমেরু। পৃথিবীর এই ২ মেরু অঞ্চলের বরফের সাম্রাজ্যের তলায় যে কি লুকিয়ে আছে তা এখনও বিজ্ঞানীদের কাছেও পরিস্কার নয়। কারণ তা এখনও অজানা। তবে নানা গবেষণার মধ্যে দিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বরফের তলার সেই অচেনা অজানা রাজ্যের খবর পাওয়া যায়। এভাবেই কুমেরুর পুরু বরফের তলায় খোঁজ পাওয়া গেছে একটি নদীর। সে নদীর বয়স জানলে হতবাক হয়ে যেতে পারেন অনেকে।   বরফের পুরু চাদরের ২ কিলোমিটার গভীরে এই নদীর খোঁজ পাওয়া গেছে। যা চোখে দেখার সুযোগ না হলেও কানাডার একটি কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্য নিয়ে বিজ্ঞানীরা এই নদীর খবর পেয়েছেন কুমেরুর পূর্ব দিকে। যেখানে বরফের ২ কিলোমিটার তলায় নদী অববাহিকার চিহ্ন স্পষ্ট বিজ্ঞানীদের কাছে।   সেখানে নদী না থাকারও কিছু নেই। কারণ কুমেরুকে এখন যেমন বরফের প্রান্তর বলে দেখতে পাওয়া যায় ২ কোটি বছর আগেও তা ছিলনা। সেখানে তখন জঙ্গল ছিল। নদী বয়ে যেত। এমনকি কিছু প্রাণিও ঘুরে বেড়াত।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আজাদ কাশ্মিরে নিত্যপণ্যের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা চায় জিসিসি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। ছবি : সংগৃহীত

এরদোয়ানের প্রশংসায় ট্রাম্প: ‘আমার অনুরোধে যুদ্ধে জড়াননি

প্রতীকী ছবি
জব্দকৃত সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মানবে না ইরান

জব্দকৃত ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার পর তার একটি বড় অংশ মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার জন্য ব্যয় করা হবে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা।   তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধু ভঙ্গ করা প্রতিশ্রুতি এবং ফাঁকা কথাবার্তাই রপ্তানি করে। তারা মিথ্যা দাবি করছে যে, আমাদের অবমুক্ত সম্পদ দিয়ে তাদের কৃষিপণ্য কেনা হবে। সত্যিই হাস্যকর ব্যাপার।   যুক্তরাষ্ট্রের এমন শর্তের সমালোচনা করে গালিবাফ আরও বলেন, আমরা এখন কেবল সেই ফসলই কাটছি, যা আপনারা রোপণ করেছেন। আর তা হলো, দশকের পর দশক ধরে জমে থাকা অবিশ্বাস। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত এবং আমাদের নিজেদের মাটিতে জন্মানো। কিন্তু মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের তালিকায় রয়েছে শুধু জিএমও সয়াবিন, ভঙ্গ প্রতিশ্রুতি এবং অর্থহীন বক্তব্য।   এর আগে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ইরানের অবমুক্ত সম্পদের একটি বড় অংশ মার্কিন খাদ্যপণ্য ও ওষুধ কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে।   তবে তেহরান বরাবরই বলে আসছে, অবমুক্ত হওয়া সম্পদ কীভাবে ব্যয় করা হবে, সে সিদ্ধান্ত ইরান নিজেই নেবে এবং এ বিষয়ে অন্য কোনো দেশের শর্ত গ্রহণ করবে না।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের কিছু আর্থিক সম্পদ অবমুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে অর্থ ব্যবহারের শর্ত নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থানে এখনও স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সূত্র : এএফপি

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ভূমিকম্পের আগেই সতর্কবার্তা, ভেনেজুয়েলায় হাজারো প্রাণ বাঁচাল গুগল

ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপে এল নিনোর প্রভাব কতটা পড়ছে, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

ছবি: সংগৃহীত

বজ্রপাতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ সদস্য নিহত

0 Comments